The first 200 lines.
প্রস্তুত?
আমি ভি.আর কৃষ্ণ লাইয়ার, এটাই আমার নাম।
আমি প্রথমে আইনজীবী, আর পরে মন্ত্রী হয়েছিলাম।
এরপর আমি একজন বিচারক ছিলাম। এখন আমার বয়স ৮৮ বছর।
আমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলছি,
মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিল করার পক্ষে আমি দৃঢ় সমর্থন করি।
এটি আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নয়।
প্রাচীনকাল থেকেই এটি আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে আছে।
মহাত্মা গান্ধীও বলতেন,
ভগবান এই জীবন দিয়েছেন,
একমাত্র ভগবানের এই জীবন নেওয়ার অধিকার আছে।
আদালত বা রাষ্ট্রের কারোরই এতে অধিকার নেই।
দয়া করে মনে রাখবেন যে, মৃত্যুদণ্ড হচ্ছে এক ধরণের...
বিচার করে খুনের অনুমোদন দেওয়া।
হ্যাঁ।
ধন্যবাদ।
আমার নাম মুনুস্বামী।
- আজকে পর্যন্ত আমি ৪৬ জনকে ফাঁসি দিয়েছি। - আপনি কি নিজেকে দোষী মনে করছেন?
কী?
এত জনকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য কি নিজেকে দোষী মনে করেন?
প্রথমদিকে নিজেকে অপরাধী মনে হতো।
তবে এখন এটি আমার পেশা হয়ে গেছে।
আমার এখন সেরকম কিছু মনে হয় না।
এটি বিশেষ ম্যানিলা দড়ির ফাঁস।
প্রতিবার আমরা এটি পাল্টে নেই।
যেহেতু মুখটি কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা থাকে,
তাই জিহ্বা আর চোখ বেড়িয়ে আসা দেখা যায় না।
স্বাক্ষীদের দেখার কোনও প্রয়োজন নেই।
- মারাপ্পান। - মৃত্যুদণ্ড।
আমি ৩০ বছর ধরে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলাম।
একদিন কিছু ছেলে এসে আমাকে বলল যে, কয়েকটা ছেলে খুব সমস্যা করছে।
যখন দেখতে গিয়েছিলাম, তখন জানতে পারি যে সাংবাদিকের ছেলে সমস্যা করছিল।
আমি তাকে থামার জন্য সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সে থামেনি।
আমি তাকে আঘাত করতেই সে মারা গেল।
ওই পাপের জন্য আমার কোনও অনুতাপ নেই।
ভগবান আমার কপালে এটা রেখেছিলেন।
এই ঘটনার জন্য আফসোস করে আমি আত্মহত্যা করতে বাড়ি গিয়েছিলাম।
আমার স্ত্রী বলল, "একজন শিক্ষকের এমন খারাপ নজির স্থাপন করা উচিত নয়"।
তাই, আমি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলাম।
পরে, তারা আদালতের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে বাধ্য করেছিল।
এখন, আমি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছি।
জীবন ভিক্ষার জন্ম আবেদন করেছিলাম, পরে কী হয়েছে তার কিছুই জানি না।
এখন আমি জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি ঝুলছি।
সামগ্রিকভাবে আমরা অপরাধীদের জন্য কম কষ্টকর মৃত্যুর ব্যবস্থা করি।
জানি না, মৃত্যুর আবার কীভাবে কম কষ্টকর হয়!
যদি এটি বিচার এবং ন্যায়বিচার হয়,
তাহলে আমি ফাঁসি নিয়ে নিতাম।
আমার নাম অ্যাঞ্জেলা কাঠামুথু।
আমি এখন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছি।
মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা সম্পর্কে একটি গবেষণায় জড়িত আছি।
এই সমাজের স্বার্থে আমরা আইন মেনে চলি না।
সত্য হলো, শাস্তির ভয়েই মেনে চলি।
সমাজ ও আইন রক্ষার জন্য,
কেউ কেউ মতামত দেয় যে শাস্তির দরকার আছে।
আবার অনেকে এটাও বলে যে, আইনের অনেকগুলি সূক্ষ কারচুপি রয়েছে।
পুরুষদের মতো আইনও অনেক ভুল করেছে।
ইতিহাসে এগুলোর অনেক প্রমাণ রয়েছে।
আইনকে অনেকবার তার রায়গুলো বিস্তারিত আকারে পুনরায় লিখতে হয়েছে।
কিন্তু একটি রায় আছে যা আইন পুনরায় লিখতে পারে না।
সেটা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
ভিতরে যাও।
আমার নাম পেইকামান।
আমি ২০০০ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলাম, পদোন্নতি পেয়ে সাব-জেলার হিসাবে এখানে এসেছি।
- কী সমস্যা? - দরজার স্ক্রু নেই।
এক মিনিট।
- আমার সাথে এসো। - মনে হচ্ছে আজকের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে।
আমাদের আগামীকালেরও অনুমতি আছে, কালকে এসে সাক্ষাৎকার নেবো।
আমরা এখানে অনুমতি নিয়ে এসেছি।
সমস্যা নেই। ক্যামেরা চালু আছে? দ্রুত চালু করুন।
উনি ফিরে আসার আগেই আমি বলে ফেলব।
নারায়ণ, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত।
যাই হোক, আমি মারা যাচ্ছি। তার আগে আপনাকে সব কিছু বলব।
এই কারাগারে অনেক অনিয়ম ঘটছে।
পেইকামানের অত্যাচার অসহ্য হয়ে উঠছে।
এখানে সব খারাপ ঘটনা ঘটছে।
কারাগারের আশপাশে মোবাইল ফোন, মাদকের করবার চলছে।
জেলার সাহেব ভালো মানুষ, কিন্তু এই পেইকামান হলো...
কোনও সমস্যা?
ও কি কিছু বলেছে?
মৃত্যুদণ্ডের অপরাধীরা খুব মেজাজী মানুষ।
তারা হাসবে, কাঁদবে আর সব মিথ্যা কথা বলবে।
আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন।
- মিঃ ক্যামেরাম্যান। - স্যার।
আপনার ক্যামেরার লেন্সের ঢাকনা ফেলে গেছেন।
ধন্যবাদ।
সাবটাইটেল
সাবটাইটেল অনুবাদেঃ
সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ
সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ নাজমুল
সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান
ওরা কি সাহস নিয়ে এটি প্রচার করবে? ওরা কোনও ভয় পাবে না, তাই না?
কেন? অবশ্যই না।
সরকারী কর্মচারী হলেই শুধু ওনাদেরকে আমাদের ভয় পাওয়া উচিত।
আগামীকাল আমি আরও ৪/৫টা টেপ তৈরি করব।
নারায়ণ আপনার সাথে আরেকটু কথা বললে ভালো হতো।
- গিরিশ, তোমারও জেলে থাকার কথা। - অবশ্যই।
জানো, আমি অনেক ভয়ে ছিলাম।
ম্যাডাম, আপনি শুধু নাগরিক আইনে ডক্টরেট করেছেন।
আমি প্রতারণায় ডক্টরেট করেছি, আগামীকাল সব দেখতে পাবেন।
আমরা কি এই শট যুক্ত করব নাকি...
জরুরী ফাইল হিসেবে ভিতরে রেখে দাও, পরে এটি নিয়ে চিন্তা করা যাবে।
সমস্যা ডেকে আনার কোনও দরকার নেই।
জীপের ভিতরে কী আছে দেখ তো।
ভিতরে যে আছে, তাকে চিনতে পারছি না।
সরে যা, সর।
রাস্তা দে।
হারামজাদা! নিজেকে কী মনে করিস? তোদের সবাইকে দেখে নেবো!
চুপ কর! চিৎকার করবি না।
জেলার স্যারকে বলুন যে অ্যাঞ্জেলা দেখা করতে এসেছে।
ওনারা জেলার স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছে।
পুরো ব্যাপারটাকে আমার মেয়াদ থাকতেই ঠিক করতে চাই।
- তার জন্য আমার দরকার... - স্যার, ওই মহিলা সাংবাদিক!
ওনাকে আসতে বলো।
সব কিছুর জন্য মনগড়া একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি।
হ্যালো, শুভ সকাল।
শুভ সকাল, ম্যাডাম। প্লিজ, বসুন।
যাই হোক, সকালটা আমার জন্য শুভ নয়। খুব খারাপ যাচ্ছে।
কেন?
বন্দিরা ভিতরে অনশন করছে, আর বাইরে ঝামেলা আর হট্টগোল চলছে।
- ভাই, দয়া করে বের করবেন না। - আচ্ছা, বাদ দাও।
যেকোনও ছোট সমস্যা তাদের পক্ষে যথেষ্ট! আর এবার তো এটা একটি মৃত্যু।
আমাদের হেফাজতে কেউ মারা গেলে আমাদের মাথা ঘুরবে।
ঠিক আছে, এসব বাদ দিন।
আপনি আজকে আপনার সাক্ষাৎকার শেষ করবেন, তাই না?
প্লিজ, সাক্ষাৎকার শেষ করুন। ওগুলো গতকালের জায়গাতে নিয়ে যাবেন না।
এটা খুব স্পর্শকাতর।
আমি এই জায়গা বরাদ্দ করেছি, এতে আপনাদের জন্য সুবিধা হবে।
আজকেই করার চেষ্টা করুন, যাতে শেষ হয়ে যায়।
- হ্যাঁ, মাত্র ২-৩টি সাক্ষাৎকার বাকি আছে। - ঠিক আছে।
আমরা গতকাল একটি সাক্ষাৎকার অর্ধেক নিয়েছি, আমার ওটা শেষ করতে হবে।
আচ্ছা, কার সাক্ষাৎকার ছিলো?
- শিক্ষক মারাপ্পা গাউন্ডারের ছিলো? - না, না।
আমার মনে হয় উনি নারায়ণ ছিলেন।
- মৃত্যুদণ্ডের আসামি? - হ্যাঁ।
- কোনও সমস্যা? - কিছুই হয়নি।
প্লিজ, বাইরে অপেক্ষা করো।
এই জায়গাতে বিশৃঙ্খলা লেগে আছে।
আপনাদের মতো অঙ্গীকারবদ্ধ মানুষের সাহায্য আমাদের দরকার।
ঠিক আছে।
- আপনি নারায়ণের সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন না। - কেন?
সে গতকাল অসুস্থ হয়েছিল, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।
বন্দীদের হত্যা করা যাবে না!
এখানকার বন্দিরা তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ করছে।
আপনি তাদের মিছিল শুনতে পাচ্ছেন, তাই না?
স্যার, তার আত্মীয় লাশ নেওয়ার জন্য এসেছেন।
অপেক্ষা করো, আমি কয়েক মিনিট পরে আসছি।
অন্যান্য আসামিদের তুলনায় নারায়ণ বেশি বিপজ্জনক ছিল।
এক মিনিট।
একজন মহিলা আসছে, দেখতে পাচ্ছ না? মেইন দরজা খুলে দাও।
ম্যাডাম, আপনি আসেন।
একজন আসামির মৃত্যুর জন্য,
ওরা সবাই অনশন ধর্মঘট করছে, যেন সে মহাত্মা গান্ধী ছিলেন।
জেলার সাহেব খুব ভালো মানুষ।
ওনাকে দিয়ে এসব হবে না, আরও শক্ত কাউকে লাগবে।
আইপিএস অফিসাররা এই দায়িত্ব নিবেন না।
আমার মতো যেই অফিসাররা ক্যাডার থেকে আসে তারাই শুধু দায়িত্ব নিবে।
নয়তো, ওরা এভাবেই অনশন ধর্মঘট করে যাবে।
- স্যার, আমি কোনও ভুল করিনি। - দাঁড়া, আমি আসছি।
ম্যাডাম, আপনি আসেন।
ম্যাডাম, মনে হচ্ছে নারায়ণের সাক্ষাৎকার নিতে না পারায় আপনার মন খারাপ হয়েছে।
না, কিছুই হয়নি।
চিন্তা করবেন না, ওর চেয়ে আরও মজার একজন রয়েছে।
আমরা এখন যাদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি,
তারা দু'জনে মিলে থেনি জেলায় ২৪ জনকে গণহত্যা করেছিল।
পরে তারা একজন আরেকজনকে খুনের চেষ্টা করে! এখন দু'জনই জেলে রয়েছে।
একজনের ফাঁসি হয়েছে, আরেকজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
আপনারা হয়তো ভিরুমান্ডি মামলার কথা শুনে থাকবেন।
আমি এই মামলাটি তদন্ত করেছিলাম।
আমরা এখন দ্বিতীয় আসামির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, ভিরুমান্ডির এক নাম্বারের শত্রু।
কোথালা থিভার।
সি.কে. ওরফে চিন্নাকোলারপট্টি, থেনি জেলা।
পুরোজীবন পেয়েছি।
আজীবন পেয়েছি।
আমাকে আরও বলুন।
সুন্দ্রা পান্ডি থেভারের সরাসরি বংশধর যারা তিরুমালাই নাইকারের আগে রাজত্ব করেছিলেন...
না, আপনার স্বাভাবিকভাবেই কথা বলুন। আমি আপনার পুরানো ইতিহাস শুনতে চাই না।
- শুনতে চান না? - না।
মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন।
মৃত্যুদণ্ড অবশ্যই দরকারি।
আমার মতো ১০ জন নিরীহ মানুষ মরলেও আমার কিছু আসে যায় না।
কিন্তু, রক্ত পিপাসু অপরাধীদের দেশে নির্দ্বিধায় চলাফেরা করা উচিত নয়।
কিন্তু, আইন চেষ্টা করে যেন ওই ১০ জন অপরাধী মুক্তি পেয়ে যায়।
তবে একজন নিরপরাধীকেও শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
এজন্য আমরা আইনের চেয়ে স্বাভাবিক ন্যায়বিচার এবং ভাগ্যকে বেশি সম্মান করি।
ন্যায়বিচার অনুসারে, যদি সে মারা যায় তবে ওটা তার ভাগ্যে লেখা ছিলো।
আইনও তাই বলে।
এ থেকে আপনি কী বুঝতে পারলেন?
ভগবান আছে।
- কোন লোকের আইন মারা যেতে বলছে? - ওই লোকের!
এটাই তো জানতে চাইছি, সে কে?
ভিরুমান্ডি।
দেখলেন তো? তার নাম উচ্চারণ করাও বেশ কঠিন।
যা দেখি, সেট সবসময় সত্য নয়।
আমাকে হয়তো খলনায়কের মতো লাগতে পারে, কিন্তু আসল খলনায়ক হচ্ছে সে।
সে দুই গ্রামের মাঝে উস্কানি দিয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে মানুষ মেরেছিল।
কোন দুই গ্রাম?
সি.কে পট্টি... চিন্নাকোলারপট্টি আর নালামা নাইকেনুর।
সুন্দর দুটি গ্রাম।
নালামা নাইকেনুরে সেই বছর ষাঁড় লড়াইয়ের উৎসব হচ্ছিল।
নালামা নাইকার আমার বাবাকে খুন করেছিল। সেই কারণে সে চার বছর জেল খেটেছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.