The first 75 lines.
অনুবাদ - কুদরতে জাহান
আমরা একটা কেসের কথা বলছি...
কেসটা পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে...
মাত্র দুই দিন আগের ঘটনা হলেও
দেশজুড়ে জনরোষ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
আমরা এ মুহুর্তে ভিক্টিমের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।
আমাদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হয়নি।
এউ কেসকে ঘিরে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে...
প্রতিনিয়তই এরকম জঘন্য অপরাধ ঘটে চলেছে কেন?
অপরাধীরা কেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছে?
বছরের পর বছর এসব ঘটে যাবার পরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো উন্নতি ঘটছে না কেন?
পুরো জাতি—
বন্ধ করো।
খোদা! মরার ওপর খাঁড়ার ঘা!
মাসি প্লিজ... সবার মেজাজ বিগড়ে দিয়েন না...
আমাদের অবস্থাটা চেয়ে দ্যাখো, মেজাজ সবার এমনিতেই বিগড়ে গেছে!
মাসি, এসব ফালতু কথা বলে কী লাভ হয় আপনার?
মাসি ঠিকই বলেছে...
এই ভিড়ে গরম লাগছে আমার...
গরম?
পুরো থাইটা বের করে রেখেও?
তাহলে তো আমার বোরখার মধ্যেকার গরমে কাবাব বানানো যাবে!
কী?
থাই কী?
থাই...এটা।
জ্যোতি দি, প্লিজ গিয়ে দ্যাখো না। ওরা বেল বাজিয়েই চলেছে...
বাজিয়েই চলেছে?
আর কতদিন চলবে এসব?
আমাদের একটা মাত্র ঘর।
আর কতজন লোককে ঠেসে ভরবে ওরা?
আগেও বলেছি... প্লিজ প্রার্থনার পর চিল্লাচিল্লি করবেন না...
তোমাকে ধূপ জ্বালাতে বলেছে কে?
শোনো মেয়ে... ঈশ্বরকে এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না!
ক্যাবলটা নেড়েচেড়ে দেখতে পারো অবশ্য...
আমি শুধু সবার জন্য শান্তি চাই..
তুমি শান্তি চাও, না?
ঐ মেয়েটাকে ঢুকতে দিও না,
তাহলেই আমরা সবাই শান্তিতে থাকবো!
ও থাকবে কোথায়? আমাদের মাথায়?
তো ও যাবে কোথায়?
ও যাবে কোথায়?
আমাদের একটা সিস্টেম দরকার... সবাইকে এখানে রাখা যাবে না.. একসময়ে কাউকে না কাউকে তো যেতেই হবে, তাই না?
হাহ! জীবনে প্রথমবারের মতো ও কাজের কোনো কথা বললো!
যে আসতে চাইছে, তাকে বাইরেই থাকতে দাও।
আমরা কেন যাবো?
হ্যাঁ!
আর্জুজী, এখানে মানুষের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে।
খবর দেখে মনে হচ্ছে, প্রতিদিনই নতুন কেউ না কেউ আসতে থাকবে।
খবর দেখে মনে হচ্ছে, প্রতিদিনই নতুন কেউ না কেউ আসতে থাকবে।
কয়জনকে বের করে দেবো?
সবাইকেই...
ওরা আমাদের কে?
আমরা একে অপরের কে?
আমরা তো এখনো এখানে একসাথে আছি, তাই না?
হ্যাঁ...
যেন কেউ আমাদের কাছে জানতে চাইবে!
মুড়ির টিনের মতো ঠেসে ঠেসে ঢোকানো হয়েছে আমাদের!
এত এত মেয়ে...
কীভাবে সবাইকে জায়গা দেবো আমরা?
দি, তুমি তো আর আশ্রম খুলে বসোনি।
প্লিজ, এ সমস্যাকে নিজের ঘাড়ে টেনে নিও না... ওরা নিজেরাই সামলে নেবে...
ঠিক কথা... জ্যোতি, তুমি নিজেও তো একজন ভিক্টিম।
আবার ইংরেজিতে পটপট শুরু হলো!
জ্বি... আমি শুধু ইংরেজিই জানি।
আপনারা যদি মারাঠা-মিডিয়ামে পড়াশোনা করে থাকেন, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।
ম্যাডাম, আমরা তো স্কুলেই যাইনি!
বারো বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল আমাদের।
সেজন্যই মনে হয় আমরা মেঝেতে বসে আছি আর
তুমি তোমার সিংহাসনে বসে দোল খাচ্ছ!
তো আসুন না! বসুন এখানে! আমি কি নিষেধ করেছি কখনো?
চুপ করুন, যথেষ্ট হয়েছে!
একজন বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দরজা খোলার অপেক্ষায়...
কে থাকবে আর কে যাবে, সেটা কীভাবে বের করবো আমরা?
কাজটা কে করেছে তার ওপর ভিত্তি করে? যদি বাবা, ভাই কিংবা স্বামীর কাছে-
তাহলে তারা থাকতে পারবে? আমরা তাহলে নিশ্চিন্ত!
No comments yet. Be the first to leave one.