The first 195 lines.
☁ ☁
☁ ☁
দুই দিন আগে, এই মরুভূমিতে ১১২ বছরে এই প্রথমবার তুষারপাত হয়েছে।
ভারী বর্ষনের কারণে গতকাল দক্ষিন মেরুতে অসংখ্য পেঙ্গুইন মারা গিয়েছে।
আমি এমনকিছুর আশা করছি যেটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষীণ।
যদি আমি স্কুলে গণিতের উপর হাল ছেড়ে না দিতাম,
আমি আজকে এই দুর্দশায় থাকতাম না।
ছোটবেলায় আমি বৃষ্টির ফোটাকে ঈশ্বরের চোখের জল ভাবতাম।
এই ধারণা ছিলো আমার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উঠার আগ পর্যন্ত।
এ গল্পটা হলো অপেক্ষার।
৩১ ডিসেম্বর, আমি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষমান।
যদিও সম্ভাবনা অনেক কম।
☁ WAITING FOR RAIN/ বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা ☁
- এই যে, এটা নিন। - আচ্ছা।
আপনি কি কুকুরটাকে নিচে নামাবেন?
- এর নাম কী? - আশু।
আশু।
আশু, একটু বসো।
এভাবে গলায় এভাবে লাগাবেন,
- এখানে এই অংশটা আছে। - ওহ আচ্ছা।
এভাবে এটাকে ধরে ছড়াবেন, বুঝছেন।
অনেক কিউট!
আর এটা ধরুন।
একসাথে হাটার চেষ্টা করুন।
চলো, আশু।
- বাই, আশু। - ধন্যবাদ।
- কোনো সমস্যা হলে আবার আসবেন। - আচ্ছা।
আশু...
শুভ সকাল।
স্বাগতম সবাইকে।
এখানে গতবছরের কেউ কেউ হয়তো আমাকে চিনো।
তিনবার ধরে চেষ্টা করছো যারা, হাত তুলো।
তোমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।
আমি যেভাবে তোমাদের দেখি, তোমরা হলে এই প্রকৃতির অংশ।
প্রকৃতির কোন অংশটা বলো তো?
পাললিক শিলা পাথর।
তোমরা হলে পাথরের মতো আহাম্মক, সব একসাথে পাকিয়ে থাকো।
বাচ্চারা,
আমি ২০ বছর যাবত শিক্ষকতা করে আসছি,
তাই আমি শুরু একই উপদেশ দিবো।
জানলা দিয়ে এই বই ফেলে দাও আর পালিয়ে যাও।
যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আসল দুনিয়া সম্পর্কে জানা ভালো।
আমাদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের মন আশায় পরিপূর্ণ থাকে।
জীবন অনেক সাধারণ,
অল্প কয়েকজনই সফল হবে, বাকি সবাই ব্যর্থ।
তোমরা সফল নাকি ব্যর্থ?
সফল নাকি ব্যর্থ?
সফল?
পুরো ক্লাসের দিকে দেখো।
তুমি কয়েকজনের মধ্যে একজন, এটা বুঝাই যাচ্ছে!
তোমরা সবাই ফেইল করবে।
'আমার জীবনটা কি ভিন্ন হবে?' তোমরা কোনো তুষারকণা নও।
আচ্ছা ঠিক আছে, ১০০০ ডলার আবার এই বছর।
এই ক্লাসের জন্য পুরো টাকা ফেরত এবং বৃত্তি হিসেবে দেওয়া হবে।
যে প্রথমে আশা ছেড়ে দিবে সে এটা নিতে পারবে।
আহ, ধন্যবাদ।
- টাকা-টা রাখেন। - ধন্যবাদ।
ম্যাম, আমি একটু স্যুপ খাচ্ছি।
আমরা গত বছরও একসাথে প্রস্তুতি ক্লাস নিয়েছিলাম না?
আমি জানি না, মিস।
আমরা একই বয়সী, রিলাক্সভাবে কথা বল।
একটা নিই? আমি পার্সটা আনতে ভুলে গেছি।
- এখানে। - আচ্ছা।
আমাদের যদি আবার দেখা না হতো,
সেটা অনেক ভালো হতো, তাই না?
তোর কি সত্যিই মনে হয় আমরা আশা নিয়েই কবরে যাবো?
তোকে দেখে সত্যিই হতাশাগ্রস্ত লাগে না।
তোর কি সত্যিই আমাকে মনে নেই?
সহজেই ক্ষুব্ধ হয়ে যাস, হা?
- খালামনি, আমি এটা দুটো খেয়েছি। - আচ্ছা।
- বাসে যাবি না? - ধ্যাত...
তোর কাছে কি বাস ভাড়ার টাকাও নাই?
বাস ভাড়া আমি দিবো।
আচ্ছা, তুই কি আমার নাম জানস? আমি তোর টা জানি।
পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ নাম।
ধন্যবাদ।
এটা কি আমাদের ভাগ্য?
ভালো করে চিন্তা করে দেখ।
আর কী কারণে আমাদের টানা দুই বছর ধরে দেখা হচ্ছে?
এটা আমাদের ভাগ্য না, এর কারণ সহজভাবে বললে আমরা কলেজে ভর্তি হতে পারিনি।
তো তুই ভাগ্যে বিশ্বাস করস না?
ভাগ্যে বিশ্বাস জীবনকে প্রাণবন্ত করে তুলে।
বাসও সাথে সাথে চলে আসবে।
ঈশ...
আমিও তোর নাম জানি, এটাও অনেক সাধারণ।
বাবা, আমার কথা শুনো। এই দোকানটা বিক্রি করে দাও।
এর মূল্য দ্বিগুণ তিনগুন হবে, তাহলে সমস্যা কী?
- ইয়ং-হোয়ান। - হ্যাঁ?
একটা বেতনভুক্ত চাকরি ব্যবসা করা থেকে ভালো হবে না?
চাকরির টাকা দিয়ে আমি আপনাকে কবে গাড়ি কিনে দেবো?
আপনি ৩০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
আমাকে বিশ্বাস করুন আর নিজে এবার আরামের জীবন কাটান।
আমি ফিরে এসেছি!
আমি উপরে যাচ্ছি!
তুই কি এবারও কলেজে ভর্তি হতে পারস নাই?
এই নিয়ে তো তুই তিনবার দিচ্ছস, তাই উত্তর একটাই হবে।
তুই কি কখনো সিউলের কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারবি না?
সিউলের কলেজই একমাত্র কলেজ না।
আবার বড় বড় কথা বলে।
তাহলে ঘর থেকে বের হ! হারামজাদা!
নিজের উপার্জন নিজে কর না হলে মর।
বাবা আর কতোদিন এভাবে কুলুর বলদের মতো খাটবে তোকে ভরনপোষণ দেওয়ার জন্য?
চুপ কর।
তোর জীবনে কোনো লক্ষ্যই নাই।
কিসের জন্য তাহলে বেঁচে আছস?
বড় হয়ে তোর মতো না হওয়ার জন্য!
তুই তো মাথামোটা তাই বুঝস না পৃথিবীটা কত কঠিন।
তোর কাছে পৃথিবী-টা খেলা লাগে, তাই না?
এখন থেকে, এই বালের ভর্তি কোচিং-এর জন্য নিজে টাকা দে।
ঠিক আছে?
কিন্তু আমি তো নীল দলের।
এই যে, বন্ধু, এটা দেখ, ঠিকাচ্ছে?
ঠিক করে এখানে বৃত্তটাতে একটা সাক্ষর কর।
এটাকে অনেক দামি মনে হচ্ছে।
আহাম্মক! আমরা এখন ২১ শতকে আছি, আর এখনও, এটা তোর প্রথম মোবাইল?
চমকে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করিস না।
এটাকে দেখতে সাধারণ দেখাচ্ছে, তাই না?
- বাকানো যায়! - ওয়াহ আগুন!
- বৈপ্লবিক! - এটা আমি প্রথম দেখেছি!
আমি যখনই এমন করি আমার শরীরে কাটা দিয়ে উঠে।
এটা অনেক কুল লাগে, তাই না?
শোন, শোন, বন্ধু।
আমার একটা জিনিস জানার ছিলো।
- এটা ততোটা দামি না! - এটা না, এটা না...
তোর এটা এখনই অর্ডার দিতে হবে ১০% ডিসকাউন্ট পেতে চাইলে!
এটার কথা বলছি না...
চেহারাটা করছে কি, আচ্ছা ঠিক আছে,
তিন মাসের জন্য ফ্রি চালা, টেনটানা!
এটার কথা বলছি না।
তোর কি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গোং সু-ইয়নের কথা মনে আছে?
গোং সু-ইয়ন? গোং সু-ইয়ন...
- এই মেয়েটা ট্রান্সফার হয়ে চলে গিয়েছিলো না? - হ্যাঁ!
ওকে কী জন্য?
তুই তোর মাকে জিজ্ঞেস করতে পারবি মেয়েটার ব্যাপারে?
- আমার মা? - হ্যাঁ।
উনি তো এখনও সেখানে শিক্ষকতা করে।
হ্যাঁ, সে এখন সহকারী অধ্যক্ষ হয়ে গিয়েছে।
উনি কি খুঁজে বের করতে পারবেন ও কোন স্কুলে গিয়েছিলো?
অথবা তার ঠিকানাটা...
তুই কি একাকী বোধ করতেছস? নাকি বাচাঁর আশা হারিয়ে ফেলেছিস?
এমন কিছু না, তাকে আমার একটা জিনিস ফিরিয়ে দিতে হবে।
বই কিনার আগে চেক করে নিও, বইগুলো আঁকা বুকিতে ভরা।
যখন তুইও বুড়ো হয়ে যাবি, তোর চোখও আগের মতো কাজ করবে না।
তাহলে চোখের ডাক্তারের কাছে যাও।
বারবার হসপিটালে যাওয়া-আসা করার চেয়ে আমার মরে যাওয়া ভালো হবে।
তুমি চোখটাকে আরও খারাপ করে দিবে।
আজকে আরাম করো তুমি, আমি দিদিকে গিয়ে দেখব।
মা, তুমি কি হতাশ হয়েছো আমি কলেজে যাইনি বলে?
প্রথমত আমি আশাই করি নাই যে তুই যাবি।
তুই 'যেতে পারসনি বল' 'যাসনি' এটা বলিস না।
দিদি নিজে নিজে পড়াশোনা করে বৃত্তিও পেয়েছে,
আমার জিনের সমস্যা কী?
জিনের উপর দোষ চাপাইস না।
তার স্বপ্ন ছিলো, তোর কিছুই ছিলো না।
আমারও স্বপ্ন ছিলো।
কোন স্বপ্ন? ঘুমের স্বপ্ন?
স্যার শোয়াইতজারের মতো ডাক্তার হওয়া! মানবতার ডাক্তার!
অন্যের অসুস্থতার উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করবি?
হতাশাবাদী একটা।
তুই কি 'খুঁতখুঁতে' বুঝাইতে চাইছস?
এটা এই পৃথিবীর কোনো দোষ না।
এটা এই পৃথিবীর লোকেগুলোর দোষ।
মা, তোমার আবার বিয়ে করা উচিত।
একা একা থাকতে থাকতে তুমি অনেক খুঁতখুঁতে হয়ে যাচ্ছো।
হ্যালো, আমি গং সু-ইয়নের বোন।
দাঁড়াও, তুমি কি সুহি? গং সুহি?
হ্যাঁ, হ্যালো।
অনেকদিন বাদে দেখা হলো।
ওর নামে একটা চিঠি এসেছে।
যেহেতু তুমি এখানে এসেছো, তার রিডিং পড়ার বইটা নিয়ে যাও।
ডিপার্টমেন্টের গেঞ্জিটাও আসছে।
- এইযে। - ধন্যবাদ।
সু-ইয়ন কেমন আছে? সে কি ফিরতে পারবে?
তোর জন্য একজন চিঠি পাঠিয়েছে।
তোকে কি আমি এটা পড়ে শোনাবো?
তোর চিঠিটা খোলার জন্য ক্ষমা করিস।
আমি আসলে আগে কখনো স্টাম্প লাগানো চিঠি দেখিনি।
তার মানে মানুষ এখনো হাতে চিঠি লিখে পাঠায়।
এবার পড়ছি।
"প্রিয় সু-ইয়ন।"
সুন্দর শুরু, হয়তো তোর কোনো বন্ধু হবে।
"হ্যালো।"
হ্যালো।
হঠাৎ আমার চিঠি দেখে চমকে উঠো না যেন।
[চিঠি বাক্স সিউল]
আমরা একই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম,
কিন্তু আমরা এক শ্রেণীতে ছিলাম না, তাই তোমার হয়তো আমার কথা মনে নেই।
- আমি দুঃখিত। - সরি।
আরও শব্দ আছে?
জল খাবি?
দাঁড়া।
[আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আপনার কথা আমার মনে নেই।]
মাথাটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের এসব কী বাড়ির কাজ দিয়েছে?
আমরা কীভাবে জানব কে কার জন্য অপেক্ষা করছে?
No comments yet. Be the first to leave one.