The first 138 lines.
সাবটাইটেলটি উৎসর্গ করলাম পৃথিবীর সকল সমকামী বিরোধী মানুষদের🖤
ভাবানুবাদে জি.এম. আব্দুল্যাহ
প্রায় দুই মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী একদম অন্যরকম ছিলো
এরা শিকারী দাঁতওয়ালা Smilodon.
সেসময়ের অন্যতম হিংস্র শিকারি
অপরদিকে দাড়িয়ে আছে দুই মিটার লম্বা এক দৈত্যাকার Terror bird
দুই পক্ষই ভয়ংকর
এবং লড়াইয়ের জন্যও প্রস্তুত
এটি বেঁচে থাকার করূন সংগ্রাম..
ও আগামী বিশ্বের আধিপত্যের উত্তরাধিকারের গল্প
এটা জীবনের গল্প
যদি সঠিক জায়গায় খুজতে পারেন..
তবে এখনো পৃথিবীতে জীবন উৎপত্তির বিভিন্ন উপাদান খুজে পাবেন
এটি শুধু সামুদ্রিক শিকারীদের সমাবেশই নয়
এটি আদি কালের রক্তের টানে এগিয়ে আসা
হাঙর, একটা জীবন্ত জীবাশ্ম (যেসব প্রাণী আদিকাল থেকে টিকে আছে অথচ সামসময়িক অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত তাদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে)
যারা একশ মিলিয়ন বছর ধরে পরিবর্তন ছাড়াই টিকে আছে
ডলফিন ফুসফুস শ্বসনীয় স্তন্যপায়ী (মাছেরা ফুলকা দ্বারা শ্বাস কার্য চালায়,অপরদিকে ডলফিন স্তন্যপায়ী হওয়াই মানুষের মতো ফুসফুস দিয়ে শ্বসন সম্পন্ন করে)
এদের পুর্বপুরুষেরা একসময় ডাঙ্গায় বাস করতো
তিমি, সবথেকে বৃহত্তর প্রাণী
পাখিরা..
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রাজবংশ
আদি ডায়নোসরের শেষ বংশধর
এসকল শিকারীরা..
সবাই একই শিকারের সন্ধানেই আছে
কিন্তু এদের প্রত্যেকের জন্মই ভিন্নভাবে হয়েছে
প্রায় দশ মিলিয়নের অধিক প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ পৃথিবীতে রয়েছে
এটি পৃথিবীতে আগত মোট জীবের ১% মাত্র
আজ আমরা অতীতে গিয়ে..
সেই ৯৯% এর ব্যপারে জানবো যারা ইতিপূর্বেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে
প্রকাশ করব আশ্চর্যজনক অসাধারণ গল্প
এই গ্রহের জীবনের গল্প
জীবন এবং জীবনের বৈচিত্র্যতা কোথাও না কোথাও তো শুরু হতোই
প্রথম সজীব উপাদান সৃষ্টি হয় চার বিলিয়ন বছর আগে
হয়তো পৃথিবীই এটির জন্য সবথেকে প্রতিকূল পরিবেশ ছিল
তরল পানি, সূর্যের শক্তি ও..
জীবন সৃষ্টির নিখুঁত রসায়ন
মূল প্রক্রিয়াটি সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে
কিন্তু এটা নিশ্চিত এটি ছিল একটি ক্ষুদ্র সজীব কোষ
LUCA, (প্রটোবায়োন্ট)
জীবন সৃষ্টির প্রথম সোপান
যেটি থেকেই সমস্ত সজীব বস্তু ও সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে
এই একটা শুরু থেকে..
আজকের এই জটিল পর্যায়ে আসতে কোটি কোটি বছর সময় লেগেছে
সমুদ্র থেকেই জীবনের যাত্রা শুরু হয়
আধিপত্য অর্জনের প্রথমদিকের
এসব প্রানীদের গঠন ছিল সরল
এসব অমেরুদণ্ডী প্রাণীরা..
মেরুদণ্ড ছাড়াই এই বিশাল সমুদ্রে
কোটি কোটি বছর আধিপত্য করেছে
আজীবন ধরে,প্রত্যেক জীবনই সংগ্রাম করেই টিকে থাকে
এরমধ্যে কেউ আধিপত্য করবে
আবার কেউ হেরে বিলুপ্ত হবে
উদ্ভিদরাই প্রথম ভূমি জয় করে
তারপর একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করে
যার ফলে অমেরুদণ্ডীরাও
ভুমিতে আসতে শুরু করে
কিন্তু এই অমেরুদণ্ডীরা আজীবন শাসন করতে পারেনি
এক নতুন গোষ্ঠী তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে
এর মধ্যে এক গোষ্ঠী জল থেকেই এসেছে
উভচর শ্রেণী
যাদের চার অঙ্গের সাথে মেরুদণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত অভিনব শারীরিক গঠন..
এদেরকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এনে দিয়েছিলো
উভচর হওয়াই এদেরকে জলের ধারেই থাকতে হতো
কিন্তু এরা এমন অভিযোজিত উত্তরাধিকার জন্ম দিলো যাদের এধরণের কোনো অসুবিধা ছিলো না
সরীসৃপ শ্রেণী
এমনকি এরা অতিশুষ্ক জায়গাতেও টিকে থাকতে সক্ষম
তাদের বিস্তৃত চলাফেরার দরুন তারা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে
ইতিহাসে প্রথমবার, পুরো পৃথিবী জুড়ে আধিপত্য শুরু হলো
ডায়নোসর,
অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রানীগোষ্ঠী
এই সরীসৃপ থেকেই এসেছে
এরা প্রায় দেড়শ মিলিয়নেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে আধিপত্য করেছে
মহিমান্বিত বৈচিত্র্যময় এই গোষ্ঠীর এই আধিপত্য
হয়তো কোনো এক বিশেষ বিপর্যয়
দুর্ভাগ্যে পরিনত করে দিয়েছিল
তাদের ছায়া যেতে না যেতেই
বেড়ে উঠেছিল শেষ মহান রক্ত
স্তন্যপায়ী জীব
যাদের মধ্যে এক প্রজাতি পৃথিবীর আমুল পরিবর্তন আনবে
যেমনটা আগে কেউ দেখেনি
প্রায় চার বিলিয়ন বছর ধরে
প্রজাতির এই উত্থান পতন চলছে
সুযোগ সুবিধাই সবকিছু টিকিয়ে রাখেনা
জীবন সৃষ্টি থেকে শুরু করে..
আজকের এই বৈচিত্র্যময় জীব গোষ্ঠী পর্যন্ত সময়ে আমরা একটা জিনিস আমরা বুঝে গেছি যে,
সবকিছুই একটা মৌলিক নীতি দ্বারা চালিত হয়ে এসেছে
জীবন সংগ্রামের নীতি
প্রথম নীতি হলো যোগ্যতমের জয়
প্রজাপতির ডিমগুলি প্রত্যেকটা একইরকম দেখালেও
প্রত্যেকের জিনগত বৈচিত্র্যতা রয়েছে
এটি প্রত্যেককেই স্বতন্ত্র ও সম্পূর্ণ আলাদা করে তোলে
এর মধ্যে কেউ কেউ এমন জিনগত বৈশিষ্ট্য পাবে যেটা তাদেরকে টিকে থাকতে সাহায্য করবে
এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে যাবে
যতক্ষণ না তারা..
অন্যদের থেকে পরিবর্তিত হয়ে..
একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতিতে পরিণত না হয়
যতক্ষণ না পরিবেশের সাথে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে না পারে
এটিই বিবর্তন
শুধুমাত্র এদেরই বিবর্তন হয় এমন না
এই জঙ্গলেই প্রত্যেকেই টিকে থাকার লড়াই করে চলেছে
এমনকি বৃক্ষগুলোও
এভাবে খেতে থাকলে শুঁয়োপোকারা পুরো গাছের পাতাই সাবাড় করে ফেলবে
কিন্তু এই উদ্ভিদটি টিকে থাকার জন্য নিজেকে বিবর্তিত করেছে
এর পাতায় বিষ উৎপাদন
যা এর পাতা খাদককে মেরে ফেলতে সক্ষম
এটিকে রাসায়নিক যুদ্ধ বলা যায়
অত:পর বিবর্তনের ফলে শুঁয়োপোকার এক নতুন প্রজাতির জন্ম হয়
যারা এই বিষাক্ত পাতা ও..
এর সাথে থাকা ডিমগুলোও খেয়ে ফেলতে সক্ষম
পক্ষান্তরে..
প্রজাতিরা বিবর্তিত হয়ে পাতার ওপরেই ডিম পাড়তে শুরু করে
যেটি পুর্বে ডিমমুক্ত পাতা ছিল
যাতে তার বাচ্চাদের শুরুটা সর্বোত্তম হয়
কিন্তু উদ্ভিদ ও প্রতিশোধ স্বরূপ..
তাদের পাতায় এমন বস্তু উৎপন্ন করে
যা দেখতে সম্পূর্ণ প্রজাপতির ডিমের মতো
এতে স্ত্রী প্রজাপতিরা বোকা বনে যেত
ওই নকল ডিমগুলো থেকে মিষ্টি রস ক্ষরিত হয় যা পিপড়াদের আকর্ষিত করতে শুরু করে
যার ফলে পিপড়ারা প্রজাপতির ডিমও খেয়ে ফেলতে থাকে
টিকে থাকার প্রথম নীতি হলো যোগ্যতমের জয়
যার ফলে পৃথিবীতে এত জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে
টিকে থাকার দ্বিতীয় নীতি হলো...
প্রতিকুলতায় নিজেকে খাপ খাওয়ানো
আর সবথেকে বড় প্রতিযোগিতা তৈরি হয় নিজ প্রজাতি মধ্যে
একটি পুরুষ টেরোর বার্ড
হ্রদের কিনারাই তার এলাকা
শুধু সে একাই নয়
একটা যুবক টেরোরবার্ড ও এই জায়গার আধিপত্য চায়
বয়স্কটি এটি মানতে পারলো না
কিন্তু যুবকটি পিছিয়ে যেতে নারাজ
তারও নিজের একটি অঞ্চল দরকার
দুজনেই তাদের আচরণ প্রকাশ করতে শুরু করল
অন্যের শক্তি পরখ করার সাথে সাথে
নিজের শক্তিও প্রদর্শন করতে লাগলো
তাদের পা ফেলানোর সমন্বয়
আনুষ্ঠানিক নাচের মতোই
কে আগে পিছিয়ে যাবে?
No comments yet. Be the first to leave one.