The first 200 lines.
মেরুজ্যোতি হলো এমন এক আলো যা তৈরি হয় যখন পৃথিবী...
সূর্যের কাছে পৌঁছাতে চিরকাল ব্যর্থ হয়েও...
নিজের চৌম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণে সৌর প্লাজমার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাগুলো নিজের দিকে টেনে নেয়।
সম্ভবত এই চোখ ধাঁধানো, মন্ত্রমুগ্ধকর আলোটি...
স্রেফ একটি করুণ এবং ক্ষণস্থায়ী মায়া ছাড়া আর কিছুই নয়...
সূর্যের প্রতি পৃথিবীর তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে যার জন্ম,
যা তাকে এই বিশ্বাসে ভুলিয়ে রাখে যে সূর্যের সাথে স্রেফ একটি ছোঁয়া...
তাদের দুজনকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
সেই রাতে,
জীবনের প্রথমবার,
আমি মনে-প্রাণে চেয়েছিলাম আমার এই কল্পনা যেন বাস্তবে রূপ নেয়।
কিন্তু পৃথিবী কখনোই সূর্যের কাছে পৌঁছাতে পারে না,
আর সিউলের আকাশে মেরুজ্যোতিও দেখা দেয় না।
মিস্টার জু হো-জিন,
চলুন এখন ফিরে যাই।
এটা অদৃশ্য হয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে থেকে দেখতে পারি।
থাক, লাগবে না। আমি এটাকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখতে চাই না।
কথা মতো আমরা একসাথে এটা দেখেছি।
ওটুকুই যথেষ্ট।
ওটা চলে গেছে।
আমি তো তোমাকে ভেতরে যেতে বলেছিলাম।
একটু আগে তোমাকে মেরে ফেলার যে হুমকি দিয়েছিলাম, ওতে কি তুমি ভয় পেয়ে গেছ?
প্রথমে পেয়েছিলাম,
কিন্তু কেন এমনটা হলো তা জানতেই আমি এখন এখানে অপেক্ষা করছি।
তুমি যা শুনেছ তা শোনোনি বলে অভিনয় করলেই হবে।
স্রেফ এটুকুই?
কিন্তু আমি তো খুব বাজে মিথ্যাবাদী।
আমি শুধু চাই না যে বিয়েটা ভেঙে গেছে তা কেউ জানুক।
সবাই তো খুব জলদিই তা জেনে যাবে।
ঝগড়া করতে চাও নাকি?
মাফ করবেন। খুনের হুমকি দিয়ে তো আপনিই শুরু করেছিলেন।
তুমি আমার হুমকিতে ভয় পাচ্ছ না। বরং আমাকে খ্যাপাতে তোমার মজাই লাগছে।
আমি আগে অ্যাথলেট ছিলাম, তাই আমার রিফ্লেক্স খুব দ্রুত।
এই ফোনটাও কিন্তু এখনও চালু আছে।
ও আবারও ফোন করছে।
আমি ভুল করে আবারও ধরার আগেই তুমি এটা নাও।
ও কি তোমার সাথে বেইমানি করেছে?
মনে হচ্ছে লোকটা তোমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য হাতে-পায়ে ধরছে, কিন্তু ফিরো না।
বেইমানি করলে আর ফিরে যাওয়ার কোনো পথ থাকে না।
তাই নাকি?
কেউ বেইমানি করলে কি আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়?
জিন-সুক।
আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না।
আমি তোমাকে ঠকিয়েছি।
তাই আমাকে আর কোনোদিন ফোন করবে না।
আমাদের সব শেষ।
তুমিই... অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছ?
আমি এখনই শুরু করতে যাচ্ছি।
বেইমানি।
আটকে গেছে, তাই না?
ইউরোপের পুরনো হোটেলগুলোতে
আমার সাথে আগেও এমন হয়েছে।
তুমি যদি মোচড়াতে থাকো, তবে লকটা খুলে যাবে।
তুমি নিশ্চয়ই ক্লান্ত।
আজকের শুটিংটা একটু বেশিই লম্বা হয়ে গেছে।
ক্লান্ত থাকলে আমার মুখ কেমন ফুলে যায়।
মনে হয় আজকের শুটিংটা খুব কঠিন ছিল।
কিছুটা।
খুব ঠান্ডা ছিল, মেরুজ্যোতির কোনো চিহ্ন ছিল না, আর আমাদের মাঝে ছিল স্রেফ এক অস্বস্তিকর নীরবতা।
তাই আমরা আগুন জ্বালিয়ে কিছু একটা সেঁকছিলাম।
আমরা আলু আর মার্শম্যালো সেঁকছিলাম।
একাই সব খেয়ে আমার পেট এখনও ভরা।
একা সব কেন খেলে? ও কি আবারও খিটখিট করছিল?
না।
হিরো খুব সাবধানে খায় কারণ ওর ওজন খুব জলদি বেড়ে যায়।
নানামি আমাকে আগেভাগেই একটু সাবধান করে দিয়েছিল।
আচ্ছা।
ও এটাও বললো যে হিরো বড্ড মেজাজি হয়ে আছে...
কারণ ও ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না, ওর চোখ খুব ড্রাই আর ও সব ধরণের অ্যালার্জিতে ভোগে।
যখন আমরা হাত ধরেছিলাম, আমি খেয়াল করলাম ওর হাত বরফের মতো ঠান্ডা।
মনে হয় ওর রক্ত সঞ্চালন খুব একটা ভালো নয়।
তুমি কার হাত ধরেছিলে...
এই জিনিসটা খুলছে না কেন?
তাই এখন থেকে আমি ওর একটু খেয়াল রাখবো।
সেই জন্যই আজ আমি সব মার্শম্যালো খেয়ে ফেলেছি।
ও হাসছিল, তাই মনে হলো ও কৃতজ্ঞ।
এখন বুঝতে পারছি ওকে কেন রোমান্সের রাজপুত্র বলে।
হাসলে ওকে বেশ কিউট লাগে।
এই আপদটা খুলছে না কেন?
আটকে গেছে নাকি? -ওটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।
আর হাসলে ওর গালে ঐ টোলগুলো পড়ে।
কোথায়?
খুব কাছ থেকে দেখলে, এই যে এখানে।
খুব কাছ থেকে দেখে যদি টোল খুঁজতে হয়, তবে ওটাকে কি আদেও টোল বলা যায়?
এটা খুলছে না কেন?
কেউ কি ইচ্ছা করে ওটা জ্যাম করে দিয়েছে?
খুলেছে!
যাক বাবা, বাঁচা গেল!
আমার মাথায় লাগলো...
তোমার ভেতরে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। -ধন্যবাদ।
ভালো কথা,
হিরো বললো ওনার প্রিয় কোরিয়ান খাবার হলো প্রচুর মাশরুম দিয়ে তৈরি 'জাপচে'।
তুমি কি আমাকে ওটা বানানো শেখাতে পারবে?
আমি ওটা বানাতে জানি না।
আমি তো ভেবেছিলাম তুমি খুব ভালো রাঁধো।
আমি ওটা কোনোদিন বানাইনি।
আমি বরং ইউটিউব দেখেই শিখে নেব। -ইউটিউব দেখো। অবশ্যই।
ভেতরে গিয়ে বিশ্রাম নাও। ওটা যেন কী ছিল?
একটু আগে তুমি বললে...
মার্শম্যালো। তুমি বললে যে তুমি অনেকগুলো খেয়েছ।
তোমার মুখটা একদম ফুলে আছে।
তো ওকে কার সাথে ঠকাবে?
২০ বছরের ওপরে যে কোনো অবিবাহিত ছেলেই চলবে।
তা আবার হয় নাকি? ওভাবে তো যে কেউ হতে পারে।
আমি এমন কাউকে খুঁজছি না যার প্রেমে আমি সত্যিই পড়বো।
যদি তুমি এমন কাউকে নাই খোঁজো যার সাথে ঘর বাঁধবে,
তবে ঠকানোর দরকার কী?
কারণ এমন কিছু করতে হবে যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকবে না।
যাতে আমি চাইলেও আর কোনোদিন ওর কাছে ফিরে যেতে না পারি।
তাও, তুমি স্রেফ যার তার সাথে এমনটা করতে পারো না।
এটা শুধু বিপজ্জনকই নয়, বরং বড্ড চরিত্রহীন কাজ হবে!
তো কী হয়েছে? আমি চিনি এমন কারো সাথে করবো?
নিরাপদ আর সম্মানজনক হওয়ার জন্য?
তোমার চেনা কেউ? কে?
এক মিনিট দাঁড়াও।
তুমি নিশ্চয়ই হো-জিনের কথা বলছো না, তাই তো?
বলছো কি?
জানি তোমার মাথা বিগড়ে গেছে, কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই এতটাও পাগল হয়ে যাওনি?
ওর সাথে তা সম্ভব নয়।
ও এই শর্তগুলো পূরণ করে না।
শর্ত?
আমি তো আগেই বললাম আমি এমন কারো সাথে তা করতে পারবো না যার প্রেমে আমি সত্যিই পড়বো।
যার মানে হলো
এমন কারো সাথেও নয় যাকে আমি আগে কোনোদিন পছন্দ করতাম।
একটা সময় ছিল
যখন আমি জু হো-জিনকে পছন্দ করতাম।
এই ভালোবাসার কি অনুবাদ সম্ভব?
ওরা আমাদের ভেতরে যেতে দিচ্ছে না কেন?
তুমি না বললে যে তুমি ইংরেজি বোঝো।
তুমি একদম অপদার্থ!
আমি বলছি তো, ওদের অ্যাকসেন্ট বড্ড অদ্ভুত, আমি মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না।
এমনকি জি-সুনও কিছু বোঝেনি।
হো-জিন এখন ফোনে কথা বলছে, খুব জলদিই সব জানা যাবে।
ওরা বলছে আমরা নাকি পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বলেছি যে কাল শ্যুটিং হবে।
কাল?
প্রডিউসার কিম একদম শেষ পর্যন্ত ঝামেলা পাকিয়ে গেল!
কী এক আপদ।
ওরা বললো পার্কের অফিস ভেতরেই আছে আর ওনাদের সাথে সরাসরি কথা বলতে বললো।
পার্ক খোলার আগে আর ভিড় হওয়ার আগেই আমাদের শ্যুটিং শেষ করতে হবে।
আমরা কি ওনাদের সাথে গিয়ে অনুরোধ করবো? -হ্যাঁ। মিস্টার জু, দয়া করে আমাদের সাথে আসুন।
গিয়ে কাস্টদের জানিয়ে দাও।
তুমি কি মু-হিকে জানিয়ে দিতে পারবে যে শ্যুটিং অন্তত ৩০ মিনিট দেরি হবে?
অবশ্যই, বলে দেব।
ধন্যবাদ।
একটা সময় ছিল যখন আমি জু হো-জিনকে পছন্দ করতাম।
সবকিছু বড্ড জটিল হয়ে গেছে।
ওখানে কী করছো তুমি?
গতকাল তো মনে হচ্ছিল একদম মরা জম্বি, কিন্তু আজ দেখছি প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
আবারও ছবি তুলছো?
একা একা বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো তোমার ঠিক না।
লোকে বলে কানাডার বনে ভাল্লুক থাকে।
ভাল্লুক...
ভাল্লুককে যেন কী বলে?
ফু...
ফু বাও!
ভাল্লুক!
ওটা আবার কী?
ওই যে, ভাল্লুক!
ও তোমাকে খেয়ে ফেলবে!
ওহ, ভাল্লুক?
হ্যাঁ, ভাল্লুক। এই তো।
ওটা মোটেও ভাল্লুকের মতো ছিল না।
তাছাড়া তুমি ভাল্লুকের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। তুমি একটা জম্বি।
তোমার হাত বড্ড লাল হয়ে আছে। তোমার রক্ত সঞ্চালন নির্ঘাত খুব একটা ভালো নয়।
একদম জমে যাচ্ছ, তাই তো?
কী করছো তুমি?
তোমার সবসময় কিছু হিট প্যাক সাথে রাখা উচিত।
আমার থেকে কিছু নেবে?
এই নাও। এগুলো বেশ গরম।
আমি নিজের শরীরে এক গাদা লাগিয়ে রেখেছি, তাই আমার সমস্যা হবে না।
আর এটা খাও।
এটা
সুগার-ফ্রি।
চিনি নেই। ফ্যাট নেই।
ক্যান্ডি?
এটা কি 'আমে' (ame)? -হ্যাঁ, আমে।
তার মানে জাপানি ভাষায় ক্যান্ডিকে 'আমে' বলে?
আমরা হয়তো একই ভাষায় কথা বলি না,
কিন্তু যা উষ্ণতা দেয় বা যা খেতে মিষ্টি তা নিশ্চয়ই সব জায়গায় একই।
নানামি বললো যে ও যখন আমার সাথে ছিল তখন নাকি আমি ঝলমল করছিলাম।
যেহেতু আমরা এখন একা আছি, আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখতে পারি।
একই ভাষা না বুঝলেও এই অনুভূতিগুলো ঠিকই টের পাওয়া যায়।
এখন, তোমার যদি কিছু বলার থাকে,
তবে দয়া করে এটার মধ্যে বলো।
ঝলমল করা।
ঝলমল করা।
"ঝলমল করা"?
কোনটা?
ওহ, তাহলে এগুলোই ঝলমল করছিল।
আমার কানের দুল? ওগুলো নিয়ে কী হয়েছে?
বাপ রে, অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম।
ভাবুন একবার যদি আমি ওকে জিজ্ঞেস করতাম ও আমাকে পছন্দ করে কি না।
তাহলে কী হতো?
আমি তোমাকে একদম পছন্দ করি না!
তার মানে আশেপাশে সত্যিই ভাল্লুক আছে।
ভাল্লুক! ও তোমাকে খেয়ে ফেলবে!
সব কিছু কি ঠিকঠাক মনে হচ্ছে না?
যাক, বাঁচা গেল! -বাপ রে, বড্ড টেনশন হচ্ছিল।
মু-হি, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
দো রা-মিই সেরা!
No comments yet. Be the first to leave one.