The first 200 lines.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
বাবা... বাবা...
বাবা!
আমাকে একটা গল্প শোনাও না, বাবা।
অনেক রাত হয়ে গেছে বাবু, ঘুমিয়ে পড়ো।
প্লিজ বাবা, শুধু একটা গল্প! - আচ্ছা কালকে শোনাবো।
বাবা, তুমি এই একই কথা গত রাতেও বলেছিলে।
প্লিজ বলো না। বাবা... বাবা...
বাবা, প্লিজ বলো না!
বাবাকে বিরক্ত কোরো না! তুমিও চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।
বাবা... বাবা... প্লিজ বাবা...
বাবু, যাও গিয়ে টিভিতে কার্টুন দেখো। - সারাদিনে অনেক টিভি দেখা হয়েছে!
ওকে একটা গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াও।
বলো না বাবা... প্লিজ বলো।
আচ্ছা...
একদা একটা জায়গায় ছিল এক রাজা...
হ্যাঁ, তারপর ঐ রাজার সাতটা ছেলে ছিল
আর ওরা শিকার করতে গেলো তারপর ওরা সাতটা মাছ নিয়ে এলো,
এটা অনেক পুরোনো গল্প, বাবা!
এই একই গল্প শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছি, বাবা।
আমাকে কোনো নতুন গল্প শোনাও। বাবা, প্লিজ একটা নতুন গল্প বলো না।
কী মাছির মতো কানে ভনভন করছিস... এক মিনিট...
তুমি নতুন গল্প শুনতে চাও, তাই না?
অনেক কাল আগে, একটা শহরে একটা মাছি বাস করতো...
মাছি? আচ্ছা বলতে থাকো...
ঐ জায়গাতেই সেই মাছির সাথে একটা খারাপ লোক বাস করতো...
খারাপ লোক? তার নাম কী ছিল? - সুদীপ!
নিক্ষেপ কর!
এইসব কী? ওখানে বোর্ড মিটিং চলছে আর তুমি এখানে...
বোরিং মিটিং!
অনেক চেষ্টা করেছি!
ঐ অফিসারটা আমাদের কথা মানছে না, ওকে শেষ করে দেই?
সবসময় তোমার মুখ দিয়ে কী খালি খুনখারাবির কথাই বের হয়? - বাহ। আর তুমি যেন খুব শান্তির প্রতীক।
নিক্ষেপ কর!
২ সপ্তাহ! আমাদের হাতে শুধু ২ সপ্তাহ আছে ওখানে যেয়ে কাজটা শেষ করার জন্যে।
নিক্ষেপ কর!
২ সপ্তাহ সময় আছে?
নিক্ষেপ কর!
কোনো প্রকারের সাহায্য লাগবে নাকি?
নিক্ষেপ কর! গুলি মারো!
ধন্যবাদ।
তুমি প্রতিদিনই এখানে আসো? - কেন আসবো নাকি?
কখন? - তুমি যখন পারো তখন!
বিন্দু!
ধন্যবাদ।
কী করছো?
তুমিই দেখে নাও!
বাহ, সুন্দর তো। এটা কী জিনিস?
কোথায় সুন্দর হলো? দুটো হৃদয় বানিয়ে একসাথে লাগানোর চেষ্টা করছি!
কিন্তু কাজটা করে তৃপ্তি পাচ্ছি না।
আমার আর তোমার ভাইয়ার কথা চিন্তা করো, তাহলে সব তৃপ্তি পাবে।
আমি এখানে আর উনি দুবাইতে!
ঘুমোতে যাও, রাত ১০ টা বেজে গেছে!
ভাবি, চার পাঁচটা ঘরেই শুধুমাত্র বিদ্যুৎ নেই।
ইলেকট্রিসিটি অফিসে ফোন করো তো।
আচ্ছা আচ্ছা করছি। ওরা তাদেরই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় যারা সময়মতো বিল পরিশোধ করে।
কী হয়েছে, বন্ধু?
আরে আরে করছিস কী? এটা ঢেলে দিচ্ছিস কেন?
আরে আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি, নানি!
কীরে বন্ধু?
পাগল হয়ে গেলি নাকি?
কী করছিস?
বিন্দু, শুতে যাও, অনেক রাত হয়ে গেছে! - আচ্ছা, ভাবী!
ব্যাটা তুই এখনো হাসছিস?
আরে তুই ২ বছর ধরে ওর পেছনে পাগলের মতো লেগে আছিস!
ও কখনো তোর দিকে একবারও ফিরে তাকিয়েছে?
এত ভেজাল করে ওর রুমে তুই আলোর ব্যবস্থা করলি, ও তোকে একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত বলতে পারলো না?
আরে বোকা, ও তো ওর ভালোবাসার জন্যই এই পর্দাগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
কী? - হ্যাঁ!
ও জানে ও যদি পর্দা না সরায়, তাহলে আমি সারারাত এখানে জেগে ওকে পাহারা দেবো।
অন্ধকার, কুয়াশা, ঠান্ডা, আমি যদি অসুস্থ হয়ে পড়ি তাহলে ওর ভালো লাগবে না।
এই কারণেই, যদিও এটা ওর পছন্দ না, তবুও ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে পর্দা সরিয়ে নিয়েছে।
আহ, হ্যালো।
হাই সুদীপ।
১০ম বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা। - আহ, ধন্যবাদ।
প্লিজ উনাকে ভেতরে নিয়ে যান। - জি স্যার, প্লিজ আসুন।
আমাদের অতিথিদের তালিকায়...
আচ্ছা, আচ্ছা, আমি অবশ্যই আসবো। চিন্তা করবেন না।
শালা আমাদের ফাইলে স্বাক্ষর করতে চায় না কিন্তু আমাদের পার্টিতে ঠিকই আসে!
স্বাগতম স্যার, আসার জন্য ধন্যবাদ। - বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা।
আমার পক্ষ থেকে একটা ছোট্ট উপহার!
পুরোপুরিই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। - ধন্যবাদ, ধন্যবাদ স্যার।
আপনি না আসলে পার্টি অসম্পূর্ণ থেকে যেতো!
তাছাড়া আমার স্ত্রী কলাও এসেছে!
চন্দ্রকলা।
মাফ করবেন।
ইনি হলেন মি. সুদীপ।
নমস্কার! - নমস্কার!
বাহ! আপনার তো বন্দুকের ভালোই সংগ্রহ আছে।
আমার স্ত্রীও শুটিং খেলা খুব ভালোবাসে! - ওহ, তাই নাকি!
আপনি ওকে চাইলে শেখাতে পারেন।
আরে সোনা, উনি তো একজন ব্যস্ত লোক! উনাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না।
না না ম্যাডাম, একদমই না। বরং আমি অত্যন্ত আনন্দিত হবো।
প্লিজ উনাদেরকে ভিতরে নিয়ে যান। - জি অবশ্যই।
এদিকে আয়!
২ টা রেমি মার্টিন।
ব্যাটাকে কীভাবে আমাদের কথায় রাজি করানো যায় সেটা চিন্তা করতে করতে মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল আর তুই...
তুই ওর বউরে পটিয়ে ফেলেছিস?
আরে দুনিয়াতে এমন কোনো মহিলা আছে যে তোর প্রেমে না পড়ে যায়?
একটা আছে!
আমার বউ!
প্রথমবার দেখাতেই ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম আর ওকে প্রাণপণে পেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু পরে আমার নজর পড়ে ওর ধনসম্পত্তির ওপর!
ওকে বিয়ে করে ফেললাম।
তারপর ওকে বললাম ওর সব সম্পত্তি আমাকে দিয়ে দিতে। সে বললো সে মারা যাবে কিন্তু একাজ করবে না!
ওকে ছাড়া, আমি এই দুনিয়ার যেকোনো মেয়েকে পেতে পারি।
যেকোনো!
এখনো এরকম অনেক স্কুল আছে যেখানে আমাদেরকে পড়াশোনার সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে, বিন্দু।
পুরোনো শহরের সরকারি বস্তি স্কুলে ৫০ টা হিন্দি বই সরবরাহ করা হয়েছে।
বালনগর সরকারি স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ড সরবরাহ করা হয়েছে।
ক্লাস ফোর আর ফাইভের জন্য ইংরেজি পাঠ্যবই,
যেটা এই সপ্তাহের মধ্যেই পাঠাতে হবে।
ওদের পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসছে।
ব্যাংকে কত টাকা আছে আমাদের? - ১৫৬০০ রুপি!
চুপ কর তো!
আরে, কার্তিক, ঐ আগারওয়াল সুইটস তো কথা দিয়েছিল যে আমাদেরকে চেক দেবে, তার কী হলো?
ঐ টাকার চেয়ে বেশি টাকা তো আমরা পেট্রোল কেনার সময়েই খরচ করি!
এই কারণেই আমি হাজির!
প্রত্যেক মাসের মতো, এবারও তোমাদের সমস্যা দূর করতে আমি আমার কষ্টে উপার্জিত টাকা দান করছি।
একটা ১৫ রুপির চেক!
ধন্যবাদ।
প্লিজ এই দানের কথাটা গোপন রেখো। আমি খ্যাতি পছন্দ করি না!
ও তাই নাকি? গোপন দান?
এ কারণে তো আমি আমার চেকে স্বাক্ষরও করি নাই!
এইযে ভাই, সাইন ছাড়া চেক দিলে সেই চেক কেউ গ্রহণ করবে না!
মাফ করবেন।
একজন দাতা হিসেবে আমি জানতে চাই গত মাসে আমি যে টাকা দান করলাম,
সেটা তোমরা কী কাজে খরচ করেছ?
তোমার এই ১৫ রুপির দানের জন্য কি আমরা তোমাকে ব্যাংক ব্যালেন্স শিট দেবো নাকি?
এর মুখ এখনই বন্ধ করছি!
তোমার চুল বেঁধে রাখার বদলে এটাকে খুলে রাখলে তোমাকে ভালো দেখাবে।
আমার খোলামেলাই পছন্দ!
যেহেতু তোমার মুখটা খোলামেলা, তাহলে অন্তত তোমার চুলটা তো বেঁধে রাখ!
গাধা। - ধন্যবাদ।
আপনি বলতে থাকুন প্লিজ!
আমরা গত মাসে বই, স্লেট আর খরচা বাবদ ৯০০০০ রুপি খরচ করেছি।
যদি আরো খুঁটিনাটি জানতে চাও...
তোমাকে খুবই সুন্দর লাগছে!
তুমি যখন হাসো না তখনও তোমাকে সুন্দর লাগে!
শুনো, আজ সন্ধ্যায় বান্টি আসছে!
হাই বিন্দু। - আরে ভাবী, তুমি এখানে এলে কী করে?
আমি এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে এসেছি।
সুদীপ কন্সট্রাকশন্স বিপুল পরিমাণে দান করতে যাচ্ছে।
তুই ওদের এমডি এর সাথে তো দেখা করতে পারিস!
উনার সাথে কীভাবে দেখা করবো? - এইতো উনার ভিজিটিং কার্ড।
আমি আমার বসের টেবিল থেকে চুরি করেছি।
ভাবী!
এর বদলে উনার ক্রেডিট কার্ডটা চুরি করলে তো আমরা মোটা অঙ্কের টাকা দান করতে পারতাম!
কিরে এখানে কি প্রেমের আগুন জ্বলছে নাকি?
ওরকম কিছুই হয়নি, তুমি যাও তো।
অডিটর বলছে যে এখানে এত বিশাল পরিমাণ টাকা সিন্দুকে রাখা নিরাপদ হবে না।
এটা হলো সুদীপের রাজ্য! কারোরই সাহস নেই এখানে কিছু করার!
স্যার, প্রোজেক্ট ৫১১ অফিস থেকে একজন আপনার সাথে দেখা করার জন্য এসেছে...
বিনিয়োগকারীদের সাথে একটা মিটিংয়ের ব্যবস্থা করো।
এই প্রেজেন্টেশনটা যেন সেইরকম হয় তার ব্যবস্থা করো।
স্যার একটা জরুরি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন...
স্যার?
ঐ মেয়েটাকে ভেতরে পাঠাও।
এ নিয়ে আমরা পরে আলাপ আলোচনা করবো।
যা ভাগ।
আমি বিন্দু, প্রোজেক্ট ৫১১ এর একজন সমন্বয়কারী...
স্যার, আপনি যদি দয়াপরবশ হয়ে কিছু দান করেন...
বাপরে বাপ! ১৫ লাখ রুপি!
ধন্যবাদ, স্যার!
দান তো করলাম, এখন কি আমি এর সদস্য হতে পারি?
তোমার উদ্দেশ্য আমার পছন্দ হয়েছে।
আমি তোমার সাথে কাজ করতে চাই। - স্যার, বিশ্বাসই হচ্ছে না।
এটা আমার জন্যে খুবই আনন্দের ব্যাপার। - আমার জন্যও।
প্লিজ এটা গ্রহণ করুন, স্যার।
আমাদের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ একটা ছোট্ট উপহার।
এটা কী?
মাইক্রো আর্ট! আমি বানিয়েছি। - ও আচ্ছা। সুন্দর।
আসি, স্যার। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৫ লাখ রুপি? মেয়েটাকে তোর এত পছন্দ হয়েছে বুঝি?
কী হয়েছে, বিন্দু? তোমাকে এত খুশি দেখাচ্ছে কেন?
ঠাকুর সাহেব, আমাদের প্রোজেক্টের জন্য আমরা বিশাল পরিমাণে দান পেয়েছি।
বিশেষভাবে পূজা করুন। - ঠিক আছে।
দেখলি, ও আমার চেকের জন্য পূজা করাচ্ছে।
তোর চেকের মূল্য ১৫ রুপি। পূজা করাতেই তো ২০ রুপি লাগে।
তাই না? অস্থির!
১৫ লাখ?!
কে দান করেছেন? - সুদীপ কন্সট্রাকশন্স এমডি!
সে একবারই ১৫ দিয়েছে, কিন্তু আমি তো প্রতি মাসেই ১৫ দেই।
হে ভগবান...
ভালো কাজের জন্য ঈশ্বরের আশীর্বাদ সবসময় তোমার সাথে থাকবে।
এটা হলো ভগবানের প্রসাদ, এখানকার সকল ভক্তগণের মধ্যে এটা বিলিয়ে দাও।
এইরকম আবালের মতো চেহারা করিস না!
সে তোকে ছাড়া সবাইকে প্রসাদ দিয়েছে এমনকি আমাকেও!
সে আমাকে ছাড়া সবাইকে প্রসাদ দিয়েছে! এর মানে আমি ওর কাছে অনেক বিশেষ কেউ!
ভেবে দেখ।
সর, ব্যাটা!
ও কী বলছে? - ও আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
বাই স্যার!
তুমি বাচ্চাদের জন্য এত কিছু করছো, তাই আমারও তোমার জন্য কিছু করা উচিত।
অনেক দিন পর এভাবে কোনো বন্ধুর সাথে নিজের জীবনটাকে উপভোগ করতে পারছি।
ধন্যবাদ।
যদি কিছু মনে না করো, তাহলে আমি অর্ডার করি? - জি অবশ্যই।
আসো।
এই নানি, দ্বিতীয়টাকে কই রাখবো?
ওখানে! - আরে তুই এসে দেখিয়ে দে!
No comments yet. Be the first to leave one.