The first 200 lines.
অনুবাদকঃ শারদ হাসান
আমাকে জীবিত প্রাণী হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল ১৭৯৫ সালের এক শীতে।
আমি একটা জীবন্ত লাশ যার কোন আত্না নেই।
ক্ষতবিক্ষত আর সেলাই করা।
আমাকে কাটাছেড়া করে জীবন দিয়েছিল এক পাগল বিজ্ঞানী।
সে তার নিজের সৃষ্টি দেখেই ভয় পেয়ে গেল, আর আমাকে শেষ করে দিতে চাইল।
কিন্তু আমি বেঁচে গেলাম, আর ফিরে গেলাম তার কাছেই।
এলিজাবেথ!
খুনের বদলে খুন! আমি তাই চেয়েছিলাম।
আমি ওর নতুন বউকে খুন করলাম।
সে আমাকে উত্তর মেরুতে নিয়ে এল মেরে ফেলার জন্য।
ঠাণ্ডায় আমার কিছুই হলনা
কিন্তু সে মারা গেল।
আমি তাকে তার পারিবারিক গোরস্থানে কবর দিলাম
যদিও সে এটার যোগ্য ছিল না।
আমি ভাবলাম সব বুঝি শেষ
কিন্তু এটা তো ছিল কেবল শুরু।
আমরা তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি।
তুমি আমাদের সাথে যাবে
থাম! নেবেরিয়াস এটাকে জ্যান্ত চান।
সবগুলো শেষ।
তোমার কি মনে হয়, কি ওটা?
আমি জানি না।
এর আগে কখনও কোন মানুষকে দেখিনি ডীমন(পিশাচ) মারতে
এত শক্তিও মানুষের নেই।
অনেক দিন হয়ে গেছে
এত উত্তরে কোন ডীমনকে দেখিনি।
ওটার মধ্যে নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু আছে
এমন কিছু যা নেবেরিয়াস চায়।
"ভিক্টর ফ্রাঙ্কেন্সটাইন"
গুজবটা তাহলে সত্যি।
এটাতো বেঁচে আছে!
এটা বেঁচে আছে!
মহারানী!
এটা একটা বন্য জন্তু ছাড়া কিছুই না, মহারানী।
এটাকে শেষ করে দিলেই ভাল হবে।
তো, বুঝতেই পারছ।
কোথায় আমি? এখানে কিভাবে আসলাম?
যেগুলো তোমাকে আক্রমন করেছিল, ওগুলো কি চায়?
- আমি জানি না! - আমরা ওদেরকে নেবেরিয়াসের ব্যাপারে বলতে শুনলাম
মনে হল সে তোমাকে জ্যান্ত চায়।
নেবেরিয়াস এটাকে জ্যান্ত চায়
এটাকে মারার জন্য ওইটুকুই যথেষ্ট।
না!
গিডিওন!
এটা 'মানুষ' , কোন 'বস্তু' না
আমার নাম লিওনর।
আমি গার্গোয়েল সম্রাজ্যের মহারানী।
ও হল গিডিওন। আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত যোদ্ধা।
তোমাকে চারটা ডীমন আক্রমন করেছিল
নেবেরিয়াস নামের এক ডার্ক প্রিন্সের নির্দেশে।
ভাগ্য ভাল যে, অফির এবং কেযায়াহ কাছেই ছিল
ওরা বুঝতে পেরেছিল তুমি কে, তাই তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
আমাদের রাজ্যে।
গার্গোয়েল সম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন
মহান আরকেঞ্জেল মাইকেল
ডীমনদের সাথে লড়াই করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
ডীমনরা হল নরকে সৃষ্ট পিশাচদের ৬৬৬ টি দল
স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হবার পর 'শয়তান' ওদের একত্রিত করেছে।
মানুষদের কাছে আমরা শুধুই কল্পনা
তারা এই নিষ্ঠুর, অদেখা যুদ্ধ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কল্পনাও করতে পারে না এর সম্পর্কে...
যেটা প্রতিদিনই তাদের চারপাশে চলছে
এমন একটা যুদ্ধ, যেটা একদিন ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে...
...পুরো মানবজাতির।
তুমিও এখন এই যুদ্ধে সামিল হয়ে গেছ।
মানুষের পৃথিবী নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই।
হ্যা, জানি। তোমার গল্প আমরা শুনেছি।
তোমাকে সৃষ্টিকারী মানুষটা তোমাকে ত্যাগ করেছে। তুমি একা এবং হারিয়ে গেছ।
তোমাকে আমরা এখানে স্বাগত জানাই।
যতক্ষন না পর্যন্ত আমরা জানতে পারি নেবেরিয়াস কেন তোমাকে চায়...
তোমাকে আমি এখানেই থাকতে বলব।
এই পবিত্র দেয়ালের মাঝে তুমি নিরাপদ।
আমার যেখানে ইচ্ছা আমি সেখানে যাব
মহারানী! এই বদমাশ জিনিসটা ভিক্টর ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের স্ত্রীকে খুন করেছে।
তবে ঝোঁকের মাথায়,
আবেগ তাড়িত হয়ে। কারন ওকে তো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখানো হয়নি।
ও যতটা ভাবে, ও হয়ত তার চেয়েও বেশি মানবিক।
আমার মনে হয় ফ্রাঙ্কেন্সটাইন তোমাকে কোন নাম দেয় নি
আমি তোমাকে ডাকব
'অ্যাডাম' বলে।
আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি অ্যাডাম,
আমাদের সবার উদ্দেশ্যই মহৎ।
তুমি শুধু তোমার উদ্দেশ্যটা আমাদের জানাও।
এখানে কিছু অস্ত্রশস্ত্র আছে
এগুলো আমাদের শহীদ ভাইবোনদের।
আমরা অসংখ্য যুদ্ধ করেছি
অনেকগুলো কষ্টসাধ্য জয়ের পরে
এখন আমাদের কাজ কিছুটা কমেছে।
যাইহোক, ডীমনরা অনেক শক্তিশালী।
ওদের সাথে টিকে থাকার জন্য
মহারানী আমাদের বলেছেন তোমাকে কিছু অস্ত্র দিতে।
শুধুমাত্র 'স্যাক্রেমেন্টাল' অস্ত্র দিয়ে ডীমনদের 'অবতরন' করানো যায়
'স্যাক্রেমেন্টাল' মানে হল পবিত্র অস্ত্র। যেমন ধর, ক্রুশ বা পবিত্র পানি।
যে কোন জিনিসকেই 'স্যাক্রেমেন্টাল' করে ফেলা যায়।
এর জন্য জিনিসটার গায়ে গার্গোয়েল সম্রাজ্যের পবিত্র চিহ্ন আঁকাতে হয়।
'অবতরন' মানে ?
যখন কোন ডীমনকে মারা হয়
তখন ওটার আত্না নরকে নেমে যায়।
ওখানে আত্নাটা অনন্তকালের জন্য বন্দি হয়ে যায়।
একজন গার্গোয়েলকে কিভাবে 'অবতরন' করাতে হয়?
আমরা আলো আর শুভশক্তির সমন্বয়ে তৈরি পবিত্র সৃষ্টি। আমরা 'আরোহণ' করি।
আমাদের 'আরোহণ' করাতে পারে কেবলমাত্র অধার্মিক কোন কিছু, যার আত্না নেই।
ওগুলোতে তোমার কাজ হবে না। ওগুলো তো ভোঁতা আর শক্ত।
আর অনেক ভারীও বটে।
অ্যাডাম, তোমার শক্তি, গতি আর সামর্থ্য আছে।
যেকোনো মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। এগুলোকে কাজে লাগাও।
যুদ্ধে তো তুমি নেমেই পড়েছ। এখন একটা পক্ষ নাও।
কতগুলো ডীমন মরল, সেটা কোন বিষয় না।
আপনি আমাকে ওটাকে শেষ করার অনুমতি দিন।
আমি এতবড় ঝুঁকি নিতে পারি না।
আর বিষয়টা হল, অ্যাডাম জীবিত।
প্রত্যেকটা জীবনই পবিত্র।
- কোন মানুষ তো ওটাকে জন্ম দেয় নি। - আমাদেরকেও তো দেয় নি, গিডিওন।
নাও।
এটাকে সিন্দুকে রেখে দাও।
এটা যেন কখনই নেবেরিয়াসের হাতে না পরে।
কিন্তু মহারানী, এটা তো শুধু একটা বই।
ঈশ্বরই যে এখন আর একমাত্র জীবনদানকারী না, এই বইটা তারই লিখিত প্রমান।
অ্যাডাম
যদি কখনও ফিরে আসতে মন চায়
এই দরজা তোমার জন্য খোলা থাকবে।
কাউকে বিশ্বাস করার মত ভুল তুমি একবারই করতে পার
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে
পৃথিবীর দূরবর্তী প্রন্তে চলে গেলাম।
যেখানে কোন মানুষ,
ডীমন বা গার্গোয়েল আমাকে কখনই খুঁজে পাবে না।
বহু বছর পার হয়ে গেল, কত বছর আম জানিনা।
তবে আমি বুড়োও হলাম না, মারাও গেলাম না।
মানুষদের যেমনটা হয়, আমার তেমন কিছু হলনা।
এটা ছিল ভিক্টর ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের আসল অভিশাপ।
আমি ভেবেছিলাম নেবেরিয়াসের ডীমনরা আমার কথা ভুলে গেছে
কিন্তু ওরা ভোলেনি।
আমি আমার সব ক্রোধ ওদের ওপর ঢেলে দিলাম
অনেক লুকোচুরি খেলেছি
এখন আমি তাদের শিকার করব, যারা আমাকে শিকার করতে চায়।
যে যায়গা ছেড়ে আমি অনেক আগে চলে গিয়েছিলাম, আবার সেখানেই ফিরে এলাম।
যতদিন আমি ছিলাম না ততদিনে মানুষের পৃথিবী অনেক পরিবর্তন হয়েছে
তবে কিছু জিনিস মোটেই বদলায়নি।
যদি ডীমনরা আমাকে জঙ্গলের মধ্যে খুঁজে পেতে পারে,
তাহলে এখানে আমাকে খুঁজে পাওয়া ওদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এজন্য আমাকেই ওদের আগে খুঁজে পেতে হবে।
নেবেরিয়াস, কোথায় সে?
পুলিশ!
অস্ত্র ফেলে দাও!
শুভ সন্ধ্যা, মি. ওয়াসেক্স।
জীবনের শুরু কোথায়, আর শেষই বা কোথায়?
আজ রাতের এক্সপেরিমেন্টটা আমাদের তিন বছরের পরিশ্রমের ফসল
সময় চলে যাচ্ছে, ড. ওয়েড। আমই আপনাকে সময় নষ্ট করতে মানা করেছি।
রিঅ্যানিমেশন সিকোয়েন্স শুরু করছি
প্যাচ ক্ল্যাম্প অ্যামপ্লিফায়ার তৈরি।
পাল্স জেনারেটর প্রস্তুত।
ICD ডান নিলয়ে(হৃদপিণ্ডের অংশ) প্যাঁচানো হয়েছে।
এনার্জি আউটপুট তিন জুল এ সেট করুন
বলে রাখছি, 'সাবজেক্ট' এর হৃদপিণ্ড এখন নিষ্ক্রিয়
বিদ্যুৎ প্রবাহ শুরু করুন। তিন...দুই...এক...
ক্লিয়ার এন্ড শক
শরীরের উপরের অংশ আর পায়ের পেশীগুলো খিঁচ ধরে গেছে
দেখে ভালই মনে হচ্ছে
দুই অলিন্দেই ইন্ট্রাসেলুলার ইলেক্ট্রিকাল অ্যাক্টিভিটি দেখা যাচ্ছে
এখন নিলয়দুটোতেও দেখা যাচ্ছে
অলিন্দদুটোতে কম্পন দেখা যাচ্ছে একটপিক চালু করুন
অনিয়মিত 'একটপিক বিট' চালু করছি
ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন হচ্ছে। সাবজেক্টের হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রবাহ বাড়িয়ে ৫০ জুল করুন
বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ জুল করছি
হৃদস্পন্দন থেমে যাচ্ছে, কোন ডিফাইব্রিলেশন হচ্ছে না।
- দিগুন করুন। - বিদ্যুৎ প্রবাহ ১০০ জুল
পাল্স কমে যাচ্ছে, টেরা!
আবার দিগুন করুন!
- না, আমি এটা পারব না! - দিগুন করুন বলছি!
ওটাতো মারা যাবে!
এটাত মৃতই!
২০০ জুল!
come on!
বেঁচে ওঠো!
হৃদস্পন্দন শুরু হয়েছে!
লাইফ সাপোর্ট চালু করুন।
লাইফ সাপোর্ট চালু হয়ে গেছে।
সাইনাস রিদম ঠিকঠাক।
এটাত শ্বাস নিচ্ছে।
স্যার, একটা ঘটনা ঘটে গেছে।
তুমি নিশ্চিত?
না স্যার, তবে যেভাবে ওটা আক্রমন করল,
একেবারে গার্গোয়েলদের মত গতি আর শক্তি নিয়ে।
ওটা আমাদের সাতজনকে মেরে ফেলেছে। আমি ওটার সাথে বেশ কিছুক্ষণ লড়াই করেছি।
আমার মনে হয় আমি ওটাকে আহত করেছি। আমার মনে হয় ওটা আহত।
ওটা সাতটা ডীমনকে মেরে ফেলল,
কিন্তু তুমি বেঁচে গেলে?
আসলে, আমি ভাবলাম আপনি হয়ত ঘটনাটা শুনতে চাইবেন।
ও, আচ্ছা, তুমি 'ভাবলে'।
আমি কি চাই সেটা তুমি ধারনা করে নিলে।
আসলে, আপনি তো অনেকদিন ধরে
ওই জিনিসটাকে খুঁজে বেরাচ্ছেন...
তাই তুমি ভাবলে আমি তোমার কাছে ওটার ব্যপারে শুনতে চাইব।
এজন্য তুমি নিজে ওটাকে ধরলে না।
তুমি তোমার ইচ্ছামত কাজ করলে।
হুমম
ভালই তো!
আর কখনও
'ধারনা' করার চেষ্টা করোনা আমি কি চাই।
No comments yet. Be the first to leave one.