The first 200 lines.
Translated By SARAH IQBAL FUAD ANAS AHMED
Edited By FUAD ANAS AHMED
-মনে নেই তোমার? -সত্যি বলছি, কিচ্ছু মনে নেই আমার।
ভুলেই গেছ তাহলে!
মেরে ফেলো!
ও মা!
কী হলো, জিনসোকা? ঘেমে একদম ভিজে গেছ দেখি!
-আম্মা! -হ্যা, জিনসোকা।
জিনসোকা, দুঃস্বপ্ন দেখছিলে, মনে হয়।
বাবা।
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে বলেছিলাম।
সকালের কাজের জন্য রেস্ট নিতে হবে, বলেছিলাম না?
ইউসোকা!
বাসা পাল্টানো নিয়ে এতটাই এক্সাইটেড ছিল যে
রাতভর ঘুমাতেই পারেনি।
প্রায় চলে এসেছি।
বাবা, লাঞ্চে কী খাওয়া যায়?
আজকে যেহেতু বাসা পাল্টাচ্ছি জাজাংমিয়ন তো খেতেই হবে।
ঠিক বলেছো। জাজাংমিয়ন-ই খাবো!
"ওয়ান হার্ট মুভিং কোম্পানি"
প্রথমবারের মতো আমাদের নতুন বাড়িতে এলাম।
আগে কখনোই দেখিনি।
তবুও কোনো এক অজানা কারণে, বাড়িটাকে আমার খুব পরিচিত মনে হচ্ছে!
যেন, চোখের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা
বাড়িটার সাথে আছে আমার সুদীর্ঘ অতীত!
কেমন অদ্ভুত এক অনুভূতি!
কী ব্যাপার? পছন্দ হলো?
বললাম, কেমন লাগছে? এমন বাড়িই তো চেয়েছিলে না?
ছোটবেলা থেকেই আমার ভাই ছিল
ক্লাসের সেরা ছাত্র।
দেশের শীর্ষ এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশনও করেছে।
ছোট থেকেই সবখানে তার মেধার পরিচয় দিয়ে এসেছে!
প্রতিযোগীতাপূর্ণ মনোভাব আর
অসাধারণ রিফ্লেক্স প্রতিটি খেলায় ওকে করে তুলেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী!
এছাড়াও ওর অন্যান্য গুণ তো আছেই!
আমাদের ঘরের কিছু নষ্ট হলে, আর মিস্ত্রি ডাকা লাগতো না বললেই চলে!
-সিগারেট-মদ কোনো নেশাই নেই ওর! -ঠিক হয়ে গেছে!
ওর কথাবার্তাতেও শালীনতার ছাপ স্পষ্ট। কখনো কোনো বাজে শব্দ শুনেছি বলেও মনে পড়ে না।
যুক্তিবাদী হলেও, ওর রসবোধ কিন্তু কোনো অংশে কম না।
সবাই যেমন ওর প্রশংসা করে, তেমনি কিছুটা হিংসেও হয়তো করে।
আর আমি তো ওর মস্ত বড় ভক্ত!
না, সত্যিই ওর ভক্ত না হয়ে পারা যাবে না।
এত এত পড়ালেখার চাপে মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ি আমি,
আর ওই আমার জীবনের একমাত্র বিষয় যা নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করতে পারি আমি!
ইউসোকা
ওহ, মা, আমার কাছে দাও।
বছরখানেক আগে,
এক গাড়ি দুর্ঘটনায় বাম পায়ে ব্যথা পেলেও,
আমার আর আমার পরিবারের কাছে
এখনও ও সেই পারফেক্ট সুপারহিরো!
-দরজার হাতলে লাগবে, সাবধান। -কোথায় নামাবো এটা?
ওহ, এটা। লিভিং রুমের মাঝখানে রাখো।
-আচ্ছা। -এদিক দিয়ে আসো।
ঐ পিলারটা দেখছ?
-পিলারের ওদিকে রাখো। -শিওর।
অল রাইট। ওয়ান, টু
-প্লিজ একটু সাবধানে রাখবেন সবকিছু। -আচ্ছা।
এটা কোথায় রাখবো?
ওহ, এই বক্সে তো বই আছে, না? আমার কাছে দিন।
ওকে...
ইউসোকা
আলাদা রুম পাওনি তুমি?
ওহ, এখনো জানো না তাহলে?
উপরের ছোট রুমটাতে আগের মালিক কিছু জিনিসপত্র ফেলে গেছে।
আমাদের বাড়িতে আমাদের রুম দখল করে রাখবে?
না, তেমন কিছু না।
শুনলাম, বাবাকে খুব করে অনুরোধ করেছে।
আর বাবা তো মাটির মানুষ। মানাও করতে পারেনি।
কয়দিনের মধ্যেই হয়তো খালি করে দিবে।
মনে হচ্ছে, আমার সাথে রুম শেয়ার করতে চাও না।
হ্যা, তা তো অবশ্যই।
জানতাম। জানতাম আমি।
মজা করছিলাম। এমনিই কৌতূহল জাগল।
ইউসোকা
-হ্যা, মা। -এখানে এসে একটু সাহায্য করো আমাকে?
আসছি আমি।
পাজি!
মাথায় মারতে মানা করেছি না? বুদ্ধি কমে যাবে তো!
থাকলে তো কমবে!
-এক্সকিউজ মি। -জি?
এসব কোথায় রাখবো?
-ওহ, এসব... খাটের পাশেই রেখে দিন। -আচ্ছা।
-ব্যথা পেয়েছেন? -না না।
ওহ, খোদা!
-থ্যাংক ইউ। -সমস্যা নেই। আমাদেরই তো বাড়ি।
আচ্ছা, একটা কথা বলি। মাত্র নিচে গেলেন যে, উনি আপনার বড় ভাই?
হ্যা, কেন?
আপনার বড় ভাই?
জানি। আমাদের চেহারায় মিল কম, তাই না?
বয়স কত উনার?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন? -এক্সকিউজ মি?
আপনাকে রান্নাঘরে ডাকছে।
ওহ, আচ্ছা।
ওহ, খোদা!
গেলাম রে বাবা, মরে গেলাম রে!
এই নাও, জিনসোকা।
কেমন লাগছে বলো তো বাড়িটা? পছন্দ হয়েছে?
আর কতবার বলবো, মা?
সত্যি? সত্যিই পছন্দ হয়েছে?
-আসলে... -মা, ওর সত্যিই পছন্দ হয়েছে।
শুধু আমার সাথে রুম শেয়ার করতেই ওর যত আপত্তি।
-কী যে বলো না! -বেশিদিন করতে হবে না।
মাসখানেকের মধ্যেই আগের মালিক সব জিনিস নিয়ে যাবে।
না না, বাবা, ইউসোকা তো মজা করছিল।
তখন তো ঠিকই মুখের ওপর "হ্যা" বলে দিলে।
কী? কখন?
ভালোই তো হলো। পড়ার সময় কোনো সমস্যা হলে,
সাথে সাথেই ইউসোকাকে জিজ্ঞেস করতে পারবে।
আচ্ছা, বাবা। আগের মালিক কী ধরনের জিনিস রেখে গেছে?
ঠিক জানি না। এই বাসারই জিনিসপত্র হবে হয়তো।
কেমন জিনিস? কোনো আইডিয়া আছে?
আচ্ছা, একটা কথা শোনো।
তোমরা কিন্তু ভুলেও ঐ রুমে ঢুকবে না।
উনি আমাকে বারবার করে বারণ করে দিয়েছেন।
জিনসোকা। ঠিক মতো ওষুধ খাচ্ছ তো?
হ্যা, আমি কি আর ওষুধ খেতে ভুলি নাকি!
কীসের শব্দ হলো?
কোন শব্দ?
উপর তলা থেকে একটা আওয়াজ এলো।
ভারী কিছু পড়ে যাবার শব্দ, মনে হলো।
বিজলি চমকানোর শব্দ হবে হয়তো।
না, মোটেও না।
এই বরাবর উপরে ঐ ছোট রুমটা না?
হ্যা, রুমটা তো ঠিক উপরেই।
আমার তো বিজলি চমকানোর শব্দই, মনে হলো।
তাহলে তো...
-দেখলে? বললাম না, বিজলি চমকানোর শব্দ। -হ্যা।
কে জানে।
কাল সকাল পর্যন্ত বেশ বৃষ্টি হবে শুনলাম।
উপরওয়ালার দয়া, আমরা উঠে যাবার পরই বৃষ্টি হলো।
তা ঠিক বলেছো।
-খোদা, আগে হলে, কী বিপদটা যে হতো। -একদম।
এত চিন্তার কিছু নেই।
কী নিয়ে?
এবার তো তুমি পাস করেই যাবে।
নতুন বাড়িতে এসে ভালো লাগছে না?
ওহ খোদা।
ঘুম আসছে।
তোমরা কিন্তু ভুলেও ঐ রুমে ঢুকবে না।
-ইউসোকা -তুমি এখানে কী করো?
রুমটা থেকে অদ্ভুত সব শব্দ আসছে।
-অদ্ভুত শব্দ? -হ্যা, অদ্ভুত শব্দ।
-তুমিও শুনেছো, না? -কিছুই শুনিনি আমি।
কিছুই শোনোনি?
আমি তো ঠিকই শুনেছি। এই কয়েক মিনিট আগে।
তুমি আসলে, পড়া ফাঁকি দিতে চাচ্ছো, তাই না?
আরে নাহ।
সত্যিই কয়েক মিনিট আগে রুমটা থেকে অদ্ভুত সব শব্দ আসতে শুনেছি।
আচ্ছা, অনেক হয়েছে।
চলো, বাইরে থেকে একটু হাওয়া খেয়ে আসি।
মানে? বাইরে তো বৃষ্টি হচ্ছে। কোথায় যাবো আমরা?
ছাতা নিলেই হবে।
পাশের বাড়ির মহিলাটা বলল, পাহাড়ের ওপর থেকে শহরটা দেখলে...
দেখো একবার, বৃষ্টি কত সুন্দর!
ইউসোকা
হুমম।
থ্যাংকস।
কেন?
-বলতে ইচ্ছে হলো, তাই। -ভাই রে!
ছেলেমানুষি আর গেল না।
হ্যালো?
হ্যা, বাবা।
হ্যা, এই একটু হাটতে বেরিয়েছি।
আচ্ছা।
ওই জিনিসটা?
আচ্ছা, আমি এসে বের করে দিচ্ছি।
আচ্ছা।
-বাবা? -হুমম।
বাবা একটা কাগজ দরকারি কাগজ বের করে রাখতে বলেছিল।
আমি এখনি চলে আসবো। এখানেই থাকো।
-সমস্যা নেই। আমিও আসি। -না না, ১০ মিনিটের বেশি লাগবে না।
-এখানেই থাকো, আচ্ছা? -ঠিক আছে।
কী সমস্যা ভাই?
ধর শালারে!
ইউসোকা!
-গাড়িতে তোল। -ওহ, খোদা।
ইউসোকা!
ইউসোকা!
07JO8911
"07JO8911"
"07JO8911"
জিনসোকা।
কী হলো?
নিয়ে গেছে। ওরা ইউসোকাকে...
ইউসোকাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে।
-কী হলো, কী হলো জিনসোকা? -জিনসোকা!
Hey.
-জিনসোকা, ওঠো বাবা। জিনসোকা। -এই।
মেরে ফেল।
জিনসোকা, ঠিক আছো বাবা?
মা।
এই তো আমি। কী হলো বাবা?
ইউসোকা... ইউসোকা কোথায়?
এখনও ফেরেনি। ওর কোনো খোঁজ পাইনি এখনো।
ওহ, না।
-পুলিশে খবর দিয়েছ? -হ্যা।
গোয়েন্দারা আসবে একটু পর। তোমার কাছ থেকে পুরো ব্যাপারটা শুনবে।
আচ্ছা।
কারো চেহারা মনে আছে?
না।
No comments yet. Be the first to leave one.