The first 200 lines.
শুভ সন্ধ্যা, সোনা।
শুভ সন্ধ্যা, মা।
এত দেরি করে বাড়ি ফিরলি যে।
আমার কথা শেষ হয়নি।
আমাকে যেতে দাও তো। ভালো লাগছে না।
ফাইজলামি পেয়েছিস?
তোর ক্লাস তো ৩ ঘণ্টা আগেই শেষ হয়েছে।
এতক্ষণ কোথায় ছিলি তুই?
প্লিজ।
জবাব দে আগে। তার আগে ছাড় নেই !
হাঁটাহাঁটি করছিলাম। কোনো সমস্যা?
সারাক্ষণ ভিতরে আটকা থেকে দম বন্ধ হয়ে এসেছিল।
- তাই বলে ৩ ঘণ্টা বাইরে ছিলি? - আর নয়তো কী !
অসাধারণ।
এমনটাই ধারণা করেছিলাম।
তোর হিসাবপত্রটা কই?
সর্বনাশ !
খুব বড়লোক হয়ে গেছিস তুই?
আমার ধূসর রঙয়ের জামাটা কে নিয়েছে?
জানি না।
ফেরত দাও।
শালী !
টক শো-টা আমি দেখেছি।
সেখানে লোকটা রাস্তায় যেসব কুকুর মলত্যাগ করে, তাদের মালিকদের...
জরিমানা করার পক্ষে সাফাই গাইছিল।
বাকোয়াজ।
ফাজিলটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পক্ষ নিয়ে কথা বলছিল।
ভুলভাল যত্তসব।
আমাকেও কিছু বলার সুযোগ দাও তোমরা …
সমস্যা কী আপনার?
হাত দুটো কেটে ফেলে দে।
নিজের মায়ের গায়ে হাত তুলিস !
ফ্রকটা এমনিতেও একটু বেশি জমকালো ছিল।
তোর বয়সী মেয়েদের এসব কাপড় মানায় না।
এবার একটু ক্ষান্ত দাও।
ফ্রকটা নষ্ট করে মন ভরেনি তোমার?
- ভালো হত যদি… - কী?
সাহস নেই বলার?
বলা লাগবে না। আমি জানি তুই কী চাস।
তোর জন্য একটু হলেই আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেত।
তুই তো মনে হয় এটাই চাস !
থামো তো, মা। মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার।
মাথাটা আসলেই খারাপ হয়েছে।
এতদিন বুঝিনি।
মাফ করে দাও।
সবসময় এমন বাড়াবাড়ি করো কেন তুমি?
তুই নিজে কি কম বাড়াবাড়ি করিস?
আমি দুঃখিত। সত্যিই দুঃখিত।
দেখতে দাও।
কিচ্ছু হয়নি।
আমাদের বংশটাই এমন। রাগ আমাদের রক্তে মিশে আছে।
থাক, আর কাঁদিস না।
আমি যেয়ে কফি বানাচ্ছি।
একসাথে খাবো। ঠিক আছে?
কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।
তোর আরও ক্লাস করানো দরকার।
খালি নিজের মত চললে অ্যাপার্টমেন্টটা হাতছাড়া হয়ে যাবে।
শুনেছিস আমার কথা?
এই মাসের টাকাটা অনেক আগেই শোধ করেছি। চিন্তা কোরো না।
তাছাড়া, ড্রেসটার দাম পড়েছিল মাত্র ৬,৫০০।
বাকিটা কালকে শোধ করবো।
একটা জিনিস বুঝি না,
ক্লাস করাতে হিমশিম খেয়েও তোর মেকআপ...
আর ফ্রকের পেছনে কেন যে এত টাকা খরচ করা লাগে।
এসব ফ্রক তো কদিন পর চলবেও না।
ফ্রকটা খুব পছন্দ হয়েছে আমার। একটা ক্লাসিক ভাব আছে এর মধ্যে।
এর আবেদন কখনও ফুরোবে না।
তোমারও তো মনে হয় ঠিক এরকম একটা ড্রেস ছিল। মনে পড়ে?
কখনোই না।
তোমারটা নামীদামী ডিজাইনারের ছিল। দেখার মত ছিল ড্রেসটা।
এসব ড্রেসের আবেদন কখনও ফুরোয় না।
এতক্ষণ বাতি জ্বালিয়ে রাখা লাগে?
তোর ছাত্রদের কি উন্নতি হয়েছে একটু?
আগের মতই আছে।
শোবের মেয়েটাও ছিল নাকি আজ? ওকে না শুক্রবার শিখাস?
কী অবস্থা ওর?
মেয়েটা ভালোই মেধাবী।
শুবার্ট-এর সংগীত শেখায় আশ্চর্যরকম আগ্রহ দেখলাম তার।
শুবার্ট-এ তোকে যেন কেউ টপকাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখিস।
তুমি বললে তো আর হবে না।
তুমি তো সংগীতের স-ও বোঝো না যে আমায় জ্ঞান দিচ্ছ।
তোর স্টুডেন্টরাই দেখবি তোর আগে ভালো চাকরিবাকরি পেয়ে বসে আছে।
এখনই হাল না ধরলে পরে পস্তাবি।
বোকামি করিস না।
চিন্তা কোরো না, মা।
লা পিয়ানিস্ত্
একটু বুঝেশুঝে বাজালে ভালো হয়।
খালি মুখস্থ বাজিয়ে গেলেই হয় না।
কিছু কিছু জায়গা লিখিত সময়ের চেয়ে কম সময় বাজাতে হয়,
আর কিছু কিছু জায়গা বেশি সময় বাজাতে হয়।
গায়ের জোর দিয়ে বাজানো কি তোমার অভ্যাস?
নাকি ইচ্ছা করেই তুমি এমন করো?
ছেঁড়ে দাও।
সবকিছু তোমার পাতে তুলে দিবে না।
কোন জায়গা কীভাবে বাজাবে, সেটা তোমার নিজেরও একটু বুঝতে হবে।
ছেঁড়ে দাও।
এভাবে।
চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হও তাও ভালো ; অন্তত আন্দাজে বাজিয়ো না।
খালি বড় নোটগুলোই বাজাচ্ছ তুমি।
নিজের মনের মত আঙ্গুল চালালে পুরোটাই ভেস্তে যাবে।
প্রথম থেকে শুরু করো।
প্রোগ্রামের জন্য এসেছেন মনে হয়।
আমি হলাম …
প্লিজ ভিতরে আসুন, প্রফেসর।
হ্যালো, আন্টি।
আপনার মা দেখি। শুভ সন্ধ্যা।
- আমার ভাতিজার সাথে পরিচয় হয়েছে? - না।
একটু আগেই দেখা হলো আমাদের। আমার নাম ওয়াল্টার ক্লেমের।
কাঁপিয়ে দিয়েছেন ! অসাধারণ !
এত সুন্দর সংগীতমুখর সন্ধ্যা উপহার দেবার জন্য শিল্পীদের বাহবা প্রাপ্য।
বিরতির সময়টা শিল্পীদের জন্য উপভোগ্য করে তুলতে...
আমি পেটভর খানাপিনার আয়োজন করেছি।
আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
এখান দিয়ে যান।
আমার বর আবার খুব রুচিশীল মানুষ …
একটু বিরক্ত করলাম, আন্টি।
আসলে আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম না।
আপনার মত প্রতিভাধর সংগীতসাধকের হাতে চুমু খাবার সুযোগটা...
হারাতে চাই না।
ঢং করতে হবে না আর।
এত ন্যাকামি কোত্থেকে শিখেছ তুমি?
এসব প্রোগ্রাম আরও বেশি বেশি হওয়া উচিৎ।
আজকাল তো বলতে গেলে এগুলো হয়ই না।
ভালো সংগীতের কদর হয় না এখন আর।
মানুষ এখন শুধু ঝাকানাকা গান নিয়ে পড়ে থাকে।
ঠিক বলেছ। ভালো সংগীতের চর্চা এখন আর হয় না।
বেথোভেন শিখতে গিয়ে আগে মানুষ গাধার খাটুনি খাটত।
আর আজকালকার স্কলাররা তো ব্রুকনার-এর পিচ্চি মার্কা...
সংগীত চর্চা করেই ক্ষান্ত হয়।
ব্রুকনার তাহলে তোমার কাছে ছেলেখেলা,
মিঃ … ক্লেমের?
আচ্ছা, সংগীত নিয়ে তোমার এত পাকা পাকা কথা বলার পিছনের রহস্যটা কী?
তোমার আন্টি তো বলল তুমি...
আমি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছি, প্রফেসর। ইঞ্জিনিয়ারিং।
ভায়োলিনটা ১৬২০-১৬৩০ সালে মার্সেল পিশলের-এর তৈরি।
খুবই দুর্লভ জিনিস।
এটাকে সেলো'র মত বাজাতে হয়।
লেগ ভায়োল বা কুইন্টন নামে বেশি পরিচিত।
সম্প্রতি একটা পেইন্টিংয়ে ঠিক এই যন্ত্রটাই দেখেছি।
এই জাতীয় যন্ত্র নয়। ঠিক এই যন্ত্রটাই।
পেইন্টিংটাতে ভিওল দা গাম্বা'র একটা কনসার্ট তুলে ধরা হয়েছে,
যা ডিউক অগাস্টাস-এর রাজসভায় রচিত হয়েছিল।
- কিছু এনে দেয়া লাগবে আপনাকে? - একদমই না। কেন?
দারুণ জিনিস তো।
এদেরকে দেখুন একটু।
সবাই আছে খাওয়ার তালে ; সংগীত নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।
শুমান-এর জীবনী নিয়ে অ্যাডোর্নো'র লেখা বইটা পড়েছ?
সেখানে শুমান-এর জীবনের শেষ দিনগুলোর কথা বলা হয়েছে।
শুমান তখনও তার বোধশক্তি পুরোপুরি হারাননি।
একটু হলেও ছিল।
তিনি জানতেন তিনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন।
শত যন্ত্রণার পরও তিনি শেষবারের মত চেষ্টা করেন তার পতন ঠেকাতে।
উন্মাদনা জিনিসটাকে অনেক কাছ থেকে জেনেছিলেন তিনি,
পরাজয়ের কাছে সম্পূর্ণ নতিস্বীকারের আগে।
আপনি শিক্ষক হিসেবে আসলেই দারুণ।
ধন্যবাদ।
অন্য শিল্পীর চোখে আপনার জীবন দেখার এই গুণটা সত্যিই দুর্লভ।
আপনি নিজেও মনে হয় সেটা জানেন।
শুবার্ট আর শুমান আমার সবচেয়ে প্রিয় শিল্পী বলেই হয়ত।
আমার বাবা মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর থেকে,
আমি মানুষের মর্মপীড়া নিয়ে খুব সহজে কথা বলতে পারি।
কিছু মুখে দিবেন বলে তো মনে হয় না ;
আমি কি তাহলে আপনার জন্য ড্রিংক নিয়ে আসবো?
নিশ্চয়ই।
প্রোগ্রামে এসে কি মুসিবতেই না পড়লাম।
ডঃ ব্লন্সকি যন্ত্রপাতি নিয়ে বকবক করে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন।
আচ্ছা,
এই ক্লেমের ছেলেটা একটু বেশিই গায়ে পড়া নাকি রে?
ওয়াল্টার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছে।
কিন্তু তার সংগীত-প্রতিভাও যে কম নয়,
সেটা তার পিয়ানো বাজানো দেখলেই আপনারা বুঝে যাবেন।
এবার তুমি বলো, ওয়াল্টার।
আংকেল অনেক বাড়িয়ে বলেছেন।
প্রফেসরের এত সুন্দর পারফর্মেন্সের পর আমারটা আপনাদের পানসে লাগার কথা।
আপনাদের জন্য আমি শনবার্গ-এর এক বিরল মিউজিক্যাল পিস বাছাই করেছিলাম,
যাতে ভুল বাজালেও ধরা না খাই।
জানি এটা হাসার মত কিছু না ।
আসলে একজনের কাছে শুবার্ট আর শুমান-এর মর্মান্তিক জীবনকাহিনী শুনে...
আমি ভীষণ রকমের প্রভাবিত হয়েছি।
তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শনবার্গ-এর বদলে
শুবার্ট-এর করা আমার সবচেয়ে পছন্দের পিসটা বাজাবোঃ
A Major-এ Sonata থেকে একটা ছোট অংশ।
এবার সুরটা পাল্টে যাবে।
D … D … D …
এটা মধ্যবিত্তের একগুঁয়েমির প্রতীকী।
এক্সকিউজ মি, প্রফেসর।
আপনার সাথে একটু কথা ছিল।
বলুন।
অ্যানা বলল, আপনি নাকি প্রোগ্রামে ওকে পারফর্ম করতে দিবেন না।
সে এখনও সেই পর্যায়ে যায়নি যে একা পারফর্ম করবে।
সে কি ফাঁকিবাজি করে?
সেটা ও-ই বলতে পারবে।
সে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করে।
শুধু প্র্যাকটিস করলে তো হবে না ; ভালো বাজানোও শিখতে হবে।
সেটা ওকে কে বোঝাবে ! দেখুন ওর অবস্থা।
শুবার্ট বাজানো এত সহজ নয়।
আমি বলিনি যে তুমি পারবে না।
আগে দেখি তুমি গায়ক ছেলেটার সাথে তাল দিতে পারো কিনা।
আমার একটু তাড়া আছে। আসি।
প্রফেসর ঠিকই বলেছেন।
No comments yet. Be the first to leave one.