The first 200 lines.
মুভিঃ এইট অ্যান্ড এ হাফ পরিচালকঃ ফেদেরিকো ফেলিনি
কাউন্সিলর, তাকে ধরে ফেলেছি।
নিচে নেমে আসো।
তাকে নেমে আসতেই হবে।
আগেভাগেই চলে আসলাম।
তা কেমন আছেন?
আমি আপনার অনেক বড় ভক্ত। খুব ভালো লাগছে দেখা হয়ে।
পত্রিকাটা একটু নিলাম।
আপনার টাইপরাইটারটা একটু কাজে নিচ্ছি।
আপনার হাতটা দিন।
চাপমুক্ত রাখুন।
- আপনার বয়স কত? - ৪৩।
এবার সামনে ঝুঁকুন।
আপনার সিনেমার কী খবর? এবারও কি মাঝপথে কাজ থামিয়ে দিবেন?
- ট্রিটমেন্ট কি এই প্রথম নিচ্ছেন? - হ্যাঁ।
দীর্ঘশ্বাস নিন।
ভিতরে আসুন।
থাক, আমি বরং পরে আসি।
আসুন, সমস্যা নেই।
শ্বাস নিন।
আরও গভীর থেকে।
সুপ্রভাত।
একটু সিগারেট ধরালাম।
কাশি দিন।
শ্বাস নিন।
- গল্পটা পড়েছেন? - হ্যাঁ।
শ্বাস নিন।
কেমন লাগল?
কিছু কিছু বিষয় টুকে রেখেছি ; সেগুলো নিয়ে পরে কথা হবে।
আপনার শরীরের রেস্ট দরকার। জামা পরে ফেলুন এবার।
মেয়েটা ভারি মিষ্টি। আমেরিকান, না?
আপনি দেখি বেশ শৌখিন মানুষ।
সুস্থ হয়ে উঠবেন আপনি। ভরসা রাখুন।
নার্স, ৩০০ মিঃলিঃ পানির সাথে,
খালি পেটে ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর তিনটা করে ডোজ দিতে হবে।
- প্রতিদিন কাদাযুক্ত পানিতে স্নান, - কয়টা বাজে?
এরপর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, ১০ মিনিট মিনারেল ওয়াটার-এ থাকতে হবে।
- ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন। - জি, ধন্যবাদ।
স্যার !
স্যার, আপনার গ্লাস।
এইযে এখানে।
- সিনেমা নিয়ে আলাপ করতে চাও? - হ্যাঁ, অবশ্যই।
বেশ। ব্যাস এটুকু বলো, প্রযোজককে রিপোর্টটা দেখাবো কিনা।
ব্যক্তিগতভাবে, আমি চাই না তোমার কোনো ঝামেলা হোক।
দেখান, সমস্যা নেই। আমি নিজেই তো আপনাকে ডেকে এনেছি।
একবার চোখ বুলিয়েই যা বুঝলাম,
ছবির কাহিনীতে যুক্তি এবং দর্শনের বড়ই অভাব ; ভালো হয় যদি...
বসে কথা বলি?
...যার ফলে সিনেমাটাকে কতকগুলো ভিত্তিহীন ঘটনার সমষ্টি মনে হয়।
বাস্তবতার জটিল উপস্থাপনার কারণে খানিকটা উদ্ভটও ঠেকেছে গল্পটা।
গল্পে কী তুলে ধরতে চেয়েছ, সেটা বোঝাই মুশকিল।
চিন্তার খোরাক যোগাতে চেয়েছ? নাকি ভয় পাওয়াতে?
গল্পজুড়ে তোমার কাব্যিক আবহ ধরে রাখার প্রচেষ্টাটা মেকী মনে হয়েছে।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অধঃপতন নিয়ে যদি কারও সন্দেহ থেকে থাকে,
এই জগাখিচুড়ি গল্প পড়ে তার সবটা দূর হয়ে যাবে।
একে এক্সপেরিমেন্টাল গল্পের কাতারেও ফেলা যায় না ;
কারণ তার জন্যও একটা নূন্যতম স্ট্যান্ডার্ড থাকা লাগে।
সমালোচনার বিষয়গুলো টুকে রেখেছি। কাজে দেবে কিনা সন্দেহ।
তুমি আমাকেই কেন বাছলে, সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না ;
এই যুগলবন্দীতে আমাদের কারও ফায়দা হবে বলে মনে হয় না।
একদমই ভুল ধারণা। আপনাকেই তো দরকার আমার।
আসলে, ছবিটা বানানোর স্বপ্ন আমার অনেকদিনের।
২ সপ্তাহের জন্য শুটটা পিছাতে হয়েছে, কারণ -
মেজাবোতা !
একটু আসছি।
মেজাবোতা ! মারিও ! তুমিও এখানে?
গুইদো!
দাঁড়াও, কথা আছে !
মারিও, কী ব্যাপার?
আছো কেমন, গুইদো?
চুল-টুল পাকিয়ে দাদামশাই হয়ে গিয়েছ দেখি, পণ্ডিত সাহেব !
তোমার চুল বুঝি পাকেনি?
এই ছাইপাঁশ খেলে তো তোমার শরীর আরও খারাপ করবে।
ডাক্তার বলেছে, আমার লিভারে নাকি - বাদ দাও। তোমার খবর বলো।
এক সেকেন্ড।
গ্লোরিয়া !
তোমার মেয়ে? বড় হয়ে গেছে দেখি।
- আমার মেয়ে না ও। - একদম যা-তা।
মাছির প্রকোপে বেচারা ফুলগুলো একদম চুপসে গেছে।
জান, এ হচ্ছে আমার বন্ধু -
দুঃখিত। আমার জুতোয় কী যেন বেঁধেছিল।
- গ্লোরিয়া মরিন। - দেখা হয়ে ভালো লাগলো। - কেমন আছেন?
জি ভালো, ধন্যবাদ।
আপনার সম্পর্কে সব জানি আমি। পুপি সারাক্ষণ আপনার কথাই বলে।
আপনার শেষ ফিল্মটা বেশি ভালো লাগেনি বলে আমাদের তো রীতিমত ঝগড়াও হয়েছিল।
ভালো লেগেছিল তো তোমার। উল্টাপাল্টা বকছ কেন?
একটু ড্রিংক করে নেয়া যাক। এসো।
একা এসেছ? স্ত্রী কোথায় তোমার?
- একাই এসেছি। - সেটাই ভালো।
কথাটাকে অন্যভাবে নিও না আবার।
- টিনা আর আমার কথা শুনেছ? - টিনা?
শীঘ্রই আমার আর টিনার ডিভোর্স হবে।
একারণেই আমাদের একসাথে দেখছ। বাগদান হয়ে গেছে আমাদের।
অভিনন্দন।
তো, গুইদো, তোমার সিনেমার কী খবর?
গল্প নিয়ে চিন্তাভাবনার একদম উপযুক্ত জায়গা এটা।
ইনি হলেন রাইটার দমিয়ের। আর ইনি হলেন মিস -
- সরি, আপনার নামটা ভুলে গেছি। - গ্লোরিয়া। - মিস গ্লোরিয়া মরিন।
দেখা হয়ে ভালো লাগলো। আমি আপনার খুব বড় ভক্ত।
খুশি হলাম জেনে।
আপনি কি অভিনেত্রী? কোথাও ছবি দেখেছি আপনার?
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন।
আমার অনেকদিন ধরে অভিনয়ের লাইনে আসার ইচ্ছা।
আসলে, ভয়াবহ রকমের ইচ্ছা,
তবে ইচ্ছাটা এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
দর্শনের ওপর তার ডিগ্রি আছ। আমি মারিও মেজাবোতা।
কোনো ডিগ্রি-টিগ্রি নেই। থিসিস-এর কাজ করছি এখন। গুলিয়ে ফেলো না।
- কোন বিষয়ের ওপর? - তা একটু জটিল।
থিয়েটার জগতে মানুষের আধুনিকতা ও নিঃসঙ্গতা।
বেশ ইন্টারেস্টিং। ঠিক না, প্রফেসর?
গল্পের মাঝপথে মেয়েটার হুট করে হাজির হবার মানে কী?
নায়কের জীবনে নতুন মোড় আসা বোঝাতেই কি মেয়েটাকে এনেছ?
তোমার গল্পের হাজারো প্রতীকীর মধ্যে, এটা সবচেয়ে বোগাস, আর -
এখনও আসেনি দেখছি। যাক, ভালোই হলো।
- ছি ! কেমন আছ তুমি? - আছি কোনোরকম।
- কেউ কি তোমায় চিনে ফেলেছে? - না মনে হয়।
সব লাগেজ কি তোমার?
মাত্র ৫টা সুটকেস। গাউন ভরতে গিয়েই দুনিয়ার জায়গা লেগেছে।
দেখলেই বুঝবে। সব ঠিকমত নিয়েছ তো?
শুধুশুধু কষ্ট করতে গেলে, কার্লা। আড়ম্বরতার সুযোগ পাবে না এখানে।
তুমি তো খুব হাইফাই হোটেলে থাকো। সেখানে নিশ্চয়ই ফ্যাশন শো হবে।
হোটেলে তো ছোটখাটো নাইটক্লাব আছে, না?
- ভদ্রভাবে থেকেছ তো? - হ্যাঁ।
শোনো, আমি কিন্তু আমার হোটেলে তোমার থাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি।
সেখানে সবাই আমাকে চিনে।
তাই তোমার জন্য আরেকটা হোটেল খুঁজে বের করেছি। খুব সুন্দর।
কী বলতে চাইছ?
আর পিছনের ওটার খবর কী?
যাহ্ ! দুষ্টু।
তোমার মুখটা ফ্যাকাশে লাগছে যে। কী হয়েছে?
হোটেলে পৌঁছে গেছি আমরা।
ম্যাডাম, মেহমান এসেছেন।
আগেই বলেছিলাম যে এখানে... এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়।
ক্ষুধা লাগলে বলো ; রুমে স্যান্ডউইচ পৌঁছে দিবে ওরা।
এই জায়গাটা একটু মরা-মরা আসলে।
আরে না, সুন্দর আছে তো।
আমার আসলেই ক্ষুধা পেয়েছে। লাঞ্চ করিনি যে।
হ্যালো, স্যার।
খেলা কেমন এগোচ্ছে?
রুম, বাথরুম - সব রেডি।
চিন্তা করবেন না। কোনো সমস্যা হবে না ম্যাডামের।
ধন্যবাদ। কিছু খাবে তুমি?
- বাথরুমটা? - ওদিকে।
কোনো সমস্যা হলে আমি দেখবো।
ট্রেনটা এত বাজে ছিল। হাতের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।
- আমি আসায় খুশি হয়েছ তো? - অবশ্যই।
- বেশি খুশি না অল্প খুশি? - খুব খুশি।
কি সুন্দর ঘ্রাণ !
আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম যে জামাটা বুঝি কুঁচকে যাবে।
তাই নাকি? চিন্তার বিষয়।
কিন্তু ৩ ঘণ্টার সফরে কাপড়ে একটা ভাঁজও পড়েনি।
কিছু তো বললেও না। পছন্দ হয়নি ড্রেসটা?
ম্যাডাম তো সেই সুন্দরী !
এত মার্জিত।
উনার মাথার ঐ জিনিসটা - ওটা কি প্লাশ-এর তৈরি?
ঠিক ধরেছেন। প্লাশ।
দেখে মনে হচ্ছিল।
ড্রেসটা খুঁজতে গিয়ে দম ছুটে যাচ্ছিল আমার।
কিন্তু আমাকে তো চেনোই। একবার যখন ঠিক করেছি যে কিনবো -
- জেদী ! - দুষ্টু !
গত সপ্তাহ দারুণ একটা কমিক পড়েছি। ওতে একটা ডাইনোসর ছিল -
ধরে যে কি শান্তি লাগছে !
গুইদো, দুষ্টামি কোরো না।
কখন যে কী করো, বুঝি না কিছু !
- ভদ্র ছেলের মত থেকেছ তো? - তা আর বলতে।
আমার কিন্তু ভীষণ ক্ষুধা লেগেছে।
ওহ, আমার বিয়ের আংটিটা।
গুইদো, তুমি যে বলেছিলে ব্যাপারটা দেখবে -
কীসের কথা বলছ?
এইযে - এখন ম্যাডাম আবার উনার স্বামীর প্রসঙ্গ টানবে।
ঠিক না? দেখা যাবে, পণ্ডিত মশাই।
লুইজি বেচারা একদম মনমরা হয়ে গেছে।
আমার স্বামীটা একটু নরম স্বভাবের আসলে।
এমন পরিস্থিতিতে সে খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়ে।
এমন না যে সে বোকা। বরং খুব চালু সে।
এখানে এত গরম।
অনেক তুখোড় আর পরিশ্রমী সে।
ওর খালি একটু সাহায্য দরকার।
এখনও সে জ্বালানীর কোম্পানিতে আগের বেতনে চাকরি করে।
সত্যিই?
পার্সটা নিয়ে খেলা কোরো না। ভেঙ্গে যাবে তো।
পার্সটা খুব প্রিয় আমার। তার দেওয়া এটা।
তুমি ওকে একটা চাকরি যোগাড় করে দাও না।
তোমার তো পরিচিত লোকের অভাব নেই। আগেও তো কতবার বলেছ ব্যাপারটা দেখবে।
আমি তো এ নিয়ে স্বপ্নও দেখেছি।
দেখেছি যে, তুমি ওকে একটা চাকরি যোগাড় করে দিয়েছ ;
কিন্তু সে পরে পাগলামির চোটে আমাদের দুজনকেই মেরে ফেলে।
- কাকে? - আমাকে আর তোমাকে।
মনে আছে তোমার?
বেইলী রোড দিয়ে যাওয়ার সময়, যখন আমি তোমাকে
তোমার স্ত্রীর মতোই আরেকটা টাই এনে নিই?
তুমি আমার নাকি তার দেয়া টাই পরো, সেটা কখনোই বুঝতে পারিনি।
স্বপ্নে আমরা খাটে উলঙ্গ হয়ে একসাথে শুয়ে ছিলাম...
আর সে এসে ঝাড়ু দিয়ে আমাদের দুজনকেই মেরে ফেলে।
ঘরটা আরেকটু অন্ধকার করো।
হয়েছে।
এবার বাইরে যেয়ে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করো,
তারপর এমন ভাব করো যেন অপরিচিত কারও রুমে ঢুকে পড়েছ।
দারুণ আইডিয়া ! নতুন একটা অভিজ্ঞতা হবে।
ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকো। একটু দেখি তোমাকে।
No comments yet. Be the first to leave one.