The first 200 lines.
অনুবাদক : মেহেরাব হোসেন
পালা!
যুগোর এসে পড়েছে!
ঐ দানবটা?
এই, এই, এই! কোনো কিছুর ওপর চড়লে তো হবে না।
হ্যালো? তোর কি মনে হয় তুই কী করছিস?
তুই যাই করিস না কেন, কাজটা একেবারে ঠিকমতো করছিস না।
ওটা কি এখনো আসছে?
হেই, এক মিনিট।
যুগোর নামের তো কোনো জিনিসই নেই।
ও একটা কল্পনার চরিত্র ছাড়া আর কিছুই না।
টার্ক নাটক করছিল যাতে আমি আমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ানোর অনুশীলন করতে পারি।
আমি খুবই ধীর। যদি আমি দ্রুত না হতে পারি,
আমার সাথে যেকোনো খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।
তুই সবচেয়ে ধীরগতির গরিলা।
যদি যুগোর কখনো ডার্ক পাহাড়ের নিচে নেমে আসে,
- তুই তো এতক্ষণে হজম হয়ে যেতি। - বাজি ধরে বলতে পারি আমি তোকে ধরতে পারবো।
- জীবনেও না। - হালুম!
- পারলি না। - হালুম!
আবারো ব্যর্থ।
খুবই দুঃখজনক।
এটা তো বিপদ আসার আগের প্রস্তুতি।
ওহ, শক্তিমান হতে শক্তি লাগে,
আর বুদ্ধিমান হতে বুদ্ধি লাগে,
এসব জিনিস তুমি পাবে সময়েরই আগে আগে।
তুমি যেথায় যাচ্ছো সেই মহান যাত্রায় করে
তুমি পৌঁছাবে উন্নতির চরম শিখরে।
মানবসন্তান, নজর দাও আকাশের দিকে,
উন্মোচিত করো আত্মাটাকে, উড়িয়ে দাও ফানুশ।
একদিন তুমি গর্বের সাথে ফেলবে তোমার কদমটিকে।
মানবসন্তান, একদিন তুমি হবে মানুষের মতো মানুষ।
চলো, তুমি এটা করতে পারবে।
তুমি এটা করতে পারবে। তুমি এটা করতে পারবে।
ইয়ে-ওহ ইয়ে-ওহ
ইয়ে-ওহ ইয়ে-ওহ
ইয়ে-ওহ, ইয়ে-ওহ ইয়ে-ওহ
মানবসন্তান, নজর দাও আকাশের দিকে।
সাবধানে!
একদিন তুমি গর্বের সাথে ফেলবে তোমার কদমটিকে।
গাছ! গাছ! গাছ!
মানবসন্তান, তুমি অবাক করে দিবে সবাইকে।
- তুমি ঠিক আছো তো? - কোথাও ব্যাথা লেগেছে? দেখি তো।
তোমার সমস্যাটা কী? ও তো এখনো কত ছোট।
আমি চাই না তুমি আর ওর সাথে খেলো।
ও কাউকে না কাউকে তো আহত করেই ছাড়বে।
- বেচারা কালা। ও একটা ঝামেলা। - আমাদের সবার জন্যই।
সুন্দর। পরিবারের অর্ধেকের বেশিকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলে।
ঘুরেফিরে সেই হাতিদের মতো তান্ডব শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ওহ, কারচ্যাক থাকলে কী বলতো তা অনুমান করে ফেলেছি।
"তুমি কাউকে না কাউকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলে।"
"ও এখনো ছোট। ও আস্তে আস্তে শিখে ফেলবে।"
"ও কখনোই এই জঙ্গলে বেঁচে থাকতে পারবে না।"
"ও দৌড়াতে পারে না। ও চড়তে পারে না।"
"ও আমাদের সবার জন্যই একটা বিপদ।"
"আর এখন, আমি রাগের সাথে গর্জন করতে চাই।"
আরে, দোস্তো। তুই তো জানিস আমি মজা করছি, তাই না?
জানি।
আমি তোকে নিয়ে মজা করছি না তো। আমি তো কারচ্যাককে নিয়ে মজা করছি।
চলো, ঘুমানোর সময় হয়ে গেছে।
চলো দেখা যাক...
এইতো। কেমন লাগছে? আরামদায়ক না?
অনেক ভালো হয়েছে, মা।
আমি তোর নাক টিপে দিলাম।
- তোমার আঙ্গুল পেয়ে গেছি। - মা, বন্ধ করো তো।
আমি এখন আর ছোট না যে "নাক আর পায়ের আঙ্গুল" নিয়ে খেলবো।
আহ-ওহ। মনে হচ্ছে একটা হারিয়ে গেছে।
হয়তোবা তুমি সেটা লুকিয়ে রেখেছ...
...এখানে। - মা, থামাও তো।
থামাও। না, সত্যিই...
মা, বন্ধ করো এসব।
টারজান, কী হয়েছে?
- টারজান? - আমি একটা ভালো গরিলা না।
আমি যুগোরের হাত থেকে পালিয়ে যেতে পারবো না।
যুগোর? এই নামে সত্যিকারে কোনো জিনিস নেই।
ওগুলো শুধুমাত্র মনগড়া পুরনো ভূতের কাহিনি।
কিন্তু যদি ও আসলেই থাকতো, তাহলে আমাকে ধরে ফেলতো।
আমি একটু বেশিই ধীরগতির।
একটা কথা বলে রাখি, যদি যুগোর কখনো তোমার কাছে আসে,
তাহলে আমি তোমাকে বাঁচাবো। তুমি দেখে নিয়ো।
কিন্তু, তখন তো আমার কারণে তুমি বিপদে পড়ে যাবে।
আমি যদি না থাকতাম তাহলেই সবাই অনেক ভালো হাসিখুশি থাকতো।
আমার সাথে আসো। তোমাকে একটা জিনিস দেখাই।
এই গাছটা আগে নিজে নিজেই এখানে দাঁড়িয়ে থাকতো।
তারপর এর কী হলো?
একদিন এখানে অনেক শক্তিশালী একটা ঝড় হলো,
আর এটা উপড়ে না যাওয়া পর্যন্ত বাতাস বইলো আর অবশেষে গাছটা উড়ে এখানে পড়ে গেলো।
কিন্তু এখন, ঐযে ওখানে দেখো।
এটা হলো এই জঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিশালী গাছ,
কারণ এর অনেকগুলো কান্ড আছে, সবগুলো একসাথে কাজ করছে,
আর একে বিশালাকৃতি প্রদান করেছে।
আর দেখো, কান্ড/গুড়িগুলো কিন্তু দেখতে একরকম না।
কোনোটা পাতলা, কোনোটা চিকন,
- কোনোটা জট পাকানো, কোনোটা সোজা। - আর ঐটা মোটা।
তাই না?
কিন্তু ওরা সবাই মিলে এই গাছটাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে,
এতটা শক্তিশালী যাতে যেকোনো ঝড় সহ্য করার ক্ষমতা থাকে।
একটা পরিবারের মতো।
- আমাদের পরিবারের মতো? - হ্যাঁ ঠিক।
তোমাকে তোমার পরিবারের প্রয়োজন, টারজান, আর তোমার পরিবারকে তোমার প্রয়োজন।
- কারোরই আমার প্রয়োজন নেই। - আমার প্রয়োজন।
আর সবসময়ই প্রয়োজন পড়বে।
এখন, ঐ হারানো আঙ্গুলটা কই?
মা, আমার সবগুলো আঙ্গুলই আছে।
না, আমার তো মনে হয় না। হয়তো ওটা এখানে আছে। অথবা এখানে...
মা, থামো তো।
দাঁত।
বড় ভয়ংকর দাঁতের কাছ থেকে সাবধানে থাকিস।
পালাও! পালাও! যুগোর এসে পড়েছে!
অনেক খেলাধুলা করেছ, টারজান।
তো, আমরা কীসের জন্য অপেক্ষা করছি?
পালাও!
- টারজান! - মা!
না।
কালা।
মা?
মা?
বাকিরা কোথায়?
মা, তুমি কোথায়?
আমি দুঃখিত, কালা।
ও ওখানে ছিল। আমি ওকে প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম।
আর তারপর ও... না।
তোমার কিছুই করার ছিল না।
আমার অনেক কিছুই করার ছিল। আমি ওর জন্য আমার জীবনও দিয়ে দিতে পারতাম।
বেচারি কালা। খুবই ভয়ানক।
ছেলেটা ওকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলো।
আমার বলা উচিত না, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে ও ঐ ছেলেটাকে ছাড়াই একদম ঠিক আছে।
আমার মনে হয় আমরাও ঠিক আছি।
যুগোর!
- হাহ? - দেখো আমি কি পেয়েছি। এটা একটা ছোট্ট পাখি।
- কিন্তু আমি কোনো পাখি নই। - ক্যাগো, দেখ আমি কি পাইছি।
- একটা ছোট্ট পাখি। - হাহ?
হাহ?
দেখছিস না যে আমি নিজে নিজে মজা নিচ্ছিলাম? আরেকটু হলেই আমি...
- এক সেকেন্ড। - হেই!
- উটো, এটা কোনো পাখি না। - ঠিক।
মাথামোটা কোথাকার, এর গায়ে কোনো পালক নেই।
তো কি হইছে, আর আমি এটা প্রমাণ করতে পারবো।
আমরা এটাকে একটা পাহাড়ের উপর থেকে ফেলে দিবো আর যখন এটা উড়তে শুরু করবে,
তখন তুই হবি মাথামোটা।
এরকম করবি না।
আমারে রাগাইস না! আমারে রাগাইস না! আমারে রাগাইস না!
থাম! থাম!
হাসা বন্ধ কর!
আমার ভাইয়ের যখন ঢেকুর উঠে তখন আমার খুব ভালো লাগে।
সেইরকম মজা পাই।
অনেক হইসে।
এইবার তোরে ছাড়মু না।
বাচ্চারা!
- হাই, মা। - হ্যালো, আম্মাজান।
আমার প্রিয় সন্তানেরা, আমার নয়নের মণিরা,
লড়াই ঝগড়া করার ব্যাপারে গান্ডা আম্মু কী বলেছিলো?
- কিন্তু ও আমাকে প্ররোচিত করছিল। - ও আমাকে মাথামোটা বলেছিলো।
ঠোঁট!
একজন আরেকজনের সাথে ঝগড়া করলে আম্মু...
...অনেক দুখী হয়ে যায়!
আম্মুর কথা কানে গেছে?
হ্যাঁ, আম্মু।
একটা বাচ্চা পাখিকে নিয়ে এসব কী পাগলামি করছিলি তোরা?
আমি কোনো পাখি না। আমি একটা গরিলা।
- একটা গরিলা! - আপনাদের মতো।
তাহলে এখন ওরে পাহাড়ের ওপর থেকে ফেলে দেই?
যদি তুমি একটা গরিলা হও, তাহলে তোমার পরিবার কোথায়?
তুমি এখানে এলে কীভাবে?
তুমি বোধহয় ঐ ফাটলের ভেতরে দিয়ে এসেছ।
এখানে ঢোকার এটাই একমাত্র রাস্তা।
পড়ে যাওয়া ছাড়া।
আমি গুলিয়ে ফেলেছিলাম। আমি ঐ দানবটার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলাম।
- আমরা সবাই করছিলাম, সোনা। - দানব?
এটা ঐ ফাটলটাকে পাহারা দেয়, অপেক্ষা করে।
আর শুনেছি যে এটা যদি তোমাকে ধরে ফেলে, তাহলে এটা নাকি তোমাকে খেয়ে ফেলে।
শুনেছি এর নাম নাকি...
- নামটা নিয়ো না, মা। - আমি শুনছি না।
আমার কানের নেটওয়ার্ক গেছে।
...যুগোর।
কিন্তু এ নামের তো কোনো কিছু আসলে নেই...
যুগোর!
এটা আসছে।
যুগোর!
যুগোর!
এইটাই সেই যুগোর! পালা, যুগোর আইতাছে!
আমার গাছ। বের হ।
- কিন্তু আমাকে আপনাকে... - না। চলে যা।
- প্লিজ! - না।
যদি আমি বাইরে থাকি তাহলে যুগোর আমাকে খেয়ে ফেলবে।
তাহলে তোর জন্য বুউউ-হুউউ।
আমাকে আপনাকে সাহায্য করতেই হবে।
করতেই হবে।
মা?
ঠিক আছে, বাবুরা। এখানে আসো, শুয়ে পড়ো।
আমার ছোট্ট দুই বাবুটার জন্য আজকের দিনটা অনেক ক্লান্তিকর ছিল, তাই না?
যুগোর তো আমাদেরকে ডরাইয়া দিছিলো, মা।
ওহ, জানি, সোনা।
- আমি ডরাই নাই। - ডরাই ছিলি।
- ডরাই নাই। - ডরাই ছিলি।
ডরাই নাই।
- মা? - হ্যাঁ, সোনা?
- আমাদেরকে একটা গল্প শোনাও না। - ঠিক আছে।
যদি আমি তোমাদেরকে একটা গল্প বলি, তাহলে তোমরা ঘুমিয়ে পড়বে তো?
হ্যাঁ, আম্মু।
বেশ, তাহলে, দেখি তো।
No comments yet. Be the first to leave one.