The first 200 lines.
বঙ্গানুবাদেঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম এবং Flamy Tuhin
সম্পাদনায়ঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
"৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪"
পিপীলিকা ওর জায়গাতেই আছে,
ঘাসফড়িং এর সাথে প্যাকেজ হাতবদল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো।
টিম "বি" তৈরি হও।
পিপীলিকা ওর জায়গাতেই আছে, ঘাসফড়িংকে প্যাকেজ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো।
স্যার, ও তো সতর্ক থাকবে, না?
আরেকটু অপেক্ষা করে দেখো কী হয়। ওর এখানে থাকার অবশ্যই কোনো কারণ আছে।
ঠান্ডায় মরে যাচ্ছি।
ভাইরে, আমি যখন পুলিশে নতুন ছিলাম ভেতরে আসার কোনো সুযোগই ছিল না।
থারটি ফাস্ট নাইটে এখানে কী করছি?
"৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮২"
ভেবেছিলাম তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে জমেই যাব।
সরি! ঠান্ডায় তো গা হাত বরফ হয়ে গেছে।
শুরু হচ্ছে।
১০!
৯!
৮!
৭!
৬!
৫!
৪!
৩!
২!
১!
শুভ নববর্ষ, ছুটকু।
শুভ নববর্ষ, স্যার।
ঘণ্টা বেজেছে,
নতুন বছর এসেছে।
১৯৮২ পেরিয়ে, ১৯৮৩ করেছে শুরু।
মানুষ জন নতুন বছরকে উদযাপনের মাধ্যমে বরণ করছে।
আমায় বিয়ে করবে?
হুম!
সাসপেক্টকে পাওয়া গেছে!
কালো টুপিতে পিপীলিকার পাশ দিয়ে যাচ্ছে।
ঘাসফড়িং এখানেই আছে।
তোমার ঘড়ির কাটার এগারোর দিকে।
ঘাসফড়িং পিপীলিকার পাশেই আছে।
পিপীলিকা আর ঘাসফড়িং প্যাকেজ হাতবদল করছে। টিম "এ" ও "বি", ওকে ধরো।
ঘাসফড়িং যাচ্ছে। জলদি করো!
আমার ব্যাগ!
ঘাসফড়িং পালাচ্ছে।
ঘড়ির কাটার দশের দিকে, ঘাসফড়িং পালাচ্ছে!
টিম "বি" ঘাসফড়িং এর পিছে যাচ্ছে!
- ধরো! - ঘাসফড়িং ভিড়ের মধ্যে থেকে পালাচ্ছে।
এখানে অনেক লোকজন!
সর সামনে থেকে।
সব ঠিক হয়ে যাবে।
ব্লাড প্রেশার।
৭৫/৪০। হার্ট রেট অনেক কম।
অনেক ব্লাড লস হয়েছে, ব্লাড চড়াবে?
অবস্থা খুব একটা ভালো না।
চোখ কোনো সাড়া দিচ্ছে না।
জলদি।
ক্ষতস্থানটা পরিষ্কার করতে হবে।
আচ্ছা।
ওর ভাইটাল চেক করো।
আচ্ছা।
রেডি।
২০০ জুল! চার্জ।
ক্লিয়ার, শুট!
কাজ করছে না, অন্যটা নিয়ে এসো।
আমাদের কাছে এই পুরানো মডেলেরটাই আছে।
বেশ, জলদি নিয়ে এসো!
রেডি।
কী হলো?
ক্লিয়ার! ৩, ২, ১।
শুট।
- পাওয়ার এসেছে। - ১৫০ চার্জ, ক্লিয়ার।
শুট!
২০০ জুল, চার্জ।
শুট!
স্যার, ব্লাড প্রেশার ফিরেছে।
ওর পালস চেক করো।
নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
সে রাতে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরার পর,
আমার স্বপ্নে একজনকে দেখা শুরু করি।
TIME RENEGADES
সবকিছু সেই স্বপ্নের সাথেই শুরু হয়।
দাও...
আমার রেকর্ডিং ভালো লাগে না, শুনে মনেই হয় না সেগুলো আমি বলেছি।
এটা এমনই, নিজের কন্ঠ অনেক হাস্যকর শোনায়।
আমার ৩ বলার আগেই দিবে, নইলে ভালো হবে না কিন্তু।
১, ২, ৩।
এভাবে গুণছ কেন?
কেন কী সমস্যা?
১, ২, ৩?
এই দাও আমায়।
দিব না।
দাও বলছি।
ব্যথা করছে নিশ্চয়।
- ঠিক আছ? - একদম।
দাও!
ভেবে দেখো।
সময় বয়ে যায়, পানির মতো।
এক মিনিটও হয়নি,
কিন্তু এখানে আমাদের একটা স্মৃতি জড়িয়ে গেল।
এই জন্য রেকর্ড করছিলে? এসব মূহুর্তগুলো ধরে রাখতে?
হ্যাঁ।
জানতাম না ভেতরে কেউ আছে...
দুঃখিত।
ব্যাপার না।
ওহ! বায়োলজি ক্লাস।
ক্লাস নোটস নিতে এসেছেন?
না। আমি একটু পর আসছি।
এটা ভালো ছিল...
ভালো ও বিশ্রী।
এত কম দামে এমন বাড়ি পাবেন না।
আর কোনো বাসা দেখার প্রয়োজন নেই। আসুন...
আগে যারা এখানে ছিল বেশ সুখে শান্তিতেই ছিল।
তো... কবে উঠছেন?
সময় নিয়ে, ভালোকরে ঘুরে দেখুন।
আকাশটা কত সুন্দর।
হ্যাঁ, অনেক।
এই সূর্যের মতো, আমরাও একদিন বিলীন হয়ে যাব।
লোকে বলে মৃত্যুর সেই ক্ষণটাতে সবাই নাকি তার পরবর্তী জীবন দেখতে পায়।
বিস্মৃতির গন্ডিটা পার হবার পর আমরা সব ভুলে যাই।
সব স্মৃতি মুছে যাওয়ার পর, আবার আমাদের জন্ম হয়।
তারপর আমরা আবার একজন মনের মানুষকে খুঁজতে থাকি।
পুনরায় জন্ম নিলেও, এই বেশেই জন্ম নিতে চাই,
যাতে তুমি আমায় চিনতে পারো।
আমরা অবশ্যই দেখা করব, ঠিক আছে?
- তুমি কি ডিউটিতে আছ? - হ্যাঁ।
কিন্তু... আপনি কে...?
আমি লেফটেন্যান্ট কাং, ইউনিট ২ এর চিফ।
ও আচ্ছা... আপনিই সেই নতুন...
দেখা হয়ে ভালো লাগলো, স্যার! আমি কিম গেওন উ, ২ নং ক্রাইম ইউনিটের সদস্য।
"আমার সাথে কথা বলো।"
"ওর হুমকির জন্য দিয়ে দিয়েছ?"
একসময় পুলিশ হবার স্বপ্ন দেখতাম...
কী?
তাহলে তো আমাদের দেখা হওয়া মুশকিল হয়ে যেত।
- তাই? - হ্যাঁ।
আমরা দুজনে শিক্ষক বলেই তো আমাদের দেখা হয়েছিল, যি হুয়ান।
যাদের দেখা হবার তাদের এমনিতেই হবে।
এত চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থাকতে, এটাতেই কেন?
চুপ। আয়, এখানে বস।
ঐ ব্যাটা, জলদি আয়।
তো রাতের ক্লাস শুরু করা যাক।
কীভাবে এখন কার্ড খেলতে পারিস?
হ্যাডাম থাকলে পালিয়ে দেখা।
কী পাগলামি...
শিফট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওরা নড়বে না।
তাই চিল মার আর নিজের কপালে ভরসা রাখ।
কেউ নড়বে না!
আচ্ছা! থার্ড ইয়ারের পোলাপান।
আরে, আমার ক্লাসেরও একটা আছে?
ভাগ!
কেউ নিজের জায়গা থেকে নড়বি না।
এই দাঁড়া।
কাং সেওং বিওম, আবার তুই।
স্যার কী এসব।
ছাড়েন, আমার নতুন জ্যাকেট।
ওরে মদের গন্ধ...
আমি মদ খাইনি। দেখেন, বোতলের মুখও খুলিনি।
জুয়াও খেলছিস।
এই!
এই থাম! দুঃখিত।
এই, কাং সেওং বিওম!
থাম।
ধরো ওকে!
এই থাম।
- কেউ নড়বি না! - ছুরি ফেলে দে।
কেউ নড়বি না বলছি!
ছুরি ফেলে দে!
কাছে আসলে ওকে মেরে ফেলব!
নড়বি না।
কেউ নড়বি না বলছি।
নড়বি না! একদম নড়বি না!
স্যার...
হুট করে কোথায় থেকে আসলো।
ব্যাপারটা বেশি বেশি হয়ে গেছিল না? আর কেনই বা গুলি মারার পর ওর কাঁধ দেখল?
নর্থইস্ট ডিসট্রিক্টে উনার বেশ নামডাক আছে।
শুনোনি বোধহয়।
স্যারের স্ত্রীর খুন হয়েছিল।
কী?
পুলিশ ফোর্সে ঢোকার পর থেকেই এক আসামির পিছে লেগে আছেন।
প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন,
কিন্তু আসামি স্যারের স্ত্রীকে জিম্মি করে।
আর এভাবেই মারা যায় উনার স্ত্রী...
- স্যার। - শুভ সন্ধ্যা।
- তারপর? - এক মিনিট দাঁড়াও...
- ধন্যবাদ। - আপনাকেও।
স্যার খুনির কাঁধে একটা গুলি করেছিলেন।
উনি অবশ্যই গুলি মেরেছিলেন, কিন্তু হঠাৎই ঐ খুনি উধাও হয়ে যায়।
যদি ও মারা যায়, তাহলে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যাবে না,
কিন্তু যদি বেঁচে থাকে, তবে অবশ্যই ওকে পাওয়া যাবে। কেন?
কারণ ওর কাঁধে একটা গুলির ক্ষত আছে।
এই কাং সেওং বিওম হাত কিন্তু নামছে।
স্যার, বাদ দেন না।
এসবে আমি বদলাব না।
বেশ, তো একজন ছাত্রের জুয়া খেলা লাগবে কেন?
আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্মদিনে ওকে উপহার কিনে দেবার জন্য।
যাক তুই অপদার্থ না।
স্যার, আমি অপদার্থই।
বাকি শিক্ষকেরা এক সপ্তাহ পরেই আমার থেকে আশা ছেড়ে দিয়েছিল।
তাই, আপনারও এখন আশা ছেড়ে দেওয়া উচিত।
আমার পথ ঠিক হয়ে আছে।
প্লিজ আমাকে আমার মতো থাকতে দেন।
No comments yet. Be the first to leave one.