The first 200 lines.
ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী'রা...
গত ষাট বছরে চারটি যুদ্ধ করেছে।
কিন্তু এই দুটি দেশের দুটি সরকারী সংস্থা রয়েছে...
যারা প্রতি'টা দিন... প্রতি'টা মুহূর্তে যুদ্ধ করছে...
ভারতের "RAW" এবং পাকিস্তানের "ISI"।
সাধারণ মানুষের কাছে এদের কোনো খবর পৌঁছায় না।
কারণ জাতীয় নিরাপত্তা'র নামে
চিরদিনের জন্য তা লুকিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু কিছু গল্প থাকে যা দেয়াল এবং অফিসের ফাইল থামাতে পারে না।
এটাই সেই গল্প যা এই রহস্যময় দুনিয়ার ভিতকে নড়িয়ে দিয়েছিল।
এই গল্পটা হচ্ছে
টাইগারের।
অনুবাদ ও সম্পাদনা তানভীর খান
বিদায়।
টাইগার?
হ্যালো... হ্যালো... ওরা এখানে এসে গেছে।
বলেছিলাম ওরা আমাকে খুঁজে ফেলবে।
আমাকে খুঁজে ফেলেছে!
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এখানে রেখেছ, আমাকে এখান থেকে বের করো!
জলদি বলো, কী করবো? বলো।
ঠিক আছে, ওখানে আসছি। তুমিও আসো।
কুকুরের মতো হাফাচ্ছিস। কতটা সিগারেট খাস?
বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুই বিক্রি হয়ে গেছিস, রবিন্দর।
ISI কত টাকা দিয়েছে?
টাইগার, সরকারি চাকরিতে আমাদের কত টাকা দেয়?
আজকাল এজেন্ট কেনার রেট কত?
অনেক টাকা আয় করতে পারবি, টাইগার! বিশ্বাস কর, ওখানে অনেক টাকা আয় করতে পারবি!
হওয়াও উচিত... কারণ তুই আমাদের তথ্য ISI-এর কাছে বিক্রি করেছিস!
যাদের কারণে প্রতিদিন আমাদের এজেন্ট'স মারা যাচ্ছে।
তো? আমারও তো ওদের মেরে তক্তা বানাই।
আরে টাইগার, বল তো তুই নিজের ক্যারিয়ারে কতজন ISI-র গুপ্তচরকে মেরেছিস?
এটা একটা খেলা, টাইগার... আমরা এর ছোট গুটিই মাত্র।
ব্যাপারটা বুঝ।
আমি দেখাচ্ছি তোকে...
এটা দেখ, টাইগার!
দেখ... এটা RAW আমাদের দেবে?
এটা দেখ, টাইগার...
আরে এটা তো... আমার প্রায় দুই মাসের বেতন!
এসব করে কী লাভ, টাইগার?
কোনো একদিন মারা যাবো... পৃথিবীর কোনো এক নির্জন স্থানে পড়ে থাকবো...
আমাদের দেহ পড়ে থাকবে, কোনো শালা দাবি করতেও আসবে না।
আমার সাথে চল, টাইগার... ওখানে অনেক টাকা আয় করতে পারবি।
এসবে কিছুই নেই।
দুঃখিত, রবিন্দর।
তোকে আমার সাথে আসতে হবে।
আমি আসছি না, টাইগার।
আমি সাথে আসবো না। বলছি, আমি আসছি না।
জ্যান্ত...
কিংবা মৃত।
ও ফিরে এসেছে!
নায়ক ফিরে এসেছে।
অনেকদিন পর আসলো।
আরে, দেখো... ও আবার ফিরে এসেছে।
তো তুমি এত খুশী হচ্ছো কেন?
আমি খুশী হচ্ছি না। স্রেফ তোমায় বলছিলাম।
শালার চেহেরার তো দিকে দেখো...
নিশ্চয়ই কোথাও মারামারি করেছে।
মাসখানেক গাঁ-ঢাকা দিয়ে থাকে,
আর আপনি কী করে ওর সাথে আমাদের বাবলের বিয়ে করার কথা ভাবতে পারেন?
তুমি ওর দিকে তাকাচ্ছো কেন?
তাকাচ্ছি না তো।
ব্যায়াম করো!
কিন্তু ও কি কাজ করে?
আমি কীভাবে জানবো ও কি কাজ করে?
তবে ও গ্রেড ওয়ান অফিসার।
হ্যালো, খোকা... নয়টা বেজে গেছে, তোমার অফিস পর্যন্ত লিফট দেই। এসে পড়ো।
ধন্যবাদ, মি. বাগ্গা।
এসে পড়ো।
নয়টায় শেনয় স্যারের সাথে একটি ব্রিফিং-ও ছিল।
ওহ... মি. শেয়েনয় অত্যন্ত সময়নিষ্ঠ।
স্যার, রাবিন্দরকে ইরাকের উত্তর সীমান্তের কাছে রাখা হয়েছিল।
আমার কাছে তথ্য ছিল যে ISI যেকোনো সময় ওকে সরিয়ে নিতে পারে।
সঠিক সময়ে শালাকে ধরে ফেলেছি।
সাবাশ, টাইগার।
ধন্যবাদ, স্যার।
বরাবরের মতোই।
তিওয়ারির কাছে পুরো রিপোর্ট জমা দিও।
জ্বি, স্যার।
টাইগার।
জ্বি, স্যার?
চেহেরার মানচিত্র তো একদম পাল্টে গেছে।
ছুটি নিয়ে বিশ্রাম করো।
স্যার, চেহেরা দু'দিনে ঠিক হয়ে যাবে।
ছুটির কী দরকার?
১২ বছর ধরে একের পর এক অ্যাসাইনমেন্টে যাচ্ছো।
সে তো অনেক লম্বা সময়।
ভাগ্যকে এতটাও পরখ করো না।
একদিন হঠাৎ করে ডেস্কের পোস্টিং পেয়ে যাবো,
আর আপনার মতো করে বসে ফাইল পড়তে থাকবো, স্যার।
ঠিক আছে...
চেহেরার অবস্থা ভদ্র-সভ্য হওয়ার সাথে সাথে,
তুমি পরবর্তী অ্যাসাইনমেন্টে যেতে পারবে।
কোথায়, স্যার?
রাতে তোমার বিখ্যাত ডাল বানিয়ে খাওয়াও,
তারপর তোমার জন্য কোনো নতুন দেশে শক্রু খুঁজবো।
হয়ে যাবে, স্যার।
স্যার... মাঝে মাঝে আমার মনে হয়
RAW-তে আমার ডাল রান্নার পারদর্শীতার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন।
ঠিকই মনে হয়... এই ডালের জন্য...
আর তোমার পাগলামির জন্য।
এভাবে কী করে থাকো, টাইগার?
১০ বছর পুরনো আসবাবপত্র,
বাড়িতে কোনো ছবি, বই, কিছুই নেই।
গত আট বছর ধরে এজেন্সির একাউন্টে
তোমার বেতম ওভাবেই জমা হচ্ছে।
কেন?
এখানে থাকলে তো খরচ করবো?
গত ১২ বছর ধরে সরকারী খরচে দুনিয়া ঘুরছি।
বাহ... কত টাকা সঞ্চয় করেছো?
২৩ লাখের মতো হবে।
কিন্তু তোমার টাকা এজেন্সির ব্যাংকে পচে যাবে।
না, স্যার... যেদিন অবসর নেব, সব টাকা খরচ করে ফেলবো।
তোমার কোনো গার্লফ্রেন্ড হয়নি কেন?
কীভাবে হবে, স্যার?
প্রথমত, এখানে থাকি না... আর দ্বিতীয়ত, এই শালার চাকরিটা।
চাকরিতে সমস্যা'টা কি?
স্যার... কাউকে জবাব'ই দিতে পারি না যখন কেউ আমাদের জিজ্ঞেস করে...
আপনি কী করেন?
সিভিল সার্ভিসে আছি।
আপনার চাকরি কী?
আমি প্রশাসনে আছি।
আপনার ডিউটি কী?
গভারমেন্ট ডিউটি।
কিন্তু আপনি করেন কী?
আপাতত কিছুই করছি না।
স্যার... মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়...
আমি গুপ্তচর... RAW-এর এজেন্ট!!
গুপ্তচর... সিক্রেট এজেন্ট!!
আমি জেমস বন্ড! তোর...
স্যার... আমার কাছে তো এখনও কিছুটা সময় আছে।
আপনি কেন বিয়ে করেন নি?
যৌবনকালে আমি কিছুটা কবি ছিলাম।
আর কবিরা অ্যারেঞ্জ ম্যারিজে করে না, ভালোবাসে।
কখনো কাউকে ভালোবেসেছেন, স্যার?
হ্যাঁ... বেসেছিলাম... একবার...
বাহ!
কে ছিল, স্যার?
ছিল এক সাদামাটা মিষ্টি মেয়ে।
ওর সাথে আলাপ হওয়ার পরই সারাটাজীবন শুধুমাত্র ওর জন্য বাঁচতে চেয়েছিলাম।
আর তারপর?
তারপর... কর্তব্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আর ভালোবাসার চেয়ে আপনার কর্তব্যকে বেছে নিয়েছেন?
হ্যাঁ... আমাদের এটার জন্যই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তাই না?
কিন্তু আপনার এখনো আফসোস হয়, স্যার?
প্রতিদিনই হয়, টাইগার... প্রতিদিন।
হ্যালো... হ্যাঁ, নাম্বিয়ার।
ঠিক আছে, ঠিক... ধন্যবাদ।
মনে হচ্ছে তোমার পরবর্তী মিশন পাওয়া গেছে।
চিয়ার্স, স্যার!
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে
স্রেফ ভারতের কাছেই একটি অ্যান্টি-মিসাইল প্রযুক্তি রয়েছে
যা আমার আগত পাকিস্তানি মিসাইলকে অনেকাংশে থামাতে পারবো।
এই প্রযুক্তি বানানোর পিছনে একজন লোকের বড় হাত রয়েছে...
প্রফেসর আনোয়ার জামাল কিদওয়াই।
বিশ্বের নামকরা বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজন।
কিন্তু সে ভবঘুরে... এইজন্যই সরকারি চাকরি ছেড়ে
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের বিখ্যাত ট্রিনিটি কলেজে পড়ায়।
কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আমরা সন্দেহ করছি যে প্রফেসর কিদওয়াই
তার গবেষণার ফলাফলগুলো অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সাথে শেয়ার করছেন।
যারা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছে।
তো তাকে থামাতে হবে?
না, টাইগার... যেমনটা আমি বলেছি, আমাদের স্রেফ সন্দেহ আছে।
তোমায় স্রেফ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
টাইগার...
প্লিজ এখানে কাউকে জানে মেরে ফেলবে না।
ঠিক আছে, স্যার।
তুমি যেই মিশনেই যাও কেউ না কেউ মারা যায়।
প্লিজ তাকে পর্যবেক্ষণ করো... ঠিক আছে?
ঠিক আছে, স্যার।
প্রফেসর কিদওয়াই... আপনার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পরম সৌভাগ্যের।
আমি প্রতিদিন ওখানে পার্ক করি, ওটা আমার জায়গা।
আচ্ছা, স্যার।
প্রফেসর কিদওয়াই...
প্রফেসর! প্রফেসর কিদওয়াই?
হাতে সময় নেই, সময় নেই।
দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
শুভ সন্ধ্যা, প্রফেসর কিদওয়াই!
হ্যালো!
প্রফেসর... গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
দুঃখিত, আমাকে কুকুরকে খাবার খাওয়াতে হবে।
কুকুরকে খাওয়ানোর পর?
বেশিসময় নিব না আপনার।
দুঃখিত।
প্রফেসর তো ঘ্যাড়ত্যাড়া!
প্রফেসর... প্রফেসর।
প্রফেসর... বেশি সময় নিব না।
দুঃখিত, রকেট'কে নিয়ে একজায়গায় যেতে হবে।
এখানে অপেক্ষা করবো?
রকেট!
প্রফেসরের বাড়িতে স্রেফ একজন মেয়ের প্রবেশাধিকার আছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মেয়ে... জোয়া।
এক বছর ধরে ট্রিনিটি ড্যান্স অ্যাকাডেমির ছাত্রী।
আর প্রফেসরের বাড়ির পার্ট-টাইম কেয়ারটেকার।
চলে যাও। তোমার এখানে থাকা যাবে না।
দুঃখিত। দুঃখিত। শান্ত হও, আমি আসতে চাইনি। মাফ...
প্লিজ চলে যাও!
তুমি এখনও এখানেই আছো?
জ্বি... পাগল প্রফেসরের জন্য অপেক্ষায় আছি।
পরের বার বেল বাজাবে, নইলে তোমাকে পুলিশে দেবো।
দুঃখিত, মিস...
No comments yet. Be the first to leave one.