The first 200 lines.
অনুবাদক → জিহাদ আহমেদ সম্পাদক → মি. চৌধুরী
কিছু জায়গা আছে
যা দেখে তুমি বলতে পারবে এখন কত সাল!
বিভিন্ন রং বেরংয়ের ফুলের সাহায্যে
ইউকোহামা’তে তুমি যেসকল নৌযান দেখতে পাবে, দেখবে সেগুলো বন্দর অতিক্রম করে যাচ্ছে।
দিনে দিনে এটা বেড়েই চলেছে
যখন টোকিও পুরস্কৃত হয়েছে ৬৪ তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে।
আমাদের ঘর থেকে পপি হিলের প্রায় সকল জায়গা সুন্দরভাবে দেখা যায়।
আসলে এটা...
আমার দাদীর বাড়ি।
কিন্তু যখন আমার বাবা মারা গেলো আর মা আমেরিকা’তে পড়তে চলে গেলো,
তখন থেকে বাড়ির রান্না আর কাপড়-চোপড় ধৌত করার দায়িত্ব সব আমার উপর।
আর আমার ছোটো ভাই বোনদের দেখাশুনা করার।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে,
মনে হচ্ছিলো দেশের সবাই
অতীতের স্মৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছিলো আর নতুনত্বকে বরণ করে নিতে।
কিন্তু আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজি ছিলোনা
অতীতের সব স্মৃতিকে ঝেড়ে ফেলতে।
আর মাঝেমাঝে অতীত ও চায় না আমাদের ছেড়ে চলে যেতে।
শুভ সকাল, উমি।
শুভ সকাল, মিস সায়োরি।
সোরা কি ঘুম থেকে উঠেছে?
তখন কি এটা অলৌকিক ব্যাপার হতো না?
শুভ সকাল।
শুভ সকাল, মিকি। - শুভ সকাল।
কালও কি হাতপাতাল থেকে গভীর রাতে ফিরেছিলে মিকি?
হ্যাঁ, আজ রাতেও আবার যেতে হবে।
তুমি চাইলে, আমার রাতের খাবার থেকে তোমার জন্য কিছুটা রেখে দিতে পারি।
ওহ, এমনটা শুধু তোমার দ্বারাই সম্ভব।
উমিকে ছাড়া আমরা কিইবা করতে পারতাম?
তাকে ছাড়া আমি কি করতে... - হেই আপু, আমার মোজার একদিকে ছিড়ে গেছে।
সেলাই মেশিনের পাশে নিয়ে রেখে দাও।
এই ছেলের মাথার তার ছিড়া আছে!!
আমি কিন্তু সব শুনেছি!
ডিম দুইটা দাও।
তোমার জন্য একটাই যথেষ্ট।
স্কুলে আজ খেলা আছে। দুপুরের খাবার বেশি করে দিয়ে দাও।
তোমার মাথার তার কি আসলেই ছিড়া?
হা-হা
রিকু, আমার ডিমটা নাও। - ইয়েস! ধন্যবাদ।
তোমার এটা নেয়া উচিত মিকি। তার থেকে তোমার বেশি প্রয়োজন।
তোমাদের মধ্যে ডাক্তরটা কে?
যাক। কেউ একজন তো আছে যে আমাকে নিয়ে চিন্তা করে।
হেই! স্যুপটা সুন্দর করে খাও।
কিন্তু আমার এভাবেই খেতে ভালো লাগে।
ওহ, আমাকে ও একটু স্যুপ দিয়ে দাও!
সকালের নাস্তা তৈরি, সাচিকো
এক্ষুণি আসতেছি।
শুভ সকাল, দাদীমা।
শুভ সকাল।
রিকু, তোমার মায়ের প্লেটটা তুমি আর উমি ভাগাভাগি করে খাও।
ধন্যবাদ দাদী।
দাদী, আপনাকে একটু চা করে দিবো?
দাও, চা করলে খুব ভালো হয়।
শুভ সকাল সাচিকো।
সবাইকে শুভ সকাল।
শুভ সকাল।
সবাই এখন শুরু করো।
যথা আজ্ঞা দাদী!
তুমি দেরি করে ফেলেছো।
দেখো, চুলটা ভালো করে আচরাতেই পারিনি।
আমার কাছে তো সেই লাগতেছে!
আমার পেট জ্বলে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার পরেও কি আবার যেতে হবে, মিকি? - হ্যাঁ।
তুমি কিভাবে পারো, আমি এটাই বুঝিনা।
একটু দেখেশুনে।
সবকিছু ঠিকঠাক আছে?
কাল দেখা হবে, উমি।
বিদায় মিকি।
শুভ সকাল। - শুভ সকাল উমি।
তোমাকে পৌছে দিবো উমি?
না, আমি হেটেই যেতে পারবো। - আহ, তরুণী বলে কথা।
টোমোকো, আমার কাপড়-চোপড় গুলো একটু আয়রণ করে দিবে?
অবশ্যই। আমার কাছে ভালোই লাগবে।
ধন্যবাদ।
হেই, দাঁড়াও!
”নীল আকাশ পেরিয়ে অনেকটা দূরে, আজও পতাকা উড়িয়েছো আকাশে।”
বাতাস সেই ভাবনাগুলোকে বয়ে নিয়ে চলে অনেক দূরে
”মিষ্টি মেয়ে, কেনো তোমার ভাবনাগুলোকে তুমি আকাশে উড়িয়ে দাও?”
কনফার্ম তোমাকে নিয়ে। কে প্রতিদিন আকাশে পতাকা উড়ায়?
তোমাকে নিয়ে লেখা চিঠি।
কি এটা?
উমি, এদিকে এসে দেখো এটা।
ওহ! মনে হচ্ছে কেউ একজন সারাক্ষণ তোমাকে অনুসরণ করে।
আমার সন্দেহ হচ্ছে। আমাদের স্কুলের কেউ-ই হবে।
এই ধরনের চিঠি লেখা কারো জন্য-ই কোনা ব্যাপার না।
গনিত ক্লাবের ফাজিলটা!!
সে-ই একমাত্র ফাজিল ছেলে যে, নোংরা ঐ ক্লাবঘরে থাকে।
সবাই দাঁড়াও!
তুমি তাহলে এখানে।
শুভ সকাল।
আমার জন্য একটা সিট রেখো।
নুডলসের অর্ডার কে দিয়েছে?
নবুকো, এদিকে!
অপেক্ষা করার জন্য ধন্যবাদ। - আবারও কি ঝোল-টোল?
তুই আমাকে এটা বলছিস!
আমি বলতেছি তুই কি এনেছিস। আবারও স্যান্ডউইচ, তাইনা।
তাতে কি আসে যায়, আমার স্যান্ডউইচ ভালো লাগে।
উমি, তোমার দুপুরের খাবার সবসময় এতো ভালো হয়!
এটা করা কঠিন না।
তোমাদের উচিত নিজেদের জন্য কিছু তৈরি করতে চেষ্টা করা।
আমি হয়তো এটা কখনোই পারবো না।
আমার এতো সময়-ই নেই!
হেই! - হেই!
তারা এখন আবার কি চায়?
বন্ধুরা, সময় হয়েছে।
আমাদের দালান রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন!!
হেই, সাবধানে।
আহ!
ওহ!
ওয়াও!
তাকে টেনে তোলো!
সে মাত্র... (ল্যাটিন ক্লাবের ছাত্ররা)
ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কাকের মতো করে একটা হাসি দে!
ওহ!
অস্থির ছিলো।
উমি, তুই ঠিক আছিস?
ফাজিল একটা!...
আমি এসে গেছি। - বাড়িতে স্বাগতম।
ওহ, ধন্যবাদ টোমোকো।
আমি সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত!
সব মেকেরেল আজ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
মেকেরেল তো ভালোই।
ভাজি করে খাওয়া যেতো।
আমি তো ভুলেই গেছি, দাদীর সাথে কিছু কথা আছে।
মেকেরেল -> এক ধরনের ছোট সামুদ্রিক মাছ।
দাদীমা?
আমি উমি।
ভেতরে আসো।
চমৎকার। এই বাড়ির সকল কাজ তুমি খুব ভালোভাবে করছো।
শুধু টোমোকো’র কাজ কিছুটা সহজ করার চেষ্টা করছি,
যা তার জন্য অনেক বড় সাহায্য।
কি সব আজগুবি কথা!
আমরা এই জায়গায় না আসলেও তার মতো অনেককেই কাজের লোক হিসেবে রাখতে পারতাম।
বলো আমাকে, তোমার প্রতিদিনের কাজ কি বেশি হয়ে যাচ্ছে?
তোমাকে নিয়ে আমার চিন্তা হয়।
কিন্তু কেনো? আমি আগেই বলেছি, পড়াশোনার পাশাপাশি আমি বাড়ির কাজ করতে পারবো।
উমি,
বিশ্বাস করো, আমি জানি তুমি তোমার বাবাকে কতোটা মিস করো।
কিন্তু প্রতিদিন যখন তোমাকে পতাকা উড়াতে দেখি তখন অনেক কষ্ট হয়।
আশা করি তুমি কাউকে পাবে,
তখন তোমাকে কষ্ট করে প্রতিদিন পতাকা উড়াতে হবে না।
বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। - আসো।
ম্যাম, আজকের সব কাজ শেষ।
ধন্যবাদ, টোমোকো।
মাফ করবেন দাদীমা।
আমাকে রাতের খাবার তৈরি করতে হবে।
খুবই উত্তেজনাকর।
সে সকলের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
শুনেছি অনেক মেয়ে নাকি তার নামে ফ্যান ক্লাব খোলার চিন্তা-ভাবনা ও করতেছে।
কি?
ক্লাবের নাম কি হবে?
সুন কাজামা। সে ইলেকট্রিক্যাল কাজে পটু।
তার বাবা তাহলে একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি!
কি??
মিষ্টি মেয়ে, কেনো তোমার ভাবনাগুলোকে তুমি আকাশে উড়িয়ে দাও?
এভাবে ওয়ালাসিয়ার স্বাধীনতা খর্ব হয়েছিলো...
অটোমান, তুর্কি আর রাশিয়ানদের দ্বারা। আর তারপর সবার লোলুপ দৃষ্টি পড়লো এই রাজ্যের উপর।
এখন প্রশ্ন হলো, সবার নজর কোনো এই রাজ্যের উপর ছিলো?
হেই উমি।
সোরা? কি অবস্থা?
৩০ ইয়েন দিয়ে আমি এটা কিনেছি।
ওয়াও, টাকা অপচয় করার কি সুন্দর মাধ্যম!
তোর কথায় কিছু যায় আসে না।
সে দেখতে খুব কিউট আর আমি তার থেকে একটা অটোগ্রাফ আনতে চাই।
আমার সাথে ল্যাটিন কোয়ার্টার ক্লাব-হাউজে আয়।
হ্যাঁ.. হ্যাঁ?
কি হলো, হ্যাঁ বল।
কিন্তু তুই আমার জন্য যাবি, যাবি না?
আমি জানি তুই যেতে চাস না
কিন্তু আমি যেতে চাই। - ভালো, তবে আমি তো যেতে চাই না।
তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? আমি ঐ পুরোনো ক্লাবঘরে যেতে চাই না।
যাতে তার সামনে গিয়ে নার্ভাস হয়ে না যাই।
ওয়াও, কত সুন্দর ব্যানার!
আ.. হা।
প্রস্তুত?
”ঐতিহ্যের অগ্নিশিখা কখনো নিভিয়ে ফেলো না”
”ল্যাটিন কোয়ার্টার রক্ষা করতে এগিয়ে আসুন”
এধরনের কাজ আগে কখনো দেখছস?
এই যে শুনছেন?
এত কাছ থেকে আমি আগে কখনো দেখিনি!
এটা ১৯৬০ সালের দেখা উজ্জ্বল সূর্য থেকেও সুন্দর
মজা করিস না।
আমি কিন্তু আপনাদের ডেকেছি!
জ্বী? - কিছু বলছিলেন?
আপনাদের বিরক্ত করার জন্য আমি দুঃখিত, আসলে আমি নিউজপেপার অফিসটা খুজছিলাম।
তৃতীয় তলার, প্রত্নতাত্ত্বিক ক্লাবের তিন নম্বর রুম।
ধন্যবাদ।
মেয়েগুলো এখানে কি করতেছে?
কোনো ধারনা নেই।
কি মনে হয়, তারা আমাদের পছন্দ করেছে?
চমৎকার, জায়গাটা দেখে তাদেরকে আমার ভালোই মনে হচ্ছে।
দাঁড়াও!
হাই!
এইযে শুনছেন.. প্রত্নতাত্ত্বিক ক্লাবটা কোনদিকে একটু বলবেন?
উপরে। নির্জণ অবস্থা দেখেই বুঝতে পারবে।
ঠিকাছে, আপনাকে ধন্যবাদ।
যেতে প্রস্তুত?
আ!
আ, অবশেষে!
No comments yet. Be the first to leave one.