The first 200 lines.
সাবটাইটেল রিলিজঃ ৯ নভেম্বর, ২০২১
তো UFO ভূপাতিত হওয়ার পরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল?
আরে না। ভুল বলেছ। দুইজন ছিল না।
তিনজন ছিল।
আমি ভুল বলিনি। দেখো, এভাবে...
এবং এভাবে।
দেখা দাও।
দেখা দাও যা হতে চাও তুমি...
যত স্পষ্টভাবে সম্ভব।
রূপান্তরিত হও!
হ্যুপ!
তোমার হিরো...এখানে।
আমার বাবা একজন হিরো ছিলেন।
আমার জন্ম হওয়ার কিছু মূল্যবান ঘন্টা আগে তিনি মারা যান।
সেদিন, একটা গাড়ি নদীতে পড়ে গিয়েছিল।
বাবা অন্যদের ইমার্জেন্সি কল দিতে বলেন
এবং এরপর নদীর ঠান্ডা পানিতে ঝাপিয়ে পড়েন।
ঠিক আছে... আমি প্রস্তুত।
শ্বেত রক্তকণিকা সব যাও। তোমার সর্বশক্তি দিয়ে দেহের অভ্যন্তরে প্রতিরোধ শক্তি বাড়াও।
হ্যাঁ!
তিনি সেই ডুবন্ত গাড়ির সকল যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
শেষ মেয়েটিকে বাঁচানোর আগ পর্যন্ত
হাল ছেড়ে দেননি।
পরেরদিন, বাবার শরীর নদীর কয়েক কিলোমিটার দূরে পাওয়া যায়।
তার শরীর নদীতে ভাসতে থাকায়, ক্ষতবিক্ষত হয়ে চেনা যাচ্ছিল না তাকে।
যখনই মা বাবাকে নিয়ে কথা বলে, একদম স্কুলের মেয়েদের মতো লজ্জা পায়।
লাজুক এবং উৎফুল্ল।
হিরোরা নিজের জন্য লড়ে না।
ছোট থাকতে, মা আমাকে হিরোদের তিনটা বিধি সম্পর্কে শিখিয়েছে।
হিরোরা কখনও পরাজিত হয় না।
একদিন, আমিও হিরো হব।
আমি আমার বাবার মতো হিরো হব একদিন।
আমি সবসময় এই নিয়ে স্বপ্ন দেখি।
এই স্বপ্নগুলো বোধহয় আমার বাবার থেকে পাওয়া।
এসব প্রতিচ্ছবি কেমন বাস্তব হয়ে উঠছে।
আমি তার শরীরের উত্তপ্ততা, শরীরের শিরায় বয়ে যাওয়া রক্তে অনুভব করতে পারি।
তিনি আমার সাথেই আছেন…
আমার বাবা।
আমার বাবা ছিলেন সত্যিকারের হিরো।
My Blood and Bones in a Flowing Galaxy
অনুবাদ ও সম্পাদনায় মোঃ সায়মুন ইসলাম শুভ
এখানে ফেটেছে দেখেছ…
ত্বক আদ্রতাশূন্য হয়ে যাচ্ছে।
শরীরের জয়েন্ট এর এখানে ভাঁজগুলি মুখের মতো বের হচ্ছে আর বন্ধ হচ্ছে।
নববর্ষের সময়ে রেখে দেওয়া রাইস কেকের মতো,
ত্বক সহজেই শুকিয়ে যায়।
আদ্রতা কমে যেয়ে ফাটল দেখা যায়।
এভাবে চামড়া খসখসে হয়ে যায়।
কার এটা?
আমরা ঝামেলায় পড়ব।
পুরো হাস্যকর ব্যাপার।
এসব থামাও।
এমনি মজা করছিলাম, দুঃখিত।
এই।
ঊম…
তখন যা হলো তা দেখেছি আমি, তোমার সাথে কি সবসময় এমনটা করা হয়?
কোনও স্যারকে বলেছ এই বিষয়ে?
এই, শুনো।
না, আমি…
দুঃখিত।
আমি... দুঃখিত।
পাগলি।
আবারও সে? একেবারে তারছিড়া।
কিয়োসুমি?
কোথায় ছিলে তুমি?
দেরি হয়ে গিয়েছিল, এজন্য ফার্স্ট ইয়ারের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কিন্তু তোমাকে এত হতবিহ্বল দেখাচ্ছে কেন?
একজনকে বুলির শিকার হতে দেখলাম। [বুলি- কাউকে নির্মমভাবে উত্যক্ত/পীড়ন করা। সাবে বুলি বলেই উল্লেখ করা হবে।]
সত্যি?
তাই আমি ওদের থামাতে চেষ্টা করি...
ওহ, ভালো।
কিন্তু এ-কী... এর কোনও মানেই হয় না।
পাগলি?
- পাগলি? - ফার্স্ট ইয়ারের।
কী?
- ওই মেয়েটা। - কোন মেয়েটা?
ওর বোন।
কী?
আমার।
তোমার?
হ্যাঁ। আমরা কথা বলেছিলাম।
বলেছ? তোমার বোনের সাথে?
হ্যাঁ। সে তোমার কথা বলেছে।
একটু পূর্ণাঙ্গ বাক্যে কথা বলো প্লিজ যেন একটু ভালো করে বুঝতে পারি।
কথা বলতে বলতে আমার খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
তুমি যার সাথে এসেম্বলির সময়ে কথা বলেছিলে, ফার্স্ট ইয়ারের অদ্ভুত মেয়েটা।
ওহ, সেই ঘটনাটা।
কী?!
কী? সে তোমার বোন? তোমাদের তো কোনও মিল-ই নেই।
না, ফার্স্ট ইয়ারে আমার বোন পড়ে।
ফার্স্ট ইয়ারের সবাই তোমাকে নিয়ে কথা বলছে।
"থার্ড ইয়ারের একজন ছেলে কুরামোতো হারির সাথে কথা বলেছে।"
তোমাকে ওর থেকে বিরত থাকতে বলেছে ওরা। মেয়েটির মাথায় একটু সমস্যা আছে।
ফার্স্ট ইয়ারের সবাই ওকে ঘৃণা করে।
মেয়েটির নাম কুরামোতো হারি?
এটাই।
হারি…
এটাকি আসলেই কোনও নাম? ইংরেজিতে তাহলে, Kuramoto Needle(কুরামোতো নিডল) নাম হবে।
ওহ।
মনে হয় তার এই নামের জন্যই তার সাথে এমন করছে সবাই।
এটা গ্রেড স্কুল না।
কিন্তু সবার ব্যবহার গ্রেড স্কুলের বাচ্চাদের মতোই।
কাগজে "মর" লেখে রাখে, কী অবিশ্বাস্য কারবার।
তারও আগে, একজন মেয়েটির মাথায় জুতা ছুড়ে মেরেছিল।
ওহহ! কী ভয়ানক। এই মেয়েরা জঘন্য লেভেলের বেয়াদব।
একটা ছেলে মেরেছিল।
ছেলেরাও এমন করছে? অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
এবারের ফার্স্ট ইয়ারের পোলাপান মনে হচ্ছে বেয়াদব টাইপের। দূর্ভাগা মেয়ে।
আর এরপর, আমি ওকে সাহায্য করতে চাইলাম, কিন্তু আমাকেও ভুল বুঝেছে সে।
হ্যাঁ, তোমার জন্য খারাপ লাগছে আমার। এটা আসলে কেন করল বুঝছি না।
যদি পুরো ক্লাসের সবাই-ই ওকে বুলি করে...
এটা অনেক ভয়ানক ব্যাপার, কিন্তু?
হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়।
- আমি ওজাকির কাছে জিজ্ঞেস করছি। - কী বলবে তাকে?
কুরামোতো কোন ক্লাসে আছে?
তুমি ওকে দেখতে যাবে? এই, কিয়োসুমি!
- রিয়োটা, পরবর্তী ক্লাস কোনটা? - অংক।
অংক... তানাকার ক্লাস!
অংক ক্লাসে এত বোরিং লাগে। আমি এই ক্লাস করব না আজকে।
উনি এত বিরক্তিকর।
তুই…
- পড়ে যাস না। - ইশ।
লাথি মার এটাতে।
আসছে তোমাদের দিকে!
সাবধান, বন্ধুরা!
- ইশ... - কেমন মেয়ে ও?
ওহ্, দেখ একে।
ও নড়ছে কিন্তু, সাবধান।
দাঁড়ানোর পরে কেমন গন্ধ আসছে ওর থেকে।
- আসলেই? - সত্যি বলছি।
- সত্যি কেমন গন্ধ! - আসলেই?
নিজেকে হিরো মনে করেন নাকি?
বন্ধু আর কিছুদিন পরই আমরা গ্রাজুয়েট হবো।
দেখো ওদের।
কী ভয়ানক।
অমার্জনীয়।
দুষ্টকে কখনও ছাড় দিয়ো না।
কী করতে চাও তুমি?
এই, কিয়োসুমি!
কীরে ভাই
ভয় পেয়ে গেলে নাকি…
কুরামোতো হারি।
বাদ দাও।
সত্যি? একদম পাগলামি।
- ঠিক? - অসম্ভব।
এরপরে কী হয়েছে?
ইনফো
বোন।
তোমার ছোট বোন?
- তুমি। - আমি?
ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের মধ্যে।
এই, তোমাকে এর আগেও বলেছিলাম...
কথা বলার সময় একটু বিস্তারিত বলতে পারবে কি?
তোমার ডাকনাম "ফ্রি-সেন।"
সংক্ষেপে, "সবসময় ফ্রি থাকা সিনিয়র।"
আমার বোন আমাকে বলেছে।
পুরো হাস্যকর ব্যাপার।
এটাই বলতে এসেছি। বাই-বাই।
আমিও এক সময় ফার্স্ট ইয়ারে ছিলাম।
জুনিয়র হাই স্কুলে ইন্টোভার্ট ছিলাম খুব, তাই হাই স্কুলে সবার সাথে মিলেমিশে কাটাতে চেয়েছিলাম।
আমি ভেবেছিলাম আমি এখানে সহজ-সরল কিছু ছেলেদের সাথে থাকব।
কী? কী চাস তুই?
ভাবতাম আমার কোনও গুণ নেই দেখে, আমার বন্ধু বন্ধু হতে চায়তো না কেউ।
যদি আমার এই বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাকে "বুলিং" হিসেবে দেখতাম,
আর চারপাশের সবকিছু যদি আমার উপর "আক্রমণ" হিসেবে দেখতাম,
তাহলে কোনভাবেই এখন এত সুন্দর স্কুল লাইফ কাটাতে পারতাম না আমি।
ওকে! তোমাকে অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত।
সমস্যা নেই। খিদে পেয়েছে খেতে চলো।
জানতাম না প্রতিদিনই এগুলো করছ।
এমন না যে আমাকে কেউ করতে বলেছে, আমি নিজে থেকেই করছি।
কিন্তু প্রতিদিন…
হ্যাঁ, প্রতিদিনই। ঠিক মেয়েটিকে যেভাবে বুলি করা হচ্ছে।
সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার কারণে আমি কারো আক্রমণের মুখে পড়িনি।
খিদে পেট নিয়ে ধৈর্য ধরে ছিলে, সালাম বন্ধু তোমার পেটকে!
সবার সাথে এত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পেরেছি, এটা ভেবে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।
খুব কমই ওর সাথে কথা বলেছি আমি, কিন্তু আমাদের বন্ধু হওয়া নিয়তি ছিল।
অদ্ভুতভাবে, আমরা আস্তে আস্তে ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছি।
ওর নাম টামারু গেঙ্গু।
আমার বন্ধু বলার মতো মানুষ আছে, আর আমাকেও বন্ধু বলা মানুষ আছে।
হাই স্কুল এর জীবন ভালোই যাচ্ছিল।
একটা চেয়ার নিয়ে এসো!
ওহ, এটা?
কিয়োসুমি, ফার্স্ট ইয়ারের পোলাপান নাকি "ফ্রি-সেন" নাম দিয়েছে তোমার?
"ফ্রি-সেন"? এসব কী? নামটা ভালোই কিন্তু আমার কেমন যেন রাগ হচ্ছে শুনে।
এবারের ফার্স্ট ইয়ারের পোলাপান এত বদ! এদের সমস্যা কী আসলে?
হুম! আমাদের রেস্ট রুমে ফার্স্ট ইয়ারের পোলাপান তখন বললো যেমন..
"এখানে অনেক ভীড়, অন্য কোথাও যেতে পারবেন?"
আমরা আমাদের সিনিয়রদের সাথে এভাবে কথা বলার সাহসও পেতাম না।
- হ্যাঁ, কখনোই না! - জীবনেও পারতাম না!
এক্সকিউজ মি। একটু আস্তে কথা বলবেন প্লিজ?
দুঃখিত।
বিদায়!
- পেট ভরে গিয়েছে একদম। - অনেক খেয়ে ফেলেছি।
দেখলে কেমন আমার বার্গার নিয়ে খেয়ে ফেলল?
দেখা হবে, কিয়োসুমি!
আগামীকাল মানে সোমবারে।
- হ্যাঁ। - বিদায়।
ভাবছি হারি এখন কী করছে।
আজকে শনিবার, কুরামোতো নিডল।
ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি। রেস্টুরেন্টে প্রস্রাব করা উচিত ছিল।
No comments yet. Be the first to leave one.