The first 200 lines.
অনুবাদে আহমেদ জয়নুদ্দিন মো: রানা সরকার
সম্পাদনায় আহমেদ জয়নুদ্দিন
সে যেকোনো উপায়ে সম্পন্ন করতে পারবে
তাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে দিন। - তিরুভাল্লুভার
ইস্ট কোস্ট রোড, চেন্নাই।
ওহ,খোদা, না!
বাবা!
ওহ!
ব্রেকিং নিউজ!
হাইকোর্টের বিচারক মি: শ্রীনিবাসনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজ ভোর ৫টা নাগাদ ,
হাইকোর্টের বিচারক মিঃ শ্রীনিবাসন,
তিনি সকালে ব্যায়াম করতে গিয়েছিলেন,
উনার ইসিআর ফার্ম হাউসে অপরিচিত ব্যক্তির হাতে নিহত হন।
কীভাবে উনাকে হত্যা করা হয়েছে, কে হত্যা করেছে,
পুলিশ বিভাগ এখন তাদের উদ্দেশ্য জানতে পারে নি।
‐ আরেকটা ডাহা মূর্খ আইছে৷
‐ তুই কে রে,ধুর? - স্যার।
চড় মেরে দাত ফেলে দিব, ধুর৷ তাকে বাইরে বের করে দেও।
স্যার,স্যার...একটু দাঁড়ান,স্যার৷
‐ ওহ, গড। - স্যার,স্যার।
এখানে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
এই হত্যার পিছনে কে?
এই মুহূর্তে বলার কিছু নেই।
স্যার!
আমরা এক ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি। প্লিজ আমাদের ডুকতে দিন।
বিচারকে ফোনে হুমকি দেয়া হয়, এটা পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে?
ইয়েস স্যার!
পুলিশ কমিশনার সকাল থেকে অনেকবার ফোন করছেন।
আমার কান দিয়ে রক্ত পড়ছে!
তোমায় খুনিকে খুঁজে বের করার জন্য বলি নি?
দেহের মাথা খুঁজে বের কর।
স্যার, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
প্রিয় দর্শক, আমাদের শো'তে স্বাগতম।
যদি হাইকোর্টের বিচারকের এই অবস্থা হয়,
তাহলে আমরা জনসাধারণকে সুরক্ষা রাখার আশা কীভাবে করতে পারি ?
যতক্ষণ না আমরা এই দুর্নীতিবাজ সরকার থেকে মুক্তি পাচ্ছি,
জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে।
এটাই আমার মতামত।
আমরা চেন্নাইকে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে গণনা করতে পারি?
বিরতির পর আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।
তারা টিভি, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র আর বিতর্কে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আমি একটা জিনিসই করতে পারব, এই মামলা CB-CID-তে স্থানান্তর করব।
স্যার,প্লিজ আমাদের ১০ দিন সময় দিন।
আমরা এটা সমাধান করব। আমাদের বিশ্বাস করুন।
চেন্নাই কমিশনার অফিস।
স্যার, হত্যাটি ভোর ৫:৩০-৫:৪০ এর ভিতরে হয়েছে।
মোট ৪ টা গুলি করা হয়েছে।
সবগুলো গুলি ভিতরে ডুকে বেরিয়ে গেছে।
তবে আমরা একটা গুলিও ঘটনাস্থলে খুঁজে পাই নি৷
সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর আর অদ্ভুত দিক হল
৪ টা গুলি ২ টা ভিন্ন বন্দুক থেকে করা হয়েছে।
বুকের বাম দিকের গুলি ৮ মিমি
একটা রেভেন টাইপের বন্দুক থেকে করা হয়।
কিন্তু ডানের গুলি
একটা অজানা বন্দুক থেকে গুলি করা হয়।
পরে খুনি একটা সার্জিক্যাল ছুরি ব্যবহার করে মাথা কাটে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটা অদ্ভুত কেস।
স্যার, বিচারকের ব্যবসা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল।
হত্যার সময় একটা লাল রঙের গাড়ি দেখা গেছে।
তা ছাড়া,
আমাদের কাছে আর কোনো ক্লো নেই।
তোমাদের থেকে টিভিতে এটা ভালো ব্যাখা করছে।
ভিন্ন কিছু বল।
আমাদের তাড়াতাড়ি এই কেস সমাধান করতে হবে।
বিঘ্নিত করার জন্য দুঃখিত, স্যার৷
সালেমের এসিপি পন মানিক্যাভেল একজন দুর্দান্ত বন্দুক বিশেষজ্ঞ।
তাছাড়া, সে ৫ম স্থান অর্জন করে
অল-ইন্ডিয়া রেঞ্জ ফায়ারিং প্রতিযোগিতায়।
২০১২ সালে, সরকার তাকে বেছে নিয়ে আইডিএ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠায়।
এমনকি সেখানে স্বর্ণপদক অর্জন করে।
সে স্মার্ট, মেধাবী এবং সৎ।
এবং তার দায়িত্বে অত্যন্ত মনোযোগী।
তার সাথে কথা বললে, আমরা হয়তো কোনো সূত্র পেতে পারি।
তাহলে তাকে কল কর।
ওকে,স্যার৷
- হ্যালো। - মানিক্যাভেল।
কমিশনার বালা মুরুগান বলছি।
হায়,স্যার,কেমন আছেন ?
- ভালো। তুমি কেমন আছ? ‐ ভালোই আছি।
মানিক্যাভেল..
হাইকোর্টের বিচারক শ্রীনিবাসের হত্যা সম্পর্কে শুনেছ?
শুনেছি,স্যার।
দুইদিন ধরে এটাই টিভির প্রধান শিরোনাম।
এটা খুব জটিল।
প্রস্থান ক্ষত আছে, কিন্তু আমরা কোনো গুলি খুঁজে পাইনি।
এটা সহজ, স্যার।
প্রত্যেক বন্দুক থেকে গুলি করা হয়,
দেহ থেকে তাদের প্রস্থান দূরত্ব গণনা করা হয়।
সিগমা শুটিং টেকনোলজি ।
গুলি বের হওয়ার পর একজন বিশেষজ্ঞ গুলি সংগ্রহ করে।
মানিক্যাভেল, এটা কি সম্ভব?
যে ব্যক্তি কৌশলটি জানে তার পক্ষে এটা সম্ভব।
‐ওকে, থ্যাকং ইউ, মানিক্যাভেল। ‐থ্যাকং ইউ, স্যার।
আমি মনে করি সে এই কেসের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি।
তার কাছে এটা স্থানান্তর কর।
স্যার, তবে ছোট একটা সমস্যা আছে।
ছয় মাস আগে, সে যখন তদন্ত করছিল,
সালেমের একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা...
এমন পদমর্যাদার অধিকারী!
চাকরি ছেড়ে তুমি কী করবে?
গবাদি পশু পালন করব।
আমার ধারণা সেই এই কেসের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি।
তুমি ভালো করে বোঝাও।
তাকে এই মামলার গুরুত্ব কতটুকু বোঝাও।
সেও একজন পুলিশ অফিসার।
সে নিশ্চয়ই বুঝবে।
তার সাথে আগামীকাল দেখা করব,ওকে?
হ্যালো, স্যার।
‐ ওয়েলকাম, মানিক্যাভেল। - স্যার।
প্লিজ আস ।
ওকে,ঠিক আছে৷
স্যার, এই হল মি: মানিক্যাভেল।
‐ স্যার! - ওয়েলকাম, মানিক্যাভেল।
বস।
বালামুরুগান তোমার সম্পর্কে বলছে।
- অসাধারণ ট্র্যাক রেকর্ড। - ধন্যবাদ স্যার৷
আমরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছি।
তোমাকে তাড়াতাড়ি এই কেস সমাধান করতে হবে।
ওকে, স্যার।
এই কেসে আমি পুরো স্বাধীনতা চাই।
এখানে রাজনৈতিক কোন হস্তক্ষেপ নেই।
ব্যক্তিগতভাবে তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
রাজনৈতিক ব্যাপার নিজেই সামলে নিব।
আমাদের বিভাগ থেকে কোনো ঝামেলা চাই না।
আমি নিজেই দেখে নিব।
ঠিক আছে, মানিক্যাভেল, এগিয়ে যাও।
চিদাম্বরম তোমাকে স্পেশাল টিমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে।
- গুড লাক। - ধন্যবাদ, স্যার।
আরে, আপনি কী বিশেষ সুপারিশের মাধ্যমে যোগ দিয়েছে নাকি?
আপনি কীভাবে স্পেশাল টিমে যোগ দিলেন?
স্পষ্টতই, বিশেষ সুপারিশে।
‐ স্যার! - গুড মর্নিং, স্যার৷
সে ইন্সপেক্টর পেরুভালাথান।
শুরু থেকেই সে এই মামলা তদন্ত করছে।
সে তোমার অনেক উপকারে আসতে পারে।
খুব স্মার্ট।
সে দশজন লোকের সমান।
সে ইন্সপেক্টর নন্দকুমার।
সে টিন্ডিভানম হত্যা মামলায় সহায়তা করেছে।
সে ইন্সপেক্টর রাজগোপাল।
আপাতত আমার শুধু দুইজন অফিসার দরকার।
স্যার, এই টিমের ১০ জনকে
কমিশনারের সুপারিশ মাধ্যমে রাখা হয়েছে।
কিসের জন্য?
ভেবেছিলাম সে দশজন মানুষের সমান৷
তোমরা দুজন আমার সাথে আস।
ধুর, আমাদের রেখে গেল৷
বিশেষ সুপারিশরত ব্যক্তিকে তোয়াক্কা করল না৷
স্যার, বিচারক প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টায় ঘুম থেকে উঠতেন।
ইয়োগা আর মেডিটেশন সকাল ৬:৪৫ মিনিটে করতেন৷
তারপর সকাল ৭টায়, তিনি টেনিস খেলতে যান৷
পরে তিনি সমুদ্রের পাড়ে হাঁটতে যান।
- আর তখন, - তোমার নাম কী বলছিলে?
পেরুভালাথান।
আমরা কী চা খাওয়ার পর কথা বলতে পারি?
স্যার?
আমি ফ্রেশ হয়ে তোমার সাথে কথা বলব।
স্যার।
পেরুভালাথান,স্যার।
ওহ... ভালো।
- বাজে চা । -স্যার?
চা খাওয়ার জন্য ভালো জায়গায় পাও নি?
শুধু বাহুবলীর মতো পেশি হলেই হবে না।
তার প্রজ্ঞা অর্জনেরও চেষ্টা কর ।
স্যার, বিচারকের বাড়ি যেতে দেরি হচ্ছে।
আরে...
আমরা সেখানে সমবেদনা জানাতে যাচ্ছি, তাকে বাঁচাতে নয়।
আমাদের অবসর সময়ে সেখানে যেতে পারি।
স্যার?
‐ বিশেষ সুপারিশ? - ইয়েস,স্যার।
বিল দিয়ে আস।
এবারই নতুন৷ আমাদের বিভাগ এটাতে অভ্যস্ত নয়।
- আরে, আরে, আমাদের ফলো কর । - ওকে, স্যার।
- বল, আনবু। -তুমি কোথায়?
আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।
ওহ, তোমার সাথে আসামি আছে? দুঃখিত, পরে কল করব৷
প্রিয়তমা, সে আমাদের ইন্সপেক্টর।
‐ তোমার নাম কী? - পেরুভালাথান।
‐পরু... ‐ পেরুভালাথান !
সে বাহুবলী।
ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি বাড়ি এসো।
বাই।
এখানে এত মানুষ কেন, সমাবেশ হবে নাকি?
এদের যেতে বল৷
স্যার, স্যার, তারা আমাদের তদন্তের জন্য এসেছে।
তদন্তের নামে আমাদের জীবন ছারখার করে দিল।
‐ তুমি কী বললে? - কিছু না, স্যার।
- তুমি কী বললে, ধুর? - স্যার,আমি কিছু বলি নি।
আরে বাহুবলী!
তোমার কাজ করছ না কেন? সবাইকে চলে যেতে বল।
স্যার, আমরা অন্তত তাদের ফোন নম্বর এবং আধার কার্ড নেই৷
তাদের পাসপোর্টও নিচ্ছ না কেন?
স্যার?
জিপিএস ছাড়াই এসেছি। আশা করি সঠিক জায়গায় এসেছি ।
ঘটনার দৃশ্য পট।
আমি প্রমাণের ছবি তুলব,
যাতে দ্রুত প্রোমশন পাই৷
স্যার, বিচারক প্রতিদিন এখানে হাঁটতেন।
বাম কর্ণারে তিনি ব্যায়াম আর মেডিটেশন করতেন।
No comments yet. Be the first to leave one.