The first 200 lines.
আমাদেউস
মোৎজার্ট!
মোৎজার্ট!
ক্ষমা করো তোমার গুপ্তঘাতককে !
স্বীকার করছি, তোমাকে আমি হত্যা করেছি !
হ্যাঁ, তোমাকে হত্যা করেছি, মোৎজার্ট।
মোৎজার্ট, দয়া দেখাও ! ক্ষমা করো তোমার গুপ্তঘাতককে !
ক্ষমা করো আমায়, মোৎজার্ট!
সিনোরে সালিয়েরি, এখন তো দরজা খুলুন !
সিনোরে, আপনার জন্য বিশেষ উপহার এনেছি।
অনেক পছন্দ হবে আপনার।
মুখে দিতেই গলে গেল !
সিনোরে, বিশ্বাস করুন...
...জীবনেও এমন সুস্বাদু খাবার খাইনি !
ধারণা নেই আপনার, কত বড় জিনিস মিস করতে যাচ্ছেন...
আচ্ছা, যথেষ্ট হয়েছে ! দরজা খুলুন এবার।
সিনোরে, দরজা না খুললে...
...পুরোটা আমরাই খেয়ে সাবাড় করবো।
আর কখনও এসে আপনার সাথে দেখা করবো না !
সুপ্রভাত, ফাদার।
মিঃ সালিয়েরি?
আমাকে একা থাকতে দিন।
আপনাকে এমন কষ্টক্লিষ্ট অবস্থায় একা ছাড়া অসম্ভব।
আমাকে চিনেন?
কিছু আসে যায় না তাতে।
ঈশ্বরের দৃষ্টিতে সকলেই সমান।
তাই নাকি?
আমার কাছে স্বীকারোক্তি দিন।
ঈশ্বরের কাছে আপনার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে পারি।
সংগীতে আপনার দক্ষতা কতটুকু?
অল্প। যুবকবয়সে শিখেছিলাম।
- কোথায়? - এইতো ভিয়ানা-তে।
ওহ ! তাহলে তো সুরটা চেনার কথা।
চিনতে পারলাম না।
কীসের এটা?
সেই সময়কার দিনের অনেক জনপ্রিয় একটি সুর।
আমার লেখা।
এইটা শুনে দেখুন তো !
এটা বাজানোর সময় দর্শকদের তালির বন্যা বয়ে গিয়েছিল।
এবার?
খুব একটা পরিচিত লাগল না সুরটা।
আমার করা একটা সুরও কি মনে নেই আপনার?
ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুরকার ছিলাম আমি।
একাই ৪০টা অপেরা লিখেছিলাম।
শুনুন !
দেখুন তো, এটা চিনেন কিনা !
হ্যাঁ, চিনি তো !
চমৎকার !
তবে এটা যে আপনার লেখা, সেটা জানতাম না।
আমার না।
এটা মোৎজার্টের করা সুর।
উল্ফগাং...
...আমাদেউস মোৎজার্ট।
নিজেকে যেই মানুষটার হত্যাকারী বলে দাবি করছেন।
শুনেছেন সে ব্যাপারে?
এটা কি সত্যি?
ঈশ্বরের দোহাই লাগে,
...যা স্বীকার করার, এখনই করে ফেলুন।
অনুতাপের বোঝা হালকা করুন একটু।
আমি আদর্শ মানতাম তাকে।
মোৎজার্টকে।
আমি তার নাম সবসময়ই শুনে এসেছিলাম।
খেলাধুলায় মত্ত থাকতাম আমি...
...যেখানে সে রাজা ও সম্রাটদের সংগীত পরিবেশন করে বেড়াতো।
রোমের পোপ-কেও বাদ রাখেনি সে।
হ্যাঁ, আমার হিংসা হত ...
...যখন লোকমুখে তার কিসসা শুনতাম।
তবে হিংসাটা তার অনন্যসাধারণ প্রতিভার জন্য নয়...
...বরং তার বাবার জন্যে, যিনি তাকে সবকিছু শিখিয়েছিলেন।
আমার বাবা সংগীতের ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন।
যখন তার কাছে...
...মোৎজার্ট-এর মত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম...
...তিনি বললেন, ''কেন? সার্কাসের বানর হওয়ার খুব শখ তোর?
তুই মানুষের দ্বারে দ্বারে যেয়ে সার্কাসের বানরের মত ট্রিক করে দেখাবি?"
কোন মুখে তাকে বলি...
...সংগীত আমার কাছে কতটা মূল্যবান?
যেখানে বাবা ঈশ্বরের কাছে মনেপ্রাণে চাইতেন...
...আমি যেন ব্যবসার হাল ধরি...
...সেখানে আমি চুপিচুপি প্রার্থনা করতাম...
...যেন আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছাটা পূরণ হয়।
প্রভু, আমি যেন বিশিষ্ট সুরকার হতে পারি।
সংগীতের মাধ্যমে যেন আপনার গুণগান গেয়ে...
... মানুষের কাছে সম্মানের পাত্র হতে পারি।
আমি যেন জগৎবিখ্যাত হতে পারি।
আমি যেন অমর হতে পারি।
মৃত্যুর পর...
...মানুষ যেন আমাকে স্মরণ করে এবং আমার সৃষ্টিকে ভালোবাসে।
বিনিময়ে...
...আপনাকে বিলিয়ে দিবো আমার যৌবন...
...আমার পরিশ্রম...
...আমার নিরহঙ্কারতা, জীবনের প্রতিটি ঘণ্টা।
আমীন।
এরপর কী ঘটল জানেন?
এক অলৌকিক ঘটনা !
জনাব !
চিরতরে আমার জীবন বদলে গেল।
জানতাম, সব ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হচ্ছিল। সেটা তো জানা কথা।
১ মিনিট আগেও আমি ছিলাম এক বেগানা ছোট্ট শহরের হতাশাগ্রস্ত বালক...
পরমুহূর্তেই এসে যাই...
...ভিয়ানায়, সংগীত-সাধকদের শহরে...
...সংগীতের রাজা সম্রাট জোসেফের শহরে।
কয়েক বছরের মধ্যেই, আমি হয়ে যাই তার রাজসভার সুরকার। বিশ্বাস হয়?
প্রতিরাতে আমি বসতাম অষ্ট্রিয়ার সম্রাটের সাথে...
...তার সাথে পিয়ানো বাজাতাম...
...ভুল বের করতাম নতুন নতুন সব সুরের।
লোকটার সংগীত-জ্ঞান ছিল না একদম।
কিন্তু তাতে কী?
আমার সংগীত ভীষণ পছন্দ ছিল তার।
বলুন তো...
আমার জায়গায় থাকলে...
...আপনারও কি মনে হত না, ঈশ্বর আপনার শপথ কবুল করেছেন?
আর বিশ্বাস করুন, আমি আমার শপথ রেখেছিলাম।
সদা পুণ্যের পথে ছিলাম।
নারীদের স্পর্শ করতাম না আমি।
প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছাত্রদের শিখাতাম ; অনেককে আবার বিনা পয়সায় !
কত সভায় যে বসেছি, অভাবী সুরকারদের সাহায্য করতে !
পরিশ্রমই ছিল আমার জীবনের একমাত্র সাধনা।
আর তার ফলও পেয়েছিলাম।
সবাই পছন্দ করত আমাকে।
নিজেও নিজেকে পছন্দ করতাম।
যতক্ষণ না তার আগমন ঘটল।
ভিয়ানায় সে এসেছিল পিয়ানো বাজাতে...
...তার নিয়োগকর্তা, সাল্জবার্গের রাজা আর্চবিশপের বাড়িতে।
আগ্রহবশত আমি সেখানে তাকে দেখতে যাই।
সেই রাত...
...আমার জীবনকে বদলে দিল।
বৈঠকখানা দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময়...
...নিজের সাথে একটু খেলে দেখলাম।
এই ছেলে তার ১ম কোন কন্সার্টো লিখেছিল ৪ বছর বয়সে...
...তার ১ম সিম্ফোনি ৭-এ, পূর্ণদৈর্ঘ্য অপেরা ১২-তে !
তাকে দেখে বোঝা গিয়েছিল সেটা?
এমন প্রতিভা কি আর গায়ে লেখা থাকে?
এতজনের মধ্যে কে হতে পারে মোৎজার্ট !
মোৎজার্টকে পাওয়া যাচ্ছে না।
- থামো তো ! - ঠিক আছে।
- থামো বলছি ! - থামছি তো।
দাঁড়াও তো ! ধীরে।
এইতো। দেখলে? আমি থেমেছি।
- আমাদের এখন ফেরত যেতে হবে ! - না !
এই জায়গাটা চেনা নেই তোমার।
এখানে সবকিছু পিছনদিকে যায়।
মানুষ হাঁটে, নাচে, গায়, এমনকি কথাও বলে পিছনদিকে।
- বাজে কথা। - কেন? মানুষ পাদও তো দেয় পিছনদিকে।
হি হি।
রম-য়েগি-য়লোচু !
রম-য়েগি-য়লোচু !
হ্যাঁ, জানি তো। তুমি কতবড় লুচ্চো।
না ! কথাগুলো শেষ থেকে বলো, গাধা !
রম-য়েগি-য়লোচু !
য়লোচু, চুলোয়।
য়েগি, গিয়ে। রম।
চুলোয় গিয়ে মর।
কেমাআ-রক-য়েবি !
- যত্তসব ফালতু খেলা ! - বলো, ফাজলামো করছি না।
এবারেরটা সিরিয়াস।
য়েবি।
বিয়ে করো আমাকে।
তোমাকে কেন বিয়ে করবো ! তুমি তো একটা দজ্জাল।
সিবালোভা-যে-কেমাতো-ন্তুকি।
ন্তুকি।
কিন্তু তোমাকে যে...
...ভালোবাসি...
কিন্তু তোমাকে যে ভালোবাসি?
- রমাতো-রিক-চিকুনি। - কী?
রমাতো-রিক-চিকুনি।
- নিকুচি। - নিকুচি।
- রিক, করি। - করি।
তোমার। নিকুচি করি তোমার।
শালার দজ্জাল কোথাকার !
- শালার দজ্জাল...! - চুপ...
আমার সংগীত।
আমাকে ছাড়াই বাজানো শুরু হয়েছে।
ওটাই ছিল মোৎজার্ট!
খিলখিল করে হাসা যে পাপী মানুষটাকে কেবল মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখলাম।
- সব ঠিকঠাক মতই হয়েছে, কী বলো? - একদম।
ভিয়ানাবাসীদের সংগীতজ্ঞান বেশ ভালো, তাই না?
একদম।
মহামান্য।
আহ, মোৎজার্ট।
- কেন? - কী কেন, স্যার?
কেন আমাকে আমার অতিথিদের সামনে লজ্জায় পড়তে হবে...
...আমারই এক কর্মচারীর কারণে?
তোমায় যতই স্বাধীনতা দিই, ততই তার ফায়দা নিতে থাকো।
মহাশয় নাখোশ হয়ে থাকলে, তিনি আমায় বিদায় করতে পারেন।
আমি চাই তুমি এক্ষণই সাল্জবার্গ ফেরত যাও।
- তোমার পিতা নিশ্চিত তোমার অপেক্ষা করছে। - না, মহাশয় !
এর চেয়ে আপনি আমায় বিদায় করুন। স্পষ্টই আপনি নাখোশ আমার ওপর।
তোমাকে বিদায় করতে চাই না আমি। তুমি আমার জন্য কাজ করবে...
...এবং নিজের অবস্থান বুঝে নিবে।
মিউজিক শিটটা দেখে এমন আহামরি কিছু লাগলো না !
শুরুর দিকটা সাদামাটা, বেশ হাস্যকর।
খুব একটা বৈচিত্র্য নেই।
বাসুন, ব্যাসেট হর্ন...
...সব যেন স্কুইজবক্সের প্রাণহীন সুর ঠেকছিল।
তারপর হঠাৎ করেই...
...ওপরে যাওয়ামাত্র...
...ওবো এর সুর পাওয়া গেল।
কেবল একটা সুর একটানা বেজেই যাচ্ছিল।
যতক্ষণ না...
...সানাইয়ের আগমন ঘটল...
No comments yet. Be the first to leave one.