The first 112 lines.
রাত।
এক ছায়াচ্ছন্ন জগত যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের গ্রহের অর্ধেকের বেশি প্রাণী।
এখন পর্যন্ত, ক্যামেরায় কেবল তাদের জীবনধারার এক ঝলক ধরা পড়েছে।
কিন্তু নেক্সট-জেনারেশন টেকনোলজির সহায়তায়,
আমরা রাতকে দিনের মতোই স্পষ্ট দেখতে পারি।
মানুষের চোখের তুলনায় শতগুণ সেন্সিটিভ ক্যামেরার সাহায্যে...
আমরা এখন রাতের সৌন্দর্যকে ধারণ করতে পারছি...
রঙিন অবস্থায়।
ভিন্ন জগতের ভূদৃশ্য।
অন্ধকারে জেগে ওঠা অদ্ভুত প্রাণীকূল।
অদেখা আচরণ।
এখন আমরা প্রাণীদের জীবন অনুসরণ করতে পারছি
পৃথিবীর শেষ সত্যিকারের বিজনপ্রদেশে...
রাত।
:.:.: Earth at Night in Color :.:.: Episode 02 অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে সূর্য অস্ত যাচ্ছে।
আর পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন রেইনফরেস্ট...
এক অসাধারণ রূপান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সন্ধ্যা নেমে আসলে...
ডে শিফটের সমাপ্তি ঘটে।
কিন্তু এই ট্রপিক্যাল বনে, পৃথিবীর যেকোনো স্থানের চেয়ে বেশি...
নিশাচর প্রাণীর বাস।
তাদের গল্প আর তাদের ভৌতিক দুনিয়ার সিক্রেটগুলো আমাদের কাছে ছিল রহস্য...
এখন পর্যন্ত।
একটা দানবাকার ডুমুর গাছের প্যাঁচানো শেকড়ের গভীরে...
লোকচক্ষুর অন্তরালে...
বাস করে, সম্ভবত, রাত্রিকালীন সবচেয়ে উদ্ভট প্রাণী।
স্পেক্ট্রাল টার্সিয়ার। [হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, দেখতে এই বান্দা Baby Yoda'র মতো ❤️]
ক্ষুদ্র প্রাইমেট, আকারে একটা টেনিস বলের চেয়ে সামান্য বড়ো।
এই ঘনিষ্ঠ পরিবারে একত্রে বাস করছে তিন প্রজন্ম।
দাদা-দাদী...
তাদের বয়স্ক বাচ্চারা...
আর দুটো নতুন অতিথি।
সবচেয়ে ছোটো, দুই সপ্তাহ বয়সী ভীতু বাচ্চাটি...
এখনও মায়ের দুধপান করছে।
আর তার বড়ো কাজিন, অল্পবয়স্ক শিশু।
পাঁচ সপ্তাহ বয়সী, কেবল নিজের পায়ে চলতে শিখছে।
টার্সিয়ার জীবনধারা আবিষ্কারের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
দীর্ঘ রাত জুড়ে কেবল এই বাচ্চা দুটোকে নিরাপদে রাখাই...
হবে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
পরিবারটিকে নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।
প্রতি রাতে, টার্সিয়ারদের প্রথম কাজ...
কিছুটা অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত পরিচর্যা।
কান টানা।
এটা দেখতে কষ্টদায়ক মনে হয়, তবে শিকারের জন্য এই প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ...
সর্বোচ্চ শ্রবণ সংবেদনশীলতার জন্য নিজেদের কানকে উপযুক্ত করা।
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের এটা করার নিজস্ব অনন্য পন্থা রয়েছে।
কারো কারোটা অন্যদের চেয়ে বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খ।
এরপর... শিকারের পালা।
টার্সিয়ারদের নাইট ভিশন আমাদের তুলনায় শতগুণ উন্নত।
কিন্তু এখন, লো-লাইট ক্যামেরাগুলো...
তাদের নিশাচর জীবন ঠিক তাদের মতোই...
স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
প্রতি রাতে, টার্সিয়ারদের তাদের দৈহিক ওজনের এক-দশমাংশ পোকামাকড় খেতে হয়।
আরও এক-তৃতীয়াংশ, যদি তারা কোনো বাচ্চাকে দুধপান করায়।
নিজের গৃহবৃক্ষের নিরাপত্তা থেকে,
পাঁচ সপ্তাহ বয়সী বাচ্চাটি বড়োদের শিকার করা দেখে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, তাকে নিজে নিজেই এটা করতে হবে।
শেখার আছে অনেক কিছু।
তাকে রপ্ত করতে হবে তার স্যাটেলাইট-ডিশ কানের ব্যবহার,
অন্ধকারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শব্দ শ্রবণের জন্য প্রতিটি কান স্বতন্ত্রভাবে নাড়ানোর ক্ষমতা।
এরপর, তার বিশাল গামলার মতো চোখ দুটো।
পূর্ণাঙ্গ অবস্থায়, প্রতিটি চোখ টার্সিয়ারের মস্তিষ্কের চেয়ে বড়ো।
দূরত্ব মাপার জন্য তাকে সঠিকভাবে মাথা হেলানো শিখতে হবে।
পূর্ণবয়স্কদের জন্য, এটা তাদেরকে নিখুঁতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহায্য করে।
আরেকটা শেষ শিক্ষা রয়েছে।
পরিবারের খাবারের সময়...
যে আগে আসবে...
সে আগে পাবে।
এবার জঙ্গলের আরও গভীরে পরিবারটির অভিযানের পালা।
বাচ্চাগুলো এখনও এতদূর ভ্রমণের উপযোগী না।
তাই তারা তাদের মায়ের ওপর নির্ভর করে...
মুখে করে তাদের বহনের জন্য।
মোটেও সহজ কাজ নয়।
প্রতি পাঁচটি টার্সিয়ারের বাচ্চার মাঝে একটি প্রথম মাসেই হারিয়ে যায়।
তাই দুই সপ্তাহ বয়সী বাচ্চাটির জন্য...
নিজেদের গৃহবৃক্ষের নিরাপত্তা ত্যাগ করে বেরিয়ে আসাটা...
একটা বৃহৎ পদক্ষেপ।
সর্বকালের সবচেয়ে গভীরে পরিবারটির চিত্রধারণের ফলে...
যে গোপন উপায়ে টার্সিয়াররা তাদের বাচ্চাদের নিরাপদে রাখে তা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।
স্রেফ একটা না...
দুটো টার্সিয়ারের বাচ্চাকে...
একই গাছে লুকায়িত অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে।
একটি অতিক্ষুদ্র টার্সিয়ার নার্সারি, যা আগে কখনও ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।
দুটো কাজিন একে অপরের খেয়াল রাখছে...
যাতে বড়োরা অবাধে শিকার করতে পারে।
কিন্তু টার্সিয়াররাই রাতের আঁধারে জেগে ওঠা একমাত্র ক্ষুধার্ত শিকারী নয়।
একটা মিনাহাসা মাস্কড পেঁচার জন্য, একটা বাচ্চা টার্সিয়ার দারুণ সুস্বাদু একটি খাবার।
সামনে সুদীর্ঘ এক রাত অপেক্ষমান।
রাতের প্রথম প্রহরে...
সবকিছু অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে না।
জলধারার ধার ঘেঁষে...
গাছগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে রাতের অন্যতম সেরা বিস্ময়ে।
জোনাকি।
সবচেয়ে উজ্জ্বল ঝলকসমূহ সঙ্গীর খোঁজে থাকা পুরুষ জোনাকিদের।
প্রথমদিকে, তাদের এলোমেলো মনে হয়।
প্রত্যেকেই যেন নিজের তালমতো কাজ করছে।
কিন্তু ধীরে ধীরে, তারা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
সমলয়ে চমকাতে থাকে, প্রতিটি গাছ অন্ধকারে একেকটি বাতিঘরে রূপ নেয়।
এই মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্ত্রী জোনাকিদের কাছে টেনে আনে।
একটা স্ত্রী জোনাকির আগমনে, পুরুষের চমকানো আরও তীব্র হয়।
অসাধারণ ডিটেইল ধারণের ফলে...
আমরা এখন এই জাদুকরী বায়োলুমিনেসেন্স সৃষ্টিকারী রাসায়নিক বিক্রিয়াটি দেখতে পাচ্ছি।
পূর্ণিমার চাঁদের উদয়ের ফলে, আলোকবন্যায় ভেসে যায় বন।
আর এই চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটে।
টার্সিয়ারদের জন্য, পূর্ণিমার চাঁদ বিপদের কারণ।
বাড়তি আলো অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তাদেরকে জঙ্গলের গভীরে
প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
কিন্তু যত গভীরে তারা প্রবেশ করে,
ততই তাদের শিকারীর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
ঝুঁকি নিয়ে...
এই গাছ-আরোহী বিশেষজ্ঞরা...
No comments yet. Be the first to leave one.