The first 200 lines.
"নমস্কার" সবাইকে
এটা আমার করা ৮ম বাংলা সাবটাইটেল, মুভিটার অফিসিয়াল কোনো ইংলিশ সাবটাইটেল নেই, ভূল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
মাফ করে দাও বাবা, আমরা পরস্পরকে ভালোবাসতাম।
আমি বললে, তুমি যদি না...
আমি বলেছিলাম, বিয়াইমশাই
কী করেন আপনি?
বিজনেস, স্যার।
আমিও বিজনেস করি, স্যার।
অনেক রকমই তো আছে, সেটা কী?
রেডিমেট পোশাক বিক্রির শোরুম আছে।
এই বিষয়টা কি আগে থেকেই জানতেন?
আমি ওদের বুঝিয়েছিলাম...
আজকে যে বিয়ে হয়েছে তার কথা বলছি না,
ওরা যে প্রেম করছে সেটা আগে থেকে জানতেন কিনা?
যদি জেনেই থাকবেন, আপনি কোথায় আর আমরা কোথায় ভাবলেন না?
নিজেদের ফ্যামিলির মধ্যে সব ঠিক করে ফেলেছেন, তাইতো?
দুজনেই যেহেতু পরস্পরকে পছন্দ করতো...
পছন্দ করতো বলে কাওকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়েছি, আমরা মধ্যবিত্ত,
মধ্যবিত্ত হয়ে এছাড়া কিইবা করার ছিলো! এসব বলবেন তো?
বুঝতে পারলেন না?
তিরুপতি আপনিও যান, আমিও যাই।
আপনিও দর্শন করেন, আমিও দর্শন করি।
কিন্তু ঈশ্বরকে আমি এভাবে কাছ থেকে দেখি।
এটাকে একটা উদাহরণ মনে করলে... আপনার আর আমার মধ্যে এটাই পার্থক্য!
আপনার মেয়েকে মেনে নেয়া বা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবো আমি!
এখন কী বলবেন?
স্যার..
আমি সবটুকু দিয়ে আমার মেয়েকে খুব যত্নে বড় করেছি।
বড় করেছেন বলে কাওকে না জানিয়ে বিয়ে দিয়ে সম্বন্ধ করবেন!
মিটিং আছে, আয়
- বাবা, আমি বলতে চেয়ে... - প্লিজ, একটা কথাও বলবি না।
তোর স্ত্রীকে বাড়িতে রাখার অধিকার তোর আছে।
কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সে এই পরিবারের সদস্য হওয়ার যোগ্য না। আমি সেটা মেনে নেবো না।
বাবা, প্লিজ বাবা।
তুলসী, ওই মেয়েটা যেনো আমার সামনে না আসে।
গুড মর্নিং, বাবু
বাবু, কফি
- রাজ কাকু - হ্যা, বাবু
দূরবীনটা নিয়ে আসুন তো।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় : অমিতাভ বর্মন
- রাজ কাকু.. - হ্যা, বাবু
এখানে কি জলের সমস্যা?
না তো, বাবু। কেন?
একটা মেয়ের দুই -একটা অংশ সুন্দর হয়। এ মেয়েটা কী রাজ কাকু? সব অংশই সুন্দর!
আবহাওয়ার কারণে নাকি সে সত্যিই সুন্দরী?
আবহাওয়ার কারনে হয়তো, বাবু।
কাছ থেকে দেখলেই আসল সৌন্দর্য বোঝা যাবে।
চলুন যাই।
ছ্যা, মিস করলাম রাজ কাকু!
রাজ কাকু, আপনিও ট্রাই করুন। খুবই ভালো।
আমি অতো নিচু হয়ে বসতে হতে পারি না বাবু।
আপনি যাই ভাবুন আপত্তি নেই, কিন্তু মেয়েটার খুঁটিনাটি খুঁজে বের করুন।
তাকে আমার পছন্দ হয়েছে।
বাবু, পরের সপ্তাহে আপনাকে আবার আসতে হবে।
উপত্যকায় কৃষকদের সাথে কথা বলতে হবে।
অবশ্যই, রাজু কাকু।
তারা আগ্রহী কেমন? - হ্যাঁ, সবাই আগ্রহী বাবু।
সাউন্ড কোথা থেকে এলো, রাজ কাকু?
রাজ কাকু, কোথা থেকে পড়লো?
ট্রেকিং করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গেছে, স্যার।
- মরে গেছে নাকি? - ধরুন বাবু, দেখতে হবে।
এই যে, শুনছেন? এই যে..
বাবু!
- এ কী করছেন? - তাকে শ্বাস দিচ্ছি রাজ কাকু।
আপনি কেনো দেবেন, বাবু? হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা দেবে। পালস আছে কি না দেখুন।
কোনো সাউন্ডই পাচ্ছি না, রাজ কাকু!
পালস চেক করার জন্য বুকে মাথা রাখার দরকার নেই বাবু।
হাত ধরেও বুঝতে পারবেন!
বেঁচে আছে, রাজ কাকু!
রাজ কাকু, এতো সুন্দর একটা মেয়ের এ কী হলো!?
বাবু, মেয়েটা যে সুন্দরী সেটা তো জানি, কিন্তু ভাল না খারাপ তার তো ঠিক নেই!
রাজ কাকু, প্রকৃতি প্রেমীরা সাধারনত খুব সেনসিটিভ হয়!
ছাড়ুন না বাবু, ফ্লাইটের টাইম হয়ে যাচ্ছে। চলুন..
কী! এভাবে রেখে চলে যাবো?
বাবু, এরা ট্যুরিস্ট.. হাসপাতালে তো ভর্তি করিয়েছি।
এতো চিন্তার কি আছে? আপনি চলুন তো..
শুধুই ট্যুরিস্ট?
আমার তো তেমন মনে হচ্ছে না।
- মনে হচ্ছে আমাদের মধ্যে... - বাবু!
চেক ইন টাইম হয়ে যাচ্ছে, চলুন..
হুম, ধরা পড়েছে!
ম্যাডাম, আমি বাইরে যাই।
সমস্যা নেই...হাজব্যান্ড তো এখানে থাকতেই পারেন।
না..
আমি তার হাজব্যান্ড না।
হাজব্যান্ড না?!
এমনটা হবে ভাবিনি স্যার। মেয়েটা হঠাৎ ওপর থেকে পড়লো!
বিল একটু বেশিই এসেছে।
আমি সব সামলে নেবো।
- রাজ কাকু - বাবু
ভেতরের নার্স, আমাদের স্বামী- স্ত্রী মনে করলো!?
জানে না, তাই হয়তো বলেছে বাবু!
হেই, ভালই হয়েছে। বুকের ভেতরটা ধড়পড় করছে!
ক্রেজি!
রাজ কাকু, আপনি বুঝতে পারছেন না, তার জীবন বাঁচিয়েছি জানলে খুশি হবে।
- এক্সকিউজ মি, - ইয়েস
১০৩ নং রুমে ট্রেকিং এক্সিডেন্ট করা যে মেয়েটা এসেছিলো গতকাল..
ওনাকে তো ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওনার ফ্রেন্ড এসে ওনাকে নিয়ে গেছে।
চিন্তা করবেন না বাবু, প্রকৃতি আর মেয়েরা একই রকম।
তাদের যা মনে চায় তাই করে, আর আমরা চিন্তায় পড়ে যাই!
রাজ কাকু! প্লিজ
স্যার,
এক্সকিউজ মি! স্যার, কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?
ঐ মেয়েটা আপনার সাথে দেখা করার জন্য অনেকক্ষন অপেক্ষা করেছিলো।
আপনার সাথে দেখা না করে যাওয়ার সময় খুব কষ্ট পেয়েছিলো।
আপনাকে আরো ১০ মিনিট আগে আসা উচিত ছিলো।
ফ্লাইটের দেরী হয়ে যাচ্ছিলো বলে ওনার ফ্রেন্ড ওনাকে নিয়ে চলে গেছে।
আপনাকে দেয়ার জন্য এই চিঠিটা রেখে গেছে।
দেখা করতে পারলাম না বলে ক্ষমা করবেন!
আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবো যেন সবসময়..
আপনাকে সুস্থ ও ভাল রাখে।
বাবু, সেক্রেটারি ফোন করেছিলো। নাম অনন্যা।
হায়দ্রাবাদে বাড়ি। ভাইজ্যাগ গীতাম কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।
- কী? হায়দ্রাবাদের মেয়ে? - হ্যাঁ, বাবু।
ভাল কাজের ফল ভালই হয়!
ঠিক আছে রাজ কাকু, আসি।
বাবু..
শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ, রাজ কাকু।
ওহ, ভালই তো। উটি, সিমলা, কাশ্মীর ভ্রমন!
ওসব জায়গা কেমন আমরা কি সেটা জানি না?
বাবা পাঠালেই মেয়েকে নাচতে নাচতে যাওয়া লাগবে?
হেই, পাগলের মতো বকোনা তো।
ভাল না লাগলে বলো, আমি আর বাবা বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি।
কোথায় যাবি?
তোদের কে চিনি না?
কী হয়েছে? সকাল সকাল শুরু করেছো?!
হ্যাঁ, শুরু করেছি!
২ মাস পর পড়াশুনা শেষ হয়ে গেলে, ওর বিয়ে সাদি দেওয়ার কথা ভাব।
তুই তো এসব ভাববি না। সারাক্ষন শুধু মেয়ের গুনকীর্ত্তন করতেই থাকিস!
কি যে বলোনা!!
ওতো রাজকুমারী। যুবরাজ এসে ঘোড়ায় চড়িয়ে নিয়ে যাবে।
নিয়ে গেলে তো ভাল!
কি জানি সত্যি যদি ঘোড়ায় চড়ে নিতে আসে..
তখন ঘোড়াকে খাওয়ানোর জন্যও তো তোর কাছে টাকা নেই।
ছাড়তো, সব সময় খালি বকবক করে!
ঘোড়ায় উঠবে কিনা ভগবানই জানে,
কিন্তু বিকেলে ওকে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসার টাকা আছে?
কিরে মা, চলে যাবি?
আরও চার-পাঁচ দিন থাক।
ওখানকার আবহাওয়া আর এখানকার আবহাওয়া তো আলাদা।
আবার যদি সর্দি বা জ্বর হয়?
লাস্ট সেমিস্টার চলছে, ক্লাস মিস দেয়া যাবে না বাবা।
ঠিক আছে, তৈরী হয়ে নে।
যাওয়ার সময় তোর আঙ্কেলের সাথে দেখা করে তারপর ট্রেনে তুলে দিয়ে আসবো।
- মা, কেমন আছে? - ভালই।
হেই, অনুর সেমিস্টার ফি দিতে হবে।
হ্যাঁ, তাই তো!
- গতবার কত টাকা দিয়েছিলাম? - ১ লাখ টাকা।
এবার ৭০ হাজার বাড়তি লাগবে।
"I Phone 6" এসেছে নাকি! সবাই ব্যাবহার করছে।
অনুর তো পুরনো ফোন!
আমার অবস্থা দেখে বলে না, কিন্তু মনে মনে হয়তো চায়।
তোকে দেখে রাগ হচ্ছে!
টাকা থাকা এক জিনিস, বাচ্চাদের বড় করা আরেক জিনিস।
ওর মা মারা যাওয়ার সময় কথা দিয়েছিলাম, অনুকে ভালভাবে মানুষ করবো...
আমরা খাই বা না খাই।
কিন্তু আমার মতো মধ্যবিত্তের মেয়েকে কেউ অপমান বা অসম্মান করলে সহ্য হয় না, মানতে পারি না।
হেই, আমি থাকতে এতো ভাবছিস কেনো?
হিসাবরক্ষককে পাঠিয়ে দেবো।
- এটা সহ আমার কাছে সাড়ে সাত লাখ টাকা পাবি! - একটা চড় খাবি, আবার হিসাবের কথা বললে!
হেই, আমাদের আর কে আছে? অনু তাই না?
- হ্যাঁ, কিন্তু… - চুপ কর
- খুবই সুন্দর জায়গা। তুমি আর আঙ্কেল একবার এসো। - অনু আসছে, শুনলে কষ্ট পাবে।
কিরে মা? পড়াশুনা ভাল হচ্ছে?
সুপার, আঙ্কেল।
বেশ।
তারপর কি করবি?
ভাবছি, আন্টি..
ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে একটা চাকরি পেলে, ভবিষ্যতে আরো পড়াশুনার প্লান করবো।
তাহলে আমরা উঠি।
অনুকে ট্রেনে তুলে দিতে হবে।
- আমি নিচ্ছি। - সমস্যা নেই আন্টি।
হেই, আর কত দেরী করবো? চল ভিতরে যাই..
নারে ভাই, কিভাবে যাবি?!
স্টুডেন্টস এবং বাবা-মা ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকতে পারে না।
ছাত্র ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণাকে ফোন করলে..
গেটে একজন লোককে পাঠাবে বলে দাড়িয়ে থাকতে বলেছিলো।
কেন?
এই কলেজ খুব কড়া বন্ধু। আমরা সামলাতে পারি না।
ঐ মনে হয় আসছে, দেখ..
- হায়, ভাইয়া। - হ্যালো!
এখানে প্রেম ঘটিত সমস্যার কারনে কৃষ্ণা ভাইকে ফোন করেছিলো, ছেলেটা কে?
আমি সিরিশ।
দেখতে তো ভালই।
কী ভাই? মনে হচ্ছে ব্যবসা ছেড়ে সোজা কাশ্মীর থেকে চলে এসেছো।
সবকিছু দেখে এতো ঢলে পড়ো না, শেষ হয়ে যাবে!
এই বয়সে সব মেয়েকেই ভাল লাগে!
ইডিয়েট!
এভাবে কথা বলোনা ভাই, ও কিন্তু রগচটা!
তাতে আমার কি ছেড়া যায়?! ভুল পথে যাচ্ছে, তাই শোধরাতে বলছি।
আমার কি রাগ নেই?
ধনীরা রাগলে সেটা তাদের গুন, আমরা রাগলে সেটা দোষের!?
বাবু মজনু, এসো। তোমরাও এসো..!
এখানে সব বি-টেক স্টুডেন্টরা থাকে। তোমার মেয়ে কোনটা?
এদিকে কী? ওদিকে দেখো। কোন মেয়েটা?
এভাবে দেখার কী আছে?!
গতকাল কাশ্মীরে দেখেছে, আজ কলেজে চলে এসেছে!
এতো উতলা হওয়ার কী আছে? একটা মেয়েই তো!
No comments yet. Be the first to leave one.