The first 200 lines.
এই ১০৩৪ তম বর্ষের...
কাননি মাসের ৭ তারিখে...
মহামান্য রাজা উত্তরম থিরুনালের সম্মতিতে...
মাননীয় দেওয়ান শ্রী টি মাধব রায়ার...
এই ফরমান জারি করিতেছেন যে...
আজ থেকে দুই দিন পর ৯ই কাননি...
ভোররাত ৫:৩০ ঘটিকায়...
ভয়ঙ্কর অপরাধী কচুন্নী...
যিনি কায়ামকুলাম কচুন্নী নামেও পরিচিত...
...তাহাকে ফাঁসিতে ঝুলাইয়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হইবে।
তাহাকে যেসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হইয়াছে...
...তাহা নিম্নরূপ।
ফরমানপত্র।
মুসলমানদের মৃতদেহের সৎকার কীভাবে করা হয়?
দেওয়ানকে জিজ্ঞেস করো শব কি দাহ করা হবে নাকি কবর দেয়া হবে।
মহারাজা কি দয়া করে একটু বারান্দায় আসবেন?
ওরা কায়ামকুলাম থেকে এসেছে।
...একশত লোকের চেয়ে নেহাত কম নয়।
আরো লোক এখনো আসছে।
ওরা কোন গন্ডগোল করতে আসেনি। নিরীহ লোক সবাই।
যখন সব কাজ শেষ হবে, ওরা চায় ওদেরকে যেন সৎকারের অনুমতি সহ মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়।
যদি আপনার অনুমতি পাওয়া যায় তবেই।
এটা তার গল্প।
লোককথা হতে...
দ্বিগবিজয়ীদের গুপ্ত খাজনার গল্প হতে...
ইতিহাসের পাতা হতে...
ঠাকুরমায়ের শোনানো গল্প হতে...
অপঠিত বাক্য হতে....
শব্দের বিভিন্ন রুপক হতে...
যতদিন এই মালায়ালমের মাটির অস্তিত্ব থাকবে...
যতদিন মালায়ালিরা বেঁচে থাকবে...
বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম...
সকল প্রজন্মের মধ্যে...
...সে অমর হয়ে আছে।
এবং এটা তারই গল্প!
কায়ামকুলাম কচুন্নী।
চোর! চোর!
ধর ওকে! চোর!
ধর ওকে! জলদি!
চোর! চোর! ওকে যেতে দিস না।
ধর ওকে! চোর!
ওকে পালাতে দিস না।
ওকে পালাতে দিস না। ধর ওকে।
- ওদিকে যা! আয়। - আর আমরা এদিকে যাই চল।
চল যাই। জলদি।
মেরে ফেল ওকে। মেরেই ফেল একদম।
মেরে ফেল ওকে।
চোর কোথাকার!
তোর বাবা, তাই না কচুন্নী?
তোকে...!
খুঁজে দেখ ওকে। ওখানে।
ও মা!
মা!
কী হয়েছে?
তিনমাসের জন্য বিশ্রাম নিবি।
লাথি থেকে আঘাত বেশ জোরেশোরেই লেগেছে।
আজ মহারাজ স্বাথী থিরুনালের অভিষেক অনুষ্ঠান।
সেজন্যই ওরা একে ছেড়ে দিয়েছে।
না হলে অধিকারীর আদেশে তোমাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হত।
বিশেষ দিন বলেই ছাড় দিয়েছে।
এখনই ওর মতিগতি ঠিক করতে বলো।
তুই এখানে থাকলে, না খেয়ে মরবি।
অন্য কোথাও গিয়ে নিজেকে বাঁচা।
যা। আর কখনো ফিরবি না এখানে।
আর কাউকে বলিস না যে তুই বাপুট্টির ছেলে।
আমি কোথাও যেতে চাই না। আমি যাব না।
এটা তোর মায়ের অনুরোধ। চলে যা।
হে আল্লাহ তুমি ওকে দেখে রেখ।
আমি আপনার কথা শুনেছি।
উত্তর থেকে এই অঞ্চলে কেন এসেছেন?
আমি কোথাও বেশিদিন থাকি না।
কিছু স্থানে কিছুকাল অবস্থান করে আমি কারাতে শেখাই।
আমি শুনেছি আপনার একটি খালি বাড়ি ও উঠোন আছে।
এখানে কেউ তুলুনাদান ধরণের কারাতে শেখায় না।
আর যদি থাঙ্গাল শেখায় তাহলে দূরদূরান্ত থেকে ছেলেরা শিখতে আসবে।
ঐ স্থানটি কারি শেখানোর জন্য যথোপযুক্ত।
আর অনেকদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে।
সেটা কাজে লাগছে দেখে আমরা খুশিই হবো।
উনাকে জায়গাটি দেখিয়ে দাও।
এই পথে।
কে ওখানে?
কে তুই?
- তুই! - ওকে মেরো না!
ও ওখানে লুকিয়ে ছিল।
- আমার ক্ষুধা লেগেছে। - দূর হ!
না!
ঘরে কে আছিস?
- নাম কী তোর? - কচুন্নী।
- বাড়ি কোথায়? - কট্টুকুলাঙ্গারা।
আর এখানে কি জন্যে এসেছিস?
তোর আপন কেউ নেই?
না।
মানে ওরা মরে গেছে?
হ্যাঁ।
এখন কোথায় যাবি?
আমরা ওকে দোকানে কাজে লাগাতে পারি, বাবু।
আমার মনে হয় ও ভালই পারবে।
কি বলছো সায়েদ আলী?
ও কি করে...?
আমি ওকে খরিদদারকে মালামাল দেয়া আর হিসাব করা শিখিয়ে দেব।
আর যদি রাতে দোকানে ঘুমিয়ে পড়ে পাহারা দেওয়াও হয়ে যাবে।
কিন্তু ওর সম্পর্কে কিছু না জেনে...
আমার জামানতনামায় নাও ওকে।
তোমরা নিতে না চাইলে বলে দাও।
আমি ওর দেখাশুনা করবো।
কিন্তু সে যদি কিছু চুরি করে বসে?
আমি চুরি করব না।
আমি চুরি করব না।
চুরি করবে না। কাজ করে টাকা রোজগার করে তারপর এখানে এসো।
নয়ত চেয়ে নাও।
কিন্তু চুরি করবে না।
কি হয়েছে, কচুন্নী?
- হিসাবে একটি কলা লিখে নাও। - কলা?
আমি তো কলা দিতে বলিনি।
আমার বেতন থেকে কেটে নিও।
তোর বেতনে কিছু বাকি থাকলে তো লিখবো।
আমার জিনিসপাতিও তোমার বেতনের হিসাবে দেবে?
কেন? কে তুমি?
ঐ বাচ্চাটা কে ছিল? সেও তো তোমার কেউ নয়।
আর কী কী দেব?
৮ কিলো চাল, ৩ কিলো চিড়া..
২ লিটার তেল...
১ কেজি গুড়, ৫ কান্দি কলা...
তোমার বাড়িতে কে কে আছে?
বাবা, মা আর আমি।
জিনিসপাতি কি ১ বছরের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছো নাকি?
নাকি এভাবেই খাওয়া দাওয়া করো?
এত বাজার কিসের জন্য?
ওমর কাসি থাঙ্গাল নদীর পাড়ে কালারির বিদ্যালয় খুলেছেন।
আমি ওদের জন্য রান্নাবান্না আর ধোয়ামোছার কাজ করি।
এজন্যই এত বাজার।
উনি শেষবার এখানে এসেছেন তা অনেকদিন হয়ে গেছে।
- শিষ্য কতজন আছে? - বারো জনের মত।
নানু চোবানের ছেলে।
একটা "চোবা" ছেলে। পানি অপবিত্র হয়ে গেছে।
কুয়াটা বন্ধ করে দিতে হবে।
যা গিয়ে পারামুকে জলদি নিয়ে আয়।
কোন উঁচু জাতের লোক এখান থেকে পানি নেবে না।
এখানে দাঁড়িয়ে থেকো না। সরো।
সরো। সরে দাড়াও।
নিশ্চয় হেলান দিয়ে বসেছিল আর পিছলে পড়ে গেছে।
সরো! সরো!
আয়! জলদি আয়!
আয়! বন্ধ কর।
কচুন্নী! কচুন্নী!
অনুবাদে ও সম্পাদনায় জয় কিষান
সবাই সরো! আরো একটু।
টানো! টানো!
ওহ বাবা! অজগর!
বাচ্চাটাকে নাও।
মার এটাকে।
না।
এটাকে যেতে দাও।
কচুপিল্লাই সরে যাও।
আমি একজন উঁচুজাতের নায়ার। আমি এই কূপ থেকে জল নিই।
আর আগামীতেও নেব। আমি এটাকে বন্ধ করতে দেব না।
তুই নিজেকে নায়ার ভাবিস আর চোবা ছেলের দ্বারা অপবিত্র করা জল তুই ব্যবহার করতে চাস।
আমাদের কাছে ঐ জল বিষ। আমরা যতদিন এখানে আছি...
এই কূপটা এখানে থাকতে পারবে না।
এই অশুদ্ধতার ব্যাপারটা বিছানায় মনে থাকে না?
যদি চোবা ছেলের দ্বারা জল অশুদ্ধ হয়ে যায়...
জল শুদ্ধির জন্য কোন ব্রাহ্মণকে সেখানে ফেলে দাও।
- তোর এত বড় সাহস। - বন্ধ করে দে।
- বন্ধ কর। - ওকে নিয়ে যা।
ছাড় আমাকে।
জলদি কর।
সাপটা যখন তোকে পেঁচিয়ে ফেলেছিল...
তুই ভয় পাসনি কিভাবে?
আমি জানতাম সাপটাই হারবে।
ভাল ব্যাপার হলো তুই অহংকার করিস না।
আমাকে বন্দরে নামিয়ে দে।
কোচি থেকে আমাদের মালামাল আসছে।
চারটে মানুষ খাবার জোটে না আর তারউপর খাজনা।
- ব্রাহ্মণদের খাজনা দিতে হয় না? - না।
ওদের কাছে একটা পুস্তক আছে। যেখানে পরিষ্কার ভাবে লেখা আছে...
কারা খাজনা দেবে আর কারা দেবে না।
- সেটা কারা লিখেছে? - ব্রাহ্মণরা নিজেরাই লিখেছে।
বড় বড় অপরাধের জন্য...
...ইংরেজি আইনও মানা হচ্ছে এখন।
কিন্তু ওরাও উঁচু জাতদের পক্ষ নেয়।
সাহেবেরা বাচ্চাগুলো!
ভিনদেশ থেকে এসে আমাদের দেশে থাকছে...
আর এখন ওদের কথাই আমাদের আইন?
যদি ওদের ভাষা জানতাম...
...মনের সুখে গালি শুনিয়ে দিতাম।
- কি হলো? বিশ্বাস করছিস না? - এজন্য নয়।
সামনে দেখ।
ওহ খোদা! ওরা কি শুনেছে?
কচুন্নী।
কমান্ডার সাহেব তোর সাথে দেখা করতে চায়।
- আয়। - আচ্ছা।
সন্ধ্যার আগে না ফিরলে, আমার খোঁজ নিস।
- Thank You বল। - হু?
- 'Thank You' - বলতে হবে?
- এটা হলো ইংরেজিতে ধন্যবাদ জানানো। - আচ্ছা।
Thank you
এই পুরষ্কার হলো নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য।
পুরষ্কারটি শুধুমাত্র সাহসীদের জন্য।
- আমাকে কী বলতে হবে? - শুধু মাথা নিচু করে রাখ।
উনি জিজ্ঞেস করছেন ইতিক্কারা পাক্কী ডাকাতকে ধরতে পারবি কিনা?
No comments yet. Be the first to leave one.