The first 200 lines.
আন লুশানের বিদ্রোহের কয়েক বছর পর,
তাং সাম্রাজ্যের পশ্চিম সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
এই সুযোগে তিব্বতীয়রা আক্রমণ শুরু করে দেয়!
[চ্যাং'আন ছিল তাং সাম্রাজ্যের(৬১৮-৯০৭খ্রিস্টাব্দ) রাজধানী এবং চীনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর। চ্যাং'আন (বর্তমানে শি'আন) চীনের শানসি প্রদেশে অবস্থিত। এটি শানসি প্রদেশের রাজধানী।]
[তাং সাম্রাজ্য ছিল চীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও গৌরবময় রাজবংশ, যা ৬১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। এই সময়ে চীনা কবিতা ও সাহিত্য চূড়ান্ত বিকাশ লাভ করে।]
সম্রাট ডাইজং-এর রাজত্বের প্রথম বছর, শীতের শেষ সময়।
"গাও শি" "পশ্চিম সিচুয়ানের সামরিক গভর্নর"
গভর্নর গাও!
আমাদের প্রধান বাহিনী রওনা হয়ে গেছে।
তোমাদের এই ছোট্ট দুর্গের সবাই...
মরবে!
দুর্গ ছেড়ে দাও।
লুশুই গিরিপথের দিকে পিছু হটো।
অনুবাদ ও সম্পাদনা ~ জাহিদ হাসান ~
গভর্নর গাও!
সম্রাট কি রাজধানী ছেড়ে পালিয়েছেন?
হ্যাঁ।
মহারাজ এখন শানঝৌ-তে আছেন।
তিব্বতীয়রা চ্যাং'আন অবরোধ করে রেখেছে।
মার্শাল গুও ঝিয়ির সেনাবাহিনী-
তারা কোথায়?
এখনো লানতিয়ান-এ।
আরো অনেক মন্ত্রী ও সেনাপতিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মহামান্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সিংহাসনে বসার পরপরই
তিনি লি ফুগুয়ো এবং চ্যান্সেলর ইউয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
সময়টা অশান্ত,
রাজদরবার থেকে একের পর এক আদেশ পাঠানো হচ্ছে!
আপনাকে সেনাবাহিনী নিয়ে পশ্চিমে
তিব্বতীয়দের ওপর আক্রমণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যাতে তাদের প্রধান বাহিনী ফিরে গিয়ে
চ্যাং'আনের অবরোধ তুলে নেয়।
কিন্তু আমি ইউনশান ছেড়ে
লুশুই পাসে পিছু হটেছি।
শীঘ্রই জেনারেল ইয়ান উ দায়িত্ব নেবেন।
তবে,
দক্ষিণ-পশ্চিম সিচুয়ান কমান্ডের দায়িত্ব...
এখনো আপনার হাতেই আছে!
অবশ্য,
যখন রাজদরবার দোষারোপ করবে,
তখন দোষটা আমারই হবে।
তিব্বতীয় বন্দিকে জেরা করার জন্য আনো।
সব প্রশ্নের ঠিক ঠিক জবাব দিবি!
গভর্নর!
গভর্নর!
ডজনখানেক অশ্বারোহী শিবিরের ফটকে দাঁড়িয়ে আছে!
জরুরি পরিস্থিতি।
নিজেদেরকে রাজকীয় দূত, সামরিক পরিদর্শক বলছে।
সামরিক পরিদর্শক?
রাজকীয় দূত?!
ফটকে যাও।
তাদের পরিচয় যাচাই করো।
উপযুক্ত সম্মান দেখিয়ে গ্রহণ করো।
জি হুজুর।
এটা স্বর্গের ইচ্ছা!
এই তিব্বতীয়কে নিয়ে যাও।
তাঁবুর বাইরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখো।
জি হুজুর।
ওঠো! চলো!
গভর্নর গাও!
কেউ আছেন? সাহায্য করুন!
গভর্নর!
পরিদর্শক চেং।
আপনাকে অভ্যর্থনার জন্য আসতে না পারার জন্য
আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
সম্রাট আমাকে পশ্চিমে পাঠিয়েছেন
আপনাকে কিছু প্রশ্ন করার জন্য, মহাশয়।
আশা করি, আপনি ঠিকঠাক জবাব দিবেন,
যদি কিছু লুকানোর চেষ্টা করেন,
অথবা কোনকিছু অস্পষ্ট রাখেন,
তাহলে আমাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে,
আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার
এবং আপনার গোটা বাহিনীকে শাস্তি দেওয়ার।
সম্রাটের প্রতি আমার ব্যর্থতার জন্য আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম।
প্রশ্ন করুন, স্যার,
আমি যা জানি সব বলে দেব।
লি বাই।
লি বাই। লি তাইবাই।
রাজকীয় পণ্ডিত।
যে নিজেকে বলে "সবুজ পদ্মের সাধু"।
লি বাই।
আপনি তাহলে তিব্বতীয়দের ব্যাপারে আসেননি?
লি বাইয়ের সঙ্গে আপনার কীভাবে দেখা হয়েছিলো?
শুরু থেকে বলুন।
সে ছিল...
একটা সময় সে আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো।
আমাদের বন্ধুত্ব হয়েছিলো কবিতার মাধ্যমে।
তাং সাম্রাজ্যের সবাই কবিতা লেখে -
সম্রাট থেকে শুরু করে পথের ফেরিওয়ালারাও।
এতে বিশেষ কী?
সাঁঝের আকাশ রঙিন মেঘে ঢাকা,
উত্তরের বাতাসে ভেসে চলে বরফঝরা গাঙচিল।
পথের নিঃসঙ্গতায় কেনই বা ভয়?
এ বিশ্বে কে আছে তোমায় না চেনে?
আমি এই কবিতাটা আগে শুনেছি।
আমি এটা লিখেছিলাম তিরিশ বছর বয়সে।
ডং ডার বিদায় উপলক্ষে।
আহ্, কতই না উদ্যম আর উচ্ছলতায় ভরপুর ছিলাম সেই দিনগুলোতে!
সবাই তোমাকে চিনলেও,
ক'জনই বা প্রকৃত বন্ধু হতে পারে!
লি বাই যদি একসময় আপনার এতো প্রিয় বন্ধু হয়ে থাকে,
তবে পাঁচ বছর আগে,
আপনি কেন তাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন?
গভর্নর!
যখন আমাদের দেখা হয়েছিলো, আমরা দুজনেই ছিলাম টগবগে তরুণ!
আমার বয়স তখন সবে কুঁড়ি!
ডোংটিং হ্রদের কাছে ঘটেছিল সে ঘটনা।
আমাদের প্রথম দেখার সময়,
ও তো আমাকে মেরেই ফেলেছিলো!
আমি তখন প্রথমবারের মতো বাড়ি ছেড়েছিলাম।
আমি বোহাইয়ের গাও বংশের মানুষ।
আমাদের প্রজন্মের ৩৫তম ছেলে ছিলাম আমি।
তারা আমাকে ডাকত "গাও পঁইত্রিশ" নামে।
আমার দাদু সম্রাট গাওজংয়ের অধীনে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সেনাপতি ছিলেন।
তিনি তুর্কি ও গগুরিয়োদের পরাজিত করেছিলেন।
সম্রাট গাওজংয়ের সমাধির পাশে তিনি সমাহিত হন।
এবং বোহাইয়ের রাজপদ অর্জন করেন।
আমাকে নিয়ে আমার বাবার অনেক আশা ছিলো,
তিনি স্বপ্ন দেখতেন, একদিন
আমি আমার দাদুর মতো হবো—
বিশাল মরুভূমির ওপারে আমাদের পতাকা উড়িয়ে দেব।
কনফুসিয়াস বলেছিলেন
"তুমি যা শেখো, তা কাজে লাগাও—"
কিন্তু পড়াশোনা শেখা
আমার জন্য সত্যিই কঠিন ছিলো।
আমি যখন বইয়ের দিকে তাকাতাম
মনে হতো, অক্ষরগুলো যেন পাতার ওপর ব্যাঙাচির মতো সাঁতার কাটছে।
এদিক-ওদিক ছুটছে, একেবারে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা!
"অন্যদের সাহায্যে নিজেকে উজাড় করে দাও"
"অন্যদের সাহায্যে নিজেকে উজাড় করে দাও?"
বাবা—
ম-মাফ করে দিন।
গাও বংশের বর্শা একজন যোগ্য উত্তরসূরি পেয়েছে।
বাবা ছিলেন একাধারে যোদ্ধা ও পণ্ডিত।
কিন্তু তিনি যখন গুয়াংডং-এর শাও-এ মারা যান,
তখন তিনি ছিলেন ক্ষুদ্র এক জেলার সামান্য কর্মকর্তা।
আমার বয়স তখন মাত্র ষোলো। মা তো অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন।
বাবা কোন সম্পদ রেখে যেতে পারেননি, দিন আনি দিন খাই অবস্থা ছিলো আমাদের!
গুয়াংডং থেকে তার চিতার ছাই নিয়ে গুয়াংলিং-তে ফিরে এলাম।
ফিরে এলাম আমাদের ফাঁকা বাড়িতে।
এই পৃথিবীতে আমি সম্পূর্ণ একা হয়ে গেলাম!
তিন বছর শোক পালনের পর
রাজধানী চাং'আনের উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়লাম।
পড়ালেখা তেমন না পারলেও, যুদ্ধবিদ্যায় ভালোই পারদর্শী ছিলাম।
সেটা ছিলো কাই ইউয়ানের যুগ, তাং সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ।
আমার পরিকল্পনা ছিলো, সরাসরি চাং'আনে যাবো,
সম্রাটের সেবা করবো,
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবো,
এবং আমার পরিবারের গৌরব পুনরুদ্ধার করবো।
কিন্তু আমি ভাবিনি যে ভ্রমণ এত কষ্টকর হবে।
আমি গুয়াংলিং থেকে পশ্চিমে যাত্রা করলাম।
টানা এক মাস চলার পর
আমি কেবল ডোংটিং হ্রদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলাম।
এদিকে টাকাও ফুরিয়ে আসছিলো।
রাস্তা থেকে সরো!
চোর!
দাঁড়া!
অপদার্থ চোর! ভালোই তো দক্ষ দেখছি!
কিন্তু ঘোড়ার পিঠে বসে বীর সাজলে চলবে না।
সত্যিকারের যোদ্ধা হলে, নেমে আয়!
তখন দেখা যাবে কে জেতে!
স-স্যার, আপনি কাকে চোর বলছেন?
আমার ঘোড়া আর থলে চুরি করে এখন ন্যাকামি হচ্ছে?
তুই তো সত্যিই বেশ দক্ষ, চোর।
আমার তলোয়ার মোকাবেলা করা সহজ নয়।
এমন দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও চুরি করিস কেন?
এ-এখনই দু'টো ঘোড়া ছুটে গেল।
তাদের স্যাডলব্যাগ ছিলো।
মনে হচ্ছে ওরাই আসল চোর।
তুমি যদি চোর না হও,
তবে ওদের মতো টুপি পরে আছো কেন?
ওহ! ক-কাকতালীয় ব্যাপার।
আচ্ছা, বিশ্বাস করলাম!
তোমার ঘোড়াটা নিচ্ছি!
আমার ঘোড়া!
তুমি তো সত্যিকারের যোদ্ধা!
আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।
আগের ভুল অভিযোগের জন্য
ক্ষমা চাইছি।
সমস্যা নেই।
তাং সাম্রাজ্যের আইন বলে,
যদি কেউ চোরের মুখোমুখি হয়,
তবে তাকে হত্যা করা অপরাধ নয়।
তা না হলে, আমি সাহায্য করতে পারতাম না।
তুমি তো দেখি আইনেরও অনেক কিছু জানো!
ভাই, আমাকে নিয়ে ঠাট্টা কোরো না।
এত অল্প বয়সে এত গম্ভীর!
ধন্যবাদ।
লি বাই, আপনার সেবায়।
গাও শি, আপনার সেবায়।
গাও শি, ভাগ্য ভালো যে, সময়মতো তোমার ঘোড়াটা পেলাম!
এই চোরটাকে ধরতে না পারলে, নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না।
তোমার কাছে কি খুব দামী কিছু ছিলো?
সোনা-রূপা হলে এত ভাবতাম না।
কিন্তু এটা—
এটা আমার প্রিয় বন্ধু, উ ঝিনান।
ভাই উ—গাও ভায়া-এর সঙ্গে পরিচিত হও।
এটা…?
আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করতাম।
সিচুয়ান ছাড়ার পর মাউন্ট লু-তে ওর সঙ্গে দেখা হয়।
No comments yet. Be the first to leave one.