The first 200 lines.
স্যার...
- হ্যালো। - হ্যালো।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় আকাশ বসাক
হয়েছে?
হ্যাঁ।
সুগান লেখক
শেষ করে দাও আমায়। মেরে ফেলো।
এভাবে অত্যচার না করে
একেবারেই মেরে ফেলো।
কী বললেন? কে কাকে অত্যাচার করছে?
বোঝার চেষ্টা করুন।
আপনার জন্য ওকে এত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।
বেশ, আপনাকে বুঝতে হবে না।
ও আপনার মেয়ে নয়?
বাবার সাথেই তো থাকো, তাই না?
তাহলে একসাথে আসতে পারো না?
স্ট্যালিন...
এটা তোমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বাইরে দুটো বিয়ে আর রেজিষ্ট্রেশনের জন্য লোকেরা অপেক্ষা করছে।
স্যার, উনি শীঘ্রই চলে আসবেন।
কী যে বলো! দিনের শুরুটা এভাবে হলে একদমই ভালো লাগে না।
আমি সব জানি!
তোমরা সবাই আমার বাড়িটাকে বেচার চেষ্টা করছো।
দাঁড়াও! সুদারকে ফিরতে দাও।
আমার অবুঝ কী করে বলতে পারলে?
সুদারকে বাড়ি আসতে দাও।
জানো না উনি কে?
তাও ওনাকে এভাবে অপেক্ষা করাচ্ছো।
কী ভেবেছো আমরা এখানে বেকার বসে আছি?
সে'ও ঠিক একই কাজটাই করতো।
কীভাবে জানলে? কীভাবে জানলে সুদার হলেও ঠিক একই কাজটাই করতো?
এসব নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। অনু সেখানে আপনার অপেক্ষায় বসে আছে।
আচ্ছা, তোমার বাবার এখানে আসতে আর কতক্ষণ লাগবে?
আমি যাবো না!
- আমি যাবো না! - যা মন চায় করুন।
- বেরিয়ে যাও! বেরিয়ে যাও! - আপনার মেয়েকে আপনিই সামলান।
তোমাদের মুখ দেখতে চাই না আমি। সব ওর জন্য হয়েছে।
সব ওর জন্য রয়েছে!
ওকে বাড়ি ফিরতে দাও। তারপর দেখো ওর কী করি।
আমি কোথাও যাবো না!
আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, অনু। উনি আসতে চাইছেন না।
স্যরি, অনু। জানি না কী বলবো।
তোমার বাবা এই বাড়িটা বিক্রি করতে দেবেন না।
আমি অফিসে যাচ্ছি। ওখানেই দেখা হবে।
আসলে...
বাবা আসবে না।
রেজিষ্ট্রেশন বন্ধ করে দিন।
সবাইকে ঝামেলায় ফেলার জন্য দুঃখিত।
তখনের জন্য কিছু মনে করো না।
ঐ নিবন্ধরক্ষক, ওভাবেই কথা বলে। একটু রগচটা স্বভাবের লোক।
বাবাকে রাজি করানোর চেষ্টা করো। খরিদ্দারের ব্যাপারে ভাবতে হবে না।
আমি তার সাথে কথা বলবো। সে আমার কথা নিশ্চয় শুনবে।
যদি তোমার বাবা রাজি না'ও হয়,
তাও চিন্তা করো না। বিক্রি করার আরও অন্য উপায় রয়েছে।
তোমাকে জানিয়ে দেবো।
চিন্তা করো না। কেমন?
- আচ্ছা। তাই করবো। - বেশ, এখন তাহলে রাখি।
- স্যার, স্যার... - আমার হাতে কিচ্ছু নেই।
স্যার, আপনার সাহায্য পাবো ভেবেই কন্ট্রাক্টটা নিয়েছিলাম।
তোমার সতর্ক হওয়া উচিত।
দোষটা তোমার। মনে হয় কন্ট্রাক্টটা তোমার আর থাকবে না।
এরকম বলবেন না, স্যার। কথা দিচ্ছি আর কোনো সমস্যা হবে না।
কারণ যা হওয়ার তো হয়েই গেছে।
- আমাকে এসব থেকে দূরে রাখো। - স্যার...
পই পই করে বলেছিলাম যেভাবেই হোক তাকে সেখানে নিয়ে এসো।
কোনো ধারণা আছে কতটা লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলাম?
উনিই তো যেতে চাইলেন না। কী আর করবো আমি?
এই কন্ট্রাক্টে নিজের পকেট থেকে টাকা ঢেলেছি।
কেউ সফটওয়্যার হ্যাক করে নিয়েছে।
ঐ মাথামোটা ভেতরে চিৎকার করে যাচ্ছে।
একটা FIR হারালেও এই কন্ট্রাক্টটা আমার হাত থেকে চলে যাবে।
যদি একটা FIR-ও হ্যাক হয়,
তাহলে দেখো ঐ মালারের কী অবস্থা করি!
- কিপটে কোথাকার... - এক্সকিউজ মি।
আমাকে বাঁচাও, অনু।
বারবার বড়াই করে এই কন্ট্রাক্টে সে নিজের পকেট থেকে টাকা ঢেলেছে।
- কোথায় লুকিয়ে আছে? - এখানে।
আসুন, লাটসাহেব!
আপনার উদ্ধৃতি কমে যাওয়ার সময়ই আমার মনে খটকা লেগেছিল।
সেজন্যই ওদের কাজের এত করুণ অবস্থা, স্যার।
ওরা ভাবে কয়েকটা কম্পিউটার দিয়েই স্টার্ট-আপ শুরু করা যায়।
স্যার, এই কাজে ওদের ওপর ভরসা করা সময়ের অপচয় হবে।
বুঝতে পারছি না কী করবো।
হঠাতই সার্ভার ক্র্যাশ হয়ে, সিস্টেম আটকে পড়ে।
ঠিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে...
এটা দেখতে পেলাম!
- ও দশ মিনিটে এটা ঠিক করে দেবে। - ১০ মিনিটা না ছাই!
মনে তো হচ্ছে ও কিছুই করছে না।
পুলিশ স্টেশনের সিসিটিভি হ্যাক করার সাহস কার হলো?
আমাদের হাতে বড় জোর পাঁচ মিনিট রয়েছে।
তারপর আমাদের সফটওয়্যার অচল হয়ে পড়বে, আর সহজেই FIR ফাইলগুলো হ্যাক হয়ে যাবে।
কিছু একটা করো।
স্যার, এক মিনিট।
কোথায় যাচ্ছো?
- সে... - সব জায়গায় তার পিছু পিছু ঘুরবে না-কি?
এটা একটা ম্যানুয়াল হ্যাকিং ডিভাইস।
এটা কেউ এসে এখানে লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছিল।
সাধারণত এই ডিভাইসটা
তাদেরকে আমাদের নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করেছে আর তারপর আমাদের রাউটারে।
ডেটা এন্ট্রির সিস্টেমের মাধ্যমে, এটা হ্যাকারকে আমাদের সুপারকম্পিউটারে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
তো, এই ডিভাইসের মাধ্যমে তারা আমাদের সুপারকম্পিউটারে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল।
ওসব বাদ দাও। আমরা চোরকে বের করতে পেরেছি?
চোর?
আপনার ভাষাতে বোঝাচ্ছি, স্যার।
ধরুন, কোনো চোর বাড়িতে ঢুকে
আলমারি থেকে সমস্ত গয়না চুরি করে নিলো।
তাকে কীভাবে খুঁজে বের করবেন?
মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করবো।
ঐ এলাকার সমস্ত গয়না ও বন্ধকের দোকানে ঢু মারবো।
যদি কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়,
তাহলে সেটা দাগী-আসামীদের লিস্টের সাথে ক্রসচেক করবো।
এবার, ভাবুন যদি চোরটা জানালার বাইরে থেকে চুরি করার চেষ্টা করে,
কিন্তু গয়না অব্ধি তার হাত পৌঁছাল না।
সে গয়না না নিয়েই চলে যায়।
এবার তাকে কীভাবে খুঁজে বের করবেন?
কোনো চুরি না হলে, কোনো প্রমাণও থাকবে না।
তাহলে তাকে কীভাবে খুঁজবো?
একদম।
তো, যখন সে আবারও চুরি করতে আসবে শুধুমাত্র তখনই তাকে ধরা যাবে।
এটাও ঠিক সেরকমই, স্যার।
ওর ফিরে আসার জন্য এখানে অপেক্ষা করতে হবে।
দাঁড়াও।
ওসব বাদ দাও।
ও এখানে এসে ডিভাইসটা লাগিয়ে গিয়েছিল, তাই তো?
এটা নিশ্চয় CCTV-তে রেকর্ড হওয়ার কথা, ঠিক?
CCTV, তাই না?
- প্লিজ চেক করে নিন। - কিন্তু ওটা তো নষ্ট হয়ে গেছে।
স্যার, চিন্তা করবেন না। আমার বন্ধু হারানো ফুটেজগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
ওটা কে ছিল? তুমি, তাই না?
- না। - গাধা!
ও এটা পুনরুদ্ধার করে নেবে, স্যার।
পরেরবার যখন ওরা আবারও হ্যাক করবে,
আমরা ফুটেজগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবো না।
কেউ এখানে ইঁদুরের মতো ঢুকে পড়লে
তাকে ট্রেস করা মুশকিল হবে।
ওদের আসতে দিতে হবে আর তখনই ওদের ধরবো।
পুলিশের ভাষায় বললে,
"অভিযুক্তকে লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা।"
এবার বুঝেছেন?
- ওসব ছাড়ো। আমার কথাটা শোনো-- - মুকিলান, তর্ক থামাও।
ওকে খুঁজে বের করতে পারলে, ধরার চেষ্টা করো।
"ইঁদুর"-টা ফিরে আসলে, যেন পালাতে না পারে।
এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিক আছে, স্যার।
হ্যাকার না ধরা পড়া অব্ধি তারা,
ডেটা এন্ট্রির কর্মচারীদের কাজ করাতে মানা করেছে।
কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে একটা "টেস্ট রান" করতে চায়।
কাজটা শেষ করার জন্য আরও ডেটা এন্ট্রি কর্মীদের ভাড়া করা যায়।
কিন্তু তখন তাদের তো পারিশ্রমিকও দিতে হবে। আমার কাছে কিছু বাঁচবে না।
অনু, তোমাকে কিছু বলছি।
এখনো অব্ধি, কোন বছরের FIR-গুলো আমরা শেষ করেছি?
১৯৯৯।
ওগুলো কবে অনলাইনে আপলোড করতে হবে?
১৬ তারিখে।
আমার একটা বুদ্ধি এসেছে।
মনে হচ্ছে ১৬ তারিখ ও আবারও হ্যাক করবে।
তার আগে, ১৯৮৯ থেকে ২০০৯-র FIR ফাইলগুলো মেইন সার্ভারে
আপলোড করে দাও।
২০১৮ অব্ধি থাকা
কারেন্ট ফাইলগুলো, ব্যাকআপ সার্ভারে আপলোড করো।
কিন্তু কেন?
যখন কেউ এত বড় ঝুঁকি উঠিয়ে
এখানে এসে এতগুলো FIR ফাইলের মধ্যে একটা ফাইলই খোঁজার চেষ্টা করছে,
তাহলে নিশ্চয় ঐ ফাইলটা পাওয়ার জন্য সে মরিয়া হয়ে আছে।
লক্ষ লক্ষ FIR ফাইলের মধ্যে ওর কোনটা লাগবে সেটা আন্দাজ করা সম্ভব নয়।
কিন্তু, তুলনামূলকভাবে, কোনো পুরানো FIR ফাইল হওয়ার সম্ভবনা কম রয়েছে
কারণ কোনো পুরানো FIR-র কপি যেকোনো জায়গাতেই পাওয়া যায়।
ও নিশ্চিত নতুন কোনো FIR খুঁজছে
কারণ, এখনো অব্ধি, ওটা শুধুমাত্র এখানেই পাওয়া যাবে।
সেজন্যই আমি কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না।
বেশ।
তোমার কথা মতোই চলবো।
অনেক সংগ্রাম চালানোর পর, এই কন্ট্রাক্টটা পেয়েছি।
এটা সম্পন্ন না অব্ধি কোনো সমস্যায় পড়তে চাই না।
যা করছো সাবধানে করো। প্লিজ।
এতবার ফোন করছিলিস কেন?
এমন কী দরকার পড়েছে?
পকেট থেকে টাকা ঢেলে একটা কন্ট্রাক্ট পেয়েছিলাম।
সে'ও SI-কে উপহাস করছে।
- কে? - অনু।
আমার চিন্তা হচ্ছে।
আজ সকালে অফিসে একটা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সিসিটিভি ফুটেজও চলে গেছে।
প্লিজ কোনোভাবে এটা পুনরুদ্ধার করতে আমাকে সাহায্য কর।
তারপর হয়তো কালপ্রিটকে হাতে-নাতে ধরতে পারবো।
এটা তো খুবই সহজ। আমি করে দেবো।
ধন্যবাদ, ভাই।
একটা চা দিন, প্লিজ।
এবার, ঔপন্যাসিক গণেশান কিছু কথা শেয়ার করবেন।
এই পৃথিবীতে কেবল দু'জনই, সারাদিন ধরে,
মানুষকে হত্যা করার কথা ভাবে।
প্রথমজন হলো খুনী, দ্বিতীয়জন হলো ক্রাইম নোভেলিস্ট (ঔপন্যাসিক)।
কেবল একটাই তফাৎ রয়েছে।
খুনী সেটাকে করার কথা ভাবে, আর লেখক সেটা নিয়ে গল্প লেখে।
আর সেটাই আমার পরবর্তী গল্পে ফুটিয়ে তুলেছি...
Imai illa Vizhigal
ধন্যবাদ।
গণেশান...
আপনার শুরুর-ধাপের আলজাইমার হয়েছে।
আপনি সেকেন্ড স্টেজে রয়েছে।
No comments yet. Be the first to leave one.