The first 200 lines.
তুমি এখানে!
দ্যাখো, কী হয়েছে!
দ্যাখো, আমি কী করেছি!
সব কিছু শেষ এখানেই।
তোমাদের সবারই...ইতি টানলাম সানন্দে।
কিন্তু আমারটা সবেমাত্র শুরু।
বিদায়, পিতা।
আমাকে কোনোসময় ভালো না বাসলেও... আমি সবসময় তোমায় ভালবাসতাম।
প্লীজ, মাই কুইন।
দেবতারা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন!
আমরা হলাম পায়ান, পুতঃ পবিত্র, আমাদের মনোনীত করা হয়েছে...
কাম অন, বয়।
আচ্ছা, গুড বায়।
জন্তুটা অনেক সময় ধরে ঘুমিয়েছে।
ঘুম ভেঙে এখন সে জেগে উঠেছে।
আমাদের সামনে যা পড়ে...
সেটাকেই বশ্যতা স্বীকার করাতে হবে।
ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ দিলে কী জন্য?
আমাকে যে একটু একা থাকতে দিয়েছ!
ভালো করেই জানো, জোর করে আমার থেকে কথা বের করা যাবে না।
কী এমন মহামূল্যবান সম্পদ তোমার বাবা তোমায় দিয়ে গিয়েছে,
যেটা উদ্ধার করার জন্য...
স্বামী-সন্তানদের জীবন এতো ঝুঁকিতে ফেললে?
আমি নিশ্চিত, যদি ওই কাহিনীর বিস্তারিত আরও খুলে বলার কিছু থাকত...
তাহলে আমাকে বলার আগে, ওদেরকে বলে দিতে।
তবুও বলতে চাই...
আমার মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে...
যেটার জন্য আমি নিজের মনকে...
একদণ্ডও স্থির রাখতে পারছি না।
কী সেই প্রশ্ন?
যেদিন আমাদের গ্রামে পা রেখেছিলে...
ওইদিন জারলামারেল সবশেষে কী বলেছিল, মনে আছে?
মনে নেই।
বলেছিল, "সাবধানে থেকো।"
প্রতিটা মূহুর্তে, প্রতিটা সময়।
সে হয়ত এটা দিয়ে বুঝাতে চেয়েছে...
"আমার প্রিয়তমা স্ত্রী আর ভবিতব্য সন্তানদের দিকে বিশেষ খেয়াল রেখো।"
কথাগুলো আমার কাছে ছিল কাঁটার মতো...
যেটা এত-বছর গলায় বিঁধেছিল।
কিন্তু জলপ্রপাত ছেড়ে আসার পর, নদীপথে যাত্রা করার পর
একটা জিনিসই আমার ভয় লেগেছে...
যদি ওর কথার মানেটা ভালোভাবে না বুঝে থাকি!
সে আর কিসের ইঙ্গিত দিয়ে থাকতে পারে?
এখন তোমার স্বামী-সন্তানরা,
একমাত্র তোমার কথাতেই বিনা-অস্ত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গিয়েছে।
ওরা এতটুকুও দ্বিধা-বোধ করেনি।
এমনকি তুমিও না।
নদী পথে যাত্রা শুরুর পর, তোমার মধ্যে একটা বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তোমার কণ্ঠে, চলা-ফেরায়, মাঘরা।
একটা ভয়ের আভাষ পাওয়া যাচ্ছে।
অশুভ কোনো কিছুর আভাষ।
আমি একদম সেই আগের মতোই আছি।
তোমার কনফিউশনটা বুঝতে পারছি, সহ্য করছি তোমার কৌতূহলটা-ও।
কিন্তু দয়া করে এটা বলো না, নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে আমি...
আমার স্বামী-সন্তানের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছি।
অথবা আমি তাদের কোনো ক্ষতি চাই।
আমার হাতটা ধরো।
প্রার্থনা করো আমার সাথে...
যাতে তাঁরা সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
এখানেই-তো দেখেছিলাম।
পাগলের কাজ-কারবার।
কিছু শুনলে?
নাহ।
গুণ গুণ শব্দ শুনতে পাচ্ছি।
হ্যাঁ।
কিছু লোকের গুণ গুণ শব্দ ভেসে আসছে।
এইদিকে থেকে আসছে।
কারা গুণ গুণ করছে?
এটা আবার কী?
অপায়ল, মেথর সম্প্রদায়।
নিচে-তো কেউ নেই, ধূ-ধূ প্রান্তর মনে হচ্ছে।
নাহ।
ওরা নিশাচর, দিনে ঘুমিয়ে থাকে।
এদের মধ্যে কেউ একজন চুরিটা করেছে।
ওরা নিচেই আছে নিশ্চিত।
সংখ্যায় কত তা ঠিক বলতে পারব না।
কিন্তু আমাদের থেকে সংখ্যায় বেশি হবে মনে হচ্ছে।
- স্বাভাবিক। - জিনিস ছাড়া আমরা ফিরে যাচ্ছি না।
তবে এরা নিরস্ত্র বলে মনে হচ্ছে।
তবে তোমার মা'র ওই জিনিসটা যতই মূল্যবান হোক না কেন...
ওইটার জন্য সে আমাদের মৃত্যুর পথে ঠেলে পাঠাবে না।
আমারও তা মনে হয়।
কিন্তু আমি ওইখানে গিয়ে চুপিচুপি জিনিসটা নিয়ে আসতে পারব।
একা যাওয়াটা ঠিক হবে না।
একাই যেতে হবে।
এরকম কাজ করে করে আমি উস্তাদ।
অতি সাবধানে কাজটা সারবো।
ওরা ঘুমিয়ে আছে বলেই বেশি আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছি...
কিন্তু কেউ একজন জেগে থাকলে, ধরা পরে যাবে সহজেই।
ওদের সামলে নিতে পারব।
মামা জানে এটা ফিরিয়ে আনাটা কতটা কঠিন হবে,
আর সে বলেও দিয়েছে, "যে-কোনো মূল্যে আনতে হবে।"
তাহলে কি আমরা তার গুরুত্বের উপর কোনো মূল্যায়ন করছি না?
তাহলে কি আমরা তাঁর সিদ্ধান্তের উপর অক্ষমতার কালিমা লেপটে দিচ্ছি?
হয়েছে।
হয়েছে।
তোমরা দুইজন-তো এখানে আছোই।
দরকার পড়লে ডাক দিব।
কিন্তু চেষ্টা করে দেখতে হবে।
কাজটা তেমন সুবিধের বলে মনে হচ্ছে না।
আমাদের ওকে থামানো উচিৎ।
কীভাবে?
সে আমাদের একজন হয়েই কাজটা করে দিচ্ছে।
আমাদের কারও কথায় সে থামবে না।
সত্যি বলতে, এখানে আমাদের কারও কিছু করার নেই।
যখন মা তাঁর বাবার কথা বলেছিল,
বাবার সাথে কী কানেকশনের কথা বলেছিল,
তখনই হানিওয়া ওর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
ওইসময় এ-ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
একজন বাবার অনুপস্থিতি,
তাঁর সাথে পুনরায় যোগাযোগ করার সুযোগ,
এগুলো...
এগুলো তাঁর জন্য একটু বেশিই ছিল।
আমার এই ভয়ে শুধু ভয় লাগছে যে...
হানিওয়া।
হানিওয়া।
হানিওয়া, হানিওয়া।
- শ্বাস নিচ্ছে? - হ্যাঁ।
- কোথায় চোট লেগেছে? - বুঝতে পারছি না।
ড্যাড!
দাঁড়াও! তুমি হয়ত তাকে চিনতে পারছ না!
সে যেই হোক, পরোয়া করি না!
ওর বুক।
দেখো, ছুঁয়ে দেখো।
উঠ, উঠ।
ওর দৃষ্টিশক্তি আছে।
ধূ-ধূ শূন্য প্রান্তর।
আমি বড় হয়েছি ইঞ্জিন...
বজ্র, শক্তি...
এসব জিনিস সাথে নিয়ে।
পুরোটা জীবনও এসবেই কাটিয়ে দিলাম।
রাজধানীর বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি নিইনি বলে, প্রকৃতির নীরব কোলাহল শুনতে পারিনি।
যদি কখনো রাজধানী থেকে বাইরে যেতাম...
কেমন শোনাত ব্যাপারটা!
কোনো কিছুই হতো না।
নদীর কলতান শুনন, মহারাণী।
সাথে বায়ুরটা-ও।
মনোযোগ দিয়ে শুনলে, এদের সিক্রেট হয়ত ধরতে পারবেন।
এখানে কোনো সিক্রেট নেই।
নেই বিনিময়-যোগ্য কোনো বার্তা।
বোনার মতো গল্প নেই।
নেই কোনো শক্তি, ভয়।
একেবারে অন্তঃসারশূন্য।
গুরুত্বপূর্ণ কোনো জিনিসের প্রয়োজন ছাড়া...
এভাবেই কি মানুষ তাদের জীবনযাপন করে?
আমার সেটাই মনে হয়, মহারাণী।
সফরে এর প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে,
কিন্তু এরকমভাবে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
আমার শরীরের ক্ষুদ্র একটা অংশও এই অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না।
খিদে পেয়েছে।
আমি ক্ষুধার্ত!
ডিনার খাওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত!
ডিম খুঁজে পেয়েছ? এই ঋতুতে বেশ জমবে!
ড্রাইভার?
আগুনে কাঠ পোড়ার শব্দ পাচ্ছি। খাবার খুঁজে পেয়েছ?
ড্রাইভার, কোথায় তুমি?
আগুনটা জিইয়ে রাখো। নিজের ধোঁয়াতে নিজেই নিভে যাচ্ছে।
ড্রাইভার?
ড্রাইভার? কথা বলছিস না কেন?
নাইরী!
নাইরী!
নাইরী।
নাইরী!
তোমরা যা চাও, আমার কাছে তা আছে।
যা চাও, আমার কাছে আছে। আংটি আছে, গড বোনও আছে।
কত্যো নরম!
নিদারুণ অঙ্গুলি।
আংটি লাগবে না,
লাগবে না গড বোনও।
লাগবে শুধু তোমায়।
নাইরি?
নাইরি।
মামা, আমরা এসেছি!
হানিওয়া।
আসো।
খুঁজে পেয়েছ এটা?
ধন্যবাদ।
৪ জনের উপস্থিতি টের পাচ্ছি।
নতুন বন্ধুটি কে?
ওরা ওকে বুটস বলে ডাকে।
র্যাকন লুকানো হচ্ছে।
এই চিড়িয়াটাই আমাদের জিনিস নিয়েছিল!
হ্যাঁ!
কিন্তু সে তখন আমাদের পরিচয় জানত না, আর এছাড়া ওর আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
আমায় বলতে দাও, প্লিজ।
ঠিক আছে।
যখন জারলামারেল আমাদের ছেড়ে চলে যায়,
চলে গিয়ে হাউজ অব এনলাইটমেন্টের পথে পা বাড়ায়...
সে সেখানে সোজা চলে যায়নি।
শীতের জন্য বিরতি নিয়েছিল।
তখন সে অপায়েলে পৌঁছল!
ওদের সাথে ১ বছর থাকল।
১ বছর?
কিন্তু তাঁর সন্তান জন্মানোর পর...
সে আবার যাত্রা শুরু করল।
বুটস হলো সেই সন্তান।
বুটস হলো জারলামারেলের সন্তান।
আমাদের ভাই।
জারলামারেল তাঁর যাত্রা শুরু করার পর...
No comments yet. Be the first to leave one.