星を追う子ども - Children who Chase Lost Voices from Deep Below
The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
হ্যালো!
মিমি!
কেমন আছিস তুই?
পেয়েছি!
সুরটা কেমন অদ্ভুত রকমের বিষণ্ণ!
পুনরায় আর শুনতে পারবো না সুরটা!
শুভ সন্ধ্যা!
শুভ সন্ধ্যা!
ধন্যবাদ আমার সাথে থাকার জন্য!
রাতে খাবার সময়ে তোকে আবার নিয়ে আসবো, ঠিক আছে?
মা?
আজ অনেক তাড়াতাড়ি বাসায় চলে এসেছ!
ওহ!
বাতিটা নেভাতে ভুলে গিয়েছিলাম।
বাবা, বাসায় চলে এসেছি।
তুই আবার কোত্থেকে আসলি এখানে?
দূর হ, মিমি!
প্রথমে ধন্যবাদ দেওয়া যাক!
গানটার সুর আসলেই বেশ অদ্ভুত ছিল!
যদি আবারও শুনতে পারতাম?
গুড নাইট, মিমি!
আলো দেখা যাচ্ছে?
হয়তো আমার কল্পনা হবে।
এরপর, মিস ইউ ইয়ুজাকি।
পরেরবারও যেন এক্সামের রেজাল্ট ভালো হয়!
অবশ্যই!
এরপর, মিস আসুনা ওয়াতাসে।
আসছি।
আসুনা আবারও এক্সামে ক্লাসে সবার চেয়ে বেশি নাম্বার পেয়েছে।
আসুনা আবারও এক্সামে প্রথম হয়েছে!
সত্যিই তুমি বেশ পরিশ্রম করো।
আমাদের ক্লাসের বিদ্যার ঢেঁকি ও!
পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু বোঝেই না!
ছুটির আগে তোমাদের সবার উদ্দেশ্যে একটা ওয়ার্নিং দিচ্ছি।
বেশ কিছু শিক্ষার্থী ওবুচ ব্রিজে ভাল্লুকের মতো একটা জীবকে দেখেছে।
রেইলরোড ব্রিজের কাছাকাছি ওটাকে দেখা গেছে।
- আমার ভাই ওটাকে দেখেছে বলেছে! - সবাই স্কুল শেষে সোজা বাসায় যাবে।
যে বন্ধু তোমার বাসার কাছাকাছি থাকে তার সাথে যাবে।
আচ্ছা, ম্যাম!
হেই, আসুনা!
বাসায় যাবে একসাথে?
ওহ...সরি, আমাকে একটা আগেভাগে যেতে হবে বাসায়!
তারপরও, ধন্যবাদ তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য।
অবশ্যই, অন্য কোনদিন যাই?
৫ কেজি চাল দিন।
এখনই দিচ্ছি।
ঠিকমত নিতে পারবে তো?
হুম, সমস্যা হবে না। ধন্যবাদ!
আজকের দিনটা কত সুন্দর!
পাখির ডাকের কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না!
হে খোদা, এটা আবার কী?
বাঁচাও!
এখানেই দাঁড়াও।
সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
প্রাণীটা খুব শীঘ্রই মরতে চলেছে।
না!
সরি তোমাকে এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য।
আর ভয়ের কিছু নেই। চলো, তোমাকে তোমার বাড়ি পৌঁছে দেই।
এক সেকেন্ড!
আমার উপর ভরসা রাখো।
আমি নিশ্চিত, তোমার সাথেই দেখা করতে এসেছি আমি।
তোমার জ্ঞান ফিরেছে অবশেষে।
হ্যাঁ!
বিপদ কেটে গেছে। তুমি এখন নিরাপদেই বাসায় ফিরতে পারবে।
ধন্যবাদ! তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ, তাই না?
অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে!
এই পাহাড়ি জায়গায় হয়তো তোমার আর না আসাটাই ভালো হবে।
মিমি?
আমি ভুল কিছু দেখিনি!
এখানে অবশ্যই মানুষ ছিল!
দু'টো বাচ্চা! ঠিক রেলের এইখানে!
দু'টো বাচ্চা?
কমান্ডার!
এখানে আসুন।
মিস ওয়াতাসি?
আসুনা আজ স্কুলে আসেনি?
আশা করি, ও ঠিকমতই আছে।
তোমরা সবাই হয়তো শুনেছ ইতোমধ্যেই।
ওবুচি ব্রিজে গতকাল আবারও ভাল্লুকটাকে দেখা গেছে!
শুনেছি, একটা ট্রেন নাকি ভাল্লুকটাকে ধাক্কা দিয়েছে?
পুলিশ তদন্ত করছে, শুনলাম!
ওটা নাকি মারা গেছে!?
দুঃখিত, তোমাদের কথায় ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য তবে এটা এখনও তোমাদের আসা যাওয়ার পথে থাকতে পারে। তাই, চোখ কান খোলা রেখে পথ চলবে।
জি, ম্যাম!
ইয়ু, আমার হয়ে আসুনাকে কথাটা বলতে পারবে?
পারবো!
আর, আমি গর্ভকালীন ছুটিতে যাচ্ছি আগামীকাল থেকে তাই আমার বদলি একজন শিক্ষক আসবে স্কুলে।
উনি কি দেখতে খুব সুন্দর?
সরি, উনি একজন পুরুষ!
একজন পুরুষ?
আমি ওখানে যাবোই যাবো।
ব্রিজে ঘটনাটা ঘটেছে, শুনলাম!
কী ভয়াবহ ব্যাপার!
ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হয়েছে খবর পেলাম।
প্রত্যেক দুই ঘন্টা পর পর একটা ট্রেন যায়।
গুড মর্নিং, আসুনা!
হ্যালো!
দিনটা অনেক সুন্দর, তাই না?
জি!
ওহ, মি. সাতো...
কী অবস্থা?
খবরটা শুনেছেন? ওবুজি ব্রিজে নাকি ভাল্লুকটাকে দেখা গেছে!
ওখানে চলুন!
এক সেকেন্ড! দেখো!
পাতাগুলো কুঁচকে আছে, অথচ ঠান্ডা এখনও অতটা পড়েনি।
এটা স্ফটিকে রূপান্তরিত হয়েছে!
হয়তো ব্যাখ্যার অতীত এরকম কিছু এখানে অবস্থান করেছিল।
পুরো জায়গাটা ভালো করে খোঁজো!
আমার মন বলছে, মেয়েটা এখানে আসবে।
যদিও আমি ওকে মানা করেছিলাম।
হুম, জানি...
আমিও আসলে কেন যেন ওর আসার জন্য অপেক্ষা করছি।
হয়তো তোমাকে বলেছিলাম, এখানে না আসতে।
হ্যাঁ, কিন্তু...
মিমি!
ভারি দুষ্টু হয়েছিস দেখছি!
তোর শুধু আমার সাথে সাথে থাকার কথা!
এখনই দুই নৌকায় পা দেয়া শিখে গিয়েছিস, তাই না?
এই জায়গাটাতে অনেক দিন ধরেই আসি আমি।
চাই না কেউ আমাকে এখানে আসতে মানা করুক।
আমিও আসলে তোমার মতোই।
এখানে আসি নিজের মর্জিতেই।
আমি শুন, তুমি?
আমি...আসুনা!
তোমার বাহুতে কী হয়েছে?
রক্ত পড়ছে বেশ! গতকালের ঘটনাটার জন্য এরকম হচ্ছে, তাই না?
সমস্যা নেই, আমি ঠিক আছি।
আমার দোষেই তোমার এরকম অবস্থা...
তোমার উচিৎ খুব শীঘ্রই হাসপাতালে যাওয়া।
আমার মা সেখানে কাজ করে। তোমার বেশ যত্ন নেবে।
তোমার যা দরকার মনে হচ্ছে সবকিছুই আছে এখানে।
হ্যাঁ, তবে প্রথমবারের মতো এগুলো কাজে লাগল।
জায়গাটাকে বড্ড আপন মনে হয়। তাই, নিজের অনেক কিছুই এখানে এনে রেখেছি।
তুমি জানো?
এই জায়গাটাতে রেডিওর সিগন্যাল খুব ভালো কাজ করে!
রেডিও!?
এইতো, ব্যান্ডেজ লাগানোর কাজ শেষ।
অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে।
শুনবে নাকি?
আমি ইলেক্ট্রনিক বাল্ভের বদলে এই স্ফটিকটা ব্যবহার করি।
সময় আর আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে তুমি বিভিন্ন সিগন্যাল পাবে।
হেই, পাথরটা...
পেয়েছি!
শোনো।
একটা গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে, তাই না?
হুম।
খাবে?
অবশ্যই, ধন্যবাদ! বেশ খিদে পেয়েছে!
জানো, একবার অদ্ভুত একটা সুর শুনেছিলাম।
এরকম গানের সুর আমি আগে কখনও কোথাও শুনিনি।
শুনে মনে হচ্ছিল, কারো হৃদয় থেকে ধ্বনিত হচ্ছিল শব্দটা।
যখন সুরটা শুনি, নিজেকে কেমন যেন দুঃখী আবার সুখি মনে হচ্ছিল।
মনে হচ্ছিল, আমি একা নই।
সুরটা আমার অন্তরে একদম গেঁথে থাকবে, সবসময়।
আবার যদি শুনতে পারতাম!
শুন?
আমাকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করবে না, আসুনা?
আমি জানি, তোমার মনে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।
যেমন-ভাল্লুকের মতো দেখতে প্রাণীটা আসলে কী ছিল?
হুম, সেটাই।
আচ্ছা, এখন উত্তর না দিলেও চলবে।
অনেক প্রশ্ন আছে আমার।
সময় লাগবে কিছুটা, আগামীকাল আবার আসবো এখানে।
আমি আগার্থা নামে একটা দেশ থেকে এসেছি।
আগার্থা?
বাহিরের একটা দেশ?
হুম।
কিছু একটা দেখতে চেয়েছিলাম, কারো সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু, এখন আমার মনের চাওয়া পূর্ণ হয়েছে। আর কোন আফসোস নেই।
তোমার ইচ্ছা তাহলে পূরণ হয়েছে?
হ্যাঁ।
চারদিক অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তোমার বাড়ি যাওয়া উচিৎ।
যাবো, আগে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক বন্ধ হোক।
আসুনা...
তোমাকে কিছু দেওয়ার আছে আমার।
চোখ বন্ধ করো।
আচ্ছা।
তুমি কি এই মাত্র আমাকে চু...চু...চু...চুমু খেলে?
আসুনা।
আমি চাই তুমি হাসি আনন্দে বাঁচো।
আমার চাওয়া এটুকুই।
সরি, কাল কথা হবে তোমার সাথে।
কাল দেখা করবো।
আমি ওকে মাথা থেকে তাড়াতেই পারছি না!
শুন...
তাহলেই ওই আমার শেষ গানটা শুনেছিল।
ও তোমাকে "মিমি" বলে ডাকে, তাই না?
ও যেন আমার অবর্তমানে ভালো একটা পর্যায়ে পৌঁছে।
ভয়টা এই মুহূর্তে আসলে অসহনীয়...
কিন্তু একই সাথে সমানভাবে এক স্বর্গীয় সুখও মনে কাজ করে।
দেখে মনে হচ্ছে তারার ওই জঞ্জালটাকে হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারবো!
আমি এসে গেছে, আসুনা!
স্বাগত, মা! নিশ্চয়ই নাইট শিফটের কাজ করে তুমি বেশ ক্লান্ত!
হুম...দু'টো লাঞ্চ বানালে আজ?
হ্যাঁ, একটা আমার এক বন্ধুর জন্য।
মা, নাশতা করবে?
হুম, করবো।
তাহলে, একসাথে নাশতা করি, চলো?
কী বলছ? তুমি তো ইতোমধ্যেই নাশতা করে ফেলেছ, না?
No comments yet. Be the first to leave one.