The first 200 lines.
- এক্সকিউজ মি, একটু কথা ছিল। - জ্বি, স্যার।
গতকাল সুইমিংপুলে নায়েরের সাথে কতজন ছিল?
৫-৬ জন হবে।
মেম্বার নাকি বাইরের লোক?
মেম্বার, স্যার।
প্লিজ, মেম্বারদের নামের লিস্ট'টা দিন আমাকে।
হাসপাতাল থেকে ফোন এসেছিল।
নায়েরের অবস্থা ভালো না।
নায়ের এই পুলে নিয়মিত সাঁতার কাটতে আসে...
কিন্তু, পুলের পানিতে ডুবে মারা গেল!
এটা নিশ্চয়ই কোনো অ্যাটাক হবে।
ম্যাসকারেনহাসের বিষয়ে কিছু জানা গেল?
স্যার, আবার এটা বলবেন না যে সে এসবের পেছনে জড়িত।
কেন?
উনি করতে পারে না?
বারবার কেন উনাকেই সন্দেহ করছেন?
ম্যাসকারেনহাস এটাও করতে পারে। সে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি, ঠিক?
- সেটা তো বটেই। - তাহলে?
যে কারো কাজই হতে পারে, স্যার।
হ্যাঁ, হতে পারে।
অনেক সন্দেহভাজনই আছে।
বেছে বেছে একজনকেই কেন সন্দেহ করছেন?
যে কেউই হতে পারে।
হতে পারে রাও...
কিংবা, দাউদের গ্যাং এর কাজ।
যারা এই অর্গান স্মাগলিং এর সাথে যুক্ত।
ম্যাসকারেনহাসকেই আমার বেশি সন্দেহ হয়।
স্যার, আমাদের লোক ওকে নজরদারীতে রেখেছে।
ওরা জানিয়েছে, গত রাতে সে ব্লাইন্ড স্কুলেই ছিল!
এটা দ্বারাই বোঝা যায় না সবকিছু?
বোঝা গেলেই তো খেলা শেষ! আমি তো সেটাই বলতে চাইছি।
জানি না...কী ভাবছেন আপনি।
স্যার, একটা কথা বলি?
আপনি মদ পান করাটা কমিয়ে দিন।
একদম বন্ধই করে দেন?
কফি নিয়ে আসবো আপনার জন্য, স্যার?
ফিল্টার কফি।
স্যার, রাতে ১৫/২০ মিনিট এখানে বিদ্যুৎ ছিল না।
সাধারণত, এমনটা হয় না এই এলাকায়।
পরে চেক করার সময় আমরা দেখলাম, কিছু ফিউজ মিসিং ছিল।
চেঞ্জিং রুম বাদে বাকি সব জায়গার ফুটেজ আছে।
সুইমিং পুলের ফুটেজটা চালাও তো।
জ্বি, স্যার।
১০:১৭ থেকে ১০:৩২, ১৫ মিনিটের ফুটেজ মিসিং।
নায়েরের উপর অ্যাটাক হয়েছিল কখন?
সোয়া দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে।
ব্লাইন্ড স্কুলটা কোথায়?
- জ্বি? - ব্লাইন্ড স্কুল?
ভিক্রোলি।
এত ব্লাইন্ড স্কুল থাকতে ম্যাসকারেনহাস কেন এই স্কুলটাকেই বেছে নিল?
গণেশ, রফিক! পাস দে, রাহুল ধর!
এই তো!
- ম্যাসকারেনহাস! - জ্বি, স্যার।
আপনি এখানেও চলে আসলেন!
বলুন স্যার, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
স্যার!
স্যার, আপনি মারছেন কেন আমাকে?
- তুইই তো ডোনারদের খুন করছিলি, তাই না? - স্যার?
তুইই তো ডোনারদের খুন করছিলি, তাই না?
- কিসের ডোনার? - একদম চালাকি করবি না!
অভিনয় করবি না!
সত্যিটা বল! সত্যিটা বল!
নায়েরকে তুই মেরেছিস, না?
নায়েরটা আবার কে?
"মেয়েটা ঘরের বাইরে আসতেই চার্লিকে দেখতে পেলো!"
"চার্লি পরে খুঁটির উপরে ঝুলে থেকেই বললো..."হ্যালো, ম্যাডাম!"
"তখন মেয়েটা বললো, "আরে চার্লি, শের সাহেব তোমাকে ডাকছে!"
"কথাটা শুনেই চার্লি ভয় পেয়ে খুঁটির উপরে ঝুলে থেকেই মোচড়ামুচড়ি শুরু করল!"
"তারপর খুঁটিতেই সে নাচানাচি করতে লাগল!"
"মেয়েটা তখন বললো, "চার্লি, যদি তুমি নিচে নেমে না আসো..."
"তবে, শের সাহেব তোমাকে নিজেই নিতে আসবেন!"
"চার্লি বলে উঠল,"শের (সিংহ) আসুক কিংবা ইঁদুর, এখান থেকে আমি নামবোই না!"
- তুই কি আমার বউকে মেরেছিস? - আপনার বউ?
আমি আপনার বউকে কেন মারবো, স্যার?
চালাকি করবি না!
বল, গত রাতে কোথায় ছিলি?
গত রাতে, আমি এখানেই ছিলাম!
বাচ্চাদের সাথে ছিলাম! ওদেরকেই জিজ্ঞেস করুন?
- এই বাচ্চাদেরকে? - জ্বি, স্যার!
এই অন্ধ বাচ্চাদেরকে জিজ্ঞেস করতে বলছিস? এই অন্ধ বাচ্চারা...
গত রাতে স্যার যে তোমাদের সাথে ছিল সেটা জোর দিয়ে বলতে পারবে?
স্যার, আমত্রা অন্ধ হতে পারি...
কিন্তু, বেকুব নই!
ড্যানি স্যার গতকাল আমাদের সাথেই ছিলেন।
- শিউর? - জ্বি, স্যার।
"কয়েকবার সে চার্লিকে অনুনয় বিনয় করে বললো..."
"চার্লি, নিচে নামো! প্লিজ!"...
"সে তখন খুঁটি থেকে নেমে বললো,"দেখো, আমাকে ডাকলে আর আমি নেমে এসেছি!"
স্যার, আমি তো রাতে কয়েকবার রুমে গিয়ে চেক করেছি!
স্যার তো চেয়ারেই বসে ছিলেন...
বাচ্চাদেরকে মুভিটা বর্ণনা করে শোনাচ্ছিলেন।
- আমরা মুভি দেখছিলাম! - তোকে মেরেই ফেলব!
আচ্ছা, গিয়ে দেখে আয় তো বাচ্চারা ঠিকঠাক আছে কিনা!
আচ্ছা, গিয়ে দেখে আসছি।
"চার্লি খুঁটি থেকে নেমেই খিদের কারণে গ্রোসারি শপে যায়!"
"শপের সামনে এসে ওর খেয়াল হলো টাকাই তো নেই তার পকেটে!"
স্যার!
স্যার!
বল, গত রাতে কোথায় ছিলি?
- বল বলছি! - স্যার! - স্বীকার কর!
স্বীকার কর!
"ও দোকানদারকে বিভ্রান্ত করে লুকিয়ে লুকিয়ে দ্রুত দোকানের একটা রুটি খাওয়া শুরু করলো!"
"চার্লি খুঁটি থেকে নেমেই খিদের কারণে গ্রোসারি শপে যায়!"
"শপের সামনে এসে ওর খেয়াল হলো টাকাই তো নেই তার পকেটে!"
"যখনই দোকানদের পিছু ফিরে তার কাজ করতে চায়..."
"চার্লি তাড়াতাড়ি রুটির আরেকটা টুকরো খেয়ে ফেলে!"
"দোকানদার তার দিকে ফিরলেই সে..."
"আবার থেমে গিয়ে..."
"দোকান পরিষ্কার করা আর মশা মারার ভান করতে থাকে!"
কী ব্যাপার, ভাইয়া?
সবকিছু ঠিকঠাক আছে?
স্যার, আমি একটু ওয়াশরুমে যেতে চাই!
আচ্ছা, আচ্ছা, এক সেকেন্ড!
তোমরা মুভিটা দেখো, আমি একটু পরেই আসছি!
স্যার, উনি মারা যাবে!
বাচ্চারা বলছে যে উনি ওদের সাথেই ছিলেন!
স্যার, বাচ্চাদের তো আর বোকা বানানো যায় না!
ওদের আন্দাজ করার ক্ষমতা অনেক!
বাচ্চারা কেন মিথ্যা বলবে, স্যার!?
জ্বি, স্যার!
আমিই ওদের সবাইকে মেরেছি!
আমাকে গ্রেফতার করুন, স্যার!
আমিই ডোনারদেরকে মেরেছি!
আমি অই নায়ের লোকটাকেও মেরেছি, আপনার বউকেও মেরেছি, স্যার!
আমাকে থানায় নিয়ে যান, স্যার!
আমি দোষী হলে সমস্যা নেই কিন্তু যদি নির্দোষ হই...
মনে রাখবেন, বাহিরে একজন আছে যে এসব করে বেড়াচ্ছে!
আপনি কেসটা ক্লোজ করতে চান...
নাকি অপরাধীকে ধরতে চান?
নাকি, নিজের বউকে বাঁচাতে চান?
কী হলো, স্যার?
বাচ্চাদের সামনেই মেরেছেন আমাকে!
চলো!
স্যার?
স্যার!
হ্যাঁ, কবির!
কিছুদিন ধরে ডিপার্টমেন্টে আমি আসিনি তো...
তাই, ভাবলাম নিজেই এখানে এসে তোমার সাথে দেখা করে যাই!
সাথে ফলমূল নিয়ে!
নাও! একদম ফ্রেশ!
ভালো কাহিনী শুরু করেছ!
নিজের ডিটেক্টিভ অ্যাজেন্সি খুলে ফেলেছ নাকি?
পার্ট টাইম হিসেবে?
- কফি? - চা।
তোমার সমস্যাটা আসলে কি জানো, কবির?
তোমার জন্য, তোমার স্ত্রীই শুধু গুরুত্বপূর্ণ।
আমার জন্য পুরো ইউনিট নাম্বার নাইন গুরুত্বপূর্ণ।
গত মাস থেকে ইউনিটের কেউই বেতন পায়নি।
কেন জানো?
কারণ, রিপোর্টে অনিয়ম ধরা পড়েছে।
কে ঠিক করবে এখন এটা?
কার দায়িত্ব এটা?
তোমার, তাই না?
সিনিয়র ইন্সপেক্টর এমনিতেই হওনি, মি. কবির সাওয়ান্ত।
কিছু দায়িত্বও সামলাতে হবে!
- চিনি? - এক চামচ, প্লিজ!
তোমার এই মনোভাবের কারণে ডিপার্টমেন্টের কত কাজ ঝুলে আছে, জানো?
যা যা করলে সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।
এই মাসের বেতনও ইউনিট নাম্বার নাইনের কেউ পাবে না!
এটা ন্যাক্কারজনক!
একই সাথে তোমারও বারোটা বাজাচ্ছে এটা!
আমি সবসময় আমার পিস্তল লক করে রাখি।
কিন্তু, সেদিন লক করতে ভুলে গিয়েছিলাম।
শ্রেয়া কখনোই পিস্তলটাতে হাত দিতো না।
সেদিন হাত দিয়েছিল।
আপনি আমার জীবন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাই আন্দাজে কোনো কথা বলবেন না।
নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখা...
একজন পুরুষ মানুষের দায়িত্ব।
রিয়াকে নিরাপদে রাখার জন্য যা যা করার দরকার...
আমি করবো।
এটা আমার দায়িত্ব।
সেজন্য কোনো এসিপি কিংবা কমিশনারের দ্বারে ভিক্ষে চাইতে যাবো না।
আলাদা করেও তো বলতে পারতে।
তোমার জুনিয়রদের সামনে সিনিয়রকে অপমান করলে তুমি।
এসব শোনার পর...
এখন কে আমাকে সম্মান করবে?
ভালো থেকো।
হ্যাঁ, মালোয়ানকার, বল?
- বল। - কোথায় তুই?
ফোন দিয়েছিস কেন বল, নয়তো ফোন কেটে দিচ্ছি।
না, কাটিস না।
একটু দাঁড়া!
স্যার।
আমার কথা শোনো।
জ্বি, স্যার!
তোমরা যেখানেই থাকো, দ্রুত থানায় চলে আসো।
এটা আমার নির্দেশ।
তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি।
- কিন্তু, স্যার... - আমি কোনো বাহানা শুনতে চাই না।
তোমরা কী করছ সব জানি।
কার হয়ে কাজ করছ সেটাও জানি।
তবে, হয়তো আমি কে সেটা তোমরা জানো না।
ফেঁসে গেলাম রে, ভাই!
কবির স্যারকে যে আমরা সাহায্য করছি সেটা বস জেনে গেছে!
এখন সে দ্রুত আমাদের থানায় আসতে বলেছে!
মি. সুনীল মেহতা।
কাউকে বলেছ তুমি?
এটাই কি তোমার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু?
যে, আমি কাউকে বলেছি কিনা?
আমি একজন ডাক্তার, ড্যানি।
No comments yet. Be the first to leave one.