The first 200 lines.
বিয়িং জন ম্যালকোভিচ
ক্রেইগ, সোনা, ঘুমাতে আসো।
ক্রেইগ, সোনা, ঘুম থেকে ওঠো।
ক্রেইগ, সোনা, ঘুম থেকে ওঠো।
ক্রেইগ, সোনা, ঘুম থেকে ওঠো। ক্রেইগ, সোনা, ঘুম থেকে ওঠো।
- লটি। - সরি।
খেয়াল করিনি যে ও খাঁচা থেকে বেড়িয়ে গেছে।
- এখানে আসো। সুপ্রভাত, সোনা। - সুপ্রভাত।
আজ কী করবে, সোনা?
- ওয়ার্কশপে কাজ করবো। - আমি ভাবছিলাম কি -
একটা চাকরি করলে তোমার জন্য ভালো হবে।
লটি, ঐ টপিকে আর না যাই।
এই মন্দার সময়ে আমার মত পাপেট-আর্টিস্টদের দাম নেই।
বুঝি, সোনা, কিন্তু তারপরও...
তোমার পাপেটের ক্যারিয়ারটা পাকাপোক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু একটা করা দরকার।
ডেরেক ম্যান্টিনি তো কোনো চাকরি করে না।
ক্রেইগ, ডেরেক ম্যান্টিনি আর তুমি এক নও।
আমি দোকানে যাচ্ছি। আজকে একটা পার্সেল আসার কথা।
সোনা, একটা উপকার করবে? আজ অ্যালাইজা-কে একটু দেখে রাখবে?
- ওর শরীরটা আবারও খারাপ করেছে। - অ্যালাইজা যেন কোনটা?
- শিম্পাঞ্জীটা, সোনা। - আচ্ছা, সোনা।
এবার বিনোদনমূলক খবরের পালা - ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে আজ...
পাপেট-আর্টিস্ট ডেরেক ম্যান্টিনি উৎসুক দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন...
এমিলি ডিকিনসনের ৬০ ফুট লম্বা পাপেট দিয়ে পারফর্ম করে।
খ্যাতি জিনিসটা কতই না নিরানন্দের।
সারাক্ষণ এক নাম কানের কাছে বাজতে থাকাটা কতই না একঘেয়ে।
শালা ট্যালেন্টের নামে কলঙ্ক !
তোর কপাল ভালো যে তুই বানর হয়ে জন্মেছিস।
কারণ বিবেকবুদ্ধি জিনিসটা
এক ভয়াবহ অভিশাপ।
মানুষ হয়ে কত কষ্ট সহ্য করি আমি।
বিনিময়ে খালি আমার ট্যালেন্ট দেখানোর সুযোগ পেতে যাই।
কিন্তু সেই সুযোগ দেবে না কেউ,
কারণ আমি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী।
পাগল করে দেওয়া এক ভালোবাসার মাদকতায় বুঁদ হতে গিয়ে
এবং অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে গিয়ে...
আমরা ঈশ্বরের সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে গিয়েছি।
থামো এবার, মিনতি তোমার কাছে, নিজেকে দোষ দিয়ো না আর,
কারণ সত্যিকার ভালোবাসায় অনুতাপের কোনো জায়গা নেই।
দেখো, একটা পাপেট শো !
বেশিক্ষণ দাঁড়াবো না, সোনা। আম্মু অপেক্ষা করছে বাসায়।
এমনকি গির্জার ধর্মীয় উৎসবের সময়টাতে...
যখন আমাদের প্রার্থনা করার কথা...
সেসময়ও এসব অশ্লীল অনুভূতি এমনভাবে আমার অতৃপ্ত মনকে গ্রাস করে যে...
প্রার্থনার বদলে আমার চিন্তা-চেতনা কামুকতার দিকে ধাবিত হয়।
মাঝেমাঝে আমার শারীরিক চাহিদার কাছে আমার এই চিন্তাভাবনা হার মানে।
তোমার কথা ভেবে আমি নিষিদ্ধ কামনা-বাসনার আগুনে পুড়েছি...
আর এভাবেই আমি ভালোবাসতে চাই তোমায়।
শালার মাদারচোত !
ওহ, ক্রেইগ !
সোনা, আবারও !
কেন নিজেকে কষ্ট দাও বারবার, সোনা?
পাপেট-আর্টিস্ট বলে কথা।
সাড়ে সাত নম্বর ফ্লোরে যাবেন তো?
- হ্যাঁ। - আমি নিয়ে যাচ্ছি।
সাড়ে সাত নম্বর ফ্লোর।
ধন্যবাদ।
লেস্টারকর্পে স্বাগতম। কীভাবে আপনাকে হেল্প করতে পারি?
না। আসলে আমি ক্রেইগ শুয়ার্টজ - ডঃ লেস্টারের কাছে ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছি।
ওহ। প্লিজ বসুন, মিঃ হুয়ারেজ।
শুয়ার্টজ।
- কী বললেন? - শুয়ার্টজ।
দুঃখিত। আপনার কথার আগামাথা কিছু বুঝতে পারছি না আমি।
- আমার নাম শুয়ার্টজ। - আপনার নাম ওয়ার্টস?
মিঃ হুয়ারেজ?
- ইয়েস (জি)? - চেস্ট (বুক)?
আমি বলেছি - ''ইয়েস?''।
আপনি পেস্ট দিয়ে কী করবেন? আমি দুঃখিত।
আমতা-আমতা করা চাকরিপ্রার্থীদের ফালতু বকবক শোনার সময় নেই আমার।
তাছাড়া আপনার ইন্টার্ভিউয়ের সময়ও হয়ে গেছে।
ভিতরে আসুন, মিঃ হুয়ারেজ।
আসলে আমার নাম ক্রেইগ শুয়ার্টজ, ডঃ লেস্টার।
- সিকিউরিটি ! - না, স্যার, আসলে -
আপনার সেক্রেটারির একটু বুঝতে ভুল হয়েছে।
আমার নাম ক্রেইগ শুয়ার্টজ।
তাকে অনেকবার বলেও বুঝাতে পারিনি।
সে আমার সেক্রেটারি নয়।
সে এই কোম্পানির এক্সেকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট।
আবার এই ভেবে বোসো না যে ওর সাথে আমার অ্যাফেয়ার চলছে।
না, স্যার, একদমই না। মনে হয় আমারই বলতে ভুল হয়েছিল।
এবার তাহলে বলো, ডঃ শুয়ার্টজ...
কী কারণে তোমাকে চাকরিটা দেওয়া উচিৎ হবে আমাদের?
আমি ফাইল সংক্রান্ত কাজ খুব ভালো পারি, স্যার।
তাই নাকি? তোমার দক্ষতা যাচাই হয়ে যাক।
বলো তো, এই দুই বর্ণের মধ্যে কোনটা আগে আসে? এইটা নাকি এইটা?
বামপাশেরটা তো বর্ণ নয়, স্যার।
তুমি দেখি আসলেই অনেক চালু।
- তোমাকে ধাঁধায় ফেলতে চাইছিলাম। - আচ্ছা।
এবার কার্ডগুলো ক্রমানুসারে সাজাও।
আচ্ছা, স্যার।
ফ্লোরিস, গিনেসকে লাইনে দাও।
আচ্ছা, স্যার। এখনই চেঙ্গিস খানকে লাইনে দিচ্ছি।
ফ্লোরিস মেয়েটা আসলেই একটা চিজ।
আমার এই কথা উচ্চারণের সমস্যাটা যে সে কীভাবে সহ্য করে।
আপনার উচ্চারণ তো ঠিক আছে, ডঃ লেস্টার।
পাম দিয়ে কাম হবে না, খোকা।
ফ্লোরিসের ওপর আমার ভরসা আছে।
সে কেস ওয়েস্টার্ন থেকে বাক-প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে ডক্টরেট পাওয়া মেয়ে।
আমার কথা বুঝতে সমস্যা হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।
আমার বুঝতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
সেটা তো ভদ্রতার খাতিরে বলছ।
আসলে, আমার অনেক একা লাগে...
যখন দেখি আমার আশেপাশের মানুষগুলো কি স্পষ্টভাবে কথা বলে।
তুমি চাকরিটা পেয়ে গেছ।
- কোনো প্রশ্ন? - একটা প্রশ্ন ছিল খালি।
ছাদগুলো মাথার এত কাছে কেন?
উপরি খরচ কমাতে, খোকা ! এটাই আমাদের মূলমন্ত্র।
অরিয়েন্টেশনের দিন কোম্পানি সম্পর্কে সব বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে।
মার্টিন ফ্লেমার বিল্ডিং-এর সাড়ে সাত নম্বর ফ্লোরে স্বাগতম।
এখন থেকে এখানে কাজ করবেন বলে...
এই বিখ্যাত ফ্লোরের ইতিহাস জানাটা আপনাদের জন্য জরুরি।
- হ্যালো, ডন। - হ্যালো, ওয়েন্ডি।
ডন, অফিসের ছাদগুলো এত নিচু হওয়ার কারণ বলতে পারবে?
এর ইতিহাসটা বেশ মজার, ওয়েন্ডি।
অনেক বছর আগে, অষ্টাদশ শতাব্দীর সময়কালে...
জেমস মার্টিন নামক এক আইরিশ জাহাজের ক্যাপ্টেন এই শহরে আসেন...
এবং একটি অফিস বিল্ডিং গড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের নামেই তিনি বিল্ডিংটার নামকরণ করেন - মার্টিন ফ্লেমার বিল্ডিং।
তবে লোকে বলে - ফ্লেমার নামে আরেক ব্যক্তি নামকরণের পেছনে ছিল।
তো একদিন, ক্যাপ্টেন মার্টিনের দরবারে এক অপ্রত্যাশিত অতিথির আগমন ঘটে।
- ক্যাপ্টেন মার্টিন? - কী লাগবে তোমার, বাচ্চা মেয়ে?
আমি বাচ্চা নই - বরং এক হতভাগা মহিলা যার হাত-পা সব ছোট।
বুঝলাম।
এখানে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে এসে থাকলে এখনই বিদায় হও, পিশাচ কোথাকার !
ভিক্ষা চাইতে আসিনি, ক্যাপ্টেন,
বরং একজন দয়ালু মানুষকে আমার কষ্টের কথা শোনাতে এসেছি।
ঠিক আছে, যা বলার বলো।
ক্যাপ্টেন মার্টিন, এই পৃথিবীটা আমার মত মানুষদের প্রতি বড়ই নির্দয়।
দরজার হাতলের নাগাল পাই না, ঠিকমত চেয়ারে বসতে পারি না...
আর উঁচু ছাদওয়ালা রুমগুলোও হীনমন্যতায় ভোগায় আমাকে।
এমন কোনো কি জায়গা নেই, যেখানে আমি নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবো?
তোমার গল্পটা আমার মন ছুঁয়ে গেছে।
একারণে, আমি তোমাকে আমার বউ বানাবো।
আর এই বিল্ডিংয়ের ৭ম ও ৮ম ফ্লোরের মাঝে তোমার জন্য একটা ফ্লোর বানাবো,
যাতে এই পৃথিবীতে অন্তত এমন একটা জায়গা তৈরি হয়...
যেখানে তুমি ও তোমার মত মানুষরা শান্তিতে থাকতে পারো।
তো এই হচ্ছে সাড়ে সাত নম্বর ফ্লোরের কাহিনী।
ভাড়া তুলনামূলক কম বলে, এই ফ্লোরে এমন সব কোম্পানি জায়গা করে নিয়েছে...
যেগুলো কোনো না কোনো কারণে শর্টকাট বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে।
দেখতে হবে তো - এখানকার উপরি খরচ কত কম।
মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত গল্প, না?
আসলে এটা একটা গাঁজাখুরি গল্প।
এই, আমি ক্রেইগ শুয়ার্টজ। আমি লেস্টারকর্পে জয়েন করেছি।
তুমি কোথায় জয়েন করেছ?
চুপ কর ! চুপ কর !
চুপ কর ! চুপ কর !
চুপ করতে বলেছি না !
- চুপ কর ! - কিছু মনে কোরো না, সোনা।
- আমি সরি। - আমি সরি।
সরি, সোনা।
সরি, সোনা।
- চুপ কর ! - সরি !
- বাঁচাও ! আমাকে খাঁচায় ভরে ফেলছে। - কি কিউট করে বলে না?
- আজকেই শিখিয়েছি। - হ্যাঁ, খুব সুন্দর বলেছে।
- থালাবাটি ধুবে তুমি? - ওটা রাখো।
আসো, অ্যালাইজা। এই নাও।
কাল সকালে অ্যালাইজাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবো।
- ওহ। - হ্যাঁ।
মনে হচ্ছে ওর গ্যাস্ট্রিকের শেষমেশ একটা বন্দোবস্ত হবে, কী বলো?
এখানে আসো।
আল্লাহ্র ওয়াস্তে ওখান থেকে নামো।
ওর অসুখটা মনে হয় ছোটবেলার কোনো কষ্টদায়ক স্মৃতির সাইড ইফেক্ট।
নেমে যা।
নেমে যা।
শিম্পাঞ্জী হয়ে এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগছে সে, বুঝলে?
হুম।
সামলে। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং না?
হুম।
আমার তো খুব ইন্টারেস্টিং লাগে।
তো, সোনা, বাচ্চা নেয়ার ব্যাপারে ভেবে দেখেছ?
আসলে, আমাদের যে আর্থিক অবস্থা, সেই হিসেবে আপাতত বাচ্চা না নেয়াই ভালো।
হুম।
আমরা বরং আরও কিছুদিন অপেক্ষা করি,
দেখি চাকরিটা দিয়ে আমাদের কপাল খোলে কিনা।
- বুঝলে? - ঠিক আছে।
তোমার অরিয়েন্টেশনের ভিডিওটাকে গাঁজাখুরি বলার ব্যাপারটা নিয়ে আমি ভেবে দেখেছি।
তাই নাকি?
আমার মনে হয় - তোমার কথায় যুক্তি আছে।
আমাকে তোমার ফাঁদে ফেলার ভালোই ছুতা খুঁজে নিয়েছ।
না, না !
ওরকম কিছু না। আমি কেবল ভিডিওটার প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম।
আমার কী মনে হয় জানো?
কখনও যদি আমি তোমার ফাঁদে পড়েও যাই,
তখনও তুমি ভোঁদাইয়ের মত বসে বসে আঙ্গুল চুষবে।
আরে না, আমি তো ভিডিওটা নিয়ে আলাপ করতে চাইছিলাম।
ইশ, কেউ যদি এমন আঙ্গুল মেরে আমার তাকটা ঠিক করে দিত !
আমারটাও সাজিয়ে দাও একটু !
আর ভুলে যেওনা যেনঃ
"I" আসে "U''-এর আগে।
ফ্লোরিস, তুমি খুব ভালো একটা মেয়ে,
কিন্তু সত্যি বলতে, আমি আরেকজনকে ভালোবাসি।
আমি তোমার কথার আগামাথা কিছু বুঝতে পারছি না।
- হারামী কোথাকার। - কী?
- ফ্লোরিসের সাথে মজা নিও না, শুয়ার্টজ। - নিইনি তো -
আমার বয়স ৮০ বছর কম হলে, তোমাকে মেরে সোজা করে দিতাম।
আমি তার সাথে মজা নিচ্ছিলাম না, স্যার। আমি তো -
- আপনার বয়স যেন কত, স্যার? - ১০৫।
প্রচুর পরিমাণে গাজরের জুস খাওয়ার ফল।
তবে এর সাইড ইফেক্টও আছে। আমার পেশাব হলুদ হয় মাঝেমাঝে।
১৫ মিনিট অন্তর অন্তর পিচ্চি মেয়েদের মত বসে পেশাব করতে হয়।
No comments yet. Be the first to leave one.