The first 200 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ মোঃ জীবন আলী
বাংলা সাবটাইটেলের সাথে উপভোগ করুন টানটান উত্তেজনার একটি দক্ষিণ ভারতীয় মুভি। সাবটাইটেল সম্পর্কিত ভালো-মন্দ ফিডব্যাক জানাবেন এবং ভালো লাগলে সাবসিনে অবশ্যই গুড রেটিং দিতে ভুলবেন না।
≡ Bhala Thandanana ≡ অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ মোঃ জীবন আলী
এক কোটি টাকা।
কাজটা কি?
অপহরণ!
- কাকে? - সেইটা তোমার না জানলেও চলবে।
এই কাজে তোমার সাথে আরও তিনজন লোক থাকবে।
আমরা কাকে অপহরণ করছি? লোকগুলো কারা? আমাদের পরিকল্পনা কি? ... ... ... ... ...
এধরনের কোনো প্রশ্ন করা যাবেনা।
এটা তোমার নিরাপত্তার জন্যই।
আপনি নিরাপত্তার কথা বলতেছেন, বলুন তো আসল বিষয়টা কী?
আবারও বলছি ...
এসব তোমার নিজের নিরাপত্তার জন্যই।
মাত্র একদিনের কাজ,
আর এক কোটি টাকা।
হ্যালো ... হ্যালো, ভাইয়া!
বস, আমরা এখনও কথা বলতেছি, তাই না?
মার্কেটের বাইরে আমি এমন অনেক লোক পাবো, যারা আমার এক কথাতেই কাজটা করে দিবে।
কিন্তু তুমি এমন কাউকেই পাবেনা, যে তোমাকে এক কোটি টাকা দিবে।
এখন তোমার ইচ্ছা!
বি-২৫ এ গাড়িটা পার্ক করো।
গাড়ির ট্রাঙ্ক খোলা রাখো।
পার্সেল না আসা পর্যন্ত গাড়িতেই অপেক্ষা করো।
গাড়ি থেকে নিচে নামার দরকার নেই। গাড়ি চালু করো ...
পরবর্তী চক্র থেকে ডানে মোড় নিবে।
একটা মাটির রাস্তা দেখতে পাবে, সেই রাস্তা দিয়ে যাবে।
তোমার সামনে কি একটি নীল গাড়ি দেখতে পাচ্ছো?
- হ্যাঁ, স্যার। - পার্সেলটা ওই গাড়িতে রেখে দাও।
ভয় পেওনা, সে বেঁচে আছে।
এখন তুমি ওখান থেকে চলে যাও।
তুমি ওখানেই নেমে যাও।
ভাই, গাড়িটা থামান!
ওই নীল গাড়িটা চালিয়ে ওখান থেকে চলে যাও।
নাগার্জুন সাগর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটা পেট্রোল পাম্প পাবে ...
সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করো।
আমরা এখন কনফারেন্স কলে যাচ্ছি। তোমাকে কি বলেছিলাম মনে আছে তো?
হ্যাঁ, অবশ্যই!
তোমার গাড়ির সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে, সে আমাদেরই একজন লোক।
টাকার ব্যাগটা তাকে দিয়ে তুমি ওখান থেকে চলে যাও।
ব্যাগে যদি এক টাকাও কম থাকে ...
তাহলে তুমি তোমার ছেলের লাশও দেখতে পাবেনা।
নাগার্জুন সাগর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটা পেট্রোল পাম্প আছে ...
ওখানে পার্ক করা গাড়ির ট্রাঙ্কে তোমার ছেলে নিরাপদে আছে।
সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে নাও।
অপারেশন সম্পূর্ণ!
আজ রাতে ভারত মিলে এসে তোমাদের যার যার অংশ নিয়ে যাবে।
ওকে!
পরবর্তীতে এরকম কাজ আরও থাকলে অবশ্যই আমাদেরকে বলবেন, স্যার।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ মোঃ জীবন আলী
- এটা ওপেন কর। - ওকে, স্যার।
এইটা না ...
আমি একটা ফটো পাঠিয়েছি, ওইটা ওপেন কর।
ভালোই লাগছে, স্যার।
- এটাই তেমন কাজ হবেনা। - কেন হবেনা, স্যার?
এই ফটোতে কোনো রসকষ নেই।
মৃতদেহে আবার রসকষ!
তুই বুঝবি না ... ফটোশপ ওপেন কর।
- শুভ সকাল! - শুভ সকাল!
এটাই কিছু ধুলো আর রক্ত যোগ কর।
একদম গাঁঢ় রক্ত।
সাইট খোলার সাথে সাথেই, তারা অনুভব করবে যে রক্ত যেন তাদের নিজেদের হাতেই লেগে আছে।
মৃতদেহের ফটো তুলতে তুলতে ...
আপনার চেতনা শক্তি হ্রাস পেয়েছে, মূর্তি স্যার।
আমার কথা বাদ দিন ...
এমপি আনন্দ রায়ের নাম রিপোর্টে কি আপনিই উল্লেখ করেছেন?
ওহ, হ্যাঁ!
এজন্য এমপি স্যার অনেক ক্ষেপে গেছেন।
তার অপকর্মের বিষয়ে লেখাটা জনগণ আগে মিথ্যা ভেবেছিল।
শুনে ভালো লাগলো যে এমপি স্যার এতে ক্ষেপে গেছেন।
যদি কেউ রিয়্যাক্টই না করে, তাহলে লেখার সার্থকতা কোথায়?
রিপোর্টে কি কিছু পেয়েছেন?
- মূর্তি ... - শুভ সকাল, স্যার!
- স্যার! - প্লিজ বসুন!
একজন সাংবাদিক হচ্ছে, বাড়ির সামনে বেঁধে রাখা কুকুরের মতো।
চোঁর দেখে কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করবে ...
কিন্তু বাড়ির মালিক এতে রিয়্যাক্ট করবে কি করবে না? সেটা তার বিষয়।
আমরা সমাজের সে রকমই কুকুর।
অন্যায়ের প্রতি আমাদের আওয়াজ তুলতেই হবে।
আমরা সেটা করতে পারি, স্যার। কিন্তু একটা মেয়ে কেন করতে যাবে?
তারা যদি তার সাথে খারাপ কিছু করে?
আমরা যে সাংবাদিক, সেটা কিভাবে বুঝবো?
গাড়িতে লাগানো স্টিকার (প্রেস) ...
বা এই আইডি কার্ড নয়, মূর্তি স্যার।
এগুলো আমাদের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করে দিলে ...
আমাদের রিপোর্ট করাই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
রিপোর্ট মানেই তথ্য, স্যার।
আর সেই তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাই হলো সাংবাদিকতা।
এটা সাংবাদিকতার পুরাতন সংজ্ঞা। সিলেবাস পাল্টে গেছে ...
বর্তমান সময়ে আমরা যা রিপোর্ট করি, সেটা তাদের বিশ্বাস করানোই হচ্ছে সাংবাদিকতা।
আমাদের শুধু তাদের উপর চাপিয়ে দিতে হবে।
এমপি স্যারের অনেক চ্যালাপেলা আছে, যদি তারা রেগে যায়, স্যার।
যদি তারা আক্রমণের চেষ্টা করে?
চ্যালাপেলার কারণে তো আর আমি-
হাল ছেঁড়ে দিতে পারিনা।
আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতেই হবে, সে যেই হোক না কেন?
ভালো বলেছো।
পরে বুঝবেন মজা!
- হ্যালো! - ম্যাডাম!
সকল স্যোস্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসার দয়ামায়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে রেইড দিতে যাচ্ছে।
আমরা এই মাত্রই জানতে পারলাম।
আমরা এটা আপডেট করেছি।
চান্দু ... ওই মেয়েটা কে?
- জানিনা, স্যার। - যাও গিয়ে দেখো।
ওকে, স্যার!
- মোট ৩৮ লাখ, স্যার। - এক মিনিট দেখবেন প্লিজ!
বাকিটা RTGS - এর মাধ্যমে পাঠিয়েছি।
হ্যালো, ম্যাডাম! কে আপনি?
আমি প্রভা নিউজের শশীরেখা। এখানে কি রেইড চলতেছে? - হ্যাঁ!
- আমি এটা রিপোর্ট করতে এসেছি। - ওহ!
আমি দয়ামায়া অনাথ আশ্রমের কর্মচারী, চন্দ্রশেখর।
আমি একজন হিসাবরক্ষক।
চান্দু ...
প্লিজ বসুন, ম্যাডাম! আমি দুই মিনিটের মধ্যে আসতেছি।
আমাদের কাছে কপিও আছে, স্যার।
- কে সে? - সে একজন সাংবাদিক, স্যার।
- এখানে যে রেইড ... - আস্তে, আস্তে!
সে এই রেইড রিপোর্ট করতে এসেছে, স্যার।
- সে কিভাবে এটা জানলো? - জানিনা, স্যার!
তার কাজ তাকে করতে দিন। আমাদের তো সব হিসাব একদম ক্লিয়ার।
এটা জানাজানি হয়ে গেলে, চেয়ারম্যানের বদনাম হয়ে যাবে।
নেতিবাচক প্রচার কি আমাদের জন্য ভালো? গিয়ে সামলাও তাকে।
শোনো ...
- গিয়ে বলো আমরা তাকে ২৫ হাজার দেবো। - ওকে, স্যার!
ম্যাডাম, আমরা কি নির্জনে গিয়ে একটু কথা বলতে পারি?
কিসের জন্য?
সে আসলেই ভাগ্যবর্তী!
কথা আছে, প্লিজ ম্যাডাম!
প্লিজ আসুন!
আসুন, ম্যাডাম!
প্লিজ আসুন!
- আপনার ফোন নাম্বারটা দিন। - কেন?
- PhonePe or GooglePay? - কিসের জন্য?
আপনি যদি অনলাইনে না নিতে চান, তাহলে আপনার বাসার ঠিকানাটা দিন।
আমি আপনাকে ২৫ হাজার দিয়ে আসবো, একটা কাঁকপক্ষিও জানবে না।
আমার বস শুধু আপনাকে খবরটা গোপন রাখতে বলেছে।
যদি আরও বেশি চান, আমাকে বলতে পারেন।
অফারটা কি ওকে?
অফারের বিস্তারিত কালকে আমাদের ওয়েব সাইটে দেইখেন।
ওয়েব সাইট?
ওয়েব সাইট! স্যার ...
স্যার, স্যার, স্যার ... এক মিনিট শুনুন!
এখানে আসুন।
কি হয়েছে?
আমার ভয় লাগছে মেয়েটা রেইড আর টাকার বিষয়ে রিপোর্ট করতে পারে।
হেই! এভাবে সরাসরি বললে তো রিয়্যাক্ট করবেই।
প্রয়োজনে তার পা ধরে কাঁন্নাকাটি করো ...
তবুও খবরটা যেন বাইরে না যায়। যে করেই হোক ম্যানেজ করো।
- স্যার! - হুমম! - লাভ ইউ ...
অপদার্থ!
টিকটক ও ফ্রি-ফায়ার বর্তমান সমাজের যুবকদের একদম খেয়ে দিচ্ছে।
যা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
- হ্যালো ... হ্যালো! রিসেপশন ওই দিকে। - স্যার, ম্যাডামকে আমি আগে থেকেই চিনি।
আপনি আবার এসেছেন?
দুঃখিত, ম্যাডাম! এমনটা করা উচিত হয়নি।
আপনি চলে আসার পরে ম্যানেজার আমাকে কি বলেছে জানেন?
- তোমার কি কোনো জ্ঞান নেই? - কি?
- তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? - আমি?
ম্যানেজার এসব বলেছে।
ম্যাডাম, প্লিজ!
প্লিজ!
এটা কি?
চারটি শক্তিশালী ইঞ্জিনের হোন্ডা এ্যাক্টিভা।
এক লিটার তেলে এটা ৬০ দিন চলবে।
এমনভাবে চলবে যে,
আপনার মনে হবে আপনি প্লেনে বসে টিকটক করছেন।
আপনি মেয়ে হওয়ায় পিংকি কালার নিয়ে এসেছি। ভাগ্যক্রমে আপনার পোশাকের সাথেও মিলে গেছে।
পিংকি কালার ভালো না লাগলে পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।
- মনে হচ্ছে স্যাটাভাঙ্গা টিকটকার! - এগুলো আবার কি?
এগুলো তার টিকটক করার উপাদান।
- আপনার নাম কি, স্যার? - মূর্তি।
তিনি ঠিক বলেছেন, কিন্তু আমি এগুলো টিকটক করার জন্য নিয়ে আসিনি।
এগুলো বাইকে বাঁধবেন, যাতে কারোর নজর না লাগে।
- কাজ হবে তো? - অবশ্যই!
তার দরকার নেই, আমার সাথে আসুন।
মূর্তি স্যার, আপনিও আসুন।
আসতেছি, ম্যাডাম।
আমাদের একটা ফটো তুলুন।
ওকে, চাবির সাথে পোজ দেন। প্রস্তুত ... একটু হাসো!
- আরও একটা। - আমার Whatsapp - এ পাঠিয়ে দিয়েন।
আমি তাকে দিয়ে দেবো, সে তোমাকে পাঠিয়ে দেবে।
তার আর দরকার হবেনা। কালকে ওয়েব সাইটে দেখে নিয়েন।
কি?
- এটা আমাকে ঘুষ দেওয়ার প্রমাণ। - থামেন ... থামেন।
ম্যাডাম, আমাদের সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই।
- ঝামেলা কইরেন না। - কি বললেন? আবার বলেন।
এই এলাকার কর্পোরেটর (প্যানকেক প্রসাদ), আমাদের ম্যানেজারের ভালো বন্ধু।
আপনি কিন্তু অনেক হুমকি পাবেন!
আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন।
ওকে, তাহলে তার নামেই বড় করে হেডলাইন দিবেন।
হেডলাইন হবে, "প্যানকেক এখন টিকটকে" আর একটা ফটো, প্লিজ!
স্যার! স্যার ... সে বাইকের অফারও ফিরিয়ে দিয়েছে।
আমি আপনার বন্ধু, প্যানকেক প্রসাদের নামও বলেছিলাম।
- এতে কাজ হয়েছে? - না, স্যার! সে আরও রেগে গেছে।
আমি তার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি, সে কাউকেই পরোয়া করেনা।
সে এমপি স্যারের ব্যাপারেও রিপোর্ট ...
আমার কথা শোনো।
এই খবর বাইরে গেলে,
- তোমাকেও বের হয়ে যেতে হবে। - এমন বলবেন না, স্যার!
No comments yet. Be the first to leave one.