The first 200 lines.
সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমাটির মূল চরিত্রে আছেন
ঐতিহাসিক একজন ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর জীবনের তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ।
গল্পের চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের নাটকীয় দৃশ্যায়ন প্রদর্শিত হলেও,
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যের বিবেচনায় গল্পের উল্লেখযোগ্য অংশগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
যা এ গল্পকে করে তুলেছে, মানবসভ্যতায় স্বাধীনতা ও সাম্যবাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বিলাল
এই গল্পের বিভিন্ন অংশে ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় অসংখ্য রেফারেন্স রয়েছে। নির্ভুল একটি সাবটাইটেল উপহার দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তারপরও কোনো ভুল ত্রুটি পেলে, আশা করি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় ফুয়াদ আনাস আহমেদ
হুফাইরা
না, না, না।
না!
মা, ওরা কারা?
মা!
তোমার বোনের খেয়াল রেখো, বিলাল।
না!
বিলাল।
ঠিক আছো তো তুমি?
হ্যাঁ, ঠিক আছি।
আবারও সেই একই স্বপ্ন?
এটা নাও।
তোমার জন্য রেখে দিয়েছিলাম।
এটা তো ভাঙা।
তাও তো চলবে!
অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।
তোমাকেও ধন্যবাদ, ভাইয়া।
তাও ভালো।
কিন্তু, এই পয়সা দিয়ে কী করবো আমি?
এক কাজ করো,
পয়সাটা ঈশ্বরদের নামে কুরবানি করে দাও।
এতে হয়তো উনারা খুশি হয়ে তোমাকে দুঃস্বপ্ন দেখা থেকে রক্ষা করবেন।
মায়ের যখন প্রয়োজন ছিল, তখন ঈশ্বররা কোথায় ছিলেন?
তারচেয়ে তোমার জন্য খাবার কিছু কিনি।
হুফাইরা, যাও তো প্রভুকে পানি দিয়ে এসো।
তাড়াতাড়ি!
আমি দেখছি।
দামেস্কের সিল্ক! দামেস্কের সিল্ক!
মরিচ নেন, মরিচ!
রঙিন জামা। রঙিন জামা।
গুণে-মানে অতুলনীয়... কত দিতে চান বলুন?
দুটো মুদ্রা দিতে পারি।
ঈশ্বরের মূর্তি নাও, ঈশ্বরের মূর্তি!
ঈশ্বরের মূর্তি নাও, ঈশ্বরের মূর্তি!
হরেক রঙের, হরেক আকারের নিয়ে যাও!
পূরণ করো ইচ্ছা!
এতে পাবে খ্যাতি!
এতে পাবে শক্তি!
পাবে সমৃদ্ধি!
পাবে সৌন্দর্য!
অবশ্য, তোমার মতন রূপবতীর আর এই মূর্তির প্রয়োজন নেই।
বরং মূর্তিটারই তোমায় প্রয়োজন!
ধন্যবাদ।
কিন্তু, সমৃদ্ধির জন্য?
পুত্রসন্তান চাও তো তুমি, তাই না?
তিনটা যমজ সন্তান হবে তোমার।
হালুয়া নিবে, হালুয়া?
হালুয়া!
শুভ সকাল, ভাই।
দেখে হাটতে পারিস না!?
ঈশ্বরের পথে দান করুন দু'হাত খুলে।
কৃপণতা করবেন না।
কোনো কিছুই তাঁদের দৃষ্টি এড়ায় না.....
কোনো কিছুই তাঁদের অজ্ঞাতে হয় না...
মরুর ধুলোর টানে হারিয়ে যেয়ো না,
হারিয়ে যেয়ো না, অগ্নিশিখার লালচে আবর্তনে!
এসো, ভেতরে...
অর্থ আর সম্পদ দান করে, দেখাও তোমার ঈশ্বরভক্তির প্রমাণ!
ভয় করো! ঈশ্বরের ক্রোধের ভয়!
নয়তো....
ঈশ্বরের ক্রোধানলের লেলিহান শিখায় পুড়ে হবে ছাই...পুড়ে হবে ছাই!
এসো ছেলে।
এসো!
প্রাণখুলে করো মুক্তির প্রার্থনা...
আসবে না?
জেব থেকে পয়সা বের করো।
দান করো ঈশ্বরদের উৎসর্গ করে।
কোনো দানের মাহাত্ম্যই কম নয়..
কোনো আকাঙ্ক্ষাই অপূরণীয় নয়।
তোমার যা ইচ্ছে হয়...
চাইতে পারো নির্দ্বিধায়!
কোনো কিছুই তাঁদের দৃষ্টি এড়ায় না...
থামো!
লাগাতে পারলে না তো!
ইচ্ছা করেই লাগাইনি।
আরও ভালো নিশানা দরকার আমার।
মুরগি মেরে নষ্ট করতে চাই না।
হরিণ হলে অবশ্য দারুণ হয়।
কিন্তু এখন হরিণ কোথায় পাই?
মানে!
সাফওয়ান, কী করছো?
সাফওয়ান।
ঐ তো হরিণ...
...কালো হরিণ!
এদিকে আয়, দাসী!
এদিকে আসতে বলেছি আমি!
দাঁড়া, গোলাম!
আদেশ দিচ্ছি তোকে।
এই হরিণ তো দেখি নিজেকে সিংহ ভাবছে!
ভালো মতো দেখো একবার!
মুখ সামলে কথা বল!
আরে মজা করছিলাম আমি।
চুপ কর!
যা, নিয়ে আয় ওকে।
থাম।
নড়বি না একদম।
না, দয়া করুন।
না!
সাফওয়ান, মনে হচ্ছে তোমার তীর
হরিণের পাছায় গিয়ে বিঁধেছে।
আর কখনো ওকে বিরক্ত করবে না!
সাহস কত, তুই আমাকে আদেশ দিস?
এই হারামিটাকে শিক্ষা দিয়ে দে তো।
ওকে ছেড়ে দিন, প্রভু সাফওয়ান।
ছেলেরা... কী হচ্ছে এখানে?
মাফ করবেন... আমি বুঝতে পারিনি যে, আপনিও এখানে আছেন, প্রভু সাফওয়ান।
ক্ষমা করবেন।
এই গোলাম দুটো কি আপনাকে বিরক্ত করছে?
ওদেরকে তো আজ মেরেই ফেলবো!
চল!
আপনার বাবাকে জানাবেন, উনার মালামাল আজই পৌঁছে দেবো।
হুফাইরা
ওরা তোমায় কষ্ট দিয়েছে?
আমার আরও আগেই আসা উচিত ছিল।
আর কক্ষনো কেউ তোমায় কষ্ট দিতে পারবে না।
সওদাগর ভাইয়েরা
পেশ করুন আপনাদের উপযুক্ত মূল্য।
নিজের করে নিন বিশেষ এই গোলাম কে!
আর কেউ?
দেরি করে ফেললেন, বিক্রি হয়ে গেছে।
নিয়ে যাও একে।
শহরের সেরা সব ক্রীতদাস!
ওর গুণের নেই শেষ। লিখতে-পড়তে জানে।
বিশটি ভাষায় পারদর্শী!
বিশটি ভাষায়।
এমনকি পশুপাখির সাথেও ও কথা বলতে পারে।
প্রভু উমাইয়্যা।
আপনার সেবার করার জন্য এর চেয়ে যোগ্য গোলাম খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।
ওটা অবশ্য এটার মতো এত ভালো না।
এটার গায়ে মোষের জোর!
ওটাকেই নিবো।
সত্যি?
মানে...খুব ভালো জিনিস বেঁছে নিলেন।
দাম একটু বেশি, কিন্তু, আপনার তো আর স্বর্ণের কোনো কমতি নেই, হে প্রভু উমাইয়্যা।
ওকবা,
কোনো একদিন তোমার জিহ্বা টেনে নর্দমায় ডুবিয়ে রাখবো।
ওকে আমার প্রাসাদে পাঠিয়ে দাও।
শুকরান, শুকরান, শুকরান।
শুকরান...
ওহ! প্রভু আপনি মহান। আপনি মহান হে প্রভু উমাইয়্যা।
আপনি দয়ার সাগর!
জনাব।
আপনার চাওয়া মূর্তিগুলো নিয়ে এসেছি প্রভু।
এখন কি ওগুলো আপনার প্রাসাদে পৌঁছে দেবো নাকি বাজারে আপনার দোকানে নিয়ে যাবো?
কী মনে হয় তোর?
দোকানে নিয়ে যা, হতভাগা।
আর যদি একটুও দেরি হয়...
...একটা কানাকড়িও পাবি না।
ক্ষমা করবেন প্রভু।
আর কখনোই দেরি হবে না।
আমার আসলে, আপনার ছেলের সেবায়... একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল।
প্রভু সাফওয়ান।
সাফওয়ানের আবার কী সেবা করেছিস?
একটা গোলাম ছিল ওখানে... উনার সাথে বেয়াদবি করছিল।
কোন গোলাম?
নাম তো শুনেছি বিলাল।
আপনার ছেলেকে মেরে প্রায় মাটিতে শুইয়ে ফেলেছিল।
ভাগ্য ভালো, আমি সময়মতো পৌঁছে গিয়ে...
বদমাশটার হাত থেকে উনাকে রক্ষা করেছি।
হয়েছে!
মূর্তিগুলো এক্ষণ দোকানে নিয়ে যা।
নয়তো একটা কানাকড়িও পাবি না।
আপনার যা আজ্ঞা... প্রভু।
এক্ষণ।
বিলাল
তোলো ওটা।
তুলতে বলেছি আমি।
এই আপেলটার মালিক কে?
জবাব দে!
আপনি মালিক প্রভু, আপনিই এর মালিক।
তাহলে, এই আপেল আর তোর মধ্যে পার্থক্য কী?
কোনো পার্থক্য নেই, প্রভু।
কথাটা মনে থাকে যেন।
ওকে আমার সামনে থেকে নিয়ে যা।
আচ্ছা মতো চাবুকপেটা কর।
যা!
যে যাই বলুক না কেন,
একজন প্রভুর ঘরে প্রভুই জন্ম নেয়।
আর গোলামের ঘরে জন্ম নেয় গোলাম!
আব্বা, ওকে এমন শিক্ষা দিন যেন, জীবনেও না ভোলে।
একটা গোলাম তোমার গায়ে হাত তুললো কীভাবে?
বিলাল মিথ্যা বলছে, আব্বা।
গোলামের বাচ্চা মিথ্যা বলছে।
ও আমাকে মারবে কীভাবে....
ভরা মজলিশে, তোমার জন্য অপমানিত হয়েছি আমি।
কাঁদবে না!
কান্না থামাও!
শুনে দেখো...
ও কান্না করছে না।
তুমিও কাঁদবে না।
যা হয়েছে, ভুলে যাও।
আর কখনো কোনো গোলামের কারণে যেন আমার লজ্জায় পড়তে না হয়।
No comments yet. Be the first to leave one.