The first 200 lines.
প্রাঞ্জলতার স্বার্থে পরিভাষার বদলে কিছু ইংরেজি শব্দ অবিকৃত রাখা হয়েছে।
গুজরাটি লাইনসমূহ অবস্থাভেদে অবিকৃত রাখা হয়েছে অথবা ইসাবের সাহায্যে অনুবাদ করা হয়েছে।
সোজা রান্নাঘরে চলে এলেন? শাকভাজি রাখুন।
এসব চলবে না। একটু বিশ্রাম করুন।
কী করব?
যতক্ষণ রান্নাঘরে পা না পড়ে, ঘরই মনে হয় না।
আপনি শাক দেখুন, আমি আসছি।
এক হাজার আছে।
হারশাদ ভাই প্ল্যান করছে না? শীঘ্রই কিছু না কিছু হয়ে যাবে।
আমি চাকরি পেয়েছি... শ্রীলঙ্কায়।
সোজা শ্রীলঙ্কা?
কী করব? এভাবে তো ঘরে বসে থাকতে পারি না।
তুমি কত পরিশ্রম করো, পার্লারের কাজ করো... ঘরের সব কাজ করো...
বলা শেষ হয়েছে?
পার্লারের টাকায় আপাতত ঘরের খরচ তো চলছে, তাই না?
আর আমার ভালো লাগে।
আগামী মাসে স্যালারিও বাড়বে।
শোনো।
তুমিই না হারশাদ ভাইকে বলছিলে...
...সময়ই সময়কে বদলাতে পারে?
তো, সময়কে কিছুটা সময় দাও।
২ মিনিট, পাপা, রান্না প্রায় শেষ।
সুরেশ ভাইয়ের কত টাকা বাকি?
১০ লাখের লস।
৩ দিয়ে দিয়েছি, ৭ বাকি।
ঘরে স্বর্ণ থাকলে...
...মানুষ আরামে ঘুমাতে পারে।
আমাদের বাপ-দাদারা স্বর্ণ কেন জমা করে রাখতেন?
এজন্যই যে ঘরে কখনও বিপদ আসলে...
-...যাতে তারা... - শান্তি ভাই, আপনি একদম চিন্তা করবেন না।
হারশাদ আর আশ্বিন আমার ঘরের মানুষের মতোই।
হ্যাঁ। কিন্তু হারশাদকে আমি বলেছিলাম...
...সাবধানে।
ব্যাপারটা হচ্ছে... বৃষ্টির সময়...
...যতই ছাতা নিয়ে চলো না কেন...
...পিচ্ছিল রাস্তায় লোকজন পা পিছলে পড়েই।
আমি একা পিছলাইনি, পুরো মার্কেট পিছলেছে।
আর যখন টাকার বৃষ্টি হচ্ছিল, কেউ ছাতা খোলার কথাও ভাবেনি।
- সবাই ভিজতে ব্যস্ত ছিল। - কিন্তু এখন সব ধুয়ে গেছে না?
সব শেষ হয়েছে।
আমরা ঘরের স্বর্ণ নিয়ে বসে আছি।
শান্ত হোন...
এরকম হয়।
মাফ করবেন, সুরেশ ভাই।
সুরেশ ভাই, এগুলো ঘরের কাগজ।
ফ্ল্যাট আর স্বর্ণ মিলিয়ে...
...আপনার সাত লাখ পূরণ হয়ে যাবে।
আরে, কী বলছেন, শান্তি ভাই?
ঘরের কাগজের কোনো দরকার নেই।
টাকা কোথায় যাচ্ছে?
তাই হলে, আমাদের ট্রেডিং একাউন্ট আবার চালু করে দিন না?
হয়তো টাকাও জলদি ফেরত দিতে পারব।
দেখ হারশাদ...
...৩ বছরে তুই ৩ লাখ কামিয়েছিস।
১০ মিনিটে ১০ লাখ লস খেয়ে গিয়েছিস।
তো, স্টক মার্কেট এতটাও সহজ না...
...যে ব্যস ঢুকে পড়ো আর টাকা বানাও।
তো, পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার আগ পর্যন্ত, ট্রেডিং একাউন্ট সাসপেন্ডই থাকবে।
'ছেলে চালাক কিন্তু বেশি দৌড়ায়।'
আগে ওকে হাঁটতে শেখা লাগবে...
এখনও শোননি?
আরে, না, ওই...
...মনে হচ্ছে বেশি খেয়ে ফেলেছি।
ওষুধ খেয়েছি।
তুই বল।
তুই কেন জেগে আছিস?
কাল একটা মিটিং আছে।
একবার আমাদের ট্রেডিং একাউন্ট চালু হয়ে গেলে...
- দেখবেন... - হারশাদ।
তুই সব কাজ উল্টা করিস।
দিনে স্বপ্ন দেখিস আর রাতে জেগে থাকিস।
তুই রাত জেগে থাকলেই তোর একাউন্ট খুলে যাবে না।
যা শুয়ে পড়। হুম?
আপনার এই ভয় হচ্ছে, না?
...যে আমাদের আবার বোম্বে ছাড়া না লাগে?
আরে... না তো। এরকম কিছু না।
পাপ্পা।
রাতকে মিথ্যা বলতে হয় না।
রাত সবার গোপন কথা জানে।
তুই শেয়ার মার্কেটওয়ালা...
...কবে থেকে কবিদের মতো সাহিত্যিক কথাবার্তা বলতে শিখেছিস?
যতদিন আমি বেঁচে আছি...
...আমি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের পিছু ছাড়ব না।
আর BSE বোম্বেতেই।
তো, শান্তিলাল ভাই, শান্তিতে শুয়ে পড়ো।
'শান্তিলাল ভাই...'
আগে থেকে জানলে, হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম।
আর হাসপাতালের খরচ কীভাবে দিতাম?
যা হয়েছে ভালোই হয়েছে।
কোনোপ্রকার কষ্ট ছাড়া ঘুমের মধ্যে চলে গিয়েছে।
উনি তোকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিল।
'চিন্তা চিতার সমান।'
শান্তিলাল ভাই-ই বলতেন।
:.:.: Scam 1992: The Harshad Mehta Story :.:.: Episode 02: "Cobra Killer" অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
জানতাম টেলকো আর জেনিথ ওপরে উঠবে।
সলিড প্রফিট বানাতে পারতাম।
আমার শ্রীলঙ্কায় একটা চাকরি হয়েছে।
সিরিয়াসলি ভাবছি।
এখন সময় একসাথে থাকার আর তুইও যাওয়ার কথা বলছিস?
"তুইও" মানে?
পাপ্পা তো...
দেখ, বুঝতে তো পেরেছি। আমরা এটা করতে পারব।
প্রতিটা শেয়ারের উত্থান-পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছি আমি।
ভাই, এই পেপার-ট্রেডিং...
...পানের দোকানে ক্রিকেট ম্যাচ দেখে...
...গাভাস্কারকে পরামর্শ দেওয়ার মতো।
আসল ম্যাচে নামো, বোল্ড হয়ে যাবে।
হাতে টাকা থাকলে, আসল ম্যাচেও আমি গাভাস্কারের মতোই খেলতাম।
কিন্তু টাকাই তো নেই, তাই না?
হারশাদ ভাই, অনেক দিন পর।
তিনটা স্পেশাল দিয়ো ভাই।
আজকের চা আমার তরফ থেকে।
গতবার যে টিপ দিয়েছিলেন না? সব ওপরে গিয়েছিল।
ভগবানের কৃপায়, অনেক কামিয়েছি সেখান থেকে।
মার্কেট থেকে আপনার মন উঠে গেলেও... ...আমাদের টিপস দেওয়া বন্ধ করবেন না।
অন্তত আমাদের পকেট তো ভরবে!
- কী বলেন? - হেই, বিকাশ!
আসি আসি! চা দে আর লিখে রাখ।
পরামর্শক কোম্পানি চালু করা যাক।
- কী? - কনসালটেন্সি।
তুই সিরিয়াস?
দেখ, আমাদের কাছে টাকা নেই...
...আর আমাদের চেহারা দেখে কেউ টাকা দিবেও না।
তো, চল বুদ্ধিকে কাজে লাগাই।
কারো পাঁচ রুপিকে দশ বানিয়ে দিলে কমিশন হিসেবে অন্তত আট আনা তো মিলবেই।
মার্কেট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে ক্র্যাশের পর।
- আমার মনে হয় না এটা ভালো কোনো প্রস্তাব। - না, না, না, না, না...
এখানে মার্কেটের কোনো দোষ নেই...
...এটার স্বভাবই সাপ-সিঁড়ির খেলার মতো।
আমি কী বলি ধ্রব ভাই, একবার পাশা চেলে তো দেখুন...
কে জানে, সিঁড়ি ধরে সোজা ওপরে পৌঁছে যাবেন হয়তো!
আর যদি আবার নিচে নেমে যায়?
নামতে নামতে আর কত নিচে নামবে, ধ্রুব ভাই?
এতটা নিচে নেমেছে যে এখন শুধু ওপরেই উঠবে।
আর দেখুন, আমাদেরও নতুন কোম্পানি।
দুই পয়সার চক্করে কোম্পানির নাম খারাপ করব না।
ওটা তো মার্কেটের পতনের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
- আশ্বিন, তুই সত্যিটা বল। - হ্যাঁ।
আমাকে প্রথম বকরি ভেবে আমার কাছে এসেছিস?
- ষাঁড়। - কী?
- ষাঁড়কে গান শোনাচ্ছিস। - মানে?
কী, আশ্বিন!
যার মার্কেটে আগ্রহই নেই তার সামনে মার্কেটের কথা বলে কী লাভ?
ষাঁড়কে গান শোনানোর মতো না এটা?
তোকে বলেছিলাম এই সিএ লোকেরা একটা জিনিসই ভয় পায়, আর সেটা রেড লাইন।
আমাদের ভবিষ্যৎ ক্লায়েন্ট উনি, হারশাদ।
- ক্লায়েন্টের সামনে কী রকম কথা বলছিস? - কীসের ক্লায়েন্ট?
ষাঁড়ের জন্মই হয়নি, আর তুই দুধের সরের স্বপ্ন দেখছিস?
ক্লায়েন্ট সে, যে ইনভেস্টমেন্ট করে।
উনার তো ইনভেস্টমেন্টে ইন্টারেস্টই নেই।
তুই একটা ক্লায়েন্ট নিয়ে আসতে পেরেছিস?
আমি ৪.৫ লাখ রুপির ক্লায়েন্ট নিয়ে এসেছি।
তো, তুই ব্যস চুপ থাক।
ধ্রুব ভাই, ওর মাথা গরম।
আপনার বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করা উচিত।
দেখুন, আপনার টাকা, আপনার মর্জি।
- লাঠি যার, ষাঁড় তার। - এই ভাই এই!
আগে এই "ষাঁড়ের" উপমা দেওয়া বন্ধ করো। প্লিজ।
আমি মানা করিনি।
এক লাখ।
আমি এক লাখ ইনভেস্ট করতে পারি।
সিঁড়ি মিললে, আবার পাশা চালব।
তুই ষাঁড়ের উপমা দিয়ে মজা নিচ্ছিলি, বিরাট বাঁশ খেয়ে যেতে পারতাম রে ভাই!
তুইও কম না! '৪.৫ লাখ' এর কী সুন্দর টোপ দিলি। ৪.৫ লাখ শুনেও ওর কান খাড়া হয়ে গেছে।
সাড়ে চার লাখের টোপ দেইনি, আমাদের কাছে সাড়ে চার লাখ আছে।
ওই! এদিকে আয়।
কোথা থেকে এসেছে?
- শ্বশুরবাড়ি থেকে। - মানে?
মানে, দীপিকার বাবার সাথে আমি কথা বলেছি।
- কাকার সাথে? - হ্যাঁ।
- তুই তো... - পেনশনের টাকা ছিল।
দেবী লক্ষ্মী আশীর্বাদ দিতে আসলে আমি কি না করব?
উনি দিলেন, আমি রেখে দিলাম।
আর কে জানে, শ্বশুরের টাকায় আমরা সফলতাও পেয়ে যেতে পারি।
তাই না?
সফলতা কী? ব্যর্থতার পরে নতুন অধ্যায়।
বাহ, আমার তারাক মেহতা!
হারশাদ মেহতা।
আশ্বিন মেহতা।
Growmore. মানে?
'Grow' মানে 'বৃদ্ধি পাওয়া'। 'More' অর্থ 'প্রচুর।'
প্রচুর বৃদ্ধি। প্রচুর উন্নতি।
আজকাল ইংলিশ নামেরই চলন, তাই না?
ওই যে সুজাতা স্টিলস। ওটার নাম স্ট্যালিয়ন স্টিলস হয়ে গেল...
...আর ৭ রুপি থেকে ২ মাসে দাম ১২ রুপি হয়ে গেছে।
এই ইংলিশ নাম শুনেই লোকের ভরসা বেড়ে যায়, না?
বাকি হিসাব করে দিয়েছি।
কিছু টাকা বাকি আছে... ওটাও জলদি দিয়ে দেবো।
চিন্তা করার কোনো দরকার নেই।
তো, ভবিষ্যৎ প্ল্যান কী?
বিনিয়োগকারী পেয়েছো তো?
মানে...
...ইনভেস্ট করার জন্য, ব্রোকার তো দরকার, তাই না?
হ্যাঁ। কোথাও সাব-ব্রোকার বনে যাবো।
কোথাও কেন? এখানেই হয়ে যাও।
আপনি আমাদের একাউন্ট সাসপেন্ড করে রেখেছেন না?
তো এখানে কীভাবে করব?
আজ থেকে ট্রেডিং একাউন্ট চালু।
এত চিন্তা করো না। আজ একাদশী। শুভ দিন।
চলো। তোমাদের এখানে সাব-ব্রোকার বানিয়ে দিলাম।
No comments yet. Be the first to leave one.