The first 200 lines.
সম্পাদনায়: মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান
এটা হচ্ছে মুথালাক্কোট্টা...
ইতিহাসে সমৃদ্ধ পালাক্কার একটি গ্রাম।
ভালোবাসার সৌন্দর্যের বাহিরে,
পালাক্কার এই গ্রাম...
রাজনীতির গরম পরিবেশ বিরাজমান।
'অদেখা দর্শনীয় স্থান'-এর একটি নতুন পর্বে স্বাগত।
শেষ মহাপ্লাবনের সময় উদ্ধার অভিযানের জন্য,
চারজন যুবক হিন্দু গুরু কুমারজির সাথে এই গ্রামে এসেছিলেন।
তামিলনাড়ু থেকে আয়াপ্পান,
উত্তর ভারতের রোশন ওরফে রোশি,
আর কেরালা থেকে রবিন এবং রকি।
ধীরে ধীরে তারা এই গ্রামের রক্ষা কর্তা হয়ে ওঠে।
তারা মুথালাক্কোট্টা ব্যাটালিয়নে রূপ নেয়।
আমি গত পনেরো বছর ধরে,
এই পঞ্চায়েত কমিটির বিরোধী নেতা হয়ে আছি।
কমরেড পঙ্কজক্ষণ।
এই গ্রামের সব অনুর্বর জমিগুলো জৈব খামার হিসেবে বানানো হয়েছে।
যখন থেকে মুথালাক্কোট্টা ব্যাটালিয়ন নামে এই দলটি গড়ে উঠেছে,
তখন থেকেই আমাদের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতির বারোটা বেজে গেছে।
হ্যাঁ!
তার নতুন প্রাসাদের মতো বাংলো নির্মাণ মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
কেন বন্ধ হয়েছিলো? কারণটা কী ছিলো?
বলছ না কেন!
দুর্নীতির জন্য বন্ধ হয়েছিল।
'দুর্নীতির রাজা' নারা পিল্লাইকে...
... রাজা বাদ দিয়ে শুধু নারা পিল্লাই হতে বাধ্য করা হয়েছিল।
ওই যে আসছে! ওনার কাছে মাইক নিবেন না! উনি কথা বলা থামাতে চাইবে না।
বিরোধী দলের কোনরকম সাহায্য ছাড়াই,
এই গ্রামকে সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আর এই যুদ্ধে ওই তরুণেরা আমার পাশে আছে।
তাই ব্যাটালিয়নের সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই।
- কৃষি কর্মকর্তা এসেছেন। - নমস্কার।
আরে! ক্যামেরা!
আমাদের এবং আশেপাশের গ্রামগুলো যেন অন্য রাজ্য থেকে...
আমদানি করা সবজির উপর নির্ভর না করে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।
সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছিল...
এই চার তরুণের যৌথ প্রচেষ্টা এবং তাদের বিস্ময়কর নেতৃত্বের দক্ষতা।
সবকিছুকে আমাদের অবশ্যই মেনে নিতে এবং স্বীকার করতে হবে।
যুগ যুগ ধরে অনাবাদি জমি অধিগ্রহণ করে,
সেগুলোকে আবাদযোগ্য করে তোলার সরকারি প্রকল্পের অংশ হিসেবে,
সেদিন স্থানীয় বিভাগীয় রাজস্ব অফিসার গ্রামে গিয়েছিলেন।
আমাদের তালিকার এটাই সবচেয়ে বড় সম্পত্তি, ম্যাডাম।
- ম্যাডাম, এই সম্পত্তি... - এটা পুরো এলাকা।
এটা প্রায় ১৮.৫ একর জমি।
এর সবই ইদাথালা মাথায়িয়ের নামে আছে।
আমরা দুই বছর আগে এখানে চাষাবাদ শুরুর চেষ্টা করেছিলাম।
- কিন্তু কাজ হয়নি। - এবার কাজ হবে, ম্যাডাম।
কারণ.... এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আছে!
কোনোকিছুতেই কাজ হবে না!
ইদাথালা মাথায়ি রাজধানীতে চলে গেছে!
আদেশ সংশোধিত হলেই কেবল সে ফিরে আসবে।
সত্য কথা, ম্যাডাম।
উনি অনেক ক্ষমতাশালী।
এখানে, স্যার।
দেখা যাবে।
আমরা মিস্টার মাথায়ির সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে পারি।
স্যার, মিস্টার মাথায়ি এসেছেন।
আরে, মাথায়ি সাহেব! আসুন, আসুন!
- প্লিজ, বসুন। - নমস্কার।
আজকাল আপনাকে দেখাই যায় না, মিস্টার মাথায়ি।
আপনি ওনাকে দেখতে পাচ্ছেন না? আপনার কি চোখে ছানির সমস্যা আছে, মন্ত্রী সাহেব?
কী!
আমি কথাটা রূপক অর্থে বলেছিলাম, উকিল সাহেব!
কিন্তু আপনি ঠিক কথা বলেছেন মন্ত্রী সাহেব।
সংসদ নির্বাচনের জন্য আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যে চলে গেলেন,
- এরপর আর আপনাকে দেখিনি। - হ্যাঁ!
এভাবে বলবেন না, মিস্টার মাথায়ি।
আমাদের গ্রামের সচ্ছলতার কারণেই আমি এখনও এখানে টিকে আছি।
দেখুন, এই ১৮.৫ একর জমি মহাসড়কের উত্তরে এক কিলোমিটারের সামান্য কম হবে।
এই জমিকে চাষাবাদের অযোগ্য প্রমাণ করতে,
বছরের পর বছর ধরে অনেক অফিসে ঘোরাঘুরি করছি।
আর এই সব লোকেরা আমার কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছে...
আর বলেছে যে এখনই করে দিচ্ছি।
আসলে...
বস তার ডায়েরিতে সব ঘুষের রেকর্ড লিখে রেখেছেন।
আয়কর বিভাগ, সিবিআই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী...
সবার আগে ডায়েরির এসব বসদেরকেই জেলে ভরবে।
১৮.৫ একরের এই জমি পানিতে ভরা, স্যার।
ওখানে চাষাবাদ হয়েছে তাও প্রায় বিশ বছর হয়ে গেছে।
মাথায়ি স্যার মৃত্যুর আগে শহরের উন্নয়নে,
একটি মেডিকেল কলেজ করার স্বপ্নটি পূরণ করতে চান।
ওখানে শহর গড়ে তোলার কোনও পরিকল্পনাই আমাদের নেই!
চুপ করো!
এখন এই জমিকে কৃষির জন্য ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে,
পঞ্চায়েত আমাকে খুব সমস্যা করছে।
মিস্টার মাথায়ি, এটা পঞ্চায়েত করছে না।
- তাহলে? - এটা সরকারের নতুন নীতি।
এটি পরিবর্তন করা খুব কঠিন হবে।
একবার যদি ওই জমি কৃষির চাষের জন্য ছেড়ে দেই,
তাহলে জীবনেও ওই জমি আর ফেরত পাবো না।
মিস্টার মাথায়ি, জমিতে মাটি ভরাট করা আমাদের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে।
আমি কোনো অবস্থাতেই এটা হতে দিতে পারি না।
আপনার আর কিছুর দরকার হলে,
আমাকে জিজ্ঞেস করতে দ্বিধা করবেন না।
আমাকে মিটিংয়ে যেতে হবে।
আমি এখন যাচ্ছি।
মন্ত্রী আমাদের এড়িয়ে চলে গেলেন।
আপনাকে তো বলেছিলাম যে এসবে কোনও লাভ হবে না।
আর কোনও দরকার আছে?
আমাদের বিদেশ থেকে কিছু সোনা পাচার করতে হবে।
আপনি কি করতে পারবেন?
মনে হচ্ছে সে আমাদের সব আবদার পূরণ করতে পারবে!
ওনাদের জেতার জন্য দান করার সময়েই এসব ভাবা উচিত ছিলো।
অকৃতজ্ঞ মানুষ!
এসব মন্ত্রীদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো...
...তাদের শুধু দান আর আপনার মতো টাকার কুমিরের বন্ধুত্বের দরকার হয়।
কিন্তু তাদের চেষ্টা ও কাজকর্ম শুধু গরিবদের জন্য!
সোনা শশী, এসব বলা বন্ধ করো!
এখন কী করা উচিত আমাকে বলুন।
এরকম যে হবে সেটা আগে থেকেই জানতাম।
একটি উপায় আছে।
- সত্যশীলন। - সত্যশীলন?
আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না।
কিন্তু সে আমার দূরের আত্মীয়ের এক আত্মীয় হয়।
এতদিন ধরে যা শুনেছি,
এমন কোনও সমস্যা নেই যার সমাধান সত্যশীলনের কাছে নেই।
সত্যশীলন আসবে,
আপনার সাথে দেখা করবে,
আর এই সমস্যার সমাধান করবে।
এমনকি ভগবানও যেই কাজ করতে পারে না,
এই সত্যশীলন সেই কাজ করে ফেলে!
প্রবাদ আছে, "বাধা দূর করার জন্য গণপতির জন্য নারকেল না ভেঙে...
সত্যশীলনের মাথায় ভাঙা উচিত"।
এমন কোন প্রবাদ নেই!
নেই? কিন্তু আমি তো শুনেছি।
কিন্তু আমি সকল বাধা দূর করতে পারব।
এই ১৮.৫ একর জমি ভরাট করে আপনাকে ফিরিয়ে দেবো!
আমাদের শুধু ওখানে মাটি ভরাট করতে হবে।
একবার হয়ে গেলে, আমাদেরকে অনেক জাল দলিল বানাতে হবে, তাই না?
আরে, ধুর!
করতে হবে!
যে লোক মাটি ভরাট করতে আসবে,
তার এক বছর সময় লাগবে।
তাকে থাকার জন্য একটা বাড়ি দিতে হবে।
আর যে টাকা চাইবে, সেটাও তাকে দিতে হবে!
এছাড়াও, তিন বছরের জন্য একটি চুক্তিনামা লাগবে।
কী?
তিন বছরের জন্য?
এতোদিন লাগবে কেন?
ওই চুক্তির ভিত্তিতেই সে চাষাবাদের জমি সমতল করবেন।
কেউ যেন সন্দেহ না করতে পারে।
কাগজপত্র সব ঠিকঠাক থাকতে হবে।
তিন বছরের জন্য চুক্তিনামা অবশ্যই লাগবে!
- এসবের কি দরকার আছে? - হ্যাঁ!
পঞ্চায়েতের মুখ বন্ধ করার জন্য ওই চুক্তি দেখাব।
পুরানো একটি দলিলের উপর এই চুক্তি লেখতে হবে।
হ্যাঁ।
একবার মাটি ভরাট হয়ে গেলে,
আমার লোক একটি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে জমি ফেরত দেবে।
আপনি মাত্রই তাকে আপনার নিজের লোক বললেন!
আপনার এই "লোক"-টা কে?
সে এক মহামানব!
প্লিজ, আসুন।
এটা এই গ্রামের সবচেয়ে ধনী লোকের বাড়ি।
আপনার কি এখনও মিস্টার মাথায়ির সাথে দেখা হয়নি, ম্যাডাম?
- না। - উনি খুব ভালো মানুষ।
সে ৮% সুদ নেন।
উনি ভেট্টিকল শশী।
মাথায়ির আইনি উপদেষ্টা।
সে শুধু উপদেশই দেন।
মাথায়ির পক্ষে আদালতে মামলা করার জন্য ওনার আরও উকিল রয়েছেন।
আমার প্রশংসা করা শেষ হয়ে গেলে আপনারা ভেতরে আসুন।
প্লিজ, আসুন।
প্লিজ, আসুন।
দয়া করে বসুন, ম্যাডাম। আমি ওনাকে ডেকে আনছি।
এরা মাথায়ির ঘরের পালিত গুন্ডা-পান্ডা।
ম্যাডাম, ইনি ইদাথালা মাথায়িয়ের বড় ছেলে বেবিমন।
ইনি তার ছোট ছেলে বাবুমন।
আর এরা হচ্ছেন এই দুই ছেলের স্ত্রী।
ইনি সুষমা আর উনি জুলি।
উনি হচ্ছেন আয়কর বিভাগের ম্যাডাম।
উনিই মাথায়ি স্যার।
নমস্কার! নমস্কার!
প্লিজ, বসুন।
পঙ্কজক্ষণ, প্লিজ বসুন।
বৌমারা, চা বিস্কুটের ব্যবস্থা করো।
- লাগবে না, ধন্যবাদ। - না, না! এখনই আনছি।
না, না! ঠিক আছে। আমার কিছু লাগবে না।
আমরা এসেছিলাম...
সরকারকে চাষাবাদ শুর করার জন্য, আমার ১৮.৫ একর জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য...
আমাকে অনুরোধ করতে এসেছেন, তাই না?
ঠিক আছে, এতে আমার কোনও সমস্যা নেই।
আমাদের গ্রামের জন্যই তো, তাই না?
কিন্তু আমার কী করার আছে?
এরমধ্যেই জমিটি একজনকে ইজারা দিয়ে দিয়েছি! এজন্য বলছি!
- উকিল সাহেব! - জি!
ম্যাডাম, এটা সেই চুক্তির কপি।
ছয় মাস আগে এটা লেখা হয়েছিল।
আপনি তারিখ পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে, আমরা এটা পুরানো দলিলের উপর জাল করেছি।
এটা একদমই আসল! তাই না?
আমাকে থুতু মারবেন না!
আপনার ইজারাদারের এই ফালতু জলাবদ্ধ জমি কেন লাগবে?
তাতে আমাদের কী যায় আসে! আমাদের তো শুধু টাকা দরকার!
জমিটি গত ১৫ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
ম্যাডাম, আমরা যদি গ্রামের উপকারের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি,
তারা সাথে সাথেই আপত্তি করা শুরু করবে!
এটা কৃষিজমিতে ভরাট করার একটি চিকন বুদ্ধি, ম্যাডাম।
এই ইজারাদার বেনামী কেউ হতে পারে।
No comments yet. Be the first to leave one.