The first 200 lines.
কী গুরুজি, ছেলেকে এখন থেকেই পন্ডিতের কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন?
খান্দানী কাজ...
ও না করলে কে করবে?
আরে, বিয়ে-টিয়ে করাও?
অন্তেষ্টিক্রিয়াও করাই।
পানির লোটা দে।
এতক্ষণ ধরে তাকিয়ে কি দেখছিস, হ্যাঁ?
'পন্ডিতজি পানিতে পড়ে গেছে!'
'নৌকা তীরে নিয়ে চলো।'
অনুবাদে - মিস্টার ডেন্টিস্ট
'মৃতা ও মৃতদেহের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে।'
মৃতা কথা বলতে পারে।
জানি আপনারা কী ভাবছেন, কিন্তু এটা কোনো শাব্দ খেলা নয়।
মৃতা হলো অনেকগুলো গল্পের সমাহার
যেটা শ্রুত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
যত বেশি শুনবেন, তত বেশি ওরা বলবে।
আর শীঘ্রই, ওরা নিজেরাই বলে দিবে
ওরা কীভাবে মরেছিল।
- ক্ষমা করবেন, প্রফেসর নায়ের। - জি?
আপনি পূর্বে ফরেনসিকে কাজ করতেন।
তো... সেটা ছেড়ে শিক্ষকতা শুরু করলেন কেন?
সেটা বিষয় নয়, এখানে আমার জীবন নিয়ে কথা হচ্ছে না।
তো, বলছিলাম, মৃতা কথা বলে।
আর এই ভাষাটাই ফরেনসিক সাইন্স।
এটাকে সাইন্স বলে, কিন্তু, এটা সাইন্স ও ধর্মীয় জ্ঞানের
মাঝামাঝি সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়।
সামঞ্জস্য, যেটা বের করার চেষ্টা করছি।
না!
কাম অন, ইয়ার। বন্ধুর চাকরি নির্ভর করছে...
অনেক প্রেশারে আছি, ভাই।
অর্জুন, ৩৫ বছরের বয়সের জন্য অনেক...
...মৃতদেহ দেখে ফেলেছি আমি। অনেক হয়ে গেছে।
তাই? তো এতক্ষণ ক্লাসে কি ফ্যামিলি অ্যালবাম দেখাচ্ছিলি?
- একটা কাজই পারি, কী করবো? - ওকে...
সিঙ্গেল মল্টের এক বোতল হলে কেমন হয়?
- ঘুষ দিচ্ছিস? - ইন্ডিয়ান ইন্ডিয়ানকে হেল্প না করলে কে করবে?
আমেরিকান! ওরাও সমপরিমাণ বেতন পায়!
নাটালির সাথে কথা বল, ওর কাজ বেশ ভালো।
বেশ, কোন কাজে ভালো আসলে?
২-বার ডিভোর্স হয়েছে তোর, ভালো হয়ে যা।
উইলিয়াম মায়ার, ৫৫ বছর বয়স।
বিবাহিত। অন্তত, ছিল।
- শেষবার, ওকে? - ওকে।
বউ রুমে এসেছিল তো এভাবেই পেয়েছিল।
মাইল্ড হাইপোটেনসিভ ছিল।
কোলেস্টেরল লেভেলও উপরের দিকে।
আমরা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সন্দেহ করছি
- কিন্তু বউ মানতে নারাজ। - চলো...
অন্তত তোমার এটা তো মনে হচ্ছে না যে স্ত্রী হত্যা করেছে।
দেখ, স্বাভাবিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে,
হার্ট শরীরে রক্ত সরবরাহ করার জন্য চেষ্টা চালায়।
এদিকের পেরিফেরাল টিস্যুগুলো দেখ, রক্তের স্বল্পতা দেখা যাচ্ছে।
- মানে? - মানে, ওর হার্ট হটাৎ করে বন্ধ হয়েছে।
অদ্ভুত, কারণ ময়নাতদন্তে
পাক-অন্ত্রীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- খাদ্যাভাস কী ছিল এর? - ভেগান।
- টক্সিকোলজি রিপোর্ট? - কাজ চলছে, কিন্তু
স্যাম বলেছে মনে হয় না ওতে কিছু আছে।
মার্ডার।
ওকে। কিন্তু, কীভাবে?
বডি রাইসিন আর অ্যাকোনাইটের জন্য চেক করা, আমার ধারণা অ্যাকোনাইট।
একধরনের দক্ষিণ আমেরিকান উদ্ভিদ। ফল দেখতে অনেকটা মিষ্টি আলুর মতো।
চেক করে দেখ রান্নাঘরে কে এসেছিল... ডেলিভারি বয়, রাঁধুনি যেই হোক।
ওদের মধ্যে কেউ যদি ল্যাটিন হয়ে থাকে ওটাই অপরাধী..
- ল্যাটিন? - এটা দক্ষিণ আমেরিকান উদ্ভিদ, ভাই।
- জিনিয়াস, ম্যান। ধন্যবাদ। - আরেকটা জিনিস।
আমি সিঙ্গেল মল্ট চাই না। এখন বোরবনেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
পেয়ে যাবে, বন্ধু। ধন্যবাদ।
- হাই! - হেই।
আজ আসতে দেরি হয়ে গেল।
অর্জুন এসেছিল, সাহায্যের জন্য।
আশাকরি ওর ব্যর্থ প্রেম-জীবন নিয়ে নয়...
- কারণ তুমিও ওই বিষয়ে জঘন্য। - আসলেই?
আচ্ছা, খাবার রান্নাঘরে আছে।
না, আমার খিদে নেই।
ওকে।
রাখলাম।
এখন বলো, দিন কেমন ছিল?
ভালো।
তোমার? রিয়া ঘুমিয়ে গেছে?
হ্যাঁ, রিয়া ঘুমিয়ে গেছে, আমার দিন ভালো ছিল...
রিয়ার হোমওয়ার্ক করিয়েছি,
ব্যাগ ঠিক করে দিয়েছি,
থালা-বাসন ধুয়েছি, লন্ড্রিও করেছি।
আর কোনো রোমান্টিক কথা বলার আছে?
ভালোবাসি।
আমিও ভালোবাসি।
তো, আজ কী কী করলে?
আমি আর কী করবো?
একই পুরোনো লেকচার,
একই আউল-ফাউল প্রশ্ন
প্রতিদিনের সেই একই বিরক্তিকর জীবন।
নিখিল,
কেন সবসময় চাকরি নিয়ে এমন সংকীর্ণতায় ভোগো?
এটা তো তোমারই পছন্দের ছিল, না?
তুমিই বেছে নিয়েছ, উপভোগ তো করো!
আসলেই, নয়না?
বাদ দাও, এই বিষয়ে কথা বলে বলে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
আসলে, একটা কথা কি জানো? আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছি।
তুমি এখনো আমাকে দোষ দাও?
নয়না, সত্যটা হলো...
আমি নিজের জন্য এই জীবন বেছে নেইনি।
কোনো বলদকে পড়ানো আমার কাজ নয়।
আর, আমার জীবনের প্রতিটা দিন অন্য কারো জীবন কাটিয়েই যাচ্ছি।
- জানো আমার কাজ হলো... - মৃতদেহ!
ওটাই মিস করো তুমি, তাই না?
ওদের আশেপাশে থাকাই তো তোমার পছন্দ।
প্রথমে সি.বি.আই. তারপর এফ.বি.আই.
করো তোমার যেটা পছন্দ,
এমনকি তোমার পরিবারের বিনিময়ে হলেও।
অনেক প্যাচানো বিষয়, তুমি বুঝবে না।
না, নিখিল। প্যাচানো ওটা ছিল...
যখন রিয়া মাত্র ছয় মাসের ছিল...
আর তুমি দশ দশ দিন ঘরের বাইরে থাকতে।
আর আমি একাই রিয়াকেও সামলাতাম, আর নিজের কাজও করতাম।
হ্যাঁ, সেজন্যই তো সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছি, না?
তুমি এখানে কেবল দৈহিক ভাবে আছ, নিখিল।
শুধু শরীরটা এখানে।
- ওভাররিয়্যাক্ট কোরো না.. - তোমার মনটা এখানে একদমই নেই!
- তুমি ওভাররিয়্যাক্ট করছো, নয়না। - অন্তত রিয়্যাক্ট তো করছি...
তুমি? দেখ নিজেকে!
আমি খুশী যে অন্তত তোমার মতো জম্বির জীবন তো কাটাচ্ছি না।
আমার শিক্ষকতা করা আর
- খুশি থাকা, একসাথে অসম্ভব! পাগল হয়ে যাব। - নিখিল!
কী হয়েছে তোমার?
রিয়া পাশের রুমে শুয়ে আছে।
অন্তত... আরে, বাবু।
এখনো ঘুমাওনি? কী হয়েছে?
কোকোর ঘুম আসছে না।
ওও, কোকোর ঘুম আসছে না?
কোনো সমস্যা নেই, মা আর বাবা...
চলো, মা তোমাকে আর কোকো দু'জনকেই ঘুম পারিয়ে দিবে, ওকে?
সমস্যা নেই।
দু'জনেরই শীঘ্রই ঘুমা এসে যাবে।
কিন্তু, কোকো আজ কেন এমন আচরণ করছে?
কারণ সোনা...
কারণ সোনা...
যখন দু'জন লোক একে অপরকে অনেক ভালোবাসে
আর একে অপর থেকে অনেক প্রত্যাশা করে,
তো মাঝেমধ্যে ওদের ভেতর লড়াই হয়ে যায়।
কিন্তু মা, কেন কোকো বাজে আচরণ করছে?
কারণ রিয়া, ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষ বলে কিছু নেই।
কেবল ভালো দিন আর খারাপ দিন আছে।
আর যখন দু'জন লোক একে অপরকে অনেক ভালবাসে
তারা পরস্পরকে বলতে পারে
যে তাদের দিনটা খারাপ যাচ্ছে।
তো, হয়তো কোকোর দিনটা বেশিই খারাপ ছিল।
কিন্তু তোমাকে তো বলেছে, না?
এট অর্থ কোকো তোমাকে অনেক ভালবাসে।
অনেক অনেক বেশি।
এলাকা ঘিরে ফেলো।
ফরেনসিক টিমকে ডাকো।
- এই মাস্ক দেওয়ার মানে কী? - 'হ্যালো! কনট্রোল রুম।'
'ফরেনসিক টিমকে পাঠান। হ্যাঁ, হ্যাঁ, লোকেশন পাঠাচ্ছি।'
'খেলা বেশ রোমাঞ্চকর অবস্থানে।'
- ইয়াক! - রিয়া!
ঠিক আছে, সব ঠিক আছে, রিয়া।
'সিলভার ৩৩, কাম ইন!'
'আরে, ঠিক ভাবে তোলো!'
'ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না। সাবধানে!'
'সাবধানে!'
হায়, রাব্বা!
শালা, ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে
কেবল এটা দেখারই বাকি ছিল।
এমনটা তো আমিও কখনো দেখিনি, স্যার।
এখনো বাচ্চা তুমি।
অনেক কিছু দেখতে পাবে। যাও, কাজে লাগো।
শিট।
দেখে কী মনে হচ্ছে, এর বয়স কত হবে?
স্যার,
এই এলাকা দিল্লি পুলিশের আন্ডারে,
দিল্লি পুলিশের এখতিয়ারে।
আর আমি ভিনোদ চোটারা
মানে দিল্লি পুলিশ নিজে এখানে দাড়িয়ে আছে।
দিল্লি পুলিশ আস্তে কথা বলেন।
- এখতিয়ার বুঝতে হবে আপনার, না? - হ্যাঁ।
পিছে সাহেব দাড়িয়ে আছে না?
- হ্যাঁ। - স্যুট পরে। - হ্যাঁ।
উনি আপনাকে এখতিয়ার বুঝিয়ে দিবেন।
- উনি স্যার? - হ্যাঁ, স্যারেরা স্যুট পরেই থাকেন।
উনার সাথে কথা বলে নিচ্ছি।
কাম অন।
- এই বিষয়ে ওর সাথে পরে কথা বলছি... - এক্সকিউজ মি।
স্যার, আপনার সাথে পরে কথা বলছি। ওকে।
- জি? - স্যার, এই এলাকা
দিল্লি পুলিশের এখতিয়ারে।
আর আপনার টিম আমাদের ইনভেস্টিগেশনের মাঝে
- ইন্টারফেয়ার করছে। - ইন্টারফেয়ার করছে না...
টেক-ওভার করছে।
এটা তো ঠিক নয়।
ডি.পি.এস.পি. আইন, ১৯৪৬, সেকশন তিন...
সীমানা এলাকায়, যেখানে আমরা দাড়িয়ে আছি...
এখানে যে অপরাধই হোক না কেন
সি.বি.আই. সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
হোম মিনিস্টারের মাধ্যমে আপনার কাছে কাগজ পাঠিয়ে দেব।
ঠিক আছে, আপনিই করুন।
যেহেতু এতদূর চলেই এসেছেন,
একটু চায়ের ব্যবস্থা করে দিন।
'অ্যালার্ট! বডি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।'
'প্রজেক্ট ইকুইলিব্রিয়াম, এপিসোড ২১।'
No comments yet. Be the first to leave one.