The first 200 lines.
এটি খুব সাধারণ একটি ভুল,
মানুষ ভাবে, একজন লেখক সারাক্ষণই চিন্তায় ডুবে থাকে,
আর সে বিরামহীনভাবে পর্ব
আর ঘটনার জন্ম দিয়েই যাবে,
আরো মনে করে, লেখকেরা বাতাসের ভেতর থেকেই কোন গল্পকে বের করে আনতে পারে.
কিন্তু, আসলে এর উল্টোটা হচ্ছে সত্য।
যখনি মানুষ জানবে যে, আপনি একজন লেখক,
তারাই আপনাকে বিভিন্ন ঘটনা আর চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে,
যদি আপনি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে
আর শুনে বুঝতে পারেন।
এই গল্পগূলো...
থামো। থামো! না! এটা কোরো না!
আহ, এসব গল্পের মাঝে আপনি হয়তো নিজেকেই খুঁজে পাবেন।
তার জায়গায়, যে কিনা অন্যের জীবনের গল্প বলে বেড়ায়।
আজ অনেক কাহিনীই বলব।
দুঃখিত। ঠিক আছে।
যে ঘটনাটি আমি আপনাদের বলব,
সেটা ঠিক এভাবেই আমার কাছে বলা হয়েছিল, যেভাবে আমি বলছি
যদিও এগুলো আপনার কাছে আশাতীত মনে হবে।
বেশ কয়েক বছর আগে,
আমি কিছুটা বিষণ্ণতায় ভুগছিলাম।
যাকে একধরনের স্নায়বিক দুর্বলতাও বলা যায়,
যা তখনকার লেখক-সাহিত্যিকদের ভেতর বেশি দেখা যেত,
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আগস্ট মাসটি ...
আমি সুডেটেনওয়াল্টজ পর্বতমালার পাদদেশের একটি ছোট্ট শহর নেবেলসবাদে থাকবো,
আমি সেখানকার গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেলে রুম ভাড়া করলাম,
ছবির মত দেখতে একটি সুন্দর সাজানো গোছানো স্থাপনা।
আমার ধারণা, আপনাদের কেউ কেউ এটা আগে থেকেই চেনেন।
যুবক লেখক: তখন পর্যটন মৌসুম ছিলোনা, আর তখনকার সময় অনুযায়ী এর গঠনও সময়োপযোগী ছিলোনা,
আর তখন থেকেই এটি এর রাজকীয় মর্যাদা
হারাতে শুরু করেছিল।
আমরা যারা কয়েকজন অতিথি ছিলাম
তারা কিছু দিনের মধ্যেই একে অপরকে দেখলেই চিনতে পারার ক্ষমতা অর্জন করি
কারণ এত বড় একটি স্থাপনায় একমাত্র আমরা কয়েকজনই যে আছি,
যদিও আমাদের মধ্যকার এ জানাশোনা কখনো
দেখা হলে ভদ্রভাবে সম্ভাষণ জানানোর বাইরে যায়নি
যেমন পাম বাগানে,
আরবিয় গোসলখানায়,
কিংবা উঁচুতে ওঠার লিফটে দেখা হলে।
আমরা সবাই খুব রক্ষণশীল ছিলাম,
আর অবশ্যই খুব শান্তিপ্রিয়।
সম্ভবত সবার এ চুপচাপ আচরণের কারণেই,
হোটেলের একজন স্টাফের সাথে আমার ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে।
সে একজন পশ্চিমা মানুষ।
যাকে সবাই মিঃ জন নামে চেনে,
সে একাধারে খুবই,
অলস, আর দারুণ অমায়িক।
আমার ধারণা, তাকে ভালো পারিশ্রমিক দেয়া হতোনা।
যাই হোক, কোন এক সন্ধ্যায়,
আমি মিঃ জনের সাথে রোজকার মতো পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম,
আর তখন, আমি হোটেলে নতুন একজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম।
একজন খাটো, বয়স্ক, আর দারুণ পরিপাটি মানুষ,
আর তার মুখ দেখে অত্যন্ত প্রাণবন্ত আর বুদ্ধিমান মনে হল
তবে আমি তার মাঝেই কিঞ্চিৎ বিষাদের ছায়া দেখতে পেলাম।
সে আমাদের মতই একাকি এসেছিল ছিল, কিন্তু আমাকে বলতেই হবে,
সে ই প্রথম ব্যাক্তি যাকে দেখে সত্যিকার অর্থেই একাকী মনে হয়েছিল।
ঠিক আমার শারীরিক অবস্থার মতই লক্ষণ।
এই আজব বৃদ্ধ লোকটি কে?
আমি মিঃ জনের কাছে জানতে চাইলাম।
আমার কথা শুনে, সে আমার দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকালো।
আপনি কি জানেন না? সে আমাকে জিজ্ঞেস করল
আপনি কি তাকে চিনতে পারছেন না?
তাকে দেখে অবশ্য পরিচিতই মনে হচ্ছিল।
ইনি মিঃ মুস্তাফা নিজে।
তিনি আজ সকালেই এখানে এসেছেন।
আপনাদের মাঝে যারা দারুণ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন
তাদের মাঝে এই নামটি অবশ্যই বেশ পরিচিত।
মিঃ জিরো মুস্তাফা একসময় জুব্রোফকা এর সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি ছিলেন,
আর তিনিই আসলে এই গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেলের স্বত্বাধিকারী।
সে বছরে কমপক্ষে তিনবার এখানে আসে,
আর দুই-এক সপ্তাহ থাকে, কিন্তু কখনোই পর্যটন মৌসুমে আসেন না।
মিঃ জন আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল আর আমি একটু ঝুঁকে পড়লাম।
আমি আপনাকে একটি গোপন কথা বলছি।
সে এখানে এলে ওপর তলার পিছনের এক কোনের একটি ছোট বাথরুম বিহীন
সিঙ্গেল বেডের রুমে থাকেন,
যার ভিতরটা আমাদের লিফটের থেকেও ছোট!
সবাই জানে,
জিরো মুস্তাফা এই মহাদেশের অনেক
বিলাসবহুল ভবন ক্রয় এবং অধিষ্ঠিত করেছেন।
কিন্তু এখানে, তার নিজের হোটেলে, যা প্রায় খালি পড়ে আছে,
সে কিনা কর্মচারীদের ঘরে থাকে?
ঠিক এমন সময়ে, এই চমৎকার নাটকের
যবনিকা পড়ল...
শিট।
...কারণ মিঃ জনকে তখন তার সম্পূর্ণ মনোযোগ
অন্যদিকে দিতে হল।
কিন্তু, সত্যি কথা বলতে কি, আমার সেইদিকে কোন আগ্রহই ছিল না।
যাই হোক,
এ আজব বৃদ্ধের গল্পের মাঝে এই অগ্রিম বিরতি
আমাকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলে দিল, যাকে বলা যায়,
"উত্তেজনায় মারা যাওয়া,"
সারা সকাল ধরে এই আজব বিষয় নিয়ে ভাবার পর,
আমি যখন উত্তেজনার চরম পর্যায়ে,
তখন আমার ভাগ্যই আমার এ অস্থিরতা দমনের,
উপায় করে দিল।
মিঃ মুস্তাফা: আমি আপনার কাজের প্রশংসা করি।
দুঃখিত?
আমি বলেছি, আমি আপনার কর্ম সম্বন্ধে জানি আর এর প্রশংসাও করছি।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, স্যার।
মিঃ জন কি আপনাকে এই স্থাপনার
বৃদ্ধ মালিক সম্পর্কে কিছু বলেছে?
আসলে আমি নিজেই আপনার সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।
মিঃ জন একজন সম্পূর্ণ কর্মক্ষম ব্যাক্তি
কিন্তু তাকে প্রথম কিংবা,
আরো ভালোভাবে বললে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারীও বলা যায় না।
কিন্তু তারপরেও সে এখানে আছেন।
সময় বদলেছে।
গরম পানির গোসলখানাগুলো খুবই সুন্দর।
এগুলো নতুনের মতই ছিল।
কিন্তু সেটা অবশ্য ধরে রাখা যায় নি।
এখনকার সময়ের তুলনায় এগুলো অনেক বেশি পুরনো।
কিন্তু এই মনোরম ধ্বংসাবশেষকে আমি আগের মতই ভালোবাসি।
আমি কি জানতে পারি, আপনি এটা কিভাবে কিনলেন?
এই গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট।
আমি কিনিনি।
আপনি যদি শুধু ভদ্রতার খাতিরেই একথা জানতে চেয়ে থাকেন,
তবে আমাকে সেটা বলতে পারেন,
আর যদি আসলেই এই ঘটনা জানার প্রতি আপনার আগ্রহ থাকে,
তবে আজ রাতে আমি আপনাকে আমার সাথে রাতের খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি,
আপনি এলে আমি খুব খুশি হবো, আর অবশ্য আমিও কাউকে...
"আমার গল্প" বলার সুযোগও পেয়ে যাব।
জলপাই সহ রোষ্ট করা দুটি হাঁস।
খরগোশ, সালাদ? হুম।
Pouilly-Jouvet '52 (পানীয়), আর খুব শুস্ক শ্যাম্পেন।
এখন আমাদের হাতে ভালোই সময় পাওয়া যাবে
যদি আমি এক্ষুনি বলা শুরু করি।
অবশ্যই।
আসলে এ গল্পটা শুরু হয় আমার এক কাছের বন্ধুর পূর্বপুরুষদের থেকে।
তারাই এই গ্র্যান্ড বুদাপেস্টের আসল অধিষ্ঠাতা।
আর যার থেকে এর সূচনা, সে হলেন...
টেবিলটা জানালার কাছে রাখ। জী, মিঃ গুস্তাভ।
ট্রে টা টেবিলে রাখো। এক্ষুনি রাখছি মিঃ গুস্তাভ।
ঠিক ওখানে। ওগুলো কি ঝাড়পোঁছ করা?
অবশ্যই, মিঃ গুস্তাভ। তাহলে এগুলো টুপির বাক্সে ভরে রাখুন।
এটা কি অবার্সডর্ফ এন্ড কোম্পানি থেকে এসেছে?
সম্ভবত, মিঃ গুস্তাভ।
২ নম্বর ট্রাংক। টিকেটগুলো কার কাছে? আমার কাছে, মিঃ গুস্তাভ,
ওগুলো আমার কাছে দাও।
এগুলো সাজানোই আছে। ঠিক আছে, ওখানে গিয়ে অপেক্ষা করো।
আমি যাব না।
আমি দুঃখিত?
আমি যাব না। কেন নয়?
আমার ভয় হচ্ছে। কিসের ভয়?
আমার ভয় হচ্ছে, হয়তো এটাই আমাদের শেষ দেখা।
হঠাৎ এমন কেন মনে হচ্ছে?
আমি আসলে বলে বোঝাতে পারবো না, কিন্তু আমি অনুভব করতে পারছি।
ঈশ্বরের নামে বলছি, তোমার আমাদেরকে ছেড়ে
যাবার কোন কারনই নেই, যদি তুমি...
আমার সাথে চলো।
লুটয'এ?
প্লিজ। তোমার হাত দাও।
তোমার ভয়ের কিছুই নেই। তুমি সবসময়ই ভ্রমনের আগে ভীত হয়ে পড়।
যদিও আমি বুঝতে পারছি, এবার
তোমার ভয়টা একটু বেশিই তীব্র।
কিন্তু আসলেই... হায় খোদা।
তোমার হাতের নখের এ কি অবস্থা?
বুঝলাম না? কি ভয়ানক নেল পলিশ।
রংটা একদমই মানায় নি। তোমার ভালো লাগেনি?
এমন নয় যে আমার পছন্দ হয়নি। আসলে আমার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
সম্ভবত এটা তোমার মনে একটু শান্তি দেবে।
কি? না না আবৃত্তি করো না।
চুপ করে কথাগুলো শোন।
প্লিজ। এখন না।
কবিতাঃ "যখন ধূসর পাইন বনের মধ্য দিয়ে অভিযানে যাচ্ছিলাম,
"আমি একটি সমাধির কাছে পৌঁছুলাম, বৃষ্টিভেজা, পাথরের মতো ঠাণ্ডা, যেন অশরিরি ভর করেছে,
"এর নাম ফলকে লেখা নাম অনেক আগেই ক্ষয়ে গেছে,
"তবুও সেই ফাটল ধরা..."
ম্যাডাম ডি.: তুমি কি আমার হয়ে একটি মোমবাতি জ্বালাবে?
স্যান্টা মারিয়া গির্জায়?
গুস্তাভ এইচ: আমি এ কাজটি খুব গুরুত্ব সহকারেই করবো।
মনে রেখো, আমি সবসময়ই তোমার সাথে আছি।
আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আমিও তোমাকে ভালোবাসি।
টানা ১৯ মৌসুম ধরে এমন একজন মহিলার বিশ্বস্ত থাকতে পারা
আসলেই খুব বড় একটি একটা অর্জন।
আম... জী, স্যার।
সে আসলে আমাকে খুব পছন্দ করে।
জী, স্যার।
কিন্তু তাকে আগে কখনো এমন করতে দেখিনি।
না, স্যার।
সে প্রস্রাব করতে থাকা কুকুরের মতো কাঁপছিল।
আসলেই।
ব্রুখনারপ্লাটযের স্যান্টা মারিয়া গির্জায় দৌড়ে যাও।
সাদামাটা ধরনের ছোট একটা মোমবাতি কিনবে
আর চার টাকা ফেরত আনবে।
এরপর তা প্রার্থনা কক্ষে জ্বালাবে, এবং সংক্ষেপে প্রার্থনা সেরে
মেন্ডল'স এ গিয়ে আমার জন্য চকোলেট ভরা কেক নিয়ে আসবে।
যদি কোন টাকা ফেরত আসে, তবে সেটা ওই খোঁড়া বাচ্চা মুচিকে দিয়ে দিও।
এক্ষুনি যাচ্ছি, স্যার।
দাঁড়াও।
কে তুমি?
আমি জিরো, স্যার। নতুন লবি বয়।
"জিরো" বললে নাকি? জী, স্যার।
আমি তোমাকে কখনো দেখিওনি আর, কখনো তোমার নামও শুনিনি।
কে তোমাকে চাকরি দিয়েছে?
মিঃ মোশার, স্যার।
মিঃ মোশার!
জী, মিঃ গুস্তাভ?
আমি কি জানতে পারি, আপনি আমাকে না জানিয়ে
কেন এই ছেলেকে লবি বয় এর চাকরি দিলেন?
No comments yet. Be the first to leave one.