The first 200 lines.
ডক্টর, এখন যেতে পারো।
এটা সে।
মাইকেল।
সে কী বলছে?
মাইকেল, পেছনে দেখ।
সে এসেছে।
সে কী বলছে জানো?
মাইকেল, পেছনে দেখ।
- হচ্ছেটা কী? - আমি জানি না।
হচ্ছে কী এখানে?
কী হচ্ছে এখানে?
তোমাদেরকে এমন ঝামেলায় ফেলার জন্য আমি কতটুকু লজ্জিত, তা বলে বুঝাতে পারব না।
লিংকন।
কী হয়েছিল ওইখানে?
জজ কেসলার ফোন দিয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড বিলম্বিত করা হয়েছে।
বিলম্বিত হওয়ার মানে কী?
সম্ভবত, নতুন কিছু প্রমাণ সামনে এসেছে।
- কী প্রমাণ? - বুঝতে পারছি না।
আমাদের হাতে আর কত সময় আছে? একদিন? দুইদিন?
আমার কাছে এ খবরটুকুই আছে। আর কিছু জানি না।
এক মিনিট সময় দিচ্ছি।
আমাকে জানতে হবে, আমাদের কাছে কত সময় আছে।
জজের সাথে দেখা করে জেনে নিব।
তুমি মাইকেলের সাথে থাকো। কোনো সমস্যা হবে না।
- তুই দেখেছিস তাঁকে? - কাকে?
- ভিউয়িং রুমের ওই লোকটাকে। - না।
বাবা ছিল ওইখানে।
ওইটা বাবা-ই ছিল।
আমি নিশ্চিত, বাবা-ই ছিল ওইখানে।
এটা সম্ভব নয়, লিংক।
এটা সম্ভব, আমি দেখেছি তাঁকে।
এটা কীভাবে সম্ভব ভাই?
ওই রুমে মাত্র ৬ জন লোক ছিল।
আমি, ভেরোনিকা, আর কিছু রিপোর্টার।
- বাবা ওইখানে ছিল না। - তুই বুঝতে পারছিস না।
পারছি, সে থাকলে আমি চিনতে পারতাম।
বাবার চেহারা তুই ভুলে গেছিস, আমার মনে আছে।
তাঁকে তো ৩০ বছর আগেই কেড়ে নেয়া হয়েছে, তাই না?
সে এখন কেন ফিরে আসবে, তাও একদম শেষ মূহুর্তে?
জানি না।
সে এখনো বেঁচে আছে কেন?
মনে হচ্ছে, বেনামে কিছু তথ্য জজের কাছে পাচার করা হয়েছে।
বেনামে?
তাহলে সেটা তোমার মোটা বন্ধু হ্যাইলের কাজ।
- আগে থেকেই যদি ওর প্রতি একটু খেয়াল... - এটা হ্যাইলের কাজ নয়।
এতোটা নিশ্চিত হচ্ছ কীভাবে?
যদি হ্যাইল ভেরোনিকাকে কোনো তথ্য দিত...
তাহলে সেটা লিংকনকে বেকসুর খালাস করে দিতে পারত।
তাছাড়া সে তা আদালতেও উত্থাপন করত নিশ্চিতভাবে।
খবরটা তাঁর থেকে আসেনি।
তোমার আর কোন চামচা জানে সেটা?
তোমার আর কোন চামচা জানে সেটা? সবাই আমার দিকে আঙুল তুলছে কেন?
তোমার কোনো চামচা যে সেটা লিক করেনি, তুমি নিশ্চিত? তোমার কোম্পানি থেকে?
আরে ভাই, আমরা সবাই একই দলের। মাথায় আছে?
অবশ্যই।
ছিদ্রটা খুঁজে মেরামত করে দাও।
ধন্যবাদ, ম্যাম।
আরেকটা জিনিস।
পরের বার আমার অফিসে আসার সময়,
দাঁড়িয়ে থেকে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করতে হবে।
অবশ্যই।
চ্যাম্বার থেকে একটু দেরী করে বাসায় গিয়েছিলাম।
অফিস ত্যাগ করেছিলাম রাত ১১ টায়।
তারপর এটা আমার দরজার নিচে পেয়েছি।
একটা হচ্ছে টেরেন্স স্টেডম্যানের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।
এটাতে উনার অ্যাপেন্ডিক্স উপস্থিত আছে, কিন্তু চিহ্নিত নয়।
বাকিটা হচ্ছে একটা অপারেটিভ রিপোর্ট..
যখন মি. স্টেডম্যান ১২ বছর বয়সী ছিলেন।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উনার অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করা হয়েছে।
অসম্ভব, আমায় দেখতে দিন।
আমি চাই, এই দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে...
লিংকন বোরোসকে দ্রুত জেল থেকে মুক্তি দেয়া হোক।
দাঁড়ান, দাঁড়ান। এতো তাড়া থাকলে হবে? রেকর্ডগুলো এখনো সত্যায়িত করা হয়নি।
হাসপাতাল তা ভালো বলতে পারবে।
চেক করেছিলাম, হাসপাতাল এগুলোর রেকর্ড রাখে না।
যতটুকু মনে হচ্ছে,
কাউন্সিলকে ডিফেন্ড করার জন্য এই ভুয়া নথিপত্রগুলো কোনো ...
অ্যান্টি-ডেথ পেনাল্টি উকিলের কাছ থেকে আনা হয়েছে।
শুধু শুধু বিভ্রান্তি ছড়িয়ে লাভ নেই।
আপনারা দুজন একটু শান্ত হওন।
এই কাগজগুলো কেন আমার কাছে পাঠানো হয়েছে...
তা আমি জানি না। তাই একটু বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে চাচ্ছি।
মৃত্যুদণ্ড দুই হপ্তা পিছিয়ে দিচ্ছি।
আশা করি, এর মধ্যে লাশটাকে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন।
কবর থেকে লাশ তুলব।
কিন্তু স্যার, এটা তো চরম পর্যায়ে চলে গেলো।
তাহলেই আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারব..
দাফন করা লাশটা টেরেন্স স্টেডম্যানের কি না।
তারমানে দাফন করা লাশটা স্টেডম্যানের নয়?
আমরা ঠিক জানি না।
যদি না হয়, তাহলে লিংক ছাড়া পেয়ে যাবে।
যদি তা হয়, তাহলে যেখানে শেষ করেছিলাম, সেখান থেকে শুরু করতে হবে।
নিজের খেয়াল রেখো, মাইকেল।
তো, লাশটা যদি টেরেন্সের হয়?
সে আশা নিয়ে বসে থাকছি না।
এর মানে কী?
মানে আমরা আবার কাজে ফিরে যাচ্ছি।
জানতাম, তুই এই কথাটা বলবি।
লাশটা কবর থেকে তুলবেন, তাই না?
সত্য বলতে, এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আগে কখনো হইনি।
যদি লাশটা তার না হয়ে থাকে, তাহলে যারা তোমাকে এখান থেকে...
বের করার জন্য দিনরাত খাটছে, তারা খুবই খুশি হবে।
ওয়ার্ডেন।
মৃত্যুদণ্ডের সময়, ভিউয়িং রুমে একটা লোক ছিল।
ওই লোকটাকে ঠিক চিনতে পারলাম না।
এই রেকর্ড অনুসারে,
উপস্থিত ছিল তোমার ভাই, তোমার উকিল, আর তিনজন রিপোর্টার।
দুইজন মহিলা আর একজন পুরুষ।
ওই লোকটা, কে ছিল?
তিনি 'দ্য হেডলাইন প্রেস' থেকে এসেছিলেন।
উইলিয়াম প্র্যাল।
চিনো তাঁকে?
না।
গার্ড।
ভালো করে ধর।
তুই কী দেখতে চাচ্ছিস, আমায় বল একটু।
পালানোর নতুন পথ।
- প্ল্যানগুলো মুখস্থ করিসনি? - না।
মুখস্থ রাখলে ফোন নাম্বারের মতো মুখস্থ রাখতে হতো।
তাহলে শুধু রুট ৬৬ এর ট্যাটু করিসনি কেন?
দৈবক্রম।
দৈবক্রম?
- মানে তুই আরেকটা পথ খুঁজে পেয়েছিস? - হয়তো।
'হয়তো' এর মানে কী?
বিকল্প পথ সবসময়ই খোলা থাকে, তবে সেটা হচ্ছে আত্মহত্যা।
ঠাণ্ডায় আমার হাত ব্যথা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আবহাওয়া নিয়ে ওরা কী বলে জানো?
যদি আবহাওয়ায় মানিয়ে না নিতে পারো, তাহলে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করো।
হাসপাতালে যাওয়ার পথ তো এখনো খোলা আছে,
আর গার্ড-রুম থেকে ওইখানে যাওয়া তো একদম সোজা।
মধ্যে শুধু একটা জিনিস পরিবর্তন করতে হবে।
এক মিনিট দাঁড়াও, প্ল্যান চেঞ্জ করছ কেন?
হাসপাতালের নিচ দিয়ে তো ওই রুমে যেতেই পারি।
শুধুমাত্র ওই পাইপটাকে সরালেই আমরা বাড়ি চলে যেতে পারব।
ওইখানে ১২ ইঞ্চির পাইপ বসানোর পিছনে কারণ আছে, ডারউইন।
মানুষ এর মধ্যে দিয়ে যেতে পারবে না।
আর ওইটাতে যাওয়া যাবে শুধু হাসপাতালে নিচ দিয়েই।
আমরা আরেকটা পথ বের করতে যাচ্ছি।
পাগলা গারদ?
এটাই একমাত্র বিল্ডিং যেটার সাথে হাসপাতালে সাবসারফেইস লাইন যুক্ত আছে।
তারমানে তুমি বলছ,
ওই গারদে যেতে হলে হাসপাতাল দিয়ে যেতে হবে?
এর চেয়ে আর কোনো ভালো আইডিয়া না পাওয়া গেলে।
গার্ডরুম থেকে পাগলা গারদের সাথে..
কোনো সাবসারফেইস লাইন যুক্ত আছে?
থাকতে পারে।
দাঁড়াও, দাঁড়াও, "থাকতে পারে" মানে?
আমরা ওই গারদে গার্ড রুম দিয়েই যেতে পারব।
আর রুট ৬৬ এর ৪০ গজ আগেই একটা ঝাঁঝরি আছে, যেটা আমাদেরকে অর্ধেক পথ নিয়ে যাবে।
- আর বাকি পথ? - মাঠের মধ্য দিয়ে।
ওহ, তারমানে একদল কয়েদি,
মধ্যরাতে গার্ডদের সামনে দিয়ে মাঠের মধ্যে পায়চারি করবে?
হ্যাঁ।
ঠিকই বলেছিলি। এটাকে আত্মহত্যাই বলে।
যে ঝাঁঝরির কথা তুমি বললে, সেটা তো লুকানো। তাই না পার্টনার?
- সিও'রা এটা দেখতে পাবে না। - আসলে তা নয়।
- কোথায় সেটা? - এটার উপর দাঁড়িয়ে আছ।
হায় খোদা!
যখন এখান দিয়ে মাঠে নামবে, এখানে একটা টাওয়ার,
এখানে একটা টাওয়ার,
আমার পিছনে একটা টাওয়ার।
ওরা আমাদের পাখির মতো গুলি করে মারবে। বুঝেছ?
তাড়াতাড়ি করো।
তোমার প্ল্যানে গোয়ামারা নিশ্চিত।
আজকে রাতে আবার ভিতরে যেতে হবে।
কেন?
পাগলা গারদে গিয়ে, ওইখানের সব রাস্তা চিনে আসতে হবে...
যাতে পালাতে কোনো সমস্যা না হয়।
জানি না, মাইকেল। সি-নোট কিন্তু ঠিকই বলেছিল।
মাঠের মধ্যে গেলেই, আমাদেরকে পাখির মতো গুলি করা হবে।
জানি।
একটা বুদ্ধি পেয়েছি।
আমার ভাইকে কবর থেকে তুলতে জজ কেসলার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন...
তাতে আমি আর আমার পরিবার ভীষণ আতঙ্কে আছি।
লিংকন বোরোসের ডিফেন্স কাউন্সিলের এহেন কর্মকাণ্ড...
আমার ভাইয়ের স্মৃতির উপর এক অপমান ও লাঞ্ছনা বলা যায়,
যে কি না সবসময় এই দেশের উন্নতির কথাই চিন্তা করে গেছে।
একজন দুর্ধর্ষ খুনিকে বেকসুর খালাস দিতে,
এটা একটা সাজানো নাটক মাত্র।
স্টেডম্যান একটা নির্মল সমাধির আবদার করেছিল।
শান শওকত-হীন, একটা বায়োডিগ্রেডেবল কফিন।
হয় উনি পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন।
বা উনি চাননি, ওনার লাশটা কেউ সনাক্ত করতে পারুক।
সামনে পেলে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করিস না, এখন আবার সাহায্য চাইতে এসেছিস?
তোকে পছন্দ করি বলে ফিরিয়েও দিতে পারি না।
- কিন্তু এখন না করব। - তুই না করতে পারিস না।
যাইহোক।
তোর মা বা আমার মা যদি জানতে পারে...
তোকে এখানে বিপদে ফেলেছি! বাদ দে ভাই।
আমি এখন জেলে বন্দি, পেন্দেজো।
- এর চেয়ে বড় বিপদ আর কী হতে পারে? - অনেক।
তুই কিন্তু আমার কাছে ঋণী।
এবার তোর পালা, আমার নয়।
মিস ম্যানজিনির ভাঙা জানালা।
টেরাডো সিস্টার?
ভাইয়ের হারানো এল-ক্যামিনো।
চার্চ কালেকশন বাস্কেট।
গাধা!
হ্যাঁ।
আমরা শপথ করেছিলাম, ব্রো।
No comments yet. Be the first to leave one.