The first 200 lines.
অনুবাদে: ★ নূরুল্লাহ মাশহুর ★ ★ হাসান শুভ ★
সম্পাদনায়: ★ হাসান শুভ ★
কোথায় সে?
তাকে স্কুল চলাকালীন সময়ে রাস্তায় পাওয়া যায়।
সে খুবই ভয় পেয়েছে, কারো সাথে কথা বা যোগাযোগ করতে চাইছে না।
তার খোঁজে কেউ ফোন করেছে?
তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কোনো ধরণের ফাটল বা অভ্যন্তরীণ আঘাত নেই এবং নির্যাতনের সম্ভাবনাকে আমরা হিসাবের বাহিরে রেখেছি।
কিন্তু সে এখনও সাড়া দিচ্ছে না।
তার সাথে যাই ঘটুক না কেন তা তাকে মানসিকভাবে আঘাতগ্রস্থ করেছে।
হাই খোকা।
আমি আরনেস্তো রেকুইনা। সাথের এই কুৎসিত লোকটা হচ্ছে আমার সহকর্মী কারিনো।
কী নাম তোমার ?
কী হয়েছিল?
কোনো সমস্যা নেই, শুধু বলো কিভাবে তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবো। তুমি থাকো কোথায়?
আমরা তোমাকে সাহায্য করতে চাই, ওকে?
- সে কি এই ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলো? - জ্বি।
আমরা আশেপাশের স্কুলগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখছি।
ওর নাম ভিক্টর দে লুকাস, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে,
কিন্তু সে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ আর আজ সে স্কুলে আসেনি।
- সে কি ইউনিফর্ম পরা ছিলো? - আমি জানি না।
সে আজ ক্লাসে আসেনি। জানি না আর কী বলার আছে।
আমাদের ওর বাবা-মাকে খুঁজতে হবে।
আমার সভাপতিত্বে ক্রিমিনাল কোর্ট নাম্বার ২
পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অনুপস্থিতিতে
মি. ইগ্নাসিও পুয়ের্তা গিলকে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের
অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিচ্ছে।
- খুশি? - অনেক।
এখন তো সব শেষ। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা হচ্ছে, ওকে?
ওকে।
মিসেস দে লুকাস! তাকে কি আবার সাক্ষ্য দিতে হবে?
আপনাদের কি মনে হয় প্রসিকিউশন আপিল করবে?
প্রসিকিউশন এবং বিজ্ঞ আদালত সর্বোচ্চ দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন,
তাই এখানে আপিল করার কোনো মানেই হয় না।
নতুন কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কারণ সেগুলোর অস্তিত্ব নেই।
বাস্তবতা প্রমাণ করে দিয়েছে
যে আমার মক্কেলকে মিথ্যে দোষারোপ করা হয়েছিল।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
- চমৎকার কাজ দেখিয়েছো। - তোমাকে কথা দিয়েছিলাম।
- এবার কী? - চুক্তির দ্বিতীয় অংশ।
- পুরোপুরি নিশ্চিত? - আলবৎ।
অভিনন্দন। সবগুলো খবরের প্রথমেই এখন আপনি।
- কোনো সংবাদ আছে? - ৫টায় জরুরী মিটিং।
ওটা ৩.৩০ এ নিয়ে এসো। তারপর আমি বাসায় যাবো।
- ভিক্টর কি এখনো অসুস্থ? - না। সে আজ স্কুলে গেছে।
আর তাকে কথা দিয়েছি, আজ বিকালেই তার স্পেসশিপ বানানো শেষ করব।
- আর কিছু? - না।
- পরে তোমার সাথে অফিসে দেখা হবে। - খুব ভালো।
৫০৭, প্লিজ।
হ্যালো? হ্যাঁ, আমি।
হ্যাঁ, আমি ওর মা, সব ঠিক আছে তো?
আমি তাকে স্কুলে ছেড়ে আসার পর সে রাস্তায় কী করছিলো?
ভবনের দরজায় রেখে এসেছিলেন নাকি প্রবেশপথের দরজায়?
- দরজায়, অন্য সবার মতো। - আপনি কি তাকে ভেতরে ঢুকতে দেখেছিলেন?
না। দরজা পার হয়ে তাকে বিল্ডিং এ যেতে দেখা পর্যন্ত আমি সবসময় অপেক্ষা করি।
কিন্তু আজ আমার একটু তাড়াতাড়ি কোর্টে যেতে হয়েছিলো।
- আপনার ছেলে কি স্কুলে যেতে পছন্দ করে? - ওর এমন কোনো সমস্যা নেই।
আপনি কি তাহলে তার স্কুল পালানোর সম্ভাবনা বাতিল করে দেবেন?
অবশ্যই।
বাসার কী অবস্থা? তার সাথে কি আপনার ঝগড়া হয়েছিলো? আপনি কি তাকে বকেছিলেন? অথবা...
আমার ছেলে পালিয়ে যায়নি, তার সাথে কিছু একটা হয়েছিল।
আমি ওর বাবার সাথেও কথা বলতে চাই।
- ওর কোনো বাবা নেই। - ওহ! দুঃখিত। উনি কি মারা গেছেন?
অবান্তর প্রশ্ন। ভিক্টরের শুধু আমিই আছি।
এখন ঘুমিয়ে আছে, কিন্তু সে কোনো ব্যাপারে সাড়া দেয়নি, একটা শব্দও না।
ভিক্টর কথা বলে না। মানে, সে কথা বলতে পারে কিন্তু...
লজ্জাবোধ করে। ও নিজের কণ্ঠস্বরকে খুব একটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
ও জন্ম থেকেই বধির।
- আপনারা তার হেয়ারিং এইড দেখেননি? - তার কানে তো ওটা ছিলো না।
হ্যালো, সোনা...
কী হয়েছিল?
কে তোমার সাথে এমন করেছে?
আমি বাসায় যেতে চাই।
আগে আমাকে বলো তুমি স্কুলে ছিলে না কেন
তারপর আমরা বাসায় যাবো।
- আমি তোমাকে বলতে পারবো না। - তুমি আমাকে সবসময় সবকিছু বলতে পারবে।
সোনা মানিক আমার,
ভিক্টর...
স্বনামধ্যন্য আইনজীবী, প্যাট্রিসিয়া দে লুকাস, যিনি সফলভাবে
আজ সকালেই তার সর্বশেষ কেস সমাধান করেছেন
ছেলে স্কুল গেট থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।
বাচ্চাটি এখন হাসপাতালে রয়েছে...
- জানি না কিভাবে তারা জেনে গেল। - আমি ওদের ডেকেছি।
আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে আমি লোকচক্ষের অন্তরালে থাকতে দেবো না।
কিছু বলার আছে?
- কেমন আছে ও? - সে ভালো আছে, আলবা। চিন্তা কোরো না।
এখন এটা পেলে, সে আরো ভালো থাকবে, ধন্যবাদ।
নাও।
পরে নাও।
ভালো লাগছে?
চলো।
ভিক্টর, আমার সাথে শ্বাস নাও।
খুব ভালো। তুমি খুব সাহসী।
আমরা পুলিশের সাথে কথা বলে তারপর বাসায় যাবো।
কথা দিচ্ছি।
তাহলে, তুমি বিল্ডিং-এর ভেতরে যাওনি?
কেন?
কেন যাওনি?
- কি বলছে সে? - বলো ওনাকে।
না, সে বলছে সে ভেতরে যেতে পারে নি।
কেন, খোকা? কেন ভেতরে যেতে পারোনি?
তোমার কি শরীর খারাপ লাগছিলো?
তুমি কি ক্লাসে যেতে চাওনি?
যদি না যেতে চাও, কোনো সমস্যা নেই। ঠিক আছে?
আমি রাগ করবো না।
এটাই কি কারণ ছিল?
তাহলে, ক্লাসে যাওনি কেন?
- কেউ কি তোমাকে যেতে দেয়নি? - কেউ কি তোমাকে ভেতরে যেতে দেয়নি?
কে?
কে?
একটা লোক। প্রবেশপথে একটা লোক তার কাছে এসেছিল।
তার পরনে কী ছিল?
সে স্কুলের মালীদের মতো পোশাক পরে ছিল।
আর কী?
সে বলছে - সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গিয়েছিল আর তারপর সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
সে কি তোমাকে আঘাত করেছিল?
সেই কারণেই কি তুমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে?
সে কি তোমার দিকে মুখ করে এসেছিলো?
যাতে, তুমি তার চেহারা দেখতে পাও।
ওভাবে না। তার মানে, তুমি তার চেহারা দেখতে পেয়েছিলে?
তুমি কি তাকে চেনো?
সে তোমার সাথে আর কী করেছিল, সোনা?
দয়া করে এক মিনিট অপেক্ষা করুন, ম্যাম।
লোকটা কেমন ছিলো?
সে বলছে - লোকটা সাধারণ একজন মানুষ ছিলো।
সে কি আমার মতো বয়স্ক ছিলো? লম্বা? খাটো? মোটা? চিকন?
সে তাকে খুব অল্প সময়ের জন্য দেখেছিলো।
আর তারপর কী হলো?
সে বলছে সে একটা অন্ধকার জায়গায় জেগে উঠেছিলো আর সবকিছু অপরিচিত লাগছিল।
তুমি কি এমন কিছু শুনতে পাওনি যা আমাদের সাহায্য করতে পারে?
- ট্রাফিক? কোনো ট্রেন? - সে তার হিয়ারিং এইড পরা ছিলো না।
ওহ, হ্যাঁ। সে কি ওটা খুলে নিয়েছিলো?
সে বলছে - নিশ্চয়ই সে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ওটা হারিয়ে ফেলেছে। তার মনে নেই।
চিন্তা করো না, বাবু, তুমি দারুণ দেখিয়েছো।
শুধু যা যা মনে আছে আমাকে বলো।
তোমার কি মনে আছে বাড়িটা বাহির থেকে দেখতে কেমন?
সে বলছে- ওখানে একটা জঙ্গল ছিলো, কিন্তু খুব স্বল্প সময়ের জন্য
সে বাড়িটা দেখেছিলো, তার মনে নেই।
তুমি বাইরে বেরিয়ে আসলে কিভাবে?
তুমি কি পালিয়েছিলে?
এরকম বেশিরভাগ কেস আমাদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই মিটে যায়
কারণ পরিবার মুক্তিপণ পরিশোধ করে দেয়।
তাদের চাহিদা খুব একটা বেশি হয় না।
আর বাবা-মায়েরাও কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
নিশানা হিসেবে আপনার ছেলে পারফেক্ট।
এটা?
আপনি কি আপনার আশেপাশে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেছেন?
- অথবা আপনার কর্মক্ষেত্রে? - কেউ আমাকে অনুসরণ করে কি না বলতে চাইছেন?
না, তেমন হলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।
কোনো অনাকাঙ্খিত বা অপরিচিত কেউ কি আপনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে?
তেমন কোনো ফোন কল আমি পাইনি। ।
হয়তো আপনার ছেলে আপনাকে ফোনে চেষ্টা করেছিল।
সেটা আমাদেরকে জায়গাটার ব্যাপারে কিছু ধারণা দিতে পারতো।
আমরা কি আপনার কলগুলো চেক করতে পারি?
আমাদেরকে এ ব্যাপারে জানানো হয়নি কেন?
বেশিরভাগ কেসই আমরা নিতে পারি না। আমরা যা জানি না, তা নিয়ে রিপোর্ট করতে পারি না।
কিছু না করে ঘটনা ঘটার জন্য অপেক্ষা করাটা কি ভালো?
চিফ, আমরা একজন সন্দেহভাজন পেয়েছি।
এই যে সম্ভাব্য ছবি।
আর এটা একজনের প্রোফাইলের সাথে ৯০ শতাংশ মিলে যাচ্ছে।
এই সে?
এই লোকটাই কি তোমাকে অপহরণের চেষ্টা করেছিল?
এর নাম কার্লোস করোনাস, ওরফে চার্লি।
চুরি, ডাকাতি, হামলার দায়ে অভিযুক্ত।
জেল খেটে ৩ বছর আগে মুক্তি পেয়েছে, তারপর থেকে কিছু করেনি।
তবে তার টাকা দাবী করার কারণ হতে পারে, ফ্ল্যাটটা পুনর্দখল হয়ে যাওয়া।
কী হয়েছে তোমার?
বলবে আমাকে?
কিছু না। একটা জব ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম।
আর প্রত্যেকবারের মতো, এটাও ব্যর্থ হয়েছে।
জানি না লোকজন কী চায়।
তারা কি চায় আমি নতজানু হয়ে তাদের জুতোয় চুমু খাই?
কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে, দেখো।
আমি শুধু কাজ করতে চাই।
এটা কি বার-এ করেছো?
তাহলে কোথায়?
কার সাথে?
চার্লি।
দেয়ালে ঘুসি মেরেছিলাম সোনা, ও কিছু না।
- এটা কি কার্লোস করোনাস এর বাসা? - জ্বি।
চার্লি।
- আপনি কার্লোস করোনাস? - কী ব্যাপার?
- আমাদের সাথে পুলিশ স্টেশনে চলুন। - কেন?
সেখানেই বলব।
- আমি কি আমার স্ত্রীর সাথে একটু কথা বলতে পারি? - না, না, না, না। চলুন আমাদের সাথে।
- কী করছেন আপনি? - একটা চুমু খেতে চেয়েছিলাম শুধু!
আমাদের সাথে আসুন, প্লিজ।
ছেলেটা ভুল করেছে।
- আজ সকালে তুমি কী করেছো? - আমি আমার স্ত্রীর সাথে ছিলাম।
কোথায়? কী করেছো?
আমরা বাড়িতেই ছিলাম। বরাবরের মতো একটু হাঁটতে গিয়েছিলাম।
হাতে আঘাত পেয়েছো কিভাবে?
কিছু জিনিস ঠিক করছিলাম। মরচে ধরা পাইপ দিয়ে।
আমাকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি না?
বিশ্বাসযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত... তুমি আমার হেফাজতে থাকবে।
- তোমার স্ত্রীকে তুমি কী বলেছিলে? - সেটা ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এসব বলে আমাকে বিশ্বাস করাতে পারবে না, জানো তো?
আমার এক বন্ধু আইনজীবী। তাকে ফোন করতে বলেছিলাম।
বাচ্চাটার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই! কিচ্ছু না!
- তাহলে, আপনি জানেন না সে কী বলেছিল? - হৈ চৈ এর মধ্যে বুঝতে পারিনি।
No comments yet. Be the first to leave one.