The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায় আহমেদ জয়নুদ্দিন
ডুবন্ত সূর্যের সামনে,
তার কালো ছায়া
শহরের দিকে তাকিয়ে আছে।
তার চুল বাতাসে উড়ছে।
এই শহর একসময় তার নিজের ছিল।
যে শহরে তার জন্ম হয়েছিল।
ক্রিশ।
যে শহরে সে জন্মগ্রহণ করেছে বড় হয়েছে সেটাকে ভালোবাসতো।
সেই শহর এখন নরক হয়ে গেছে।
ভাই৷
"কালো ছায়া" মানে কী?
আগে গল্পটা শেষ করতে দে, পরে প্রশ্ন করতে পারবি৷
কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারছি না।
একটা হিন্দি ডিকশনারী বের কর তাহলে আমি বুঝতে পারবো।
ওকে, কিন্তু একবার শুনলে, তোর সেটার দরকার লাগবে না।
যদি এরকম কঠিন শব্দ বলিস,
আমি কীভাবে বুঝব?
তাহলে...
এটা কী?
গ্রাফিক উপন্যাস। মুম্বাইয়ের প্রথম সুপারহিরো।
সত্যি? ওটা Ra-One ছিল না?
না, G-One ছিল।
মুভিটার নাম Ra-One.
কিন্তু G-One হিরো ছিল আর Ra-One ভিলেন।
- তাহলে মুভির নাম Ra-One কেন ছিল? - তাতে কী আসে যায়, ভাইলোক?
এটা লিখতে আমার পুরো জীবন চলে গেছে। একবার শুনো।
- তোরা অন্য কথায় চলে যাস। - ঠিক আছে, পড়ো৷
কিছু মনে করিছ না, পড়ো।
শহর দূর্নীতিতে ভরে যায়৷
সকল পুলিশ আর মিনিস্টার গ্যাংস্টারের পকেটে ছিল।
আর সুপারহিরো গ্যাংস্টারের মেয়ের সাথে প্রেম করত৷
আমি ২০১১সালে প্রথমবারের মতো ভাবেশ আর সিক্কু সাথে দেখা করি।
সব জায়গায় আশা ছিল।
মনে করেছিলাম সমগ্র দেশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।
সবাই নতুন পথচলার জন্য এসেছে।
এখানে প্রতিবাদ করতে এসেছেন কেন?
আসলে আমরা মনে করি দুর্নীতি বা***
এতটুকুই?
আর হাঙ্গামার মাঝে ওরা দুজন জেলে যাবার জন্য এসেছে।
গেইট বন্ধ কর দিচ্ছে।
- না - জোরে বলো।
আমরা বিশ্বাস করি আমরা পরাস্ত করতে পারব ...
ভাবেশ ও সিক্কুর সাথে পুলিশের অনেক ভালো লাগে।
কখনো ভাবি নি জেলে এত মজা হতে পারে।
শচীন৷
সত্য বলতে..
এটা আমার জীবনের সেরা দিন ছিল।
শচীন৷
আরে, ডকু।
- কী হয়েছে? - রাজাত।
- রাজাত - ভাবেশ আর সিক্কু।
হয়তো ভাবেশ আর সিক্কু আমাকে উপভোগ করতে দেখেছিল,
আর এজন্যই আমার সাথে বন্ধুত্ব করেছে।
- পতন .. - দুর্নীতি।
ওই সময়ে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আন্দোলনে যোগ দেয়৷
কিন্তু ভাবেশ আর সিক্কু বিশ্বাস করতো
এই ধর্মঘটের কোনো যীশুখ্রীষ্টের প্রয়োজন নেই৷
- আমরা সবাই শপথ করছি.... - আমরা সবাই শপথ করছি....
ওরা বিশ্বাস করতো,
যে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে তাকেই সমাধান করা উচিত।
লোকতো ফেসবুকে আঙ্গুল তুলে ছবি ছেড়ে দিবে...
অনেক লোকদের দেখিছি আঙ্গুল অন্যদের উপর তুলতে
তাদের ভুলের দোষ দিতে বা সরকারের ব্যর্থতার জন্য৷
ওরা ময়লা ফেলতে ডাস্টবিনের পাশে যাবে,
কিন্তু যখন ম্যানেজমেন্টের কথা আসে...
তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে বড় বড় ভাষণ লিখবে।
ভাষণ?
- কেন? - জোশী, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তুই কী করছিস?
- সত্যি? - তুই কী করছিস?
জনসংখ্যার দিক থেকে আমারই সেরা।
ব্রো, আমরা কী করছি?
মানে?
আমরা তো মদ খেয়ে অভিযোগ করছি না,
ঠিক বলছি না?
আমাদের কিছু করা উচিত।
কিন্তু কী?
আর কখন?
একটা বুদ্ধি এসেছে।
স্যার! আপনি গাছ কাটছেন কেন?
তোমাদের কাজে যাও। আমাদের কাজ করতে দেও।
- গাছ কাটা আইনের বিরুদ্ধীতা। - সত্যি?
আমার কাছে সরকারের অনুমতি আছে।
- যাও৷ - অনুমতি জাহান্নামে যাক।
গাছেরও অনুভূতি আছে। গাছকে জিজ্ঞেস করেছেন?
গাছকে জিজ্ঞেস করেছেন?
কাট তো।
- বলছি কাট। - আরে থামো।
কাট৷
- পিছনে দেখো কী হচ্ছে! - দেখো।
- সিক্কু, পালা। - দাড়াও।
- সিক্কু, পালা। - দাড়াও।
- ইনসাফ৷ - ইনসাফ।
আমরা এত বছর ধরে এই গাছগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি,
কিন্তু কেউ শুনতে চায় না, তারা এড়িয়ে চলে।
আপনারা এসে গাছগুলোকে রক্ষা করেছেন।
ধন্যবাদ।
ভালো করে শোন।
ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগে যেন কোনো সমস্যা না হয়৷
- আমাকে হুমকি দিচ্ছো ? - ওকে ধর!
- সিক্কু, ফোনটা দেখা। - ছবিটা দেখো।
এই ছবি কীভাবে পেলে?
ইনসাফ!
ধন্যবাদ, আরিফ সাহেব।
আপনার পাশে যখন কেউ পাবেন না, তখন আমাদের পাবেন।
দয়া করে আমাদের ধন্যবাদ দিবেন না। এটা আমাদের কর্তব্য।
- নিশ্চয়ই? - হ্যাঁ।
ইনসাফের রক্ষাকারীরা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল।
যদিও ভাবেশ মুখ ঢেকে ইনসাফের সাথে ছিল,
সিক্কু তার প্রযুক্তির মাধ্যমে শেষটা সামলে নিতো।
ইনসাফ অবশ্যই আসবে...
যোশী৷
- যোশী, উঠ। - তুই কী করছিস?
যখন বা যেখানেই অন্যায় দেখা দিবে ,
আর ইনসাফকে ডাকব, ,
ইনসাফ অবশ্যই আসবে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিবে।
অসাধারণ বন্ধু।
তাই লেডিস,জেন্টলম্যান এবং বাচ্চারা মনে রাখবেন।
যদি কেউ আপনার সাথে অন্যায় করে
বা আপনার আশেপাশে কেউ করে...
....এবং হোয়াটসঅ্যাপ।
তুমি সত্যি মনে করো
ইউটিউবে হিরো হয়ে মাইকেল জ্যাকসনের লিরিক্স চুরি করে,
কোনো মেয়েকে পটাতে পারবে?
তোমার মন এত ছোট।
আমরা আন্দোলন করছি, ঠিক আছে?
কিছু মানুষ আছে যারা দেশ,শহর,
আর আমাদের জনগণের খেয়াল করে।
আরে গাড়ি থামা।
থামা।
- কী হয়েছে? - পিছনে যা।
- কী হয়েছে? - পিছনে যা।
- কী হয়েছে বলো। - সিগন্যাল অমান্য করেছে।
- হ্যাঁ। - কী।
- ও সিগন্যাল অমান্য করেছে। - হ্যাঁ, পিছনে যা।
সিগন্যাল অমান্য করি নি । এখানে কেউ নেই...
- পিছনে যা। - রাত ১২ টা বাজে৷
বৃষ্টি হচ্ছে বলে সিগন্যাল অমান্য করবি?
এখানে কোনো পুলিশ নেই
পুলিশ নেই বলে সিগন্যাল অমান্য করবি?
- আমি তোমাকে পুলিশের কাছে নিয়ে যাবো। - এসব কী?
- এটা মুখ থেকে সরাও। - পিছনে যা৷
- কী? - পুলিশকে চাও?
আমি পুলিশ আনছি। পিছনে যাও।
- পিছনে যাও। - পিছনে যাচ্ছি। দাড়াও।
- স্যার, যাচ্ছি। - যাও৷
কী হয়েছে?
মানে?
সিগন্যালের কোনো মানে হয়?
পিছনে মেরেছে।
তুমি এখন যেতে পারো।
জানি।
এখানে শি করছো কেন?
দুঃখিত।
আরে, তুই।
আমার শেষ।
আবর্জনা পোড়ানোর অনুমতি নেই!
আবর্জনা পোড়ানোর অনুমতি নেই!
ইনসাফ।
পালা।
স্কুলে যাচ্ছ না কেন?
স্কুল থেকে পালানো ঠিক না।
অভয় কোরান্নে মার্গ
আরে, এটা নো-এন্ট্রি জোন।
ভাগ৷
হারামি৷
আমরা কারাটে শিখব কেন?
আমাদের শিখতে হবে, ভাই।
ওই দাড়িওয়ালা লোকের মতো লোকদের আটকাতে হবে না৷
পরের বার, আমরা ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিব।
ঠিক বলছিস।
কিন্তু কারাটে শিখার জন্য কী পোশাক পড়া জরুরি?
- অন্যরকম অনুভব হয়। - ওকে। ইনসাফ।
আমাদের পশু বানিয়ে দিল, ভাই।
ভাই, ব্রুস লি মনে হয় একরম করে নি।
ভাবেশ, তোর উপর উঠে যাবে, ভাই।
পাগল হয়েছিস৷
পিছনে যা। এটা ওয়ান-ওয়ে রাস্তা।
সিক্কু, মনে হয় ভয় পেয়েছে। গাড়ি রেখেই চলে যাচ্ছে।
গাড়ি পিছনে যাচ্ছে কেন।
- আমাদের লাঠি দেখাস, শালা। - সিক্কু।
স্যরি, দোস্ত।
কীসের জন্য?
তুই শুধু মার খেয়েছিস... আমি কিছু করতে পারি নি।
কী বলছিস?
তুই মার খাস আর আমি খাই, একই কথা।
জিতলে একসাথে জিতব, মার খেলে একসাথে খাবো।
একটা কথা বলো।
মার খেতে মজা লাগে?
এই ইনসাফ নাটক আর কত করবে?
এটা নাটক নয়।
পরিবর্তনের পথ।
এই পথ পরিষ্কার করতে করতে দেশকে বদলে দিব৷
তোরা দু'জনই একটা কথা মনে রেখো,
তোদের ফেইসবুক বা টুইটার পোস্ট দিয়ে দেশকে বদলাতে পারবে না৷
তোদের বোকামী কাজে এডভান্টাইজ করতেছো।
তোরা দু'জন মরবি সাথে ডুকে যাবি৷
কীভাবে বদলাবে এই দেশ?
ছোট পদক্ষেপে।
No comments yet. Be the first to leave one.