The first 200 lines.
ওভারলর্ড ( ২০১৮) বাংলায় অনুবাদ: কুদরতে জাহান
ব্রিটিশ রাজতন্ত্র
এবং ফ্রেঞ্চ গণতন্র,
নিজেদের স্বার্থেই হাত মিলিয়েছে...
আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না
যুক্তরাষ্ট্রের নারী-পুরুষেরা জেনে রাখুন,
এটা বিশ্বের ইতিহাসের এক স্মরণীয় ঘটনা
সৈন্য, নাবিক এবং মিত্রবাহিনীর অভিযান ফোর্সের পাইলটেরা শুনুন,
আপনারা এক মহান যুদ্ধে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
আপনারা এই জার্মান যুদ্ধ-মেশিনকে ধ্বংস করবেন।
নাৎসিদের জঘন্য স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত হবে ইউরোপের শোষিত জনগণ ।
আপনাদের যুদ্ধ-দক্ষতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে আমাদের।
পুরো বিশ্বের চোখ এখন আপনাদের ওপর।
হিটলার তো শেষ।
এই সুন্দরীকে নিয়ে একটা ছোট্ট ট্রেন ভ্রমণ দিয়ে
প্যারিস থেকে বার্লিনে পৌঁছাতে পারলেই হলো...
তারপর সবাই বাড়ি ফিরব
অনেক জাহাজ!
নিচে নামতে ইচ্ছা করছে না আমার।
কোনো জার্মান সৈন্য যদি ওদেরকে এভাবে জাপ্টাজাপ্টি করে থাকতে দেখে,
একেকটা বোমায় ২০জনকে মেরে শেষ করবে।
গুলি করে প্লেন নামানো অবশ্য কঠিন।
রোজেনফিল্ড, জানো?
জিআই সৈন্যরা প্লেনের থেকে জাহাজে মরে বেশি, এটা হলো ফ্যাক্ট।
টিবেটের কথা কানে নিও না, খালি চাপা মারে ও।
অ্যাই গ্রুনার!
জার্মান ভাষায় 'চাপাবাজি' কে কী বলে?
দারুণ লাগলো শুনে।
হেই।
আমি মরটন চেজ।
আমি একজন ফটোগ্রাফার।
সার্জেন্টের কাছে শুনলাম, আপনি এর আগে ইতালিতে গিয়েছিলেন?
এই ফ্রেমটা দারুণ, জানালা দিয়ে তাকানো অবস্থায় কয়েকটা ছবিটা তুলতে পারি?
মরটন চেজ, তুমি কী করলে খুশি হব জানো?
তোমার এই হোঁদলমার্কা শরীরটা নিয়ে সিটে ফিরে গেলে।
বন্ধু পাতাতে গিয়েছিলে নাকি?
- ওকে চেনো? - না।
বেকার কোম্পানির কর্পোরাল।
শেষ মিনিটে বদলি হয়েছে।
ক্যাপ্টেনের সাথে নাকি ঝামেলা করেছিল, তাই আমাদের সাথে পাঠিয়েছে ওকে।
ক্যাপ্টেনের সাথে ঝামেলার শাস্তি হলো, আমাদের সাথে ভ্রমণ, হাহ?
কেন ভাই, আমরা কী দোষ করেছি?
বয়েস, একটা গাম দেবে?
এটা আবার কী? সৌভাগ্যের জন্য নাকি?
দিয়ে দাও ওটা।
যুদ্ধের ময়দানে জান বাঁচাতে এইসব তাবিজ-কবজের চেয়েও বড় কিছু লাগবে।
আমার চেইনটা ফেরত দেবে, প্লিজ?
এটা কিন্তু বয় স্কাউটের বুটক্যাম্প না,
নিচে নামামাত্রই জার্মানগুলো গুলি ছোঁড়া আরম্ভ করবে।
আর বয়েস, কী যে করবে তুমি! বুটক্যাম্পেই তো তোমার জান বেরিয়ে যাচ্ছিল।
কোনো লাকি চার্মই তোমাকে সৈন্যে পরিণত করতে পারবে না।
কথা শেষ হয়েছে?
চেইনটা দেবে , নাকি?
- মজা করছিলাম শুধু। - ধন্যবাদ।
নেজ, আমাদেরকে কোথায় নামাবে?
ফ্রান্সের সিলব্ল্যাঙ্ক গ্রামে, সার্জেন্ট!
আমাদের লক্ষ্য কী, গ্রুনার?
শহরের কেন্দ্রে গির্জার মাথায় থাকা রেডিও জ্যামিং টাওয়ার!
প্রাইভেট বয়েস, নাৎসিরা কেন গির্জার মাথায় রেডিও জ্যামিং টাওয়ার বসিয়েছে?
কারণ তারা...
আল্লাহ-মাবুদ, এটাও জানো না?
নাৎসিগুলো একাজ করেছে, কারণ ওরা একেকটা কুত্তার বাচ্চা।
জগতের ভালো ভালো জিনিসগুলোকে ধ্বংস করার জন্য
সবকিছু করতে পারে এই কুত্তার বাচ্চাগুলো!
সেজন্য আমাদেরকেও কুত্তার বাচ্চার মতোই কাজ করতে হবে।
কথা পরিষ্কার হয়েছে?
জ্বি, সার্জেন্ট!
এখানে ১,২০,০০০ এর ওপরে মিত্রবাহিনীর সৈন্য থাকবে
জগতে যা কিছু শুদ্ধ আছে, তার নাম করে ফ্রেঞ্চ সৈকতটায় লড়বে ওরা।
আকাশপথে সহযোগিতা লাগবে এদের!
আমরা ৬টার মাঝে ঐ টাওয়ারে যেতে না পারলে
জার্মানগুলোর বাধা পেরিয়ে ঐ সহযোগিতাটুকু ওদের কাছে পৌঁছাতে পারব না।
তাহলে আমাদের কী করা লাগবে?
আমাদের দায়িত্ব পালন করা লাগবে, সার্জেন্ট!
ঠিক বলেছ।
তোমাদের দায়িত্ব।
বিস্ফোরক-বিশেষজ্ঞ হিসেবে এসেছেন কর্পোরাল ফোর্ড।
ওনাকে পাওয়াটা তোমাদের জন্য সৌভাগ্য।
উনি কিছু বলামাত্র সেটা মেনে চলবে।
কথাগুলো ওনার মুখ দিয়ে বেরোলেও ধরে নেবে, সেগুলো আমারই আদেশ।
আর ৯০ মিনিট পরে নামবো আমরা।
মনে হয় কাছাকাছি চলে গেছি।
আশা করি, খারাপ কিছু হবে না।
ভুল করে আসল জায়গায় না নেমে জার্মান সৈন্যদের আখড়ায় গিয়ে পড়লে...
খারাপ কিছু হবে না।
কারণ আমরা সবাই জানি, রোজেনফিল্ড নামের লোকটার সাথে নাৎসিরা কী করেছিল।
খারাপ কিছু হবে না।
ক্রাউটগুলো আমাদের হালকা করে হ্যালো দিচ্ছে
শক্ত হয়ে বসে থাকো চুপচাপ।
আদেশ আসামাত্র ঝাঁপ দেবো।
মজা লাগছে না?
ওরে সর্বনাশ!
কামানের গোলা ছুঁড়ছে!
আর কয়েক মাইল দক্ষিণে নামতে হবে।
ঠিক আছে।
বলেছিলাম না,
দারুণ একটা সময় কাটাবো?
একজনও আস্ত থাকব না আজ!
একজনও আস্ত থাকব না!
সার্জ, আপনার কাছে...
- মারফি! - মেডিক!
শান্ত হও! এজন্যই আমরা এসেছি এখানে।
এটাই আমাদের কাজ।
গ্রুনার, বসো!
আরে, বসো বলছি!
আমি ওকে বাঁচাতে পারব! আমি পারব!
ও মারা গেছে! বসো! সবাই বসো!
সর্বনাশ!
লাল বাতি! সবাই দাঁড়াও!
হুক লাগাও।
প্রস্তুত হও!
সবুজের জন্য অপেক্ষা করো।
সর্বনাশ।
- ময়দানে দেখা হবে - আমি ঠিক তোমার পেছনেই থাকব।
জ্যাকব!
- আমি ঠিক তোমার পেছনেই থাকব - আচ্ছা
ম্যানুয়ালি নামবে!
টিবেট, যাও!
রোজেনফিল্ড!
যাও!
জ্যাকব?
জ্যাকব?
জ্যাকব?
সার্জ।
অ্যাই ক্রাউটের দল, তোমাদের কারো কাছে একটা সিগারেট হবে?
বলো কী! কারো কাছেই নেই?
ধুরর! কপালটাই খারাপ...
চুপ! আর কিছুই করার নেই।
ওকে বাঁচাতে গেলে না কেন?
ও মাটিতে পড়ার আগেই মরে গেছে।
ও নিজেও জানত সেটা।
কী বলছ? চাইলেই...
কিচ্ছু করা যেত না।
ওরা সংখ্যায় দশ জন,
আর তুমি ওদেরকে জীবনেও মারতে পারবে না।
সার্জেন্টকে বাঁচানো আমাদের মিশন না।
ঐ টাওয়ারে ৬টার মাঝে পৌঁছাতে হবে আমাদেরকে, চলো।
উত্তরের দিকে কয়েক মাইল গেলে,
সিলব্ল্যাঙ্কের র্যালি পয়েন্টে পৌঁছে যাব।
যদি অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে।
- কাউকে দেখেছ? - না, খালি তোমাকে।
আর সার্জেন্ট রেনসিন।
বয়েস, লাশদের নিয়ে চিন্তা করা থামাও, নইলে নিজেই মরবে।
কর্পোরাল, প্লেনের ওরা আমার বন্ধু।
আচ্ছা।
কিছু করার নেই, বন্ধুরাও মরে।
কর্পোরাল।
ফ্লাশ।
থান্ডার।
ফ্রান্সে স্বাগতম।
হেই, বন্ধুরা!
- চুপ! - ওহ, সরি।
ভেবেছিলাম, আমরা তিনজন বাদে সবাই মরেছে।
ও ভেবেছিল!
ওর 'অ্যানি ওকলি'মার্কা বকবক আর কিছুক্ষণ শুনলে
নিজের কপালে নিজেই গুলি করতাম।
টিবেট, সাথে বিস্ফোরক কেমন আছে?
ভালোই আছে।
প্লিজ বলো, বয়েস ছাড়া আরো কেউ আছে তোমার সাথে।
ধুত্তোরি, সরি।
- তোমার ক্যামেরা! - ওহ, খোদা। হাহ?
- ক্যামেরাটা নিয়ে এসেছ। - হ্যাঁ।
- মাটিতে পড়েও ভাঙেনি? - না।
ওয়াও, ভালো জিনিস।
- ধন্যবাদ। - প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি আছে?
ওরা আসলে মারামারির ছবি তুলতে বলেছিল,
ফ্রন্টলাইনে থেকে কিছু ছবি পাওয়া যাবে, এটা ভেবে।
একটু দেখি? একে কাজে লাগাতে পারব।
একটু সাবধানে, জিনিসটা ভঙ্গুর...
ঘাড়ে এভাবে স্পটলাইট নিয়ে ঘুরলে সবার আগে তোমাকে মারবে।
সরি, বন্ধু।
রোজেনফিল্ডের খোঁজ পেয়েছ?
গ্রুনারকে এক মাইল পূর্বে দেখেছি।
ক্রাউটগুলো ওকে মেরে নরকে পাঠিয়ে দিয়েছে।
র্যালিতে নেবার মতোই আর কেউই থাকবে না মনে হয়।
যাই হোক, হাসি মুছো না, টিবেট।
ফ্রান্স চুলোয় যাক।
কর্পোরাল, তোমার নিশ্চয়ই ইতালিতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে?
আচ্ছা, তুমি আমাদের সাথে এসে জুটলে কীভাবে?
জানি না, টিবেট।
এত কথা বলো কেন?
কিছু প্রশ্নের ভালো কোনো জবাব হয় না।
কথাটা পছন্দ হয়েছে কর্পোরাল ফোর্ড, আমার বইয়ে লিখে রাখব।
তোমার বই?
হ্যাঁ, এইখানে পোস্ট হওয়ার পর থেকেই লেখে শুরু করেছি।
সবসময়ে ঐ খাতাটাতেই হাবিজাবি লেখো তাহলে?
তোমার মতো একটা হাঁদামার্কা যে বাক্য গঠন করতে পারে, এটাই অবিশ্বাস্য,
আর সেখানে তুমি বই লিখে ফেলছ?
আমার মা গির্জার জন্য রান্নার বই লিখত।
তাই ভাবলাম, এখানে চেষ্টা করে দেখি।
যেসব কাহিনী সাধারণ মানুষদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।
একদম বেসিক থেকে শুরু করে সবকিছু।
থ্রিলিং লাগছে শুনতে, তোমার এ বই লাখ লাখে বিক্রি হবে নিশ্চিত।
আমি অন্তত একটা কিনব।
ধন্যবাদ, দোস্ত।
আর চেজ, ভাবছিলাম, তুমি আর আমি মিলে
টিম বানাতে পারি, তোমার কিছু ছবি বইটায় দিতে পারতাম তাহলে।
লাভের একটা অংশ তাহলে তুমিও পাবে...
বয়েস!
বয়েস... আস্তে করে আমার কাছে চলে এসো!
No comments yet. Be the first to leave one.