The first 200 lines.
সিরিয়াল কিলারের অন্যতম সদস্য, সাবেক অনুবাদক ও আমার প্রিয় একজন মানুষ "মামুন আব্দুল্লাহ্" স্মরণে...
FLAVORS OF YOUTH (2018) Bangla Subtitle
Translated By SARAH IQBAL FUAD ANAS AHMED
Edited By FUAD ANAS AHMED
গুয়াংজু ফ্লাইট ২১৫ এর যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
গুয়াংজুগামী ১১:৪৫ এর প্লেনটি বিমান বন্দর ছেড়ে যাচ্ছে!
খিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে।
বেইজিংয়ে ঝড়বৃষ্টি এক বিরল ব্যাপার।
শীতল সাবওয়েটা, স্বার্থপর ব্যস্ত মানুষগুলোকে একটানা গোগ্রাসে গিলে চলেছে...
ঠাণ্ডা স্যুপের মতো!
নিষ্ঠুর এ শহরে ছুটেচলা মুখগুলোতেও অনুভূতিহীন যান্ত্রিকতার ছাপ স্পষ্ট!
হয়তো, আমিও তাদেরই একজন!
একঘেয়ে জীবনচক্রের ইদুরদৌড়ে ছুটতে ছুটতে মাঝে মাঝে মনে হয়...
কোথায় যেন কেটে গেছে সুর!
নোনা সে অনুভূতি শুষে নিয়েছে নাড়ির টান!
তবুও, ভুলতে বসা সে স্বাদের অনুপস্থিতি মাঝে মধ্যে জেঁকে ধরে আমায়!
কোথায় হারিয়ে গেল, সেসব স্মৃতি?
ঋতুর আবর্তে, মনে পড়ে যায়, আমার শহরের রাইস নুডুলসের সেই স্বাদ!
আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল মৌসুমি সবজি মিশিয়ে বানানো...
সান শান নুডুলস!
"দ্য রাইস নুডুলস"
অধিকাংশ হুনানবাসীর দিন শুরু হয়
ধোয়া ওঠার গরম এক বাটি নুডুলস,
ঘামে ভেজা মুখ আর সারাদিনের পরিকল্পনা নিয়ে!
দুই বাটি!
থ্যাংক ইউ!
নামহীন এই নুডুলসের দোকান থেকেই আমার শৈশবের স্মৃতির সূচনা!
গুড মর্নিং!
শাও মিং, দাদুভাই!
দাদীমা!
রাইস নুডুলস এখানে হাতেই বানানো হতো!
যেমন স্বচ্ছ, তেমনই সুন্দর!
আর তাতে মিশে থাকা চনমনে স্বাদ
দিনের শুরুটাকে করে তুলত আরও প্রাণবন্ত!
দাদীমা আর আমি একসাথে তা উপভোগ করতাম!
কর্মজীবী বাবা মায়ের সন্তান হিসেবে,
সকালটা আমার কাটতো দাদীমার সাথেই।
দুজনে একসাথে খেতাম সান শান নুডুলস।
আমি যেন সে স্বাদে ডুবেই যেতাম!
কুচি কুচি করে কাটা টাটকা
লোভনীয় কিকুরেজ মাশরুম
পাতলা স্যুপের সাথে যোগ করায় তার স্বাদ পায় নতুন মাত্রা!
মুখে দিতেই সে স্বাদ হৃদয়ে বইয়ে দেয় তৃপ্তিধারা!
ওহ, দাদুভাই!
রসনায় নুডুলসের উষ্ণ স্পর্শ, স্যুপের সৌরভ,
আর তৃপ্তির সাথে খাবার সে শব্দ!
সে মুহূর্তটার প্রতি আমার ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করা কখনোই সম্ভব নয়!
এর স্বাদের অবশ্য আরও রহস্য আছে।
মাশরুম আর মাংস কুচি সযত্নে মেশানো হতো
আর ডিম থাকত তুলতুলে নরম!
নুডুলসের পরম আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে নিশ্চিত করতো উদরতৃপ্তি!
তার সে স্বাদে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে আম্বর রঙা স্যুপ তো ছিলই!
অন্য দোকানগুলোয় অবশ্য মূল উপাদান হিসেবে থাকত এমএসজি!
কিন্তু এখানকার মূল উপাদান ছিল অধ্যবসায় আর কঠোর শ্রম!
স্বামী-স্ত্রীর পরম যত্ন ও মমতায় তৈরি হতো রাইস নুডুলস!
যত ইচ্ছে খাও!
-আরেক বাটি দেবো? -হুমম!
একসময় জানতে পারলাম
দোকানটার মালিক, বেইজিংয়ের এক বিখ্যাত শেফ!
হুনানের উচ্চপর্যায়ের একজন!
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে একদিন তিনি এখানে এসে স্থায়ী হয়ে
নুডুলস স্যুপের দোকান দিলেন।
ওসব আমার জন্মেরও আগের কথা।
দোকানটায় শুধু সান শান নুডুলসই তৈরি হতো!
ক্যালেন্ডারের পাতা পাল্টে কেটে গেল ২০টি বছর!
পাল্টালো না শুধু হাতে বানানো সেই নুডুলস
আর স্যুপের চিরচেনা স্বাদ!
কথা তারা খুব একটা কখনোই বলতেন না, কিন্তু, সবাই তাদের রাইস নুডুলসের প্রেমে পড়েছিল!
দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত একটিবার সে স্বাদ উপভোগ করতে!
যদিও মিলবে কিনা তার ছিল না কোনো নিশ্চয়তা!
দোকানটার পাশেই ছিল আমার বাড়ি,
আর তাই, সে স্বাদ উপভোগ করার সৌভাগ্যটা আমার প্রতিদিনই হতো!
দাদীমা একবার বলেছিল,
"যারা খেতে ভালোবাসে...
রসনাবিলাসের সৌভাগ্য শুধু তাদেরই হয়!"
হঠাৎ একদিন, দোকান বন্ধ করে মালিক হারিয়ে গেলেন!
শুনেছিলাম, প্রতিহিংসার শিকার হয়েই তারা বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন!
আবার কেউ কেউ বলে, পুরনো এক কাস্টোমার,
তাদেরকে নিয়ে গেছে বেইজিংয়ের বড় পরিসরে!
"ভাড়া হবে"
তবে যেখানেই যাক না কেন,
ভোজনরসিক মানুষের দেখা উনারা ঠিকই পাবেন!
আর নিজেদের নুডুলস জাদুতে যে তাদেরকে ঠিকই মাতিয়ে রাখবেন
এতে কোনো সন্দেহ নেই!
স্কুলের কাছে যে নুডুলসের দোকান ছিল,
সেখানে অবশ্য নুডুলস হাতে বানানো হতো না। ছিল না কোনো বিশেষত্বও!
কিন্তু, টপিংসগুলো হতো খুবই মজার!
ভেজে দেয়া সবজিগুলো স্যুপের আস্তরণে জড়িয়ে নরম নুডুলসের ওপর ভেসে বেড়াত
আর ছড়িয়ে দিত স্বাদের জাদু!
দাদীমার সাথে আগে যে দোকানে যেতাম, ওখানকার মতো না হলেও,
নুডুলসটা আমার ভালোই লাগত!
ফোর্থ অ্যাকাডেমির মিডল স্কুলে পড়ো না তুমি?
-জি। -আমার ছেলেও তো ওখানেই পড়ে!
হাই স্কুলের থার্ড ইয়ারে আছে!
সাবধানে যেয়ো, হানি!
ছেলেটা লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরিতে ঢুকলে হয়তো এসব থেকে একটু অবসর নিতে পারবো!
তোমার তো এখনই খাওয়ার বয়স। খাও, মন ভরে খাও!
তারপর মন দিয়ে লেখাপড়া করবে, ওকে?
আচ্ছা... থ্যাংক ইউ!
মেয়েটা আমার চেয়ে এক বছরের সিনিয়র!
আর ও প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়!
সূর্য কিরণে জ্বলজ্বল করে তার স্বর্ণকেশের দীপ্তিমালা!
সারাটাজীবন তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকলেও হয়তো মন ভরবে না!
ওকে একনজর দেখতে পারাও ছিল
রোজ সকালে আমার এখানে আসার অন্যতম কারণ!
তাতেই যেন মিশে ছিল আমার জীবনের সব আনন্দ!
কেন জানি মনে হতো... এভাবেই কাটিয়ে দেয়া যাবে একটি জীবন!
সেই শরৎকাল...
এখানকার ডিজাইন তাহলে কেমন হবে?
পাল্টে গেল নুডুলস শপের চেহারা!
দোকানের মালিক চাইলেন পেশা বদলাতে আর তাই
স্ত্রীকে রাজি করিয়ে খুলে বসলেন ফিশিং শপ!
সুখের সকালগুলো একটু একটু করে হারিয়ে গেল!
আর সেই সাথে হারিয়ে গেল রাইস নুডুলস আর স্বর্ণকেশীর দীপ্তিমালা!
তারপর, সেখানে হলো নতুন দোকান।
কিন্তু দোকানটা তেমন সুবিধে করতে পারল না।
কী হলো?
আমার সাথে ত্যাঁড়ামো করেছিস!
চল, চল! পালা!
কেউ একজন টিচারদেরকে জানাও!
কী ব্যাপার? কী হয়েছে?
তুমি ঠিক আছো তো?
সব দোষ তোমার! কখনোই কিচ্ছু বলো না তুমি!
আহত ছাত্রটিই ছিল
নুডুলস শপের মালিকের সেই ছেলে!
মারামারির কারণটা আমার জানা ছিল না,
কিন্তু এতেই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল ফিশিং শপের দরজা!
মিডল স্কুলের থার্ড ইয়ারে যখন পড়ি,
আবারও ফিরে এলো নুডুলস শপ!
কিন্তু, সেই আগের মতন না!
দোকানের মালিক দোকান সামলাচ্ছিলেন!
সাথে ছিল আরও একজন।
অনেক অনেক ধন্যবাদ!
কিন্তু, উনাদেরকে আগের চেয়েও অনেক বেশি সুখী মনে হলো!
কিন্তু...
কিন্তু, শুনেছি দিনকয়েক আগেই সেই স্বর্ণকেশী পাশ করে চলে গেছে বহুদূরের কোনো স্কুলে!
এভাবেই হারিয়ে গেল, আমার প্রথম প্রেম!
বিষাদময় সকাল!
শৈশবে, রোজ সকালে ঘুম ভাঙত নুডুলসের সুবাসে!
দাদীমার সাথে কাটানো সময়টুকু,
মিডল স্কুলের দিনগুলো, আর স্বর্ণকেশীর রূপে হারিয়ে যাওয়ার কয়েকটি মুহূর্ত!
আজ... আমি বড় একা!
সান শান নুডুলস, প্লিজ!
এক্ষুনি দিচ্ছি!
টোকেন নং ১২, সান শান নুডুলস!
মেশিনে বানানো নুডুলসগুলো প্রায় নিখুঁত!
চাইনিজ স্টাইলের স্যুপের স্বাদও খারাপ না!
টপিংসের পরিমাণ যদিও কমে গেছে!
কিন্তু, বেড়েছে খাবারটার দাম!
আমি সান শান নুডুলস খুব ভালোবাসতাম, কিন্তু, সে স্বাদ আর মিলল না!
হ্যালো, বাবা!
কী ব্যাপার?
বেইজিং থেকে আড়াই ঘণ্টার একটি ফ্লাইট!
খেয়াল করে দেখলাম, চাইলেই যখন তখন বাড়ি ফেরা যায়!
কিন্তু, যতটা না দূরত্ব অবস্থানের, তারচেয়েও বেশি মনের!
নিচে জ্বলজ্বল করতে থাকা আলো আমার হৃদয়কে যেন করল আরও মন্থর!
শাও মিং, এসেছ?
সরি, দাদুভাই।
তোমার সাথে সান শান নুডুলস খাওয়ার সুযোগ মনে হয় না আর কখনো হবে!
এ কথা বলো না, দাদীমা। দেখো, আবারও আমরা একসাথে খাবো।
দাদীমা...!
একঘেয়ে সঙ্গী রাত্রির বিষাদময় অমানিশাও কেটে যায় সকালের মিষ্টি আলোয়!
হয়তো সেভাবে কোনো একদিন...
কেটে যাবে...
আমার হৃদয়ের অমানিশা!
কিছু জিনিস বদলে যাবে, কিছু রবে অপরিবর্তিত...
কী খাবেন বলুন?
-এক বাটি সান শান নুডুলস দিন। -এক্ষুনি দিচ্ছি।
গতকাল যে সুখ নিয়েছে বিদায়, আজও সে সুখের রেশ হৃদয়ে দিচ্ছে উষ্ণতার ছোঁয়া!
হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো হয়তো ফিরবে না আর কখনোই!
তবুও আমার ভীরু অনুভূতি,
বারবার ছুটে যেতে চায় ফেলে আসা দিনগুলোতে!
ঋতুবদলের মতোই, নিজের অজান্তেই স্মৃতিগুলো ছুটোছুটি করে দুচোখের পাতায়!
যেন এক নিঃসঙ্গ, মলিন সকাল!
কিন্তু, সে সকালে মিশে আছে আশার নতুন কিরণ!
এই নিন আপনার নুডুলস!
"দ্য রাইস নুডুলস"
ছোটবেলা থেকেই, সুন্দর জামা আমার খুব পছন্দের!
পছন্দের জামা পরলে, সারাটা দিনই আনন্দে কাটতো আমার।
নিজেকে অপরাজিতা মনে হত!
আমার ছোটবোনের জন্য জামা পছন্দ করতেও ভালো লাগে।
আমার জামাগুলো দিলে ও প্রিন্সেস সাজত!
কিন্তু আমি লম্বা হয়ে যাওয়ায়!
আগের মতো জামা বদল করাটা মুশকিল হয়ে গেল।
আমি কখনোই লম্বা হতে চাইনি।
এতে খামাখা সবার নজরে পড়তে হয়৷ তাই আমি যতটা সম্ভব মাথা নিচু করে হাঁটি।
কিন্তু এখন, আমি বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ।
কারণ শুধু বংশগতভাবে পাওয়া এই উচ্চতার জন্যই,
আর সব বাদ দিয়েও, আমি নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করিয়ে ফেলেছি।
কিন্তু ধন্যবাদ জানানোর আগেই যে, তাঁরা চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
সবসময় কোনোকিছু হারানোর পরেই, আমি তার মূল্য বুঝতে পারি।
মূল্যবান সবকিছু।
দুনিয়াটা খুব বদলে যাচ্ছে।
পোশাকের ট্রেন্ড, লোকজন
আর আমরা মডেলরা।
এই ক্যারিয়ার অবশ্য বেশিদিন টিকবে না।
তবুও আমি সফল হতে চাই!
দুনিয়াতে আমার একমাত্র আপনজন, আমার বোনের জন্য।
"আ লিটল ফ্যাশন শো"
-ওভারকোটটা দারুণ, ই লিন। -থ্যাংক ইউ, এভরিওয়ান।
No comments yet. Be the first to leave one.