The first 200 lines.
অস্ট্রেলিয়া
একটি দ্বীপ মহাদেশ
ডাইনেসর এর সময় থেকে এটি ভেসে ভেসে
কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর অন্যান জীব থেকে আলাদা হয়ে আছে ।
বর্তমানে এখানে যত প্রাণী ছড়িয়ে আছে, পৃথিবীর আর কোথাও তা নেই ।
এটি টিকে থাকার জায়গা ।
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার এই জঙ্গল গুলো ...... পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জঙ্গল ।
১৮ কোটি বছর ধরে অপরিবর্তিত আছে ।
এখাকার প্রানী ও উদ্ভিদ গুলো উভয়েই সশস্ত্র ।
...ডাইনেসর এর সাথে বসবাসের উপযোগী করে তৈরী করা ।
বর্তমানে মাত্র একটি বৃহৎ আকৃতির প্রানী বেচে আছে ।
ছোট আকৃতির ডাইনেসর এর মত থাবা আর প্রায় দুই মিটার উচু ।
.. বৃহৎ এই পাখি এই বন শাসন করে বেড়ায় ।
কিন্তু এর সাফল্যের চাবিকাটি এর দৈহিক উচ্চতা না.........
...বরং পুরুষ পাখিটির অভিবাভক হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্বক্ষমতা ।
এই বাচ্চাটির বয়স মাত্র ছয় সপ্তাহ ।
এবং এদের পিতা এদের কে একাই লালন পালন করে বড় করছে ।
প্রতি টুকরো খাদ্য মুল্যবান ।
তার বাচ্চা গুলোকে লম্বা আর শক্তিশালি করে বড় করে তুলতে ।
কিন্তু এই বনে
বেশির ভাগ ফল ই এদের জন্য আকারে বড় ।
এটাকে এদের জন্য কেটে দিতে হবে ।
এখানে নিজেদের এলাকা থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করতে হবে ।
...কিন্তু খাবার খুজে পাওয়া সহজ কথা না ।
সে তাদের দেখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে পানি পার হতে হয় ।
কিন্তু আপনার পা ২০ সেঃমিঃ এর মত ছোট হয় ।
তাহলে এমন স্রোত ই আপনার কাছে গভীর মনে হবে ।
একটি ঝাঁপ দিল ।
...কিন্তু অন্যটি । এটা বেশ কঠিন কাজ ।
সে ঘুরে দাড়াল এবং যেদিক থেকে এসেছিল সেদিক ফিরে যাচ্ছে ।
চোখের আড়াল হবে ত পিতার সুরক্ষার বাইরে চলে যাবে ।
সে নাজুক ।
শুধুমাত্র অর্ধেক কেসওয়ারির বাচ্চা পূর্ন বয়স্ক হতে পারে ।
...আর এর পেছন কারন আছে ।
অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাগৈতিহাসিক বন শিকারি প্রাণীতে পূর্ণ ।
অনেকে টিকে থাকতে পারে ।
তাদের থেকে ছোট যে কোন কিছু খেয়ে ।
তার বাবা কে খুজে পাওয়া জরুরি । - (পাখির বাচ্চার ডাক)
...এবং দ্রুত ।
পুরুষটি তার কান্না আর প্রতিউত্তর শুনতে পায় ।
......একটা বিশেষ ডাক ব্যবহার করে যেটি এই ঘন অরণ্যেও বুঝা যায় ।
আর তারপর ভরসা জাগানো একটি উজ্জ্বল আলোর আভাস পাওয়া যায় ।
তাদের বন্ধন তাদের ভয়ের থেকেও শক্তিশালী ।
এই পুরুষটি তার বাচ্চা গুলোকে আগামি আট মাস পথ দেখাবে আর সুরক্ষা দেবে
পুনঃরায় সে সঙ্গম করার আগ পর্যন্ত ।
অস্ট্রেলিয়া একসময় গন্ডওয়ানাল্যান্ড নামন বিশাল মহা মহাদেশ এর অংশ ছিল ।
...বনে ঘেরা আর জীববৈচিত্রে পূর্ণ ।
ডাইনেসর আধিপত্য করত ।
স্তন্যপায়ী প্রাণী তখন মাত্র আভির্ভাব হচ্ছে ।
তারপর অস্ট্রেলিয়া বিভক্ত হতে শুরু করল ।
ভেসে ভেসে আলাদা হয়ে যাওয়া এই নতুন দ্বীপ এ সরীসৃপ, পাখি আর প্রথম দিকের স্তন্যপায়ী প্রাণী ছিল ।
তারপর তারা প্রসূত বাকি পৃথিবী থেকে আলাদা ছিল ।
তারা কেউ এই বিশাল দ্বীপ ছেড়ে যেতে পারে নি ।
এবং খুব অল্প সংখ্যক ই এখানে আসতে পেরেছে ...
... যদি তারা উড়তে না পারে ।
একটি ছোট্ট লাল বাদুড় ।
তাদের পূর্বপুরুষরাও এখানে উড়ত ।
আগ্নেয়গিরিময় দ্বিপপুঞ্জের পাশ দিয়ে ভ্রমণ করে এসে ।
এটি এশিয়ার সাথে অস্ট্রেলিয়াকে সংযোক্ত করে ।
কিন্তু তাদের বিশাল পাখা, যেটি তাদের আঙুল থেকে কমর পর্যন্ত প্রসারিত ।
তাদের জন্য হাটা বা মাটিতে নামা কঠিন করে দিয়েছে ।
তাই, তারা যখন বিশ্রাম নিতে চায়, তখন তারা গাছে উল্টো হয়ে ঝুলে পড়ে ।
কিন্তু তাদেরকে প্রতিদিন পানি পান করতে হয় ।
আর তারা সেটি করে উড়ার মধ্যে থেকেই ।
তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ নিচুতে পতিত হয় যাতে তাদের পেট ভিজে যায় ।
আর তারপরে তারা তাদের জায়গায় ফিরে যায়, তারপর তারা পানিটুকু চুষে নেয় ।
প্রতি সন্ধ্যায়, ১০,০০০ এর মত বাদুড় এখানে আসে ।
তাদের সবাই ফিরে যেতে পারে না ।
- এখানে নদীতে প্রতি দুই মিটারে ......... - (বাদিড় এর ডাক)
...একটি করে কুমির আছে ।
তারা এখানে বাদুড় এর অনেক আগে থেকেই আছে...
... অস্ট্রেলিয়ার প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে টিকে থাকা প্রাণী ।
এই নাটক কোটি কোটি বছর ধরে হয়ে আসছে..
...বায়বীয় তৎপরতা...
..বনাম ধৈর্য্য..
...আর মারাত্মক গতি ।
অস্ট্রেলিয়ার বন বসবাস করার জন্য প্রতিকূল জায়গা ।
দ্বীপ থেকে সরতে থাকলে বন পাতলা হতে থাকবে আর বাতাস ঠান্ডা হতে থাকবে ।
আর ভূমি যত উচু হতে থাকবে, তত নাটকীয় ভাবে পরিবর্তন হতে থাকবে ।
মহান বিভাজন সৃষ্টিকারী পরিসর, জঙ্গল থেকে ২০০০ মিটার উপরে ।
এখানে টিকে থাকতে হলে, অবশ্যই এই কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে হবে ।
ক্যাঙ্গারু, মহাদেশের অন্যান্য সকল স্তন্যপায়ীদের মতই....
পেটে বাচ্চা রাখার থলি আছে ।
স্তন্যপায়ীরা সাধারণত তাদের পেটের থলিতে বাচ্চা লালন পালন করে ।
আর এই বাচ্চাদের এমন আশ্রয় আবশ্যম্ভিক ভাবেই প্রয়োজন ।
এর চেয়ে বেশি ঠান্ডায় কোন ক্যাঙ্গারুই টিকতে পারবে না ।
But there is an even tougher marsupial up here. কিন্তু আরো উপরে এর চেয়েও কঠিন দ্বিগর্ভ প্রাণী আছে ।
একটা ওয়ামব্যাট !
সে সাধারণত মাটির নিচে গর্ত সেখানে আশ্রয় নেয় ।
কিন্তু এখন সেটি প্রায় ১ মিটার তুষারপাত এর নিচ......
...সাথে তার জীবিকা সকল ঘাস গুলোও ।
তার ওজন একটা বড় কুকুর এর সমান ।
কিন্তু তার পা ছোট কুকুরের পায়ের সমান ।
এই গভীর তুষারপাতের জন্য যেটা মোটেই আদর্শ না ।
গাছের ছাল কে কোন ভাবেই খাবার বলা যায় না ......
...কিন্তু সে ক্ষুদার্ত ।
তার ঘাস দরকার ।
কিন্তু ঘাস গুলো প্রায় ১ মেইল দূরে, একটা বরফের নদীর ওপারে ।
ওয়ামব্যাট, হয়ত তেমন দ্রুতগামী না ।
কিন্তু তারপরেও তাদের এত উপরে থাকার ও কথা না ।
তারা প্রায় কোন কিছু ছাড়াই বেচে থাকতে পারে ।
অল্প পরিমান খাবার ই তাদের এক সপ্তাহের জন্য যথেষ্ট ।
আর এই খাবার এর জন্য তেমন কোন প্রতিযোগিতা ও নাই, মহাদেশের এই ছোট কোণায় ।
তুষারময় শৃঙ্গ গুলো অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে না ।
কিন্তু বিশাল এই বিভাজক পরিসর অবশিষ্ঠাংস ......
যা ছিল একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ পর্বত মালা গুলোর মধ্যে কয়েকটি ।
এগুলো অস্ট্রেলিয়াকে এন্টার্কটিকার সাথে সংযোক্ত করেছিল ।
তারপর এই সহোদর মহাদেশ ভেঙ্গে আলাদা হয়ে যায় ।
এন্টার্কটিকা, দক্ষিন দিকে নিক্ষিপ্ত হয়, এখন বরফে জমে যায় ।
অস্ট্রেলিয়া উত্তর দিকে নিক্ষিপ্ত হয়, বিষুবরেখার দিকে ।
এবং ধীরে ধীরে গরম আর শুষ্ক হতে থাকে ।
বনভূমি উচু হচ্ছে ...
আর যেখানে কম বৃষ্টিপাত হত ......
সেখানে তৃণভূমি হয়েছে ।
এই সমতল তৃণভুমিতে
প্রাণী গুলো সতেজ হয়ে উঠার জায়গা পায় ।
এদের মধ্যে পশ্চিমা ধূসর ক্যাঙ্গারু আছে ।
আর এটাই মুলত তাদের প্রকৃত বাড়ি ।
এখানে তারা ভালমত খেতে পারে আর শক্তিশালী হয়ে ওঠে ।
বয়স্করা প্রায় দাঁড়িয়ে ২ মিটার লম্বা হতে পারে আর রেস এর ঘোড়ার মত গতিতে দৌড়াতে পারে ।
আর এই খোলা সমতল ভূমিতে, গতি থাকতে হবে ...
কারনে যেখানে বড় পাল থাকে, সেখানে শিকারী ও থাকে ......
ডিঙ্গোর দল, নেকড়ের উত্তরপুরুষ, যেগুলোকে মানুষ এখানে নিয়ে এসেছিল.....
৪০০০ বছর আগে, এশিয়ে থেকে ।
এই দলটিকে একটি সাদা নারী দিঙ্গো নেতৃত্ব দিচ্ছে ।
আর তারা শিকার করতে এসেছে ।
আতঙ্ক তৈরী করে দল টিকে পরীক্ষা করা হচ্ছে ।
পেটের থলিতে বাচ্চা রাখা মায়েরা ধীর গতির হবে ......
...কিন্তু তারপরেও একটা ডিঙ্গো কে দৌড়ে পিছনে ফেলতে পারে ।
হয়ত একটা ফাদ পাতলে কাজ হবে ।
কিন্তু বাচ্চা হলেও নতুন স্বাধীন হওয়া ক্যাঙ্গারু গুলোও মনে হচ্ছে ধরা যাবে না ।
এই খোলা আর সমতল ভূমিতে ...
ডিঙ্গোর দল যথেষ্ট দ্রুত গতির না ।
কিন্তু এই সাদা নারী ডিঙ্গোর দৃঢ় মনোবল ই তাকে এদের নেতা বানিয়েছে ।
আর বিশেষ করে তার বুদ্ধিমত্তা ।
সে আজ ১৮ মেইল দৌড়েছে, কিন্তু এখন ও হাল ছেড়ে দেয় নি ।
একটা নতুন ক্যাঙ্গারুর দল, এবার অসমতল মাঠে ।
এটাই ত সে খোজছে ।
পাহাড়ের উপর থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে, সে শুধুমাত্র তাদের সাথে লেগে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে ।
আর যেহেতু তারা নিচের দিকে ছুটে যাচ্ছে, ক্যাঙ্গারুর গতি বেড়ে যায় ।
তারা সহজেই একে পিছনে ফেলে চলে যেতে পারবে, যদি তারা নিয়ন্ত্রন ঠিক রাখতে পারে ।
ডিঙ্গোটির লেগে থাকার আরেকটি কারন রয়েছে ।
কারন সে মা ।
এটা একটা বিরল দৃশ্য ।
ডিঙ্গোর বাচ্চাদের খুব কম ই দেখতে পাওয়া যায় ।
এত প্রচেষ্টা মাত্র একবারের খাবার এর জন্য ।
এই খোলা সমতল ভূমিতে বাচ্চাদের বড় করা সহজ না ।
এগুলো গঁদের গাছ ।
এদের পাতা অধিকাংশ প্রাণীর জন্য বিষাক্ত ।
কিন্তু কোয়ালার জন্য না ।
তারা প্রায় সব কিছু খেতে পারে ।
এই বনে একিদনা ও আছে ।
...স্তন্যপায়ী প্রাণী যা উদর নেই বরং ডিম দেয় সরিসৃপ এর মত ।
এখানে একটি গুপ্তঘাতক ও আছে, যা কিনা অল্প কিছু দিন আগে আবিষ্কার করা হয়েছে ।
জোটাস, লাফিয়ে চলা মাকড়শা ।
সে মাত্র ৫ মিঃমিঃ লম্বা ।
কিন্তু, তবুও সে নিরব এবং হিংস্র শিকারী ।
সে ঘাসের ডগায় শিকার খোজে বেড়ায় ।
সে এক মনে শিকারে দৃষ্টি নিবব্ধ করে রাখে ।
কিন্তু আজ হয়ত অন্যরকম হবে ।
এটা নতুন কিছু ।
দ্রুত গতি সম্পন্ন কিছু একটা ।
... আর কিছুটা কৌশলিও বটে ।
কিন্তু এটা কি ?
এটা কি খাবার কিছু নাকি?
এটা একটা পুরুষ জোটাস, সঙ্গিনী খুজছে ।
তার এই মেয়েটির মনযোগ আকর্ষন করতে হবে ।
কিন্তু মেয়ে জোটাস জীবনে একবার সঙ্গম করে ।
যদি মেয়েটি এর পূর্বে সঙ্গম করে থাকে তবে সে তাকে মেরে ফেলবে ।
তার মেয়েটিকে যত্ন সহকারে পটাতে হবে ।
তার প্রতি হাত নেড়ে নিজের মতলব পরিষ্কার করে দিচ্ছে ।
সে তার বন্ধু, কোন খাদ্য না ।
এখন পর্যন্ত আক্রমনের কোন লক্ষন নাই ।
কিন্তু তাকে দেখে মনে হচ্ছে না সে অবিভূত হয়েছে ।
এখন সময় হয়েছে তার সবচেয়ে ভাল চাল টা চালার ।
... দুইটা বাহা ।
এটা নিশ্চই কাজে দিবে ।
শেষ একটা ইশারা.........
সে তাকে কাবু করে ফেলেছে ।
সে স্থির থাকবে ঠিক যতক্ষন থাকা যথেষ্ট ।
তারপর সে দ্রুত প্রস্তান করবে, দ্বিতীয় কিছু ভাবার আগেই ।
আপনি যদি আরেকটু সামনের দিকে যান, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রের দিকে ।
আবার প্রাকৃতিক ভূচিত্র আবার পরিবর্তন হবে ।
গাছ আর ঘাস উদাও হয়ে গেছে ।
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই এই মহাদেশ উত্তরের দিকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে ।
এটা যত গ্রীষ্মমন্ডল এর দিকে প্রবেশ করবে, ততই গরম থেকে গরম হবে ।
হাজার বছর ধরে কেন্দ্রের এই তৃণভূমি গুলো শুকিয়ে গেছে ।
আর হ্রদ ও নদী গুলো ধুলিকণায় পরিণত হয়েছে ।
পাথর গুলো গরম আর বিনাশকারী বাতাসে বালুতে পরিণত হয়ে আকারে ছোট হয়ে গেছে ।
এখন অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্র এক বিশাল মরুভুমি ।
এর বিশালতা বুঝা প্রায় অসম্ভব ।
উত্তরে ছুটে চলা এই ট্রেন টি আধা মেইল লম্বা ।
প্রায় ৫০ মাইল গতিতে ছুটে চলেছে ।
একদিক থেকে অন্যদিক এ যেতে প্রায় তিন দিন লেগে যায় ।
অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে শুকনো অধ্যুষিত মহাদেশ ।
এর ৭০% জায়গায় প্রায় কখনই বৃষ্টিপাত হয় না ।
মহাকাশ হতে, আইরন অক্সাইড এর কারনে এই মহাদেশ কে দেখতে লাল দাগ যুক্ত মনে হয় ।
ভাঙ্গা পাথর গুলোর মরিচা ।
উপরিভাগে লাইন গুলো হাজার বছর ধরে বয়ে চলা বাতাসে বাঁকা হয়ে গেছে ।
বর্তমান এ মহাদেশের কঙ্কাল সরু ও অনাবৃত ।
No comments yet. Be the first to leave one.