The first 200 lines.
• অনুবাদ ও সম্পাদনা • আরমান আল মাহমুদ
- ওয়াও! - দেখ, দেখ।
দেখ।
ব্ল্যাক র্যাট স্নেক কোরিয়ার সবচেয়ে বড়ো সাপ।
- ব্ল্যাক র্যাট স্নেক। - দেখ।
- ব্ল্যাক র্যাট স্নেক কী খায়? - ব্ল্যাক র্যাট স্নেক কী খায়?
ব্ল্যাক র্যাট স্নেক খায় ব্যাঙ, চড়ুই, বীবর...
ওহ, মানে ইঁদুর।
- ইঁদুর খায়। - ইঁদুর?
কোরিয়ান লোককথায় ব্ল্যাক র্যাট স্নেক আছে।
- বিশাল না? - হ্যাঁ।
- খুব কালো। - তাই না?
খুব বড়োও।
হ্যাঁ।
- তাই... - দেখ, ইঁদুর।
- ইঁদুর। - সত্যি তো।
- দেখ। - না, না।
না, না।
সাপ ওটাকে খেয়ে ফেললে?
সেই প্রথম...
নিজ থেকে এখানে এসেছিলাম।
একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার ছিল।
তোমার চোখেও কি...
আমি ভিন্ন?
এভাবেই নাকি আমি জন্মেছি।
আমি নাকি...
আলাদা হয়ে জন্মেছি।
• Episode 01 •
ধন্যবাদ!
হ্যালো, আমি। মা কোথায়? ঘুমাচ্ছে?
প্রচন্ডরকম তুষার পড়ছে,
তাই ট্যাক্সি বাসা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেনি।
আর তো কোনো উপায় ছিল না।
নবীন-বরণের ডিনারের মাঝপথে চলে আসতে পারিনি।
না, বাসায় থাক।
কাল তো পরীক্ষা আছে, মনে নেই?
আচ্ছা। এখনই চলে আসছি।
হ্যাঁ।
আপু।
আপু।
বাবু। এতরাতে এখানে কী করছো?
আমাদের গাড়ি না... আমাদের গাড়ি স্লিপ করেছে।
অ্যাক্সিডেন্ট করেছে।
বাবা না...
বাবা কোথায়?
ওখানে।
ওনার কিছু হবে না।
এটা নিয়ে দাঁড়াও একটু।
এইযে, স্যার।
স্যার। স্যার?
আমাকে মারবেন না।
না, প্লিজ।
সাহায্য করো।
প্লিজ থামো।
শেষবারের মতো বলছি।
পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর ট্যাঙ্ক চেক করবে।
মাস্ক থেকে বাতাস বের করে দিবে।
তারপর খুব ধীরে ধীরে নামবে।
পানির তাপমাত্রা অতিমাত্রায় কম।
তাই অনায়াসেই দুর্ঘটনায় পড়তে পারো।
একসাথে থাকবে কিন্তু। বুঝেছো?
আরও একটি মস্তকহীন লাশ মিলেছে।
এবার মিলেছে সাগর থেকে।
ম্যাম!
DNA টেস্ট অনুযায়ী,
লাশটি বিশোর্ধ “সং” পদবীধারী এক মহিলার,
যে কিনা সপ্তাহখানেক আগে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।
বাকি ভিকটিমের সাথে লাশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হাতের চিহ্নের মিল খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
কাজেই, একই খুনির হাতে খুন হয়েছে ধরে নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
এ নিয়ে মানুষকে খুন করে মাথা কেটে নেওয়া
তথাকথিত “হেড হান্টার” এর হাতে খুন হওয়া...
ভিকটিমের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ তে।
হত্যাকাণ্ডের এক বছর পরও,
পুলিশী তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই,
যার দরুন জনসাধারণ ক্ষোভে ভীতসন্ত্রস্ত।
আর সেই কারণে ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সিতে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনে আসতে
রাষ্ট্রপতি ওনার সমস্ত কর্মসূচী বাতিল করেছেন।
রিপোর্টার খাং মুন-জিন, মদু ডেইলি।
রাষ্ট্রপতির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি পরিদর্শন দেখে মনে হচ্ছে এটি...
হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনসাধারণের কঠোর সমালোচনার তোপে
ওনার রেটিং পতন ঠেকানোর একটি চেষ্টা।
তদন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদনের সময়,
অপরাধীকে শনাক্তকরণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার জন্য
পুলিশ সংগঠনের দুর্বল তদন্ত প্রণালীকে দায়ী করেন রাষ্ট্রপতি।
তারপর তিনি ঘোষণা করেন এখন থেকে তদন্তের বিষয়ে সরাসরি তিনি নির্দেশ দিবেন।
এছাড়াও,
জাতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন...
সর্বজনীন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে
একটা উপায় খুঁজবেন।
তো বিষয়টা শিশুর লিঙ্গ পার্থক্য করার মতো?
চমৎকার উপমা।
কীভাবে এটা প্রতিপাদিত হয় যে সাইকোপ্যাথ জিনের টপ এক পার্সেন্টের মধ্যে এর অবস্থান?
দেখো।
চার্লস ম্যানসন,
যে সর্বমোট ৩৫ জনকে খুন করেছিল, অভিনেত্রী শ্যারন টেট'সহ।
এডমন্ড কেমপার,
যে খুন করে মাথা কেটে নিয়ে,
ছয়টি কিশোরী মেয়ের লাশকে ধর্ষণ করেছিল,
সেইসাথে তার দাদা-দাদি আর মাকেও।
টেড বান্ডি।
একজন সিরিয়াল কিলার,
যে খুন করাকে খেলা ভাবতো আর মানুষের মাংস খেতো।
ব্রিটিশ গভমেন্ট এবং FBI এর যৌথ কন্ট্রোল টেস্টের ফলস্বরূপ,
আমার পাওয়া তাদের জিন এবং সাইকোপ্যাথের জিন ছিল...
১০০ পার্সেন্ট হুবহু।
সেখানেই এর শেষ নয়। আজ না হোক কাল,
এমন এক পৃথিবী দেখতে পাবে যেখানে আগাম বলে দেওয়া যাবে
মায়ের গর্ভের বাচ্চাটি...
চার্লস ম্যানসন, এডমন্ড কেম্পার, কিংবা টেড বান্ডি হবে কি-না।
ওয়াও, কিন্তু কীভাবে?
বেশ, আজকে এপর্যন্তই।
- প্রফেসর। - আরও বলুন, প্রফেসর।
- হ্যাঁ, প্লিজ। - আরও বলুন।
হ্যালো?
আচ্ছা।
সরি।
নেক্সট উইকে ক্লাস হবে না। কিছুদিন থাকবো না।
পৌঁছেছে?
বাকি দিন ছুটি নিয়েছে?
এক্ষুণি এখানে নিয়ে আসো।
এটা বাকিসব সাই-ফাই মুভির চেয়েও বেটার।
পাবলিক সেন্টিমেন্ট অন্যদিকে ঘোরাতে দারুণ পন্থা হবে।
যেভাবেই হোক বিলটা পাশ করাতে হবে।
সেটা নির্ভর করছে বিরোধী দলের উপর। পাশ করতে দিবে কি-না নিশ্চিত নই।
ক্ষমতাসীন দল বড়ো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তারা নিশ্চয়ই মরিয়া। তাদের অ্যাপ্রুভাল রেটিং পড়ে গেছে না।
তাছাড়া, এখন শেষ মুহূর্ত।
আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ।
- যেভাবেই হোক তাদের থামাতে হবে। - কীভাবে?
মানবাধিকার নিয়ে তারা ইস্যু তৈরি করবে।
- "মানবাধিকার"? - ইংল্যান্ডেও তারা একই বিল উত্থাপন করেছিল।
তারা প্রস্তাব রেখেছিল সরকার শুধু অপরাধীর নয়, সকল নাগরিকের DNA ডাটা ম্যানেজ করে।
বলেছে অপরাধীর DNA আগাম শনাক্ত করার মাধ্যমে গুরুতর অপরাধ রোধ করবে।
ওরকম উদ্দেশ্যেই ছিল।
- পাশ হয়েছিল? - নাকচ হয়েছিল।
সুধীবৃন্দ, আমাদের ফ্লাইট আর কিছুক্ষণের মধ্যে গিমপো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবে।
সুধীবৃন্দ।
আমরা আর কিছুক্ষণের মধ্যে গিমপো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে...
মানবাধিকার ইস্যুর কারণে মানুষ এর বিপক্ষে ছিল।
নাগরিকদের জীবনের চেয়ে মানবাধিকার বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
আরে, একটা ভ্রূণের আবার কীসের মানবাধিকার?
হ্যালো, স-জুন। মাত্রই পৌঁছলাম।
হ্যাঁ, কাজ শেষ করেই চলে আসবো।
আচ্ছা।
ধন্যবাদ।
ক্রিমিনালটা খুবই চালাক আর সাবধানী।
তাই সবাই ভাবছে অনেকদিন থাকবে।
প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতও ধরে ফেলতে পারি।
ওর মতো সাইকোপ্যাথরা মাঝেমধ্যে খুবই উদ্ধত হয়ে হাস্যকর ভুল করে বসে।
সাইকোপ্যাথ হলো সমাজ বিকাশের ফলে জন্ম নেওয়া রুপান্তরিত জিনের ফসল।
তারা খুব সামান্য পরিমাণে মানব অনুভূতি নিয়ন্ত্রণকারী MAOA জিন নিয়ে জন্মে।
আর সিরিয়াল কিলারে পরিণত হতে পারে এমন টপ এক পার্সেন্ট সাইকোপ্যাথের কথা বললে
তাদের মাঝে MAOA জিন জাতীয় কোনোকিছু নেই।
আমার রিসেন্ট স্টাডি থেকে যা জেনেছি।
তা হলো একটা DNA টেস্ট চালানোর মাধ্যমে সাইকোপ্যাথ জিন শনাক্ত করা সম্ভব।
অন্যভাবে বললে, এর মানে হলো ভবিষ্যৎ সাইকোপ্যাথ, যুদ্ধে বিশ্বাসী,
এবং সিরিয়াল কিলারকে জন্মের আগেই আমরা শনাক্ত করতে পারবো।
এটাই ছিল অ-আক্রমণাত্মক DNA প্রজেক্টের যাবতীয় তথ্য।
আরও তথ্যের জন্য আমার দেওয়া ডকুমেন্টস পড়তে পারেন।
সুতরাং, সরকারপক্ষ একটি বিল পাশের প্রস্তাব রাখছে,
যেখানে DNA টেস্টে সাইকোপ্যাথের জিন নিয়ে কোনো ভ্রূণ জন্মাবে নিশ্চিত করা গেলে...
মা-বাবার সম্মতি ব্যতীতই মাকে গর্ভপাতে বাধ্য করা যাবে।
এই বিল সম্বন্ধে আপনাদের মতামত শুনতে চাই।
প্রস্তাবের সাথে আমি একমত।
সিরিয়াল কিলার হেড হান্টার না জন্মালে,
১৮ জন ভিকটিম কিংবা হয়তো আরও ভিকটিমকে কখনো মরতে হতো না।
তারমানে হিটলার না জন্মালে ২য় বিশ্বযুদ্ধও সংঘটিত হতো না।
ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি এটা যথাযথ একটি বিল,
যা ভবিষ্যৎ অপরাধ ঠেকাতে আমাদের সমাজে প্রয়োজন।
প্রফেসর লি।
এই সাইকোপ্যাথ DNA টেস্ট কি নির্ভুল?
এর নির্ভুলতা প্রায় ৯৯ পার্সেন্ট।
"৯৯ পার্সেন্ট"?
তাহলে বাকি ১ পার্সেন্ট?
ওটা জিনিয়াস জিন।
সাইকোপ্যাথ আর জিনিয়াসদের DNA মিলিয়ে দেখলে,
দুটোর মধ্যে এতই মিল যে আমিও পৃথক করতে পারবো না।
তারমানে হিটলার হতে পারে এমন ধারণা থেকে ভবিষ্যৎ মোজার্ট মারা পড়তে পারে।
আর সিরিয়াল কিলার হতে পারে এমন ধারণা থেকে আইনস্টাইনের মতো জিনিয়াস মারা পড়তে পারে।
এসব ছাড়াও, এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন।
"মানবাধিকার"? কীসের মানবাধিকার?
আরে, একটা ভ্রূণের আবার কীসের মানবাধিকার?
কোরিয়ায় গর্ভপাত করানো বেআইনী।
ভ্রূণকে মানুষের চোখে দেখা হয়, তাই গর্ভপাতকে হত্যা বিবেচনা করা হয়।
আর সেকারণেই আইনের মাধ্যমে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাহলে একটা খুনি জন্ম নিয়ে অসংখ্য মানুষকে খুন করলে?
সেটা ঠিক বলছেন?
একটা ভ্রূণের মানবাধিকার নিয়ে এতই মাথাব্যথা থাকলে, ভিকটিমদের নিয়ে মাথাব্যথা নেই কেন?
ভিকটিমদের নিয়ে এতই মাথাব্যথা থাকলে, হেড হান্টারকে দ্রুত ধরছেন না কেন?
সহজ পথে কেন যেতে চাচ্ছেন?
কী বললেন? এ কথা বললেন?
হ্যাঁ, বলেছি। কোনো সমস্যা?
- খোদা। - এটা কীভাবে সহজ পথ?
- এটাই তো করছেন। - হয়েছে, হয়েছে।
- নিজেকে কী ভাবেন মিয়া? - ঘটে আর কীই-বা আছে?
- হয়েছে। - থামুন।
এরচেয়ে ভালো উপায় আছে?
সভা শেষ করা যাক।
আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিবো বিল পাশ হবে কি হবে না।
সরকারপক্ষ প্রস্তাব রেখেছে DNA টেস্ট বাধ্যতামূলক করে...
No comments yet. Be the first to leave one.