The first 89 lines.
রাত।
এক ছায়াচ্ছন্ন জগত যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের গ্রহের অর্ধেকের বেশি প্রাণী।
এখন পর্যন্ত, ক্যামেরায় কেবল তাদের জীবনধারার এক ঝলক ধরা পড়েছে।
কিন্তু নেক্সট-জেনারেশন টেকনোলজির সহায়তায়,
আমরা রাতকে দিনের মতোই স্পষ্ট দেখতে পারি।
মানুষের চোখের তুলনায় শতগুণ সেন্সিটিভ ক্যামেরার সাহায্যে...
আমরা এখন রাতের সৌন্দর্যকে ধারণ করতে পারছি...
রঙিন অবস্থায়।
ভিন্ন জগতের ভূদৃশ্য।
অন্ধকারে জেগে ওঠা অদ্ভুত প্রাণীকূল।
অদেখা আচরণ।
এখন আমরা প্রাণীদের জীবনযাত্রা অনুসরণ করতে পারছি...
পৃথিবীর শেষ সত্যিকারের বিজনপ্রদেশে...
রাত।
:.:.: Earth at Night in Color :.:.: S02 E05 অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
নামিবিয়ার কঙ্কাল উপকূলে সূর্যাস্ত।
যেখানে আফ্রিকান মরুভূমি মিলিত হয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে।
এই অঞ্চল দেখে প্রাণহীন মনে হয়।
কিন্তু, প্রতি বছর কয়েক মাসের জন্য,
সৈকত দখল করে সমুদ্র থেকে আগত অতিথিরা।
কেইপ ফার সিল।
প্রতি বসন্তে, পাঁচ লাখেরও বেশি সিল সমুদ্রতীরে আসে প্রজননের জন্য।
এটা নবজাতক বাচ্চাদের লালন-পালনের জন্য পারফেক্ট জায়গা।
মাত্র কয়েক সপ্তাহ বয়সী,
এই বাচ্চাটি এখনও তার মায়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
প্রথম চার মাস,
সে কেবল মায়ের হাই-ক্যালরি দুধ খেয়েই বেঁচে থাকবে।
কিন্তু একটা ক্ষুধার্ত বাচ্চাকে লালন-পালন করা ক্লান্তিকর কাজ।
তাই মা'কে নিয়মিত সাগরে ফিরে যেতে হয় খাবারের জন্য,
মাঝে মাঝে টানা কয়েকদিনের জন্য।
তাদের বাচ্চাদের...
একা ছেড়ে যেতে হয় ঘরে।
কিন্তু সন্ধ্যা একটা বিপজ্জনক সময়।
এক জোড়া কালো পিঠের শিয়াল।
আশেপাশে প্রতিরক্ষার জন্য মা না থাকায়,
বাচ্চাদের নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে হবে।
ধারালো দাঁত তাদের একমাত্র প্রতিরক্ষার হাতিয়ার।
দিনের বেলায়, বাচ্চারা সাধারণত শিয়ালদের তাড়িয়ে দিতে পারে।
কিন্তু আলো ম্লান হতে শুরু করলে, পাশার দান উল্টে যায়।
অন্ধকার নেমে আসার পর, শিয়ালরা অতর্কিত হামলার সুযোগ পাবে।
এই অল্পবয়স্ক বাচ্চাদের জন্য, এটা একটা লম্বা, বিপজ্জনক রাত হতে যাচ্ছে।
এই উপকূলজুড়ে অন্ধকারের মাঝে চলমান নাটকীয়তা
আমরা আগে কখনও দেখার সুযোগ পাইনি।
কিন্তু বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি...
আমাদেরকে এই অভূতপূর্ব রহস্য
উন্মোচনের সুযোগ করে দিয়েছে।
অন্ধকারে প্রথম কয়েক ঘণ্টা, কলোনিটি বেশ কোলাহলপূর্ণ থাকে।
হৈ-হল্লার মাঝে, একটি একাকী বাচ্চা তার মা'কে ডেকে চলে।
কিন্তু আশেপাশে থাকা বড়োরা তাকে কোনো সান্ত্বনা প্রদান করে না।
কেইপ ফার সিলরা শুধু নিজেদের বাচ্চার খেয়াল রাখে।
তাকে নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে হবে।
কিন্তু সৌভাগ্যবশত, সৈকতের অনেক বাচ্চার মা'ই মাছ ধরতে সাগরে গিয়েছে।
চাঁদের আলোয়, তারা সবাই জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকে সিল বাচ্চাদের নার্সারিতে।
বাচ্চাদের নিরাপদ থাকার এটাই সেরা উপায়।
আর রাতের বেলা তাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
উপকূলের কাছে, একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ বালুতে আটকে আছে।
এটি এখন এই সৈকতের সবচেয়ে শক্তিশালী শিয়ালের পালের ডেরা।
তাদের ডায়েটের ৯৫% এর ওপরে
রয়েছে একটি জিনিস: সিল শাবক।
এই ভূতুড়ে ডাক মূলত শিকারের জন্য সমবেত হওয়ার আহ্বান।
প্রথমবারের মতো চিত্রধারণে,
নাইট ক্যামেরাসমূহ এই নিশাচর অভিযানে শিয়ালদের অনুসরণ করে।
পূর্ণবয়স্ক সিলদের কুপোকাত করা কঠিন।
তাই শাবকদের সন্ধানে দলটি সন্তর্পণে ঢুকে যায় কলোনির মধ্যখানে।
আমাদের চোখে...
শাবকগুলো অন্ধকারে লুকায়িত।
কিন্তু শিয়ালদের রয়েছে চমৎকার নাইট ভিশন...
যা তাদেরকে সুযোগ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
একটি ঘুমন্ত শাবক।
পাশে একটি বড়ো সিল থাকায়,
এই দফায়, শিয়াল পিছিয়ে যায়।
কিন্তু আরও একটি শাবক নার্সারির নিরাপত্তা বলয় থেকে বেরিয়ে এসেছে।
আর সে নজরে পড়ে গিয়েছে।
এর একমাত্র উপায় সাগরে চলে যাওয়া,
যেখানে শিয়াল তার পিছু নিবে না।
সৌভাগ্যময় পরিত্রাণ।
সাগরের স্রোত থেকে দূরে...
মরুভূমি থেকে ভেসে আসে এক অদ্ভুত কোরাস।
সারাদিন সূর্যের উত্তাপ থেকে লুকিয়ে থাকার পর,
রাতের শীতলতায় মরুভূমির ছোটো ছোটো অধিবাসীরা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে।
একটি পুরুষ বার্কিং গেকো (গিরগিটি), প্রেয়সীর খোঁজ করছে।
কিন্তু অন্ধকারে, সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তাই সে ডেকে চলে।
এই স্ত্রীটির তার স্বর পছন্দ হয়েছে।
কিন্তু নিজের মনের কথা শুনতে হলে...
তাকে প্রাণের ঝুঁকি নিতে হবে।
একটি হোয়াইট লেডি স্পাইডার।
একটি গিরগিটি-শিকারী...
যার দংশন প্রাণঘাতী বিষাক্ত।
No comments yet. Be the first to leave one.