The first 200 lines.
কুকু, বাইরে চল।
কেন? কী হয়েছে?
ও আবার নয়না'র সাথে বসে আছে।
কী বলছিস!
এই, পড়ালেখা করবি নাকি
দাঁত কেলিয়ে পাশ করবি?
গিয়ে নিজের কাজ কর!
আর বাকি সব ছেলেরা, কান খুলে শুনে নাও,
নয়না'কে কেউ বিরক্ত করবে না।
নয়না....
আমি তোমায় ভালোবাসি।
ভাই, সন্ধা বেলা আন্টি বাসায় চলে আসিস।
ঠিক আছে, চলে আসবো!
নয়না।
- এটা কি পারমানেন্ট? - না।
তবে এটা পারমানেন্ট।
ঠিক আমার ভালোবাসার মতো।
আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। ফ্রিজে মুদিমাল গুলা রেখে দিও!
তোমার নাস্তা মাইক্রোওয়েভে আছে।
আর যেহেতু আজ বুধবার,
তাই ময়লার ব্যাগগুলো নীচে রাখে দিও।
শুভ সকাল।
- শুভ সকাল। - শুভ সকাল।
হেই, জেফ।
যাক, তুমি এসেছো। খিদেয় পেট জ্বলছিল।
- তো, হঠাৎ এই লাঞ্চ কেন? - এমনিই।
সবাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছো, তাই ভাবলাম,কেন নয়?
তুমি নিশ্চয়ই নতুন পজিশন নিয়ে এক্সাইটেড!
- খুবই এক্সাইটেড। - ভালো।
তোমার স্বামী নিশ্চয়ই গর্বিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে যাওয়ার ব্যাপারে তার কেমন লাগছে?
তার সাথে আলোচনা করতে হবে।
ঠিক আছে... এই দুটো?
ঠিক আছে, মেয়েদের উদযাপনের রাত। কেবল মেয়েদের উদযাপনের রাত।
কেবল মেয়ে।
মেয়েদের জন্য ফ্রীতে অ্যালকোহল। আপনি যেতে পারেন।
আসো,আসো,সমস্যা নেই।
আপনি কি মেয়ে?
লাইন থেকে সরে যান। লাইন থেকে সরে যান।
ওহ, কাম অন ম্যান! আমাদের ঢুকতে দাও না!
- এখানে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি। - কালকে এসো,বাবা।
- কালকে। - কালকে?
- কাম অন, ম্যান! - এই....এই!
- আইডি। আইডি লাগবে। - আজ আমার জন্মদিন,কাম অন।
বুঝতে পারছি না। ইংলিশ?
হ্যাঁ...
ঠিক আছে,ভিতরে যান।
না, দেরি হয়ে যাচ্ছে। ভিতরে যান,ভিতরে।
ঠিক আছে, ঠিক আছে, ঠিক আছে।
হে ভগবান!
মেয়েটা বমি করেছে! আসলেই বমি করেছে!
কী অবস্থা হয়েছে দেখো তোমার।
এটাই তোমার কর্মফম। তবে ওটা ঠিক আছে।
তোমার মেয়েদের উদযাপনের রাত উপভোগ করো,ম্যান।
কী একটা জীবন?
জীবনটা এখানে পুরো পঙ্গু হয়ে গেছে।
আমি এলপিইউ থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট করেছি।
- এলপিইউ? - লক্ষ্মী প্রিয়া ইউনিভার্সিটি, পাটিয়ালা।
যাতে আমি এখানে এসে মেয়েদের বমি পরিষ্কার করতে পারি।
রিল্যাক্স।
একটু সময় দে। প্রমোশন পেয়ে যাবি।
আর তারপর কী হবে?
বমি পরিষ্কার জন্য সহকারী পাবো।
এক সেকেন্ড দাঁড়া।
আসলে, আগামীকাল আমাদের বিবাহবার্ষিকী।
নয়না মার্টিনসে একটা টেবিল বুক করেছে।
তুই আসলে খুশি হবো।
ওহ দারুন, অভিনন্দন।
কিন্তু দোস্ত, একটু আগে যদি বলতি।
প্রিয়ার মা আগামীকাল আসছেন।
তাকে চারপাশটা ঘুরে দেখবো।
কিন্তু শোন, তোরা আনন্দ কর।
ভালো সময় কাটুক। পুনরায় অভিনন্দন।
চিয়ার্স।
আমি বিদ্যুৎ বিল রান্নাঘরের কাউন্টারে রেখেছিলাম।
পরিশোধ করেছিলে?
সময় পায়নি, ব্যস্ত ছিলাম।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে, কুকু।
সময় পাওনি বলে কি বলতে চাচ্ছো?
সারাদিন তো বাড়িতে পড়ে থাকো।
সারাদিন বাড়িতে পড়ে থাকি মানে?
রাতে কাজ করে কে?
দিনে গিয়ে দিয়ে আসতে পারতে।
- হ্যাঁ, কিন্তু আমি ক্লান্ত হয়ে যাই... - মাফ করবেন।
কতজন অতিথি আসতে পারে?
একটু সময় দিতে পারবেন, প্লিজ?
- হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। - আমি আপনাকে জানাবো।
কয়েকজন বন্ধুকে দাওয়াত দিয়েছিলাম।
জানি না কোথায় আছে।
- আর তোমার? - সঞ্জয় ও তার স্ত্রী'র শরীর অসুস্থ।
আর অ্যামি মন্ট্রিলে।
শুভ, শুভ, শুভ বিবাহবার্ষিকী, বন্ধুরা!
এটা তোমার জন্য।
হাই,হ্যান্ডসাম,কেমন আছো?
- ভালো আছি। - ভালো।
- নয়না? - হ্যাঁ।
হ্যালো, নয়না! শুভ বিবাহবার্ষিকী!
শুভ,শুভ....
ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ।
ভাগ্যবান মেয়ে, হাহ।
চেয়ার এনে দিন, প্লিজ।
তো,কেমন আছো?
ভালো? আমিও!
দারুন....কত বড়সড় পার্টি!
অনেক লোক এসেছে।
আমার সাথে কাজ করে।
- কুণাল। - বিশাল!
দুঃখিত, বিশাল।
পাগল।
এক গ্লাস মোসকাটো এনে দিন,প্লিজ।
৫ বছর, বন্ধুরা।
মানে, ওয়াও! সিরিয়াসলি।
আধুনিক যুগের দিলীপ কুমার ও সায়রা বানু তো তোমরা দু'জনই।
আর আমাকে দেখো।
এখনও সিঙ্গেল।
- সত্যি? - হ্যাঁ।
জানো, বিয়ের নাম শুনলেই বুকটা ধরফড়িয়ে ওঠে।
আমার বাবা-মা তো পিছনেই পড়ে আছে,
বিয়ে কর, বিয়ে কর।
কিন্তু দ্বিধায় আছি যে...
আমার বিয়ে করা উচিত হবে কিনা।
তোমারা দু'জন আমায় কিছু বলছো না কেন?
প্রেরণাদায়ক কিছু বলো।
আমার বিয়ে করা উচিত?
করা উচিত।
অবশ্যই বিয়ে করা উচিত।
কেন উচিত নয়।
অবশ্যই, করো।
দারুন!
যুক্তিগুলো দিয়ে রাজিই করিয়ে ফেলেছো!
যুক্তিগুলো এতটাই দারুণ ছিল যে।
ধন্যবাদ।
তো কুকু, এবার ভাবীকে কী উপহার দিচ্ছো?
ওকে কী দিব?
সবকিছুই তো আছে ওর কাছে।
সর্বোপরি, ও আত্মনির্ভরশীল।
কী দিব মানে?
আজ বিবাহবার্ষিকী। ভাবী একটা উপহার প্রাপ্য।
বুঝেছি তোমরা দুজন একে অপরের সাথে ফ্রি নও।
ঠিক আছে,আমি সাহায্য করব।
একটা "খেলা" খেলা যাক।
- আমি তিন পর্যন্ত... - কুণাল, প্লিজ, আমরা খেলতে চাই না...
বিশাল। আর খেলাটা খেলি।
আমি তিন পর্যন্ত গুনবো,
তোমরা দু'জন লজ্জা না পেয়ে বলবে যে
তোমরা একে অপরের কাছ থেকে কি চাও, ঠিক আছে?
একসাথে...লজ্জা না পেয়ে, ঠিক আছে?
প্রস্তুত?
এক...
দুই....
- ডিভোর্স! - ডিভোর্স!
মাথার মধ্যে এসব কবে থেকে ঘুরপাক খাচ্ছে?
তাতে কী আসে যায়?
তুমিও তো এটাই চাও।
আসে যায়।
আমার কাছে কিছু কারণ আছে, তোমার কী কারণ আছে, কুকু?
সকালের নাস্তা বানাই তোমার জন্য।
দুপুরের খাবারও তৈরি করে যাই।
লন্ড্রিও পরিষ্কার করি...
বাড়ি বর্ণনা করছো নাকি হোটেল?
এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হতো না
যদি তেমার জন্য বাড়ি ছেড়ে কানাডায় না আসতাম।
কী করছো তুমি?
বলো কেন তুমি ডিভোর্স চাও?
নয়না, বাড়ি চল।
- রাস্তার মাঝে তামাশা কোরো না। - আমি পরোয়া করি না!
- গাড়ী সরাও! - তোমার কাছ থেকে শুনতে চাই।
গাড়ী সরাও!
তোমার কারণগুলো বলো।
তোমার কারো সাথে সম্পর্ক আছে?
কী?পাগল হয়ে গেছো নাকি?
তোমার অফিসে এতো পুরুষ মানুষ কাজ করে
- কখনো কি জিজ্ঞেস করেছি, - চুপ করো...
তোমার কারো সাথে সম্পর্ক আছে?
নাস্তা বানাই, দুপুরের খাবার বানাই..... ফালতু খাবার বানানো তুমি।
তুমি এত অকৃতজ্ঞ!
কে পরোটা বানায়?
তুমি মনে করো এসব আমার জন্য সহজ?
বাড়ি চালানো, কাজে যাওয়া।
আমার প্রতি দয়া দেখতে হবে না। ছেড়ে দাও আমাকে!
- তোমার সাথে কথা বলা অসম্ভব! - তোমার জন্যই তো এখানে এসেছি।
- আমি তোমার স্বামী! - তোমার সাথে কথা বলা অসম্ভব!
- তাহলে বিয়ে করলে কেন? - জানি না, ধুর শালা!
দুঃখিত।
আমিও দুঃখিত।
ওরা আমাকে এইচআর-এর সহ-সভাপতি বানাচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক এর অফিসে।
আজ তোমার সাথে এই বিষয় আলোচনা করতে চেয়েছিলাম।
কখন চলে যাচ্ছো?
আগামী মাসে।
ঠিক আছে।
আমরা গিনির বিয়ের জন্য বাড়ি যাচ্ছি।
আমার একটা অনুরোধ আছে।
ওর বিয়ে হওয়ার আগে....
আমাদের ডিভোর্সের ব্যাপারে কাউকে কিচ্ছু বলবো না।
বিয়ের পর সবাইকে বলে দিব।
নিশ্চয়ই।
এত মাস ধরে যখন সুখী দম্পতি'র হওয়ার অভিনয় করেছি,
আর কয়েক দিন গিনির জন্য করলে তেমন ক্ষতি হবে না।
No comments yet. Be the first to leave one.