The first 200 lines.
ডোরিয়ান দ্য এল্ডার একবার বলেছিল...
"সত্ত্বার অনুনয়-রত হাহাকারে, মানব অভিজ্ঞতার সবচেয়ে...
"অমীমাংসিত রহস্য হলো নীরবতা।"
"নীরবতা নিহিত উন্মেষে, নীরবতা নিহিত ক্ষণিকের বিধ্বংসী মর্মপীড়ায়।"
নীরবতা নিহিত রয়েছে এরকম নিষ্ঠুর শারীরিক যন্ত্রণায়।
দেখার মতো কাজ করেছ।
তোমার প্রকাশ্য অবাধ্যতা ছিল যথেষ্ট সাহসী পদক্ষেপ।
আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়ত...
দয়া-মায়া-মহব্বত এসব ভুগিচুগি দেখাবে কি না...
তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকত।
দয়া দেখানো লোকগুলো হচ্ছে এক প্রকার ভীতু।
এজন্যই আমি তাঁদের থেকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত।
তোমার ৮ টা আঙ্গুল ভাঙা হবে...
পা থেকে শুরু করো।
আমার রাণীর সন্ধান না দেয়া পর্যন্ত এ অত্যাচার চলতেই থাকবে।
এক জায়গায় মহারাণীর সন্ধান মিলেছে।
কিন্তু ওইখানের মানুষ আমাদেরকে গ্রহণ করবে না।
সর্বোচ্চ গতিতে চললেও কমসে কম একদিন লাগবে।
সবাই যাত্রার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে।
তবে এর আগে আমাদের কিছু সমস্যার সমাধান করতে হবে।
"সমাধান"?
প্রথমে ওই ছোকরাটাকে।
দুইটা শ্যাডোকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য আমি অবশ্যই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।
এখন...
আমি জানতে চাই, সে কীভাবে কাজটা করেছে।
সে-তো আপনার সন্তান নয়।
তা কিন্তু আপনি নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন।
কিন্তু ওর-তো দৃষ্টি শক্তি আছে। তাই না?
হ্যাঁ।
সে জারলামারেলের অন্য আরেকটা বউয়ের সন্তান।
তার প্রাপ্য অবশ্যই এর চেয়ে বেশি কিছু।
ছেলেটার কোন দোষ নেই, ও না থাকলে সবকিছু অন্যরকম হতে পারত।
আমি একজন উইচফাইন্ডার, মাঘরা। আর এই তাবুতে একটা উইচ দাঁড়িয়ে আছে!
এখানে দোষ নিয়ে টানাটানি হচ্ছে না। ওর সাথে আমার কিছু বোঝাপড়া আছে।
অবশ্যই আপনি দোষ নিয়ে টানাটানি করছেন!
সে আমার লোক।
সে আমার প্রটেকশনে আছে, আর আমি হলাম রাজকন্যা।
আর কী সমস্যার সমাধান করতে চান?
যা-ই হোক, তাকে আমার সাথে যেতে হবে।
"আমার সাথে যেতে হবে মানে"?
আমি সৈন্য নিয়ে বেরচ্ছি, আপনাকে এখানে রেখে যেতে পারব না।
অবশ্যই না, আমার পরিবারকে না পাওয়া পর্যন্ত আমি কোথাও যাচ্ছি না।
অনেক দিন হয়ে গেছে, আমার সৈন্য ওদের কোনো খোঁজ পায়নি।
- আপনি কথা দিয়েছিলেন! - খুঁজব বলে কথা দিয়েছিলাম।
আর আমি আমার কথা সর্বোচ্চভাবে রাখার চেষ্টা করেছি।
তাহলে আরও কিছু পাঠান, অনুসন্ধান চলুক।
আমার বা আপনার, কারোরই আর কিছু করার নেই।
ছোকরা...
জীবনে যতগুলো মানুষ খুন করেছি, ততগুলো মানুষ তুমি চোখেও দেখনি।
যদি মনে হয়, দৃষ্টি শক্তি আছে বলে আমাদের ধোঁকা দিতে পারবে...
তাহলে তা আরেকবার ভেবে দেখো।
ঠিক আছে।
এ জায়গাটা-তো জনমানবশূন্য, বিপদাপদও কম।
নিরাপত্তার জন্য কিছু লোক রাখলেই চলবে।
মাঘরা, রাণীর অবস্থা সংকটাপন্ন।
হয়ত তিনি এখন আধ-মরা হয়ে আছেন বা মরেও যেতে পারেন।
ওই রাজ্যের শাসক কে আমরা তা জানি না।
ওই রাজ্যে কোনো শাসক আছে কি না তা-ও জানি না।
কয়েকটা জিনিস আপনাদের পরিবারের শৃঙ্খলাটা পুরোপুরিভাবে নষ্ট করে দিয়েছে।
চরম পর্যায়ের রেষারেষি, মাত্রাধিক ক্ষোভ আর প্রতিশোধের স্পৃহা।
মসনদে কোনো কেইন না বসলে, ওরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
আর উত্তরাধিকার সূত্রে আপনি হলেন পরবর্তী হকদার কেইন।
আপনার পরিবারকে খোঁজার জন্য কিছু শর্ত আরোপ করে যাব,
কিন্তু আপনি যতদূর আগাবেন...
তাদেরকে পাওয়ার সম্ভাবনা ততই কমবে।
ওইখানে লোক রেখে এসেছ-তো?
জ্বী জনাবা, চারজন রেখে এসেছি।
৮ জন রাখলে ভালো হয়।
রেখে এসো।
ওইখানে তোমার কাজটা কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা জানো?
জ্বী, জনাবা।
ওরা আমার জীবন।
জ্বী, জনাবা।
বাবার সাথে তোমার কথা বলা উচিত।
আমার কোনো কথা সে শুনতে চাইবে না।
এজন্যই-তো তোমাকে কথা বলতে হবে।
আমি কেন?
হানিওয়া, প্রথমে কে কথা বলল সেটা কোনো বিষয় না।
এটা সামনে আগানোর ভালো একটা পন্থা।
তোমার মনে হচ্ছে কাজটা সোজা?
হ্যাঁ, সোজা।
সম্ভব হলেই নীরবতা ভাঙার চেষ্টা করবে।
আমরা থামলাম কেন?
আজ রাতে এখানে তাঁবু গাড়ব, তোমার ড্যাড চারপাশ ঘুরতে গেছে।
আর কতটুকু দূর?
আর কদ্দুর যেতে হবে?
স্বপ্নেও ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি জায়গাটা খুঁজে পাব!
সবাইকে গিয়ে এখনই বলছি।
যে রাণী জীবনে কোনোদিন প্রাসাদ থেকে বের হয়নি...
কীভাবে সে একটা দাসী আর চালক নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটাচ্ছে?
আপনার কি মনে হয় এদের কেউ ওর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে?
আমার অনেক কিছুই মনে হচ্ছে।
সেগুলো মনে না করার চেষ্টা করছি।
ওর শত্রু সংখ্যা অনেক।
মুকুট পড়ার সাথে সাথেই বেড়েছে।
মুকুট ছাড়াও অনেক কারণে বাড়িয়েছে।
ও পুরোপুরি আমার মায়ের মতো। আপনি জানেন না সেটা?
ওদের চেহারা, কণ্ঠস্বর, এমনকি শ্বাস নেয়ার ধরনও হুবহু এক।
মা যখন মারা যায়, আমি তখন খুব ছোট। তবুও সব স্পষ্ট মনে আছে।
ওরা দুইজন হুবহু একরকম ছিল।
মা মারা যাওয়ার পর,
যখন প্রতিবার সে আমার পাশে আসত...
তাঁর কণ্ঠ শুনে, তাঁর শরীরে গন্ধে, তাঁর ছোঁয়ায়...
আমি মাঝেমধ্যে কেঁদে দিতাম, যেটা খুব খারাপ লাগত আমার।
আমার মনে হয়, বাবার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটত।
বাবা একটা জিনিস কখনও নিজের মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি, সেটা হচ্ছে...
আমার বোন ভাবত, দুনিয়ার সবচেয়ে দামী জিনিস:
তাঁর জন্মাধিকার।
আপনার কথামতো ওর জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
আসল পরিচয়ে ওকে সম্বোধন করতে পারো। এতে কেউ তোমায় জাদু-টোনা করবে না।
আপনার কথামতো, রাণীর জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
ভালো করেছ।
এখনো নিজের ওজনটা বুঝতে পারনি?
তোমার জিদের কাহিনী শুনেছি, সাথে শুনেছি তোমার আত্ম-নাশকতার কথাও।
কাহিনীগুলো শোনার পর কেমন জানি অদ্ভুত লাগলো, বিশ্বাস হলো না।
কিন্তু এখন...
এখন সে-সব আমার কাছে দেখাবে নাকি নিজের মধ্যেই পুষে রাখবে তা তোমার ব্যাপার।
নাক ডাকার কারণে নাকি তোমার ভালোবাসাকে ঘুমের মধ্যে হত্যা করেছ!
দাসীদের হত্যা করেছ, তাদের গন্ধ সহ্য করতে না পেরে।
তোমাকে যৌন সুখ দিতে না পারায়...
এক কাম-দাসীর জিহ্বাই নাকি কেটে দিয়েছ!
এগুলো নিয়ে কি গর্ব করো, নাকি আলোচনায় থাকতে চাও?
নিয়মটা তোমার ভালো করেই জানা।
ঘণ্টা বাজলে কীভাবে আমরা বুঝব যে তুমি পালাতে চাঁচ্ছ না?
ঘণ্টা বাজলে আমরাও তোমায় একটু বাজিয়ে দেখি।
ঘণ্টা বাজলে, তোমাকেও এর জন্য ভুগতে হবে।
মুক্তিপণ না চুকানো পর্যন্ত,
তুমি আমার কাছে একটা সম্পদের মত, যেটার প্রতি আমার সতর্ক থাকতে হবে।
একটু রিলাক্সে থাকছ না কেন?
তাহলে খাজুরে আলাপ আবার শুরু করা যাক, কী বলো?
আর যাই বলো, কাহিনীটা কিন্তু আমার কাছে চমৎকার লেগেছে।
আরে তোমার ওই এক-পাক্ষিক ভালোবাসা নামক ছলনার কাহিনী আরকি...
তোমার মন ভেঙে যে তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে, ওইটা।
হানিওয়া।
আগে যা কিছু বলেছি...
জানি!
- এটা শুধু... - ঠিক আছে।
- ওই গুহায়... - বুঝতে পেরেছি তো।
আসলেই?
হ্যাঁ।
আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কী ভাবলে?
আমার মনে হয়, তোমার প্রত্যাশার পরিধিটা একটু নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
আমরা আসলে ওর সম্পর্কে কতটুকু জানি?
পুরোদস্ত একটা রাক্ষসে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত...
সে তাঁর বাচ্চাদের ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল।
- আমরা কিন্তু আসল কাহিনী জানি না... - মা এটা চায়নি কখনো।
বাবার প্রসঙ্গ নিয়ে মা'র সাথে কথা বললে প্রতিটা সময় চোখের পানি ঝরিয়েছি।
বাবার প্রসঙ্গ নিয়ে মা'র সাথে কথা বললে প্রতিবারই মা আমাদের নিষেধ করেছে।
আমার মনে হয় এর পিছনে বিশেষ কোনো কারণ আছে, হানিওয়া।
আমাদের কাছে যে কারণটা লুকিয়ে রেখেছে, ব্যাপারটা তোমার কাছে অদ্ভুত লাগেনি?
জানি না আসলে...
মা'র মনে আসলে কী চলছিল।
কিন্তু আমি ভালো করেই জানতাম, মা তাকে ভালোবাসতো।
এর পিছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে।
ঘুমের মধ্যে শুনলে নাকি!
পেঁচা ছিল?
পেঁচা নয়। এটা একটা মানুষ।
আমরা এখন ব্যাডল্যান্ডসে আছি বাবা, ল'লেস ল্যান্ডে।
আর তোমার শরীরটাও ভালো নেই।
আমি ঠিক আছি।
বাচ্চারা জানে?
ওদেরকে কিছু জানানোর দরকার নেই।
ওরা তোমার ভাবনার চেয়েও বেশি চালাক।
হানিওয়া তোমার সাথে কথা বলেছে?
কেন?
ওর কাছে কিছু একটা ছিল...
যেটার কথা সে মুখে বলতে পারছে না...
এটা ওর ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেয়েটা ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
কফুনও ওর দেখাদেখি শুরু করে দিয়েছে।
কিন্তু দুইজনের সমস্যাটা এরকম নয়।
ওদের মধ্যে বিরাট ফারাক। ওদের এখন ভিন্ন ভিন্ন জিনিস দরকার।
মেয়েটার মানসিক অবস্থা, আমার থেকে তোমরাই ভালো বুঝবে।
কী বলতে চাইছ?
প্রথম যখন তোমার সাথে এসেছিলাম, সেটা মনে আছে?
কত ক্ষুব্ধ, ধ্বংসাত্মক ছিলাম আমি!?
কারণ ওই সময় আমি ছিলাম ভীত-সন্ত্রস্ত।
তোমাকে বিশ্বাস করতেও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম...
কীভাবে যে ছাড়া পেয়েছি, তা নিজের মনকেই বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না।
আর তখন আমায় কী বলেছিলে মনে আছে?
বলেছিলাম, আমার আর কোনো জিনিস নষ্ট করলে...
তোমায় ঘুমের মধ্যে মেরে ফেলব।
হ্যাঁ, কিন্তু এরপর...
এরপর কী করেছিলে মনে আছে?
আমার হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত, পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলে।
আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষও যে আছে, বুঝাতে চেয়েছিলে।
হানিওয়ার অবস্থায় প্রায় শেষ।
মা'কে হারিয়ে, আর নতুন বাবার সন্ধানে...
এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সে।
কিন্তু ওর চাহিদা মতো সবকিছুই আমি ওকে দিব।
আর এও বুঝাবো, তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ আছে।
প্যারিস, এটা কী ছিল?
ল্যাভেন্ডারে যাওয়া হচ্ছে না।
আমি মৃত্যুর স্বাদ পাচ্ছি।
কয়েকদিন বা হপ্তাও লেগে যেতে পারে।
মরা মানুষের গন্ধ?
"সামনেই এক নতুন পৃথিবী অনাগত,"
"সেখানে হবে এক নতুন দেবতার উত্থান।"
"প্রবেশ করে দেখা দাও।"
"প্রবেশ করে অন্তর্ভুক্ত হও।"
No comments yet. Be the first to leave one.