The first 200 lines.
তুমি সবসময় কঠোর পরিশ্রম করো।
তুমি এখানে কীভাবে আসলে?
আমি শুধু তোমাকে এক নজর দেখতে এসেছিলাম।
তোমাকে আর দ্বিতীয়বার দেখতে চাই না।
আমাকে ছোঁবে না।
- কামাল... - না।
আমি জানি, তুমি আমাকে ভীষণ মিস করো।
করি না।
- তুমি অবশ্যই আমাকে মিস করো! - না!
না!
তোমাকে না মানা করলাম!
আমি অত্যন্ত দুঃখিত!
আমি আর এই মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না!
মনে হচ্ছি, আবারও পাগল হয়ে যাব!
তারপর মনে হলো...
আমরা আর সেই পুরনো সময়টা ফিরে পাব না।
আমার পক্ষে ক্ষত প্রশমিত করতে যেটা সম্ভব সেটাই করছিলাম।
একটু রহম করো! প্লিজ, তোমায় মিনতি করছি!
দেখো, সোনা...
তুমি আমাকে সর্বোচ্চ সুখের দিশা দিয়েছ!
দুটো মানুষ নিজেদেরকে নিয়ে এতোটা সুখী হবে ভাবিনি...
কিন্তু, এই ভয়াবহ ব্যাধি...
আমি সরি, কামাল।
আমি আর লড়তে পারব না।
কেন?
কেন ক্যারলকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলে?
কী?
কী বললে?
ক্যারল, ওকে কেন সাথে করে নিয়ে গেলে?
আমি কাউকে নিয়ে যাইনি, বিশ্বাস করো!
ও কি আমায় খুঁজছিল?
তুমি ওকে সাথে করে নিয়ে গেছ! তুমি আস্ত একটা স্বার্থপর!
না!
না, কামাল! আমি ওকে ওখানেই অবস্থান করতে বলেছিলাম!
না! ওর ওখানেই থাকার কথা ছিল!
সত্যি বলছি, ওর ওখানেই অবস্থান করার কথা ছিল, কামাল!
না!
না!
উঠো!
উঠে পড়ো!
কথা কানে যায় না?
টুর্কু ডার্বি।
দিনদিন পরিস্থিতি শুধু খারাপের দিকে যাচ্ছে।
পশ্চিম বসনিয়ান।
কামিল, হাকার কথা ভুলে যেয়ো না।
এই নাও।
স্যার?
কী?
আমার বাইক?
গ্যারাজে থাকার কথা যা। ওটা নিয়ে যাও।
স্যার, আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন।
বাইকটায় কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি, কোনো জরিমানাও হয়নি।
এটাই নিয়ম, গ্যারাজ থেকে নিয়ে যাও।
কিন্তু কেন? আমি কী করেছি? পুলিশ বাইকটা গ্যারেজে কেন রাখল?
অযথা বকবকের সময় নেই, ভাই!
তোমাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে!
কামিল, সুযোগটা হাতছাড়া করো না।
এই বছর ওরা কিন্তু ফাটিয়ে দিচ্ছে!
- স্যার? - আবার কী হলো?
আমার লাইটারটা নেই এখানে।
- প্যান্টের পকেটে একটা লাইটার ছিল। - লাইটারের নিকুচি করি!
চোখের সামনে থেকে দূর হও!
আমার মাথা খারাপ করে দিয়ো না!
আল্লাহ, মানুষকে একটা উদাহরণ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
মানুষের বেড়ে উঠার গতিতে যদি ছেদ না পড়ত...
তবে, মহাবিশ্ব পেরিয়ে যেত মানুষের আকৃতি।
যদি একইভাবে মহাবিশ্বও সংকুচিত হতে থাকে...
তবে, এটা মানুষের আকৃতিতে পর্যবসিত হতো।
তাই, মানুষকে বলা যায় মহাবিশ্বের প্রতিরূপ...
একইভাবে, মহাবিশ্বকেও বলা যায় মানুষের প্রতিভু।
মানুষের গতিপ্রকৃতি মহাবিশ্ব সম্পর্কে সামান্য হলেও ধারণা দেয়।
এবং, মানুষের আত্মা আমাদেরকে অজানা এক দুনিয়ার জানান দেয়...
যেটা আমাদের পার্থিব দুনিয়া থেকে পুরোপুরি ভিন্ন।
তাই, প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা...
ঠিক এই কারণেই...
মানুষ পাথরকঠিন পরিবেশেও খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
আল্লাহ তায়ালার প্রতিনিধি হিসেবে।
সিনান।
আল্লাহ আমাদের সবার উপর রহমত বর্ষণ করুক...
ইহকাল এবং পরকাল দুই জায়গাতেই আমাদের সফল করুক।
- আমিন! - সিনান!
আল্লাহ যেন আমাদেরকে এমন শক্ত মনোবলের অধিকারী করেন...
যেন বাতিল পন্থার বিরুদ্ধে আমরা জোরাল প্রতিবাদ করতে পারি।
- আমিন! - সিনান!
তিনি যেন মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরো বাড়িয়ে দেন।
আমিন!
আল ফাতিহা!
তুই কেন এসবে আমাকে জড়ালি?
মাদারচোদ!
আল্লাহ নারাজ হবেন, নিজের জবানের প্রতি নিয়ন্ত্রণ রাখ!
নিকুচি করি তোর! এখানে ধর্ম ফলাতে আসবি না!
আমার বাইকটা নিয়ে কী করেছিস?
- আসলামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম আসসালাম।
কী করেছিস আমার বাইকটা নিয়ে?
পুলিশ আমায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে!
- কিসের বাইক? - তুই ভালো করেই জানিস, শুয়োর!
বাতিন, নিজের জবান নিয়ন্ত্রণ কর! আমরা এখন তালিমের জায়গায় আছি!
ধর্মের ধুয়া তুলে ভেবেছিস আমার হাত থেকে পার পাবি?
আমার বাইকটা নিয়ে কী করেছিস?
কেন পুলিশ আমার পিছু পড়ে রয়েছে?
তোর বাইকের ব্যাপারে আমি কীভাবে জানব?
তোর একটা উপকার করলাম, আর এভাবে তার প্রতিদান দিলি!
আল্লাহ মাফ করুক আমাকে!
সিনান?
ওই রাতে কেন তুই আমার বাইকটা চেয়েছিলি?
জনাব হোজ্জাকে লজে পৌঁছে দিয়েছিলাম।
রাগাইবের মুখ থেকে কথা বের করার জন্য।
মানে? উনাকে তুই বাইকে করে নিয়ে গেলি কেন?
হোজ্জা জ্যামে আটকা পড়ায় সাহায্য চেয়েছিলেন।
ভাবলাম, তাকে সাহায্য করি।
- তারপর? - তারপর কী?
তারপর আমরা নামাজ পড়ে সারারাত গল্পগুজব করলাম।
বাইকটা কোথায় রেখেছিলি?
নিচে।
চাবিটা বাইকেই লাগিয়ে রেখে গিয়েছিলি?
ওটা কেন করব? রান্নাঘরের কাছাকাছি রেখেছিলাম।
ওখানে ওরা সারারাত ছিল, তুই নিশ্চিত?
খোদার কসম!
বাতিন, পুলিশের ব্যাপারটা খুলে বলবি?
- তোর মায়ের **** - বাতিন!
বাতিন!
আসসালামু আলাইকুম।
এখানে কী করছেন ভাই?
এই সময়ে? হারিয়ে গেছেন?
না।
কী করছেন এখানে জানতে পারি?
এখানে একটা পুরনো লজ থাকার কথা।
ওটা পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।
কেন জিজ্ঞেস করছেন?
আপনারা কি এখানকার পাহারাদার?
সেরকমই কিছু ভেবে নিন।
হোমিসাইড ব্যুরো।
আপনাদের আইডি কার্ড দেখান।
দেখুন ভাই, কিছু জায়গা আছে যেখানে পুলিশ মাতব্বরি করলে উল্টো তারাই বিপদে পড়বে।
যেখান থেকে এসেছেন, ফিরে যান।
আমাদের ওস্তাদের স্মৃতিকে অপমান করবেন না।
আপনাদের আইডি কার্ড দেখাতে বলেছি।
বের করো।
দেখুন।
কাল থানায় এসে নিয়ে যাবেন।
মাফ করবেন, স্যার।
এখানে ধূমপানের অনুমতি নেই।
কী নাম তোমার?
ইয়াসিন?
বয়স কত?
মাফ করবেন?
বয়স কত জিজ্ঞেস করেছি।
১৯
স্যার, আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।
লুতফুল্লার স্ত্রীর রিটায়ারমেন্টের পার্টি চলছে ভেতরে।
সেজন্যই ছেলেটাকে নিয়োগ করেছি।
সে নতুন, আপনাকে চেনে না।
প্লিজ, চাইলে ভেতরে এসে ধূমপান করতে পারবেন।
ছেলেটাকে ডাকুন।
ক্যাপ্টেন, ও কিছু না বুঝে বেয়াদবি করে ফেলেছে...
বাজে বকবেন নাতো। ওকে ডাকুন।
এই যে আমাদের মহামান্য ড্রিল সার্জেন্ট ইয়াসিন।
ওরা তোমাকে আমার পরিচয় বলেছে?
এভাবেই দেশটা চলে, ইয়াসিন।
কাজীর গরু কিতাবে আছে...
কিন্তু, বাস্তবে নেই।
মানুষভেদে তোমার আচরণ হবে ভিন্ন...
তাদের পদবী, ক্ষমতা বুঝে তাদের সাথে আচরণ করতে হবে, বুঝেছ?
কাছে আসো।
কাছে আসো!
মাথা উঁচু করো।
মাথা উঁচু করতে বলেছি!
আইন কে বানায়?
সরকার, ইয়াসিন।
আইন কেন তৈরী করা হয়?
সেটা ভাঙার জন্যই।
যার মানে দাঁড়ায়...
যেখানে যে নীতিই থাকুক, সেটা অনেকেই আমলে নেবে না।
আইন কানুন...
এগুলো কিসের জন্য, ইয়াসিন?
সরকার কেন পুলিশ পোষে?
সর্ষের ভেতরের ভূতটাকে আড়াল করার জন্য।
যেন নিজেরা ইচ্ছেমত আইন ভাঙতে পারে।
তাই এখন থেকে...
কারো সামনে মাথা নোয়াবে না, ইয়াসিন।
কাছে আসো।
আসো।
সবসময় নিজের মেরুদন্ড সোজা রাখবে।
কারো ইশারায় নত হবে না।
বুঝেছ?
বুঝেছি।
সাবাশ, ইয়াসিন।
সাবাশ।
যাও, কাজ করো।
গরম ব্ল্যাক কফি, ক্যাপ্টেন। আমি বানিয়েছি।
ঠান্ডায় জমে গেছি একেবারে!
ধন্যবাদ।
শোনো।
আমি পুলিশ কীভাবে আন্দাজ করলে?
সেটা রহস্য হিসেবেই থাকুক, ক্যাপ্টেন।
আরে, এসব রহস্য ফহস্য চুলোয় যাক!
অবশ্য রহস্য আছে বলেই দুনিয়াটা এখনো নিরাপদ।
সাদেতিন, আপনার নিকট আমার কিছু প্রশ্ন আছে।
না, না, সেমিহার ব্যাপারে নয়।
তদন্ত সম্পর্কিত।
No comments yet. Be the first to leave one.