The first 200 lines.
☆βʌйGɭʌ Sʌвтıтɭə βƴ☆ ☆☆RʌjɖΞΞр Dʌѕ☆☆
তো ভাইয়া ব্যাপারটা এমন আমি পুরো দুনিয়ার মাথার ওপরে চড়ে বসে আছি।
ছোট-বড়ো সব আয়নাতে আমিই তো থাকি।
আমি সেই যে চোখকে আকর্ষিত করি।
আপনার সেলফির জন্য লাইকস আমিই তো এনে দেই।
হিরোদের স্টাইল আর হিরোইনদের সৌন্দর্য তো আমিই।
আমি আপনার সৌন্দর্যের রহস্য আছি...
...আপনার মাথার চিরস্থায়ী তাজ আছি।
আমার মর্যাদা বজরংবলীর চেয়ে কম নয়।
হ্যাঁ, দেখুন তেল উনাকেও দেওয়া হয় আমাকে দেওয়া হয়।
আমিই "চুল"।
সবচেয়ে বড়ো উপাদান...
মাথার খুলির চামড়া.... মস্তিষ্কের ঢাল....
যদি পেয়ে যান কামাল, আর না পেলে...
...জীবন বেকার।
তো সবমিলিয়ে কথা একটাই যে সবার জীবনে আমার অনেক বড়ো অবদান আছে।
এনার জীবনেও।
"বালা।"
"বালা।"
"বালা।"
সুপ্রভাত, স্যার।
সুপ্রভাত। বসো।
অভদ্র।
ওয়ে টাকলা।
ইনি হলেন "বাল মুকুন্দ শুক্লা।"
কানপুরের শাহরুখ খান!
বালার নিজের ঘন চুলের ওপর ভীষণ ভালোবাসা ছিল।
আজ্জু..একটু হাওয়া মেরে দে।
বালা ভাইয়া, DDLJ স্টাইল পুরোনো হয়ে গেছে।
এবার K3G মতো স্টাইল করি।
"বড়ো বড়ো শহরে এমন ছোট ছোট কথা হতেই থাকে, সেনোরিতা।"
'শাহরুখের এই ফটোকপির ওপর স্কুলের হালকা গোফওয়ালা মেয়েরা ক্রাশ খেতে থাকতো।'
'শুধু তাঁর বন্ধু লতিকা বাদে।'
দেখতে কুৎসিত তাই, নাম হয়েছে কুব্জা।
সবাই হাসি ওড়ায়।
কেউ কাছে আসে না।
এতে আমার কী দোষ...
যেখানে ঈশ্বরই আমাকে কুৎসিত বানিয়েছে।
তোমার বেদনা চিরতরে দূর করে দি...
আসো কুব্জা, তোমায় সবদিক দিয়ে সুন্দরী বানিয়ে দিচ্ছি।
ওই...
লাতিকা, বিজ্ঞান বই দে তোর।
দেবো না।
এমন করছিস কেন? প্লিজ, দিয়ে দে না।
বললাম তো দেবো না। মানে দেবো না।
নোটস দে আমার।
হাই!
আমার নোটস দে, বলছি...
ওয়ে...
...এই হুমকি অন্যকাউকে দিবি বলবন্ত রায়।
নাহলে, তোর এমন অবস্থা করবো...
...যে নিজের জন্মের জন্যও আফসোস হবে। ওয়ে...
সর।
দাঁড়াও।
শোনো, প্লিজ....
- কী আছে? - বালা...
এবার কী?
লতিকা।
পরের বার নোটস দিয়ে ইম্প্রেশন ঝাড়তে হলে....
...এই নকলবাজি ছেড়ে নিজের নোটস নিজেই লিখবে।
বুঝেছো।
শ্রুতি, প্লিজ।
শ্রুতি। শ্রুতি।
নিজেকে কী মনে করো তুমি?
না, মানে...কীসের এতো ভাব তোমার?
আমি অন্য মেয়েদের নোটস দেই বা কথা বলি।
এতো জ্বলন কেন হয় তোমার?
তোমার মাথা গেছে?
আমার তোমার মতো চিংড়ির মধ্যে কোনো ইন্টারেস্ট নেই।
ইন্টারেস্ট থাকলেও কোন মুখে বলবে।
নিজের এই কালো কৌটোর মতো মুখ নিয়ে।
স্কুলের সব সুন্দরী মেয়েরা মরে আমার ওপরে।
তোমার মতোদের আমার ব্যাপারে চিন্তা করারও অনুমতি নেই।
কালো কুব্জা।
আর একটুও বাজে বকলে...
...কানের নিচে এমন বাজাবো...
সোজা গিয়ে ফুল বাগানে পড়বে।
একবার নয় ১০০বার বলবো। যা করার করে নিও।
কালো কুব্জা। কালো কুব্জা।
হুম, ভাব দেখেছেন পোলার।
সব আমার জন্য।
কিন্তু ভাইয়া, অভিমান তো দশ মাথাওয়ালা রাবণেরো টেকেনি।
এ তো বেচারা এক মাথাওয়ালা বালা।
"টাকলা।"
"টাকলা।"
তো ভাইয়া, ২৫ বছরের যৌবনকালে...
...বালার ৪৫% চুল বিস্বাসঘাতক হয়ে গেছিলো।
আরে বড়ো কুত্তা চিজ আমি...
শাহরুখ খান থেকে সিধা অনুপম খের।
"তোর ভাই দিয়েছিলো গালি..."
"...তাতে তুই মেরেছিলি তালি..."
"তোর প্রেমে আমার ভিখারিপানা...."
"ভুলবো না আমি..."
"যতদিন থাকবে জীবন...."
"যতদিন থাকবে জীবন..."
"যতদিন থাকবে জীবন...."
"তোর অবর্জনার মতো আমায় ছুড়ে ফেলা।"
"আমায় দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া।"
"ভুলবো না আমি..."
"ভুলবো না আমি.....
দারুন হয়েছে, ভাইয়া।
তো বাবু, যখন আমি চলে যাই।
খুশিও চলে যায়, হাসিও চলে যায়,
আর ১৩ বছরের স্থায়ী প্রেমিকাও।
- তুমি খুব মিষ্টি। - অস্থায়ী করে চলে যায়।
আমি প্রথমেই বলেছিলাম....
...মেয়ে চালু আছে।
মা, ছাড়ো না এসব।
কতবার বলেছি ডায়াবেটিস আছে, এতো ঘি দিয়ো না।
এইটুকু ঘিতে কিছু হয় না, আমার নন্দলাল, খেয়ে নে।
লাগাও মায়ের দিকে নিশানা।
ভিভান, মার খাবি।
- আরে, তোমরাও নাস্তা করে নাও। - হ্যাঁ খাচ্ছি, জোরে মার।
এরা মনে হচ্ছে লাঞ্চ ব্রেকেই খাবে।
হ্যাঁ ভাইয়া, তুমি হার্টব্রেকে খেয়ে নাও, আমরা লাঞ্চব্রেকে খেয়ে নেবো।
যাকেই দেখো ঘরে কমেডিই করে চলেছে।
দেখো না, দাদু...
...ওর জিভ বড়ো হয়ে অজগর হয়ে গেছে।
আরে ভাই, ওর ওপরে রাগছিস কেন?
তুমি যদি হার্টব্রেকের জায়াগায় অফব্রেকে মনোযোগ দিতে....
...তাহলে আজ আমার মতো রঞ্জি ট্রফি খেলে নিতে...
ঢুকিয়ে দে...ঢুকিয়ে দে...
ওর হৃদয়ের ব্যাপারেও নিজের রঞ্জি ট্রফি ঢুকিয়ে দে।
আমের আঁটি নেবে?
বেঁচে থাকো।
কী বে? উপরে LCD লাগানো যে তাকিয়ে আছিস?
কিছু না, ভাইয়া...
এমনি একটু ভাবছিলাম।
কি ভাবছিলি?
এই যে শ্রুতি তোমার সাথে ব্রেকআপ কেন করলো?
গিয়ে মারবো তোকে।
পারফেক্ট ক্যাচ।
কেন সবাই ওর কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছো?
বালা, তুই শ্রুতিকে ভুলে যা।
তুই পরীর মতো মেয়ে পাবি।
এসব কী মেকআপের জিনিস নিয়ে ঘুরিয়ে সবসময়।
এই সুন্দর-কুৎসিতের বাজারে কিচ্ছু নেই, বাবু।
তুই শিল্পী মানুষ, নিজের আবেগকে অনুসরণ করো, বুঝলে।
তুমি তো করেছিলে নিজের আবেগকে অনুসরণ?
হয়েছো ক্রিকেটার?
হ্যাঁ, তো কয়জন আছে কানপুরে যারা রঞ্জি খেলতে পেরেছে।
আমি আবেগ অনুসরণ করে কিছু হয়েছিলাম।
আমার ছেলে কিছু হবে নাকি হবে না?
চেষ্টা করছি।
কমেডিতে নাম কমালে ছেড়ে দেবো চাকরি।
"টাকলা।"
"টাকলা।"
"টাকলা।"
"টাকলা।"
ব্যাগ আর কোর্টটা নে।
কোই যাচ্ছিস?
ভাইয়ার জরুরি কাজ আছে।
আরে বালা ভাইয়া, কেমন আছো?
"রুপান, যত কোলা খাবে...
...তত জোরেই ফাটবে,
মনে রেখো।"
সীমার মধ্যে থাকো।
একবার রাজেশ খান্না, প্লিজ।
ফ্রিতে কিছুই মেলে না, মাসি।
নিজের পাড়া থেকে কয়জন মেয়েকে পাঠাচ্ছো সেমিনারে?
হ্যায়, হ্যায়, মজা এসে গেলো।
আচ্ছা, আগে তুমি...
আমার এটা ইন্সটা করো...
...তারপর মেয়েদের পাঠাবো সেমিনারে।
এতো ব্ল্যাকমেল তো কোনো শত্রুও করে না।
এই নাও।
দেখাও।
একটু..আর একটু ফর্সা..
- চেনাই তো যাবে না। - একটু করো...
আচ্ছা, একটা কথা বলো...
সব মেয়েদের জড়ো করে কীসের সেমিনার করো?
যেসব মেয়েদের বিয়ে হয় না, তাঁদের মাথা থেকে কালদোষ কাটানোর উপায়।
লতিকা তোমার কী ক্ষতি করলো?
ওকে কেন ডাকো না?
আমি কোই মানা করেছি?
- তাহলে? - নিয়ে এসো ওকেও।
কিন্তু বলবে না আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম।
বলো, মাসি।
এতো ফোন করছো কেন?
আসলে, তোমার কোর্টে আসছি আমি..
...তারপর একসাথে একটা সেমিনারে যাবো।
কী ধরণের সেমিনার?
আরে, বালা আমাদের আমন্ত্রণ করেছে।
বিশেষ করে তোমাকে আসতে বলেছে।
দেখো, মাসি, আমি আসছি না ওই সস্তা শাহরুখ খানের কোনো সেমিনারে।
দেখ তুমি উকিল, কিন্তু আমি তোমার জজ।
ব্যাস, আমি আসছি, রাখলাম।
হ্যালো...
...মাসি?
আপনারা ভাবছে এই ভর দুপুরে আপনাদের কেন ডাকলাম।
তাহলে শুরু করি আমার প্রেসেন্টেশন দিয়ে।
এগুলো আমাদের প্রমুখ কাগজের ম্যাট্রিমোনিয়াল বিজ্ঞাপন।
মানে বিবাহ সম্বন্ধিত কলমস।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, ফর্সাভাবকে।
পড়া-লেখা, জাতি-প্রজাতি, সব পরে।
শুধু একটাই চাহিদা।
ফর্সা মেয়ে চাই।
ফর্সা মেয়ে চাই।
হতে পারে কোনো কারণবসত আপনি এই ম্যাট্রিমোনিয়াল পড়েননি।
কিন্তু গান তো শুনেছেনই।
No comments yet. Be the first to leave one.