The first 148 lines.
গাছ, নিশ্চিতভাবে সমগ্র জীবিত সত্তার ভিতরে চমকপ্রদ একটা জীব।
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কিছু প্রাণী বা উদ্ভিদ আছে যারা বাকিদের তুলনায় অনেক লম্বা,
আর এগুলো তাদের ভিতরে সবচেয়ে লম্বা।
আমাদের গ্রহের মৌসুমি অংশে জন্মানো ঝরা পাতার গাছ আর পাইন বৃক্ষের বনভূমি...
পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত বনভূমি।
এগুলোর উচ্চতা কল্পনাকে হার মানায়।
উত্তরমেরুর মরুময় তুষার...
উত্তরমেরু থেকে ১,০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
এখান থেকেই গাছ জন্মানো শুরু হয়।
প্রথম দিকে, পাইন বৃক্ষের সংখ্যা খুবই কম থাকে, কিন্তু একটু পরেই এগুলো পুরো বনভূমি ছেয়ে নেয়।
এটা তৈগা অরণ্য।
সারাবিশ্বের বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলের জঙ্গলে যত গাছ আছে এখানে এই তৈগা অরণ্যে সেই পরিমাণ গাছ আছে।
তৈগা অরণ্য বৃত্তাকারে সমগ্র ভূমণ্ডল ঘুরে এসেছে। আর শুধু এই বনেই পৃথিবীর তিনভাগের একভাগ গাছ আছে।
এটা এত পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে যে সেই অক্সিজেন গ্রহের পুরো বায়ুমণ্ডলকে পরিশুদ্ধ করে দেয়।
তৈগা অরণ্যের সর্ব-উত্তরে,
গাছ বেড়ে উঠার মৌসুম বছরে মাত্র এক মাস স্থায়ী হয়।
একটা গাছ চারা থেকে বড় হতে ৫০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এটা একটা নীরব জগৎ যেখানে একটুখানি থমথমে অবস্থা বিরাজমান।
কিন্তু এখানে মাঝেমাঝে প্রাণের অস্তিত্ব, প্রাণীদের চলাচলের চিত্র তুষারের উপর ফুটে উঠতে দেখা যায়।
উত্তরমেরুর শ্রেতশৃগালের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে আর শিয়ালটা হয়তো খরগোশ খুঁজছিল।
একটা মহিলা মেরুভাল্লুক আর তার দুই শাবকের পায়ের ছাপ।
কিছু প্রাণীকে এক নজর দেখা ঠিক যেন আত্মা দেখার মতোই দুঃসাধ্য।
এই বনে কেউ সারাজীবন কাটানোর পরেও একটা বনবিড়ালের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিড়ালকে শতশত মাইল পায়চারি করতে হবে শিকারের সন্ধানে।
আর হয়তো বনের সেই অংশে এটা দুইবার কখনো আসবে না।
এটাই জনহীন প্রান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুনাবলী।
নিরীহ প্রাণী কম থাকায়, শিকারী প্রাণীদের জীবন এখানে খুবই কঠিন।
এখানে পশুপাখি খুবই কম কারণ অল্পকিছু প্রাণীই কেবল পাইন বৃক্ষের কাটা খেতে পারে।
কিন্তু চমরি গাই পাইন বৃক্ষের কাটা খেতে পারে।
বেড়ে উঠা এতটাই কঠিন যে...
পাইন বৃক্ষ তাদের পাতাকে রক্ষা করার জন্য রজন (আঠা) দিয়ে পাতাগুলোকে পরিপূর্ণ করে রাখে।
যার কারণে পানি-ক্ষরণ কমে যায়, কিন্তু তখন এটা খেতে খুবই খারাপ লাগে।
কমপক্ষে পাইন বৃক্ষের দানা খাওয়ার উপযুক্ত।
কিন্তু ওগুলো শক্ত আচ্ছাদনের ভিতরে সুরক্ষিত থাকে, আর কেবল নির্দিষ্ট এক জাতের পাখিই দানা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ক্রসবিল পাখির অসাধারণ ঠোঁট শক্ত আচ্ছাদনকে ফাঁকা করতে পারে...
যাতে এটার জিহবা ভিতর থেকে দানা বের করে আনতে পারে।
পাখিরা ভাগ্যবান।
যখন মৌসুমি শস্য জড়ো হয়, ওরা দক্ষিণে উড়ে যেতে পারে।
কিন্তু একটা প্রাণী এই জঙ্গলে টিকে থাকতে এতটাই এক্সপার্ট যে...
ওই প্রাণীটা এখানে এই জঙ্গলেই সক্রিয়ভাবে সারাবছর বসবাস করে।
স্থানীয় লোককথায়, উলভেরিন হলো আধ্যাত্মিক জগতের সেতুবন্ধন,
আর ভাল্লুক ও নেকড়ের ভিতরকার দুশমনির কারণ।
বাস্তবে, এটা বিশাল একটা বেজি।
বিশাল আকৃতি এদের শরীরের তাপমাত্রা সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে আর বিশালাকৃতির কারণে এদের অনেক খাবার লাগে।
এটা এতটাই বড়ো আর শক্তিশালী যে একাই একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক বল্গাহরিণ খেয়ে ফেলতে পারে।
এটার বড়ো সাইজের জন্য, এটা একবারে অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি খেতে পারে।
যার কারণে এটাকে পেটুক প্রাণী বলা হয়ে থাকে।
এখানে পেটুক হওয়াটা খুবই কার্যকর কৌশল।
যখন খাবার পাওয়া যায় তখন যতটা পারা যায় খেয়ে নেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আর যখন পেটুকও আর খেতে পারে না,
তখন বাকিটুকু পরে খাওয়ার জন্য ওটা পরিবেশের ডীপ-ফ্রীজে মজুদ করে রাখে।
বরফ বনে এখন বসন্তকাল।
ক্যাপাকেইলি মোরগও পাইনের কাটা খেয়ে হজম করতে পারে।
কিন্তু খাওয়া-দাওয়াটা এই মুহূর্তে মূখ্য বিষয় নয়।
গ্লাডিয়েটরদের মতো পুরুষরা মারামারি করার জন্য জড়ো হয়।
একটা মহিলাকে ইমপ্রেস করার জন্য প্রত্যেক পুরুষ মোরগ হয়তো একবার সুযোগ পাবে।
দুটোর একটাও মনোযোগের সামান্যতম ত্রুটিবিচ্যুতি করার মতো বাজে কাজ করবে না।
পরাজিত আহত মোরগটা হয়তো বাঁচবে না।
বিশাল এই জঙ্গলে বসবাসরত প্রাণীরা...
...হয়তো জীবনে কখনো মানব সভ্যতার সংস্পর্শে না এসেই মারা যাবে।
এভাবেই চিরকাল বিরাজ করুক।
উত্তরের জঙ্গল হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জঙ্গল,
কিন্তু পাইন বৃক্ষের পুরো সম্ভাবনায় পৌঁছে যাওয়া দেখতে হলে...
আপনাকে অবশ্যই এখান থেকে ১,০০০ মাইল দক্ষিণে ভ্রমণ করতে হবে।
উত্তর আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরস্থ উপকূল।
শবকেয়ান (হেমলক বৃক্ষ) গাছ, ডগলাস ফ্যার এবং বিশালাকৃতির রেডউডের আবাসভূমি।
এখানে পানি কখনো বরফে পরিণত হয়না।
আর এমনকি যদি বৃষ্টি না ও হয়,
কাটাগুলো সমুদ্র থেকে উঠে আসা কুয়াশার মাধ্যমে আদ্রতা পায়।
সূর্যের এনার্জি এই জঙ্গলগুলোকে তৈগা অরণ্যের মতো একমাস তাপশক্তি প্রদান করে না,
বরং অর্ধবর্ষ যাবৎ তাপশক্তি প্রদান করে।
এই পাইন বৃক্ষগুলো উত্তরমেরুর পাইন বৃক্ষের চেয়ে ১০ গুন হারে বড়ো হয়,
আর হাজারো বছর ধরে বেঁচে থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এক ঝাঁক লালকাঠ গাছের ভিতরে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছগুলোর তিনটা পাওয়া যাবে।
এই গাছটা ১০০ মিটারেরও বেশি লম্বা, ৩০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান।
পৃথিবীর বুকে মানুষের পা পড়ার অনেক আগে থেকেই এই গাছগুলো এখানে ছিল।
এগুলো ২০ মিলিয়ন বছর আগে এখানে গণহারে জন্মানো শুরু হয়েছিল,
আর এগুলোর অস্তিত্ব ছিল যখন সুইজারল্যান্ডের পর্বতমালা ও উত্তর আমেরিকার পাথুরে পর্বতমালা সৃষ্টিই হয়নি।
বিশাল পাইন বৃক্ষের এই জঙ্গলে অন্য যেকোনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয়...
বৃষ্টিপ্রধান বনের চেয়ে বেশি প্রাণী রয়েছে।
কিন্তু সেগুলো সব গাছের ভিতরে বসবাস করে।
তৈগার পাইন বৃক্ষের দানার মতো এগুলোও খাওয়ার উপযুক্ত নয়।
তাই প্রাণীর সংখ্যা এখানে অপ্রতুল, কিন্তু ওরা বিদ্যমান।
একটা পাইন নেউল।
এখন বসন্তকাল, একটা নেউলের জন্য খাবার খোঁজার বছরের সবচেয়ে সেরা সময়।
পাখির ডিম মৌসুমি খাবার আর অল্প সময়ে অনেক বেশি পাওয়া যায়।
মাঝেমাঝে তো প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
কিন্তু এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য, নেউলের আরো নির্ভরযোগ্য খাবারের উৎস দরকার।
কাঠবিড়াল এদিক দিয়ে উপযুক্ত।
কাঠবিড়ালিরা পাইন বৃক্ষের ফল খেয়ে এখানে আরামসে বসবাস করে,
আর মৌসুমি ফল হলেও, কাঠবিড়ালিরা এগুলো জমিয়ে রেখে সারাবছর খেতে পারে।
কাঠবিড়ালিরা এখন যৌনমিলনে ব্যস্ত।
শিকারীর জন্য এটা ভালো সংবাদ। অন্যমনষ্ক থাকা মানে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা।
কিন্তু এইবার মিলনে ব্যস্ত এই জোড়া সুরক্ষিত।
এদিকে একটা কাঠবিড়াল ঘরে খাবার সাজাচ্ছে ওটাকে ধরা সহজ।
গ্রীষ্মের প্রথমদিকে ধূসর হুতোমপেঁচার বাচ্চারা নতুন উড়তে শিখছে।
বয়স্করা এখানে তাদের বাচ্চাদের বড়ো করে...
বছরের সেই সময়ে যখন মৌসুমি ইঁদুরের বাচ্চা খাওয়ার উপযুক্ত থাকে।
ওদের প্রথমবার উড়ার সময় চলে এসেছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা গাছ থেকে লাফ মারা দুর্বল মনের কারো জন্য নয়।
এখান থেকে নিচে নামতে চাইলে, ধাপে ধাপে নামাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
মাটিতে থাকা একটা হুতোমপেঁচার জন্য বেমানান।
গাছে চড়ে উপরে ওর দলের কাছে যেতে হলে, ওকে অধ্যবসায়ী হতে হবে।
তো, আরো একবার চেষ্টা করে দেখা যাক।
আমেরিকার পাইন বৃক্ষের বনগুলো হয়তো পশু-পাখিতে ভরপুর না...
কিন্তু এইসব বনের গাছগুলো অসাধারণ।
বিশাল এই সিকোইয়া গাছটা, পৃথিবীর জীবিত সবকিছুর ভিতরে সর্ববৃহৎ।
জেনারেল শার্মান নামে পরিচিত এই গাছটি, দশটা নীল তিমির ওজনের সমান।
আশেপাশের পাহাড়ের উপরে বসবাস করে, ব্রিজলকোন পাইন গাছ।
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন উদ্ভিদ।
এদের কিছু কিছু ৫ হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে আছে।
এগুলো পিরামিড তৈরি হওয়ার আগে বেঁচে ছিল,
আর যিশুর জন্মের সময়ই এগুলোর বয়স ছিল ৩ হাজার বছর।
বিষুবরেখার দক্ষিণ গোলার্ধের বনগুলো উত্তরের বনগুলোর মতোই।
দক্ষিণ আমেরিকার অ্যারাউকারিয়া বা মানকি পাজল গাছগুলো তৈগা অরণ্যের পাইন বৃক্ষের মতো।
কাটার বদলে এগুলোর পানি-নিরোধক খাঁজকাটা আঁশ আছে আর এগুলোর দানা দেখতে একটু ভিন্ন...
কিন্তু বৈশিষ্ট্য একই।
ক্রসবিল পাখির মতো সরু-ঠোঁটের ক্ষুদ্র টিয়াপাখি এই দানাগুলো বের করতে পারে।
যেখানে বেড়ে উঠার সিজন দীর্ঘ সেখানেই পাবেন দক্ষিণের লালকাঠ খ্যাত এলার্সে গাছ।
উত্তরের হিমায়িত জঙ্গলের মতো,
চিলির ভ্যালডিভিয়ান জঙ্গলেও খুব অল্প প্রাণী বাস করে।
কিন্তু দুই জায়গার জঙ্গলের সাদৃশ্যতা এখানেই শেষ।
এটা ক্ষুদ্র প্রাণীদের বিচিত্র একটা জগৎ।
পুডু, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট হরিণ, গানেরা উদ্ভিদের বিশাল পাতা ভক্ষণ করে।
মহিলা হরিণটা মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা,
আর এর বাচ্চারা বিড়ালছানার চেয়ে হালকা একটু বড়ো।
পুরুষটাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
ওর বাচ্চাদের উপর শিকারীরা হানা দিতে পারে।
আরেকটা ক্ষুদ্র প্রাণী হলো কডকড বিড়াল।
সমগ্র আমেরিকার ভিতরে এটা সবচেয়ে ছোট বিড়াল এবং পুডুর একটা বাচ্চা এটার কাছে ভালোমানের খাদ্য।
কিন্তু পুরুষ হরিণটা পাহারায় থাকলে, কডকড বিড়ালের বাচ্চা খাওয়ার আশা বাদ দিতে হবে।
পতঙ্গরা ভূমিষ্ঠ হচ্ছে। ওরাই গ্রীষ্মের শেষ চালান।
পিচ্চি বিড়াল হয়তো এগুলো ধরে খেতে পারবে।
কারো জানা নেই এখানের প্রাণীরা কেন এত ছোট, কিন্তু কমপক্ষে ওরা অল্প খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে।
এটার নাম দেয়া যেতে পারে, বিড়াল আর পতঙ্গের খেলা।
যখন চিলিতে শীতের আগমন হয়, উত্তর গোলার্ধে তখন বসন্তের আগমন হয়।
এগুলো হলো ঝরা পাতার জঙ্গল।
পুরো শীতকাল জুড়ে সুপ্ত থাকার পর,
এগুলো এখন প্রাকৃতিক জগতের সবচেয়ে চমৎকার রূপান্তরের দৃশ্য দেখাবে।
বসন্তের শেষের দিকে, অপরূপ তাজা সবুজ রঙে প্রাকৃতির দৃশ্য ছেয়ে যায়।
পাইন বৃক্ষের বদলে, এখানে বড়ো পাতার গাছ রয়েছে,
আর এটাই এই বনের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
পাতা বড়ো হওয়ার কারণে পাইন বৃক্ষের কাটার চেয়ে এগুলো সূর্যের আলো বেশি প্রতিরোধ করে।
কিন্তু এছাড়াও এই পাতা পাতলা, নরম আর খাওয়ার যোগ্য।
আর পাতা-খাদকদের আবার অন্যরা খায়।
এটা পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার অঞ্চলভুক্ত রাশিয়ার বড়ো-পাতার মহা-জঙ্গলের বসন্তের অবস্থা।
চীনা হাঁসেরা ডাকছে।
মায়া চীনা হাঁসটা গাছের ফোঁকড়ে তা দিচ্ছে।
No comments yet. Be the first to leave one.