The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা :.:.: মোহাম্মদ ইউসুফ :.:.:
তুমি কি ঈশ্বর?
ওটা আমার অনেকগুলো নামের মধ্যে একটা।
কেউ আমাকে "মহাবিশ্ব" মনে করে।
কেউ আমাকে বলে "সময়"
জানো মানুষ কী বলে?
"ঈশ্বরের উপস্থিতি সব জায়গায় রয়েছে।"
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি...
তাই আমার ক্ষমতা...
ফিরিয়ে দাও।
পারবো না।
- কী? - আমি তোমাকে ক্ষমতা দিলেও...
ওটা তোমার কাছ থেকে আমি ছিনিয়ে নেইনি।
নতুন চুক্তি না করার কারণে অমন হয়েছে?
যদি কোনো চুক্তি করি তাহলে কি ক্ষমতা ফিরে আসবে?
এতে কিছুই বদলাবে না।
ট্যাটুর নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি আছে...
সে যখন খুশি যে কারো হাতে স্থানান্তরিত হতে পারে।
তাহলে কি আমি...
ঠিকই ধরেছ।
তুমি মরতে চলেছ।
তাহলে আমার ক্ষমতা কীভাবে আবার ফিরে পাবো?
কোনো উপায় তো নিশ্চয়ই আছে।
খুব সহজ পন্থায়।
তোমার ক্ষমতা ফিরে পাবে কেবলমাত্র...
তোমার বর্তমান জীবনসঙ্গী যখন মারা যাবে।
ট্যাটুর বর্তমান মালিক মারা গেলেই...
আবার পূর্বের মালিকের কাছে ট্যাটুটা ফেরত আসবে।
যদি ও মারা না যায়?
যদি সে পূর্ণ চাঁদ উঠার রাতেও বেঁচে থাকে...
ট্যাটুটা ওর হাত থেকে মুছে যাবে।
তোমাকেও তৎক্ষণাৎ নরকের আগুন গ্রাস করে নেবে।
ওকে বাঁচিয়ে রাখতে গত কয়েক সপ্তাহে কতো কিছুই না করলে...
অথচ, তোমার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার একমাত্র উপায় ওর মৃত্যু।
এসব করে লাভটা কী?
কেন আমাদের সাথে এরকম অবিচার করছেন?
আমি "ঈশ্বর" বলেই যে সব জানব ব্যাপারটা এমন না।
দুনিয়াটা সারপ্রাইজিংলি ত্রুটিযুক্ত অবস্থাতেই চলছে।
তোমরা সবাই শুধু সিদ্ধান্ত নাও...
সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মহাকালের পাতায় তোমাদের নিয়তি লেখা হয়।
এভাবেই দুনিয়াটা সৃষ্টির শুরু থেকে চলছে।
এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ...
এখানে দায়-দায়িত্বের প্রশ্ন আসলে সেটার জিম্মাদার তুমি, আমি না।
আমি জীবনের মৌলিক কিছু নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছি...
কিন্তু, মানুষ সেই নীতিকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ায়...
প্রতিনিয়তই ব্যতিক্রম পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
তোমরা মানুষেরা নিয়তিকে দোষ দিতে বড্ড পছন্দ করো।
কিন্তু, নিয়তি আসলে মাকড়সার জালের মতোই...
যেটা তৈরী হয় তোমাদের হাতে।
সে একজন ডেমন।
মানুষ যাকে "শয়তান" নামে ডাকে।
ও মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে...
নরকের দিকে ঠেলে দেয়।
বিশ্বাসই হচ্ছে না শুনে!
জানি এটা বিশ্বাস করা বেশ শক্ত।
তবে, ও যে সাধারণ মানুষ না এতোদিনে নিশ্চয়ই সেটা বুঝে গেছ।
সেজন্যই আমার কাছে ওর পরিচয় জানতে চেয়েছ।
তাও, ও কীভাবে "শয়তান" হতে পারে?
তুমি কি বলছ...
দো দো সব জেনেশুনেও ওকে বিশ্বাস করছে?
দো দো'র তো এরকম করার কথা না।
একজন ডেমনের বিশেষত্ব হচ্ছে...
সে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা বলে তাঁদেরকে ফাঁদে ফেলে...
তারপর, তাঁদের আত্মাকে চুক্তির আওতায় এনে কব্জা করে।
এভাবেই একজন ডেমন কাজ করে।
ডিরেক্টর জং সবসময় দো দো-হিমিদার হাত ধরে থাকে।
খেয়াল করেছ সেটা?
হ্যাঁ।
একজন ডেমনের কিছু বিশেষ ক্ষমতা আছে।
ওগুলো বেশ ভয়ানক এবং বিপজ্জনক...
ঘটনাচক্রে ক্ষমতাটা দো দো-হিমিদার কাছে স্থানান্তরিত হয়ে গেছে।
ট্যাটুটার কথা বলছ?
ঠিক ধরেছ। ট্যাটুটা।
এই ট্যাটুটাই জং এর সমস্ত ক্ষমতার উৎস।
সেজন্য দো-হিমিদাকে ওর দরকার।
সংক্ষেপে স্পষ্ট করে বললে...
তাঁর হাতে থাকা ট্যাটুটাকে দরকার।
কোনো উপায়ই কি নেই?
যাতে আমরা দু'জনেই বেঁচে থাকি?
দুঃখজনকভাবে...
নেই।
পূর্ণ চাঁদ আকাশে উঠলে তোমাদের দু'জনের নিয়তি একটা সন্ধিক্ষণে আসবে...
এবং, তখনই নির্ধারিত হবে কে বাঁচবে আর কে মরবে।
"এপিসোড ১০" বাঁধা ভেঙ্গেচুড়ে এগিয়ে যাওয়া
ট্যাটুটা।
এই ট্যাটুটাই জং এর সমস্ত ক্ষমতার উৎস।
সেজন্য দো-হিমিদাকে ওর দরকার।
তাঁর হাতে থাকা ট্যাটুটাকে দরকার।
দো দো'এর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তুমি কী পেলে?
ওর স্বামী কিংবা বডিগার্ড হওয়ায় তোমার তো কোনো ফায়দা দেখছি না।
ওকে আমার দরকার।
কী খুঁজছেন?
কালপ্রিট তো মারা গেছে!
আসো।
আজ বিকেলে দো দো-হিমিদার কাছ থেকে ডকুমেন্টটা এসেছে।
সম্পত্তি ত্যাগ
সে তাঁর কথা রেখেছে।
কংগ্রাচুলেশনস, সোনা।
কিসের কংগ্রাচুলেশনস?
সবকিছুর প্রকৃত উত্তরাধিকার আমি...
শুধু পুনরুদ্ধার করেছি কেবল।
সেটাই তো।
এতো কিছুর মধ্য দিয়ে তুমি গেছ।
তাহলে তুমিই হচ্ছে সেইজন।
মায়ের পাপ মুক্তির পথ।
এখন থেকে তুমি এখানেই থাকবে।
আমাদেরকে নিজের পরিবারের মতো ভাববে।
শুরুতে সবাই এরকমই বলে।
পরে, স্বার্থ্যের ইস্যু আসলে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
তোমাকে স্নেহ কিংবা ভাবাবেগের কারণে কথাটা বলিনি।
ওসব আপনার কাছ থেকে আশাও করি না।
মা।
তুমি এসেছ।
তোমার নাম দো-হিমিদা?
ওয়েলকাম।
লুসিফার...
চ্যাটরুমে এসেছেন।
ডিলিট
ডিলিট
কেন আমার সাথে যোগাযোগ করছেন না?
তোমার ক্ষমতা ফিরে পাবে কেবলমাত্র...
তোমার বর্তমান জীবনসঙ্গী যখন মারা যাবে।
যদি ও মারা না যায়?
ওর হাত থেকে ট্যাটুটা মুছে যাবে।
এবং, তোমাকে নরকের আগুন গ্রাস করে নেবে।
কী করছ?
টা-ডা!
একটা কেক বানিয়েছি!
কিন্তু, হ্যালোউইন তো চলে গেছে।
তোমার জন্মদিন কবে যেন?
মনে নেই।
ক্রিস্টমাসের প্রতি তোমার উষ্মা দেখে...
ওয়াদা অনুযায়ী তোমার জন্যও একটা বানালাম।
কেকে এখন কী লিখব?
"ম্যারি ডেমন"?
শুনতে কেমন বিদঘুটে লাগছে।
জাস্ট তোমার নামটাই লিখে দেই।
গ্যু-ওন
আমার চার্জ দরকার।
কিছু হয়েছে?
নাহ, কী হবে?
ঠিক তো?
তোমার কেমন মন খারাপ মনে হচ্ছে।
কোথায় গিয়েছিলে?
অফিসে গিয়েছিলাম।
মি. পার্কের চিল্লাচিল্লিতে মাথা ধরে গেছে।
সিরিয়াস কোনো ইস্যু ছিল?
সেগুলো সলভ করা হয়েছে।
যাই হোক...
কেক এক্সপার্টদের দ্বারা বানালেই ভালো হতো আমার মতে।
দোকানে যখন খুশি কেক কিনতে পারি। এই উসিলায় হ্যাং আউটও হবে।
কিন্তু, এক্সপার্ট তো ঘরেই আছে।
আমি।
দো দো-হিমিদা, মিরায় ফুড এন্ড বেভারেজের সিইও
আমি এক্সপার্ট না হলে তবে কে হবে?
এরকম অবিশ্বাসের দৃষ্টি কেন?
এক্সপার্টের বানানো কেকটা এঞ্জয় করো এবার।
তো? কেমন লাগছে খেতে?
ভালো না?
- অসাধারণ হয়েছে! - সত্যি?
যে কেউ খেলেই বুঝবে এটা এক্সপার্ট হাতে বানানো।
দেখলে? বলেছিলাম না?
দেখি, একটু চেখে দেখি।
নাহ!
পুরোটাই আমি খাবো।
কেকটা অনেক যত্ন করে বানিয়েছ।
কিন্তু, পেটে যাবে আমারই।
খেতে আসলেই ভালো হয়েছে?
কল্পনাও করতে পারবে না।
তাই?
তাহলে, এক টুকরো অন্তত খাই?
এতো কটা!
ধুর...
আমি কি...?
চিনির বদলে...
নিশ্চয়ই লবণ ইউজ করেছি।
সেজন্যই এটা খেতে দারুণ লেগেছে।
- তুমি মিথ্যা বলছ। - একদম সত্যি বলছি।
চাইলে এটা বিক্রিও করতে পারবে।
কোম্পানির নতুন প্রোডাক্ট হিসেবে লঞ্চ করতে পারো।
লবণ মেশানো অমৃত।
- লবণ মেশানো অমৃত! - হুম।
- তোমার অতোই ভালো লেগেছে? - লেগেছে।
গ্রেট, তাহলে তো পরিশ্রম জলে গেল না।
লবণের কেক খাও এবার।
একটু হাঁ করো।
ডিনার করেছি, পেট ভরা।
কিন্তু, খেতে খারাপ হয়নি।
- কুকি'টা খাও? - নাহ, থ্যাংক্স।
রাতের এই সময়টা আমার দারুণ লাগে।
উচ্চতা ভীতি নেই তো তোমার?
শিউর না।
তবে...
তোমার মুখের দিকে তাকালে মন থেকে সব ভয় পালিয়ে যায়।
হয়তো তুমি আমার গার্ডিয়ান বলে।
যদি পৃথিবীতে আগামীকাল কেয়ামত ঘনিয়ে আসে...
কী করবে তখন?
আচানক এই প্রশ্ন?
ধরো, নিয়তিতে কোনো একটা মোচড় আসলো।
নিয়তি?
No comments yet. Be the first to leave one.