The first 154 lines.
অনুবাদে: 〄 AsadujJaman 〄
আমাদের তো অতো পয়সা নেই।
কিন্তু এর ওপর আপনার জীবন নির্ভর করছে।
জি...
নিজের খেয়াল রাখবেন।
বহুল প্রতীক্ষিত অ্যানিমেশন শো, Mellow Maromi, শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে।
Ms. Sagi, Maromi ক্যারেক্টারটির সৃষ্টিকর্তা হিসেবে, কেমন বোধ করছেন আপনি?
আসলে, Maromi অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেছে, সকলের ভালোবাসা পাচ্ছে।
জিনিসটা কীভাবে যে বলি...?
আশা করি এই অ্যানিমেশনটি মানুষের মাঝে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।
এটার দিকে তাকালেই মনটা গলে যায়, তাই না?
ধন্যবাদ।
ভীষণ খুশি হলাম আপনার এমন লাগে বলে।
বেশ, ভুলেও Mellow Maromi মিস করবেন না!
সবাই বলছে শোনেন ব্যাট আবারো দেখা দিয়েছে।
শুনেছি সে আর ছোট্টটি নেই!
শুনেছি সে নাকি বজ্রকঠিন শক্তিশালী হয়ে গেছে।
তার গোটা শরীর রুক্ষ আর এবড়োখেবড়ো আর...
তার সারা মুখ এরকম ক্ষতবিক্ষত!
সবাই বলে সে মানুষ নয় বরং জানোয়ার। একটা জানোয়ার।
আমি জানি তুমি কে।
আর এখানে কেন এসেছো।
আমিই তোমাকে ডেকেছি, তাই না?
স্বীকার করছি, চিন্তাটা সত্যিই মাথায় এসেছিল। আমি উধাও হয়ে যেতে চেয়েছিলাম।
অপারেশন পর্যন্ত যাওয়ার মতো অতোদিন...
জীবনটা দীর্ঘায়িত করতে চাইছিলাম না।
কিন্তু ভুল ভেবেছিলাম।
কীভাবে এক মুহুর্তের জন্যও মরার ইচ্ছে পোষণ করতে পারি আমি?
আমি মারা গেলে, সেটা হবে আমার স্বামীর সাথে প্রতারণা।
তুমিও তাকে খুব ভালো করেই চেনো।
এখনো বুঝতে পারোনি?
ঘরটার চারিদিকে দেখো। কিছু কি বুঝতে পারছো না?
[ প্রশংসাপত্র পুলিশ সার্জেন্ট Keiichi Ikari. চাকরিক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য। ]
হ্যাঁ, আমার স্বামী হচ্ছে...
আহ, ওদিকে যাওয়া যাবে না!
সবাই বলে তুমি নির্বিচারে মানুষকে আক্রমণ করছো...
যারা-ই বাস্তবতা থেকে পালাতে চাইছে।
তোমার কি ধারণা তুমি তাদের কাঁধের বোঝা নামিয়ে দিচ্ছো?
ওদেরকে মুক্তি দিচ্ছো?
বসে পড়ো।
আমি তোমাকে বোঝাবো যে...
তুমি যতোটা ভাবো মানুষ অতোটাও দুর্বল বা অসৎ নয়।
ওখানেই বসো।
আমি এক জটিল ব্যাধি নিয়ে জন্মেছিলাম।
আমার পুরো ছেলেবেলা জুড়ে, ডাক্তাররা বলেছে আমি বেশিদিন বাঁচবো না।
তাই যৌবনে পা দেবার পরও...
কখনোই বিয়ের স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস করিনি।
কিন্তু তারপর তার সাথে দেখা হলো, আর সে বললো...
সে আমার সবকিছু মেনে নিতে রাজি।
বললো,"তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চাই না আমি।"
মহাখুশি হয়েছিলাম।
আমরা বিয়ে করলাম।
এক পরিমিত, দরিদ্র জীবন কাটাতে লাগলাম।
আমি সুখেই ছিলাম।
কিন্তু...
কিন্তু ওই সুখটা বেশিদিন টিকলো না।
শীঘ্রই জানতে পারলাম আমি সন্তানধারণে অক্ষম।
আমার শরীর সন্তান জন্মদানের ধকল সইতে পারবে না।
আমি ভেঙে পড়লাম।
লজ্জায় স্বামীর সামনে মুখ দেখাতে পারছিলাম না।
নিজেকে ক্রমাগত অভিশাপ দিয়ে যাচ্ছিলাম।
এতোকিছুর পরও, সে...
সে আমাকে ক্ষমা করে দিলো।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো, "চলো বাস্তবতাকে মেনে নেই।"
আমি কেঁদেছিলাম।
তার বাহুডোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলাম।
তার মতো এমন মহান আর...
উদার মানসিকতার...
কাউকে কখনো দেখিনি আমি।
দেরি করে ফেলেছো! কী দেখে ভাবলে দেরি করে আসতে পারবে?!
মাফ করবেন। আগের কাজটায় একটু দেরি হয়ে গেলো।
নতুন লোকদের এসব তাল-বাহানা চলবে না!
জলদি কাজে যাও, এক্ষুণি!
জি, স্যার।
এই, করছো কী তুমি?!
দুঃখিত!
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি তার যোগ্য স্ত্রী হয়ে উঠবো।
ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য নিজের প্রতি যত্নশীল না হয়ে...
মরার আগ পর্যন্ত তার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে দেবো।
কিন্তু একপর্যায়ে, তার প্রতি আমার এমন মনোভাবের কারণে...
সে আরো বেশি বেশি ঘরের বাইরে থাকা শুরু করলো।
শুরুতে, নিজেকে প্রবোধ দিতাম আমাকে এটা মেনে নিতে হবে...
কারণ সে কাজে গেছে।
কিন্তু যদি সে অবশেষে আমার ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে থাকে?
যদি তার কাজ আমার কাছ থেকে দূরে থাকার অজুহাত হয়ে থাকে?
তাকে দোষ দিতে পারি না।
দেখতেই পাচ্ছো, আমি এখনো আগের মতোই অচল হয়ে আছি।
ব্যাপারটা সইতে পারছিলাম না।
তাকে হারানোর ভয় নয়, বরং তার বোঝা হয়ে থাকাটাই বড্ডো পীড়াদায়ক হয়ে পড়েছিল।
তারচেয়ে বরং...
তার এতো ঝামেলার কারণ হওয়ার চাইতে বরং, আমি...
আমি ভীষণ লজ্জিত!
সে আমার জন্য হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মরছে।
অথচ, তাকে বিশ্বাস করতে না পারলে কী ধরণের স্ত্রী আমি?
কতোটা নীচ, সাংঘাতিক ভাবনা ছিল ওটা।
নিজের ওপর লজ্জিত হয়ে তার বাড়ি ফেরার অপেক্ষা করেছি।
হ্যাঁ, এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যে সে যেমন আমার আশ্রয়স্থল, তেমনি আমিও তার আশ্রয়স্থল।
আজ জলদি বাড়ি ফিরছো না কেন?
তোমার স্ত্রী নিশ্চয়ই অপেক্ষা করছে।
এটাই তো জলদি বাড়ি ফেরার সুযোগ।
একটার পর একটা, তিনটা কনস্ট্রাকশন সাইটে দৌড়ে বেড়াচ্ছো কেন?
ব্যাপার না। যতো যাইহোক, আমার আর...
পরীক্ষার মায়রে বাপ।
সিরিয়াসলি, বিশাল একটা প্যারা। যদি শোনেন ব্যাট হাজির হতো!
যদি সে সত্যিই কিছু করতে চায়, স্কুলটাকে ধ্বংস করে দিক।
দেখা যাক...
কোথায় যেতে চাও তুমি?
সমুদ্রের পাড়ে যেতে চাই।
এই, কোথায় যেতে চাও তুমি?
ওহ, সত্যি?
- ওহ, সত্যি? - ক্ষুধা লেগেছে।
ক্ষুধা লেগেছে।
এতো অসম্ভব।
যতো যাইহোক, আমার আর কোনো...
দুঃখিত দেরি হয়ে গেলো।
আমি তোমাকে সব শিখিয়ে দেবো।
জিনিসগুলো ওখানেই রেখে দিতে পারো।
তো, কী করেছিলে তুমি?
আমাকে বলতে পারো।
এই বয়সে সিকিউরিটি গার্ড হওয়া মানে তো...
বহুত বড়ো ফ্যাসাদে পড়েছিলে।
দাঁড়াও।
তোমার চেহারাটা দেখে মনে হচ্ছে...
এটা?
না, আমি...
ধুর, ভুল ধরেছি।
ভেবেছিলাম তুমি আমার মতো ছিলে।
আপনি...?
ওহ, আমি? আমি পাঁচবছর জেলে ছিলাম।
বেরোনোর পর, কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না, কিন্তু জানোই তো...
সিকিউরিটি গার্ডের কাজে কোনো অভিজ্ঞতা বা...
যোগ্যতা বা কিছু লাগে না, তাই...
মিস্টার?
মিস্টার ইকারি?
আমি জানতাম! তুমি মিস্টার ইকারি!
এটা আমি। তুমি আমাকে একবার ধরেছিলে।
Inukai?
তেমন একটা নজর না দিলেও...
দিনশেষে সে এই জায়গাটাতেই ফিরে আসতো।
এই জায়গাতেই সে তার মনের শান্তিটাকে ঝালিয়ে নিতে পারতো।
আমি তার সুযোগ্য স্ত্রী আর আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
প্রতিদিন তার তোশক শুকিয়েছি, স্নানের ব্যবস্থা করেছি...
যাতে সে যেকোনো সময় ঘরে ফিরতে পারে।
মনে আছে একরাতে, তার বাড়িতে খাবার খাওয়ার এক দুর্লভ মুহূর্তে...
সে হঠাৎ বলে ওঠে, "যতোযাই বলো, তোমার রান্নাই সেরা।"
"তোমার কারণেই, আমি কাজে মনোযোগ দিতে পারছি।"
তারপর একদিন, ঘটনাটা ঘটলো।
এমনকিছু যা মুহূর্তে, আমার আর আমার স্বামীর গড়ে তোলা সবকিছু হুমকিতে ফেলে দিলো।
হ্যাঁ। তোমার কেসটা।
হাস্যকর, তাই না?
এক সাবেক গোয়েন্দা আর এক সাবেক চোরের সহকর্মী হিসেবে আবার দেখা হওয়াটা।
আসলে, আমিই বেশি অবাক হয়েছি।
ভুলেও ভাবতে পারিনি এমন একটা জায়গায় তোমার সাথে দেখা হয়ে যাবে।
তবে আমি অভিভূত।
No comments yet. Be the first to leave one.