The first 200 lines.
ওরা এসেছে!
তৈরি হও।
আরো দুইজন বন্দী আসছে!
ভেড়ানোর জন্য প্রস্তুত হও!
জায়গামতো লেগেছে!
ধীরে!
ফটক সুরক্ষিত!
বন্দী এগোচ্ছে!
ওহ, জোশ। আরেকজন হাজতী এসেছে।
কিছু মনে কোরো না, দোস্ত। তোমাকে ভদ্রই লাগছে।
আশপাশটা ঘুরিয়ে চিনিয়ে দেওয়া যাক।
এই বালতিতেই আমাদের পেশাব জমে বরফ হয়। আর...
হ্যাঁ, এটুকুই।
নাম কী তোমার, সুন্দরী?
ও হচ্ছে হোলগা। আমি এডগিন। আর তুমি?
জীবনে বহুত কারাগারে গেছি। মেয়েদের সাথে কখনো একসাথে থাকিনি।
মনে হয় থাকতে ভালোই লাগবে।
একটা উপদেশ দেই,
হোলগা আলু খাওয়ার সময় প্যানপ্যানানি পছন্দ করে না।
- দিনের উল্লেখযোগ্য কাজ বলে কথা। - চুপ কর, শালা!
অবশ্যই। তোমার যা মর্জি।
লজ্জাবতী কিসিমের, হাহ?
একবার আমার সাথে মিশলে অতোটা খারাপ লাগবে না।
হুম।
এমন কোরো না গো।
আমরা খুবই আনন্দঘন...
মনে হয় এই দস্তানাটা আঙুল ছাড়াই বানাবো।
কাকে যে পটানোর চেষ্টা করছি?
ওই! গান বন্ধ কর!
বুঝেছি, টোবাইয়াস।
কালকে মার্জনা পরিষদের সভা বসবে।
এতো আশা কোরো না, এড।
কী বলছো?
এইবার জারনাথান পরিষদে থাকবে। সে একজন এরাকোক্রা।
সে-ই একমাত্র আমাদের মুক্ত করতে পারে।
দেবে না।
আমি বলছি, হোলগা, আজই তোমার বরফ ভাঙার শেষদিন।
বিচারক সংঘের ক্ষমতাবলে,
এই মার্জনা পরিষদ এখন এডগিন ডার্ভিস ও হোলগা কিলগোরের আবেদন বিবেচনা করবে।
মহা জোচ্চুরি ও অপকর্মের অপরাধে তাদের কারাভোগের আজ দুই বছর পূর্ণ হলো।
এই পরিষদের কাজ তোমরা ক্ষমার যোগ্য কিনা তা নির্ধারণ করা।
কী বলবে বলো?
ধন্যবাদ, চ্যান্সেলর এন্ডারটন, ও পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
প্রথমেই বলি, চ্যান্সেলর জারনাথান'কে অনুপস্থিত দেখতে পাচ্ছি।
আমাদের অপেক্ষা করা উচিত না?
চ্যান্সেলর জারনাথানের ঝড়ের কারণে দেরি হচ্ছে। শুরু করো।
আচ্ছা। আসলে মানে আমি...
আমরা সত্যিই ওনার আসার অপেক্ষায় ছিলাম।
শুরু করো নয়তো ভাগো।
বেশ তাহলে।
কিছু কাহিনি দিয়েই শুরু করি।
শুনে হয়তো অবাক হবেন আমি আজীবন চোর ছিলাম না।
অনেক আগে, হার্পার সংঘের সদস্য হয়েছিলাম আমি,
গুপ্তচরদের এক দল যারা নি:স্বার্থভাবে নিপীড়নের বিপক্ষে, অত্যাচারিতদের পক্ষে লড়ার শপথ নিয়েছিল।
আমার স্ত্রী, জিয়া, ঝুঁকি আছে জেনেও আমাকে সমর্থন জুগিয়েছিল।
দিনের বেলায়, আমি আড়িপেতে ডাকুদের কথা শুনতাম,
রাস্থায় চোরদের ঠেকাতাম...
এমনকি থেয়ান রেড উইজার্ডদেরও বিচারের মুখোমুখি করতাম।
রাতের বেলায়, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী আর কন্যা কিরা'র কাছে ফিরে যেতাম।
সত্যি বলতে, কখনো-সখনো আমার শপথের "নি:স্বার্থভাবে" অংশটুকু নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগতো।
কিন্তু আমার গিন্নি সবসময় বলতো,
"তোমাকে সাতরাজার ধন দিতে হবে না, ব্যস তোমার ভালোবাসা দিলেই চলবে।"
তো জারনাথানের খবর কী?
কাছে এসে পড়েছেন? আমার অপেক্ষা করতে আপত্তি নেই।
- কী বলেছি শোনোনি? - ঠিক, ঝড়।
আসলে আমি জারনাথান সম্পর্কে যতটুকু জানি,
তাতে মনে হয় উনি আমার কাহিনিটা বেশি বুঝতে পারতেন।
- এখানে আসতে আরো একবছর অপেক্ষা করা লাগলে.... - বলো।
অবশ্যই। শুরু করছি।
একবার হার্পার হলে, আপনার অবশ্যই শত্রুও গজাবে।
মাঝেমাঝে সেই শত্রুরা প্রতিশোধও নিতে আসে।
কোনো যাজক-ই রেড উইজার্ডদের ছুরির আঘাত সারাতে পারে না।
তাকে বাঁচানোর কোনো উপায়-ই ছিল না।
জিয়া'র মৃত্যুর সাথে, আমার শপথেরও মৃত্যু ঘটে।
দু:খিত, এই স্মৃতি মনে করাটা খুবই কষ্টের...
- জারনাথান'কে ছাড়া। - আবার শুরু করেছো?
কিন্তু উনি তো আমার কাহিনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটাই মিস করলেন!
আমার প্রেরণা সম্পর্কে না জেনে উনি কীভাবে বিচার করবেন?
জারনাথান'কে ছাড়াই মামলার রায় দিতে পুরোপুরি সক্ষম আমরা।
- বলতে থাকো! - বেশ। কোথায় ছিলাম?
রাতের বেলায়, আমার প্রিয়তমা স্ত্রী আর কন্যা কিরা'র কাছে ফিরে যেতাম।
বেশি দূরে চলে গেছো। সময়ক্ষেপণ বন্ধ করো!
আচ্ছা, দু:খিত। আসল কাহিনিতে আসি।
পরবর্তী কয়েকমাস আমার জীবনের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়।
তখন-ই হোলগা'র দেখা পাই।
আমাকে দেখে তার দয়া হয়।
মানে, বাচ্চাটাকে দেখে তার দয়া হয়।
হোলগা রক বটমের অধিবাসী ছিল।
বহুবছর আগে, এক ভিনদেশী লোকের প্রেমে পড়ায় তার সম্প্রদায় তাকে ত্যাজ্য করে দেয়।
দ্রুতই আমরা ভাই-বোনের মতো হয়ে যাই।
আস্থা আর সম্মানের এক সম্পর্ক তৈরি হয়।
আমাদের দুজনের-ই সৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের কোনো পথ ছিল না,
তাই 'সৎ' পন্থাকে ছুটি দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
আপনি যা চান তা হতে আপনার দূরত্ব এক খন্ড কাঁচের মতোই পাতলা এই ব্যাপারটা বোঝা...
নেশা চড়িয়ে দেওয়ার মতো।
আপনারা হয়তো ভাবছেন একটা বাচ্চা মেয়েকে বাড়িতে রেখে কীভাবে এমন জীবন চালানো সম্ভব।
আমরা ওকে বাড়িতে বসিয়ে রাখিনি।
জলদি, জলদি! দৌড়াও, দৌড়াও, দৌড়াও!
কিরা-ই একমাত্র নতুন সদস্য ছিল না।
আমরা এক কমজোর জাদুকর সাইমন,
আর ফোর্জ নামের এক চোরকেও ভিড়িয়েছিলাম, যে আমাদের লক্ষ্য আরো বড়ো করতে চাপ দিতো।
দ্রুতই, আমরা একটা টিম হয়ে যাই।
হ্যাঁ, আমরা চোর ছিলাম,
কিন্তু আমি একটা মান বজায় রাখার চেষ্টা করতাম।
কখনো কারো ক্ষতি করিনি আমরা।
আর কেবল তাদের কাছ থেকেই চুরি করতাম যাদের অঢেল টাকাপয়সা।
কিন্তু জাদুকর সোফিনার দেখা পাবার পর সবকিছু বদলে যায়।
তার সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানতাম না আমরা।
শুধু কোরিন'স কিপে ডাকাতি করতে সে আমাদের সাহায্য চায় এটুকু ছাড়া।
ওটা হার্পারদের শক্ত ঘাটি। জানি না ওটার নাম শুনেছেন কিনা।
আমি নিশ্চিত জারনাথান শুনেছেন।
ঘাটিটা বদলোকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অমূল্য রত্নে ভর্তি ছিল,
কেবল হার্পাররাই ভল্টটায় ঢুকতে পারতো।
সেজন্যই সোফিনা আমাদের কাছে এসেছিল।
প্রথমে, আমি রাজি হইনি। এতো নিচে নামতাম না আমি।
কিন্তু এরপর ফোর্জ আমাকে বললো কোরিন'স কিপের রত্নগুলোর মাঝে...
একটা পুনর্জন্মের ট্যাবলেট আছে,
যা একজন মাত্র মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
এমনকি সে রেড উইজার্ডের ছুরিকাঘাতে মরলেও।
সম্ভবত বুঝতে পারছেন কাহিনি কোনদিকে মোড় নিচ্ছে।
- আমি কেন যেতে পারবো না? - দু:খিত, কির, এই কাজটা বেশি বিপজ্জনক।
তাহলে তুমিও যেও না।
আমাদের তো সবকিছুই আছে।
সব নেই। তবে এটাই শেষ কাজ।
বিশ্বাস কর।
শান্ত হও, বুড়ি। আমরা জলদিই ফিরবো।
ওকে ট্যাবলেটটার কথা বলিনি আমি।
কাজটা ব্যর্থ হলে ওর মন ভেঙে যেতো।
এবং...
ব্যর্থ-ই হয়েছিল।
শিগগিরই দেখা হবে, জান।
চোর!
ওই তো ওরা!
আমরা কারো ক্ষতি করি না।
সে থমকানো সময়ে আটকা পড়েছে! ওটা থামাও, সাইমন!
পারছি না। সোফিনা বেশি শক্তিশালী।
ট্যাবলেটটা নাও। কিরা'কে নিরাপদে রেখো।
তোমাকে কথা দিলাম।
সত্যি বলতে, এই পরিষদ যদি আমাকে আরো দুই বছর কিংবা ২০ বছরও কারাদণ্ড দেয়,
আমার করা সবচেয়ে জঘন্য পাপটার জন্য তা যথেষ্ট হবে না...
আমার মেয়েকে বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা।
কিন্তু জেনে রাখুন, যদি আমাকে ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন,
জীবনের বাদবাকি সময় সেই ভুলটাই সংশোধনের চেষ্টা করবো।
তুমি কিছু বলতে চাও?
না।
আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাবার আগে,
আপনাদের আন্তরিকভাবে অপেক্ষার অনুরোধ...
- জারনাথান! - দেরি করার জন্য মাফ করবেন।
আপনাকে দেখে কী যে খুশি হয়েছি তা বোঝানো সম্ভব না!
- হোলগা, এক্ষুণি! - প্রহরী!
আমাকে ছাড়ুন, স্যার!
সে আলু ছুড়ছে!
ওহ, জারনাথান!
কিন্তু আমরা তো ক্ষমা করে দিয়েছিলাম!
উড়ো, পাখি, উড়ো!
সে এখনো দম নিচ্ছে।
বলেছিলাম না সে আমাদের মুক্ত করবে!
অনুবাদে: 〄 AsadujJaman 〄
কিরা'র কোনো চিহ্ন আছে?
অনেকদিন ধরেই খালি এটা।
ফোর্জ ওকে কোথায় নিয়ে গেছে বলে মনে হয়?
সোর্ড কোস্ট ছেড়ে যাবে বলে মনে হয় না। ফোর্জ সবসময়ই শহর ভালোবাসতো।
আপনার আর আপনার স্ত্রীর জন্য খাবার দেবো?
- কী? না। সে আমার বউ না। - এই লোকের সাথে আমি?
- ওইরকম ঠোটওয়ালার সাথে? - ছি:। শুধু মদ দেন।
তাহলে, একটা নৌকা নিয়ে বল্ডার'স গেটে গিয়ে তারপর উত্তরদিকে যাবো।
আর ফোর্জ'কে খুঁজতে খুঁজতে, মার্লামিনের সাথে দেখা করে আসবো।
তুমি নিশ্চিত এই কাজটা করতে চাও তুমি?
- যদি সে তোমার সাথে কথা বলতে না চায়? - এটা তার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপার না।
- আচ্ছা। - মামলা খতম করার ব্যাপার।
সে তোমাকে চিঠি লিখে জানিয়েছে সে আর তোমার স্বামী নয়।
এতেই মামলা খতম হয়নি?
- তুমি বুঝবে না। - বুঝছি না।
একদমই বুঝতে পারছি না।
এটা কি...
হারামির বাচ্চা।
ফোর্জ এখন নেভারউইন্টারের শাসক।
ওই ভাড়টা কাজটা কীভাবে করলো?
যতক্ষণ কিরা ওর কাছে আছে, আমি পরোয়া করি না।
এসো। চলো।
ধন্যবাদ, বন্ধু। আমার ঠোটের কী সমস্যা?
- ওগুলো মুখের তুলনায় বেশি বড়ো। - কী?
বহু লোক আমার ঠোট পছন্দ করে।
জায়গাটায় কখনোই এতো ভিড় দেখিনি।
নিশ্চয়ই হাই সান খেলা দেখতে আসছে।
হ্যাঁ, নিষিদ্ধ হবার আগে বাবা শেষটায় আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কেউ জিতেছিল?
একটা জানোয়ার তার উপরিভাগ খেয়ে ফেলার আগে এক প্রতিযোগী শেষ রাইন্ডে পৌঁছেছিল, তাই...
না।
দেখে ভালো লাগছে যে ফোর্জ এখনো তার বিনয় ভোলেনি।
- কতো সময় পেরিয়েছে? - দুই বছর।
না, এখানে কতোক্ষণ যাবত অপেক্ষা করছি?
বাবা।
হোলগা?
কিরা।
ওহ!
- অনেক মিস করেছি তোমাকে। - হ্যালো, বুড়ি।
- বুকে আয়। - হাই।
ওহ।
তোর কথা প্রতিদিন ভেবেছি।
No comments yet. Be the first to leave one.