The first 200 lines.
ভগবান, আমার যেন ভাই হয়।
প্রকাশ বাবু!
আপনার ছেলে হয়েছে।
১৯৯৫ সালের ৬ মার্চ। সকাল ৭টা ২৯ মিনিটে আমার জন্ম হয়েছিল।
১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ। সেদিন আমি বাড়িতে এসেছিলাম।
সেদিন কোনো উৎসবের দিন ছিল না।
কিন্তু আমাদের বাড়িতে উৎসব হয়েছিল।
হয়তো সেটা আমার জন্য হয়েছিল।
কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কেন আমাকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছিলো।
আমার ছয় মাস বয়স পর্যন্ত আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি।
তারপর একদিন নিজেকে আয়নায় দেখলাম।
আমি ছোট্ট ছিলাম।
কিউট ছিলাম।
তখন বুঝতে পারলাম সবার গুরুত্ব দেওয়ার কারণ আমি একটা শিশু।
আমার হাসি সবার মুখে হাসি ফুটাতো।
আমার কান্না বাবাকে চিন্তিত করে তুলতো।
আর আমার প্রথম দাঁড়ানো ছিল বিশেষ কোনো অর্জন।
মা! ভাই উঠে দাঁড়িয়েছে।
প্রত্যেকটা অনুষ্ঠান যেন বিশাল উৎসব।
অর্জুন।
উইশ করো, সোনা। উইশ করো।
জন্মদিনের দিন কোনো প্রার্থণা করলে ভগবান সেটা পূরণ করে, মা বলেছিল।
সব বড়রা আমাকে ভালোবাসতো।
কিন্তু আমার সমবয়সী কেউ ছিল না।
ভগবানের কাছে একটা বন্ধু চেয়েছিলাম। না, খেলা করতে গার্লফ্রেন্ড চেয়েছিলাম।
অনু! নিচে নাম।
আমি প্রকাশ। আপনাদের প্রতিবেশী।
সে আমার স্ত্রী।
- নমস্কার। - নমস্কার।
- মা! - আয়, সোনা!
- আমার মেয়ে অনু। আর আমি শাইলেজা! - বাহ! কী মিষ্টি দেখতে!
আমার মেয়ে শারদা!
- হাই। - হাই,আন্টি।
অর্জুন! আয়, আয়।
হ্যালো বল।
- হাই। - হাই।
বন্ধু হবে?
বন্ধু।
- তোমার নাম কী? - আমার নাম অনু।
- আপনি কেন কষ্ট করছেন? - সমস্যা নেই। এগুলো নিন।
- ধন্যবাদ। - আমরা ব্যাঙ্গালোর থেকে এসেছি।
তোমার বাবা কোথায়?
ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
তার বয়স ২ বছর ছিল।
আমার জন্য?
অর্জুন! চকলেটটা তাকে দে।
দে।
বাবা আমাকে বকেছিল, সেদিনই প্রথম।
তারপর অনু যা করেছিল তাতে সবার নয়নের মণি হয়ে গিয়েছিল।
বাহ, অনু!
বাবা! দেখলে অনু কী করলো?
অর্জুনের সাথে চকলেট ভাগ করলো।
অনু, তুমি অনেক মিষ্টি।
এরকম ভালো ব্যবহার কোথা থেকে শিখলে, মামণি?
কোথা থেকে শিখলে, সোনা?
অমিতাভ বচ্চনের আবির্ভাব যেমন
রাজেশ খান্নার স্টারডমের ভিত্তি নড়িয়ে দিয়েছিল।
অনুর আগমনে আমার সাথে একদম তেমনটাই হয়েছিল।
তাকে হিংসা করা শুরু করেছিলাম।
শাইলেজা অ্যান্টি, অনুর মা।
পুরো কলোনিতে আমার একমাত্র সমর্থক।
বাবা-মায়ের পরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
মাঝে মাঝে তাকে বাবা-মায়ের থেকেও বেশি ভালো লাগতো।
২০০১ সালের ১২ জুন। আমার জন্য বিশেষ একটা দিন।
আমি প্রথম শ্রেণিতে উঠেছিলাম। সাবালক হয়েছিলাম।
কাঁদে না, সোনা। অর্জুনকে দেখো। ভালো ছেলেদের মতো সে হাসছে।
ক্লাসে যাওয়ার জন্য কী নিবি?
অর্জুন আমার ক্লাসে গেলে কেবল তখন আমি যাবো।
অর্জুন! তুমি কি আবার কিন্ডারগার্ডেনে পড়বে?
তখন আমার হিংসা ঘৃণায় পরিণত হলো।
আবার একই ক্লাসে থাকা ঘৃণা করতাম।
তারপর থেকে ফেল করা শুরু করেছিলাম।
A-তে apple, B-তে bapple, C-তে capple, D-তে dapple?
কী এসব? কবে পরীক্ষায় ভালো করবি?
- হাই, আঙ্কেল। - হ্যালো।
আমি ক্লাসে প্রথম হয়েছি।
দেখ। অনুর থেকে শেখ।
সারাজীবন কথাটা শুনতে হবে সেই ভয়টা মনে শুরু হয়েছিল।
আঙ্কেল! অর্জুন আজ স্কুল পালিয়েছিল।
তোর কোনো বুদ্ধি হবে না?
আমাকে বকা শোনাতো আবার তারপর আমাকে সান্ত্বনা দিতো।
আমি তোমার কষ্ট বুঝতে পারি!
আঙ্কেল, অর্জুন...
জীবনে উন্নতি করবি কীভাবে?
স্যরি, অর্জুন।
কেমন পরীক্ষা দিয়েছিলি?
আমি ক্লাসে উঠতে লাগলাম নম্বর নিচে নামতে লাগলো।
অনুর থেকে শেখ।
সে EAMCET পরীক্ষায় টপ করলো।
কিন্তু আমার র্যাঙ্ক শুনালো দিল্লির পোষ্টকোডের মতো।
মায়ের গহনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিটের জন্য।
অনুর থেকে শেখ।
অনুর থেকে শেখ।
কোনোভাবে চার বছর পার করলাম।
আজ ফাইনাল ইয়ারের ফলাফল দেবে।
ইয়েস!
কী-রে? পাশ করেছিস?
পাশ! ৯৫% নম্বর পেয়েছি!
অভিনন্দন!
আরে, ধন্যবাদ।
আবার কী করছিস?
অর্জুনের রেজাল্টটা দেখছি।
কী হলো?
৫ বিষয়ে ফেল। বেচারা!
দেখলে তার মন খারাপ হয়ে যাবে।
কোথায় আছে কে জানে।
অনুবাদ অংশগ্রহণে হাবিবুল্লাহ কায়সার ইমতিয়াজ উদ্দিন জয়ানন্দ ঘোষ সিঙ্গার ইমরান
অনুবাদ অংশগ্রহণে খাদেমুল হোসেন আলভী হাবীব সিয়াম সাইফুল ইসলাম সাকিব
সম্পাদনায় সাইফুল ইসলাম সাকিব হাবিবুল্লাহ কায়সার
হাই, অর্জুন! শুনলাম ৫ বিষয়ে ফেল করেছো!
আপনাকে কে বললো?
অনু বলেছিল। তাকে মনমরা লাগছিল।
আমারও। ভেবেছিলাম এসব বই পড়ে...
সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষায় পাশ করে যাব।
সত্যি? আমার সাথে এসো।
সেলফে থাকা বইগুলো কোথায়?
আমিও তো সেটা জানতে চাই।
- বইগুলো কোথায়? - স্যার!
কলেজে ভর্তির পর প্রথম বর্ষ থেকে...
নিয়মিত পরীক্ষা, সাপ্লিমেন্টারি সকল ধরণের পরীক্ষার সময়ে
বইগুলোকে নিয়ে গিয়েছিলে কিন্তু কখনো ফেরত দাওনি।
টেলিফোন ডাইরেক্টরিটা পর্যন্ত বাসায় নিয়ে গেছ।
আমার চাকরিটা তো যাবে।
বইগুলো দিয়ে তুমি কী করো?
- কয় বিষয়ে ফেল করেছিস? - পাঁচ!
আমি ছয় বিষয়ে ফেল করলাম। তুই কয় বিষয়ে ফেল করেছিস?
পাঁচ যোগ ছয়, এগারো।
আমাদের গ্রুপে তুই-ই সবচেয়ে ভালো ছাত্র।
মলাট ছেঁড়া। শুধু ৩০০ টাকাই পাবে।
ফেরত নে সব।
আরে, অর্জুন! থামো। ফেরত নিচ্ছো কেন?
কী আশা করেন আপনি?
চারশো'র বেশি বই গত চার বছরে
আমরা ন্যায্য দামে বিক্রি করিনি?
আপনি টাকালোভী হয়ে গেছেন, আঙ্কেল।
তাকে উস্কানি দিও না।
বাদ দে। কোটি-র সেই বইয়ের দোকানদার চাচাকে কল কর।
- না থামো। - এখনি কল কর তাকে।
অমন করো না। আমি টাকা দিচ্ছি। নাও তোমাদের টাকা।
- তোমরা নিয়মিত খদ্দের। - ওগুলো আমাকে দেন।
দেন।
যান ভাগেন।
নে।
বড়লোকদের মতো পার্টি হবে।
ফেল করেছো বলে মন খারাপ করো না।
সূর্য আবার চকমক করবে। আমি তোমার পাশে আছি।
তার বালের সমবেদনা।
আইফোনের উপর রাগ ঝাড়িস না।
ফোনটা পেতে কতো কী করলাম ভুলে গেলি?
রেজাল্ট পুনঃগণণার আবেদন কর।
ভার্সিটির এক লোকের সাথে কথা বললাম।
প্রতিটা বিষয়ে ৫০০০ করে নেবে।
আর যতো মার্ক চাস দিয়ে দেবে।
কিন্তু দোহাই লাগে অনুকে বলিস তোর বাবাকে যেন এসব না বলে।
জুতা দিয়ে মারব!
বাইক কিনে দিলাম, তেলের টাকা দিলাম।
ভালো খাওয়ালাম আবার হাত খরচও দিয়েছিলাম।
আর এরকম মার্ক পেয়েছিস?
সব মার্ক যোগ করলেও তো তোর ওজনের সমান হবে না।
বকো না, বাবা। অন্যরা দেখছে।
লজ্জা লাগছে? আমি অফিসে আমার মুখ দেখাবো কীভাবে?
শ্রীধার ছেলে আইএএস সম্পন্ন করেছে।
প্রণীতের মেয়ে আইআইটিতে চান্স পেয়েছে।
তাদের দেখে শেখ, অপদার্থ!
গর্দভ বন্ধুদের সাথে থাকলে ভালো মার্ক পাবি কীভাবে?
শুধু পারিস খেতে আর ঘুরে বেড়াতে।
যেতে দে আমায়।
পারলে তাদের পা ধুয়ে পানি খা। তাহলে যদি কিছু শিখতে পারিস।
বালের চুল আর চশমা!
শান্ত হোন। শান্ত হোন।
আপনার বেতন কত?
মাসে এক লাখ টাকা।
আম্বানী এক কোটি কামায়।
আপনি তার কাছে গিয়ে শেখেন না কেন?
কীসব বাজে বকছো! তুলনো করছো কেন?
সবার নিজস্ব সীমা আছে।
অবশ্যই। আমাদের নিজস্ব সীমা আছে।
তাই শিকারী কুকুরে মতো আমাদের পেছনে না লেগে
আর অন্যের থেকে শিখতে না বলে
আমাদের সীমা জেনে সাপোর্ট করুন।
নাহলে আমরা যা জানি তা নিয়েই খুশি থাকুন।
আমরা একদিন ঠিক নিজের যোগ্যতায় কিছু অর্জন করব।
বুঝেছেন?
ভাগো।
দোস্ত, আমি আইসক্রিম খাব।
এখন আইসক্রিম খাবি? বাসায় চল তো।
না, অসন্তুষ্টি নিয়ে বাসায় যাওয়া উচিত না আমাদের।
- ফেল করায় মনটা খারাপ। - সত্যি?
আমি তোকে আইসক্রিম খাওয়াব।
সাবধানে।
চল দেখি। ওহ না। বাম্পারটা ঢিলে হয়ে গেছে।
চল পালাই, দোস্ত।
গাড়িটা আমার চেনা চেনা লাগছে।
অর্জুন!
- কারো গাড়িতে মেরে দিলাম। - আমাদের গাড়ি।
বলেছিলাম চেনা চেনা লাগছে।
আন্টি, বাবাকে কিন্তু বলো না।
শাইলু আপা! কী হয়েছে?
কিছু না।
No comments yet. Be the first to leave one.