The first 200 lines.
দ্য ফাদার
বাবা? আমি এসে গেছি।
বাবা?
তোমাকেই তো খুঁজছি !
- এখানে কি করছিস? - তোমার কী মনে হয়?
তা, কী হয়েছিল?
কিছু না।
- বলো না। - বললাম তো। কিছু হয়নি।
- কিছু হয়নি? - না।
তার সাথে আমার এইমাত্র ফোনে কথা হলো।
তো? কী প্রমাণ হয় তাতে?
তুমি এমন আচরণ চালিয়ে যেতে পারো না।
ফ্ল্যাট তো আমার, তাই না? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
তুই এমনভাবে আমাকে দোষ দিচ্ছিস যেন... আমি তো সেই মেয়েকে চিনিই না।
আমি তো কখনও কিছু চাইনি তার কাছে।
- সে এখানে তোমাকে সাহায্য করতে এসেছিল। - কোন কাজে সাহায্য করতে?
আমার ওকে দরকার নেই। আমার কাউকে দরকার নেই।
সে আমাকে বলল, তুমি নাকি ওকে বদমাশ বেটি বলে গালি দিয়েছ।
আর কত কী যে বলেছ, খোদাই জানেন।
হয়ত। আমার মনে নেই।
- সে কাঁদছিল। - তাকে বদমাশ বেটি বলার কারণে?
না। কারণ, তুমি নাকি তাকে মারার হুমকি দিয়েছিলে।
আমি?
মারার হুমকি?
ঐ মেয়ে আবোলতাবোল বকছে।
ওর মাথায় সমস্যা আছে। বিশ্বাস কর।
সে চলে গেলেই ভালো হবে। বিশ্বাস কর।
কেননা সে...
কেননা কী?
তোকে ব্যাপারটা বলতে চাচ্ছিলাম না, কিন্তু তোর জানাটা জরুরি,
আমার ধারণা, সে...
- সে... - সে কী?
- সে আমার জিনিসপত্র চুরি করেছে। - অ্যাঞ্জেলা?
এসব কী বলছ তুমি?
বিশ্বাস কর, সে আমার ঘড়ি চুরি করেছে।
- তোমার ঘড়ি? - হ্যাঁ। হ্যাঁ।
- তুমি হয়ত আবারো ঘড়িটা হারিয়েছ। - না। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত।
আমি তার জন্য ফাঁদ পেতেছিলাম।
আমি ঘড়িটা ইচ্ছা করে ফেলে রেখেছিলাম, সে চুরি করে কিনা সেটা দেখার জন্য...
কোথায়? কোথায় ফেলে রেখেছিলে?
আমি জানি না ; আমার মনে নেই।
কিন্তু ঘড়িটা এখন উধাও হয়ে গেছে। আমি সেটা খুঁজে পাচ্ছি না।
এর থেকেই প্রমাণ হয় যে, ঘড়িটা সে চুরি করেছে। আমি জানতাম সে চোর।
হ্যাঁ।
কী হলো?
আমি বুঝতে পারছি না কী করবো।
আমাদের কথা বলা দরকার, বাবা।
আমরা তো সেটাই করছি, তাই না?
না, তোমাকে আরও সিরিয়াস হতে হবে।
এই নিয়ে তুমি তিনটা নার্সকে...
বিশ্বাস কর, আমার কোনো নার্সের দরকার নেই।
আমি একা একাই সব করতে পারি।
তাকে খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ব্যাপারটা অত সোজা না।
মেয়েটাকে খুব ভালো মনে হয়েছিল। অনেক গুণ ছিল তার।
কিন্তু এখন আর সে এখানে কাজ করতে চাচ্ছে না।
তুই আমার কথা বোঝার চেষ্টা করছিস না।
ঐ মেয়ে আমার ঘড়ি চুরি করেছে।
আমি চোরের সাথে বসবাস করবো না, বুঝেছিস?
বাথরুমের ওখানে চেক করেছ?
- কী? - বাথরুমের পাইপের পাশে তো...
- তুমি তোমার মূল্যবান জিনিসপত্র লুকাও। - তুই সেটা কীভাবে জানিস?
- সত্যি করে বল। - জানাটা তো দোষের কিছু না।
- তুই কি আমার সিক্রেট জায়গা ঘাঁটাঘাঁটি করিস? - না।
তাহলে তুই কীভাবে জানলি যে, আমি সেখানে আমার মূল্যবান জিনিসপত্র লুকাই?
আমি জায়গাটা ভুল করে খুঁজে পেয়েছিলাম।
- তুই... - বাবা।
বাবা !
কোথায় যাচ্ছ?
আমি তোমার জিনিসপত্র একদম ছুঁইনি !
খুঁজে পেয়েছ তাহলে?
- কী? - তোমার ঘড়ি।
ওহ, হ্যাঁ।
এবার কি তুমি বুঝতে পারছ যে, অ্যাঞ্জেলা কিছু চুরি করেনি?
আমি সময়মত লুকিয়ে রেখেছিলাম বলেই চুরি করতে পারেনি।
নাহলে, এতক্ষণে দেখা যেত যে,
ক'টা বাজে, তা জানার কোনো উপায়ই আমি খুঁজে পাচ্ছি না।
এখন ৫ টা বাজে, যদি জানার আগ্রহ থেকে থাকে আরকি।
আমার কিন্তু সবসময় আগ্রহ থাকে।
এবার আমাকে একটু শান্তিতে থাকত দে।
- তোমার ওষুধ খেয়েছ? - হ্যাঁ।
তুই আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছিস কেন যেন কোনো গণ্ডগোল হয়েছে?
চিন্তার কিছু নেই, অ্যান।
তোর মূল্যবান সময় নষ্ট করিস না।
চিন্তা করেই সারাটা জীবন পার করেছিস তুই।
অথচ তোর বোন...
আচ্ছা, তোর বোন কোথায় বল তো? তার কোনো খবর পেয়েছিস?
তোকে একটা প্রশ্ন করেছি আমি।
আমি আর এখানে থাকতে পারবো না, বাবা।
আমাকে লন্ডন ছেঁড়ে যেতে হবে।
সত্যিই?
কেন?
এই নিয়ে আগেও কথা হয়েছে। মনে পড়ে?
একারণেই কি তুই এই নার্সকে আমার সাথে রাখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিস?
এবার সমস্ত হিসাব মিলছে !
আমাকে এই অবস্থায় রেখে চলে যাচ্ছিস।
আমি এখানে থাকবো না।
আমি প্রতিদিন এখানে আসতে পারবো না। তোমাকে সেটা বুঝতে হবে।
হ্যাঁ।
তুই তাহলে চলে যাচ্ছিস।
কখন? মানে, কেন?
আমার একজনের সাথে রিলেশন হয়েছে।
রিলেশন?
হ্যাঁ।
- মানে, একটা ছেলের সাথে? - হ্যাঁ।
সত্যিই?
এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।
না, না, আসলে, মানে...
আমি তো জানি তোর একমাত্র সিরিয়াস রিলেশন ছিল...
- জেমসের সাথে? - জেমসের সাথে।
তারপর থেকে তুই কারো সাথে খুব একটা...
- কী করে সেই ছেলে? - প্যারিসে থাকে।
তাই আমি সেখানে থাকতে যাচ্ছি।
তুই প্যারিসে থাকবি?
তুই কি আসলেই সেটা করবি?
কোন জগতে আছিস তুই ! ওখানকার মানুষ তো ইংলিশই বোঝে না।
তাহলে, মোদ্দা কথা এটাই যে,
তুই আমাকে ছেঁড়ে চলে যাচ্ছিস।
তাই তো?
আমার কোনো মূল্য নেই তোর কাছে।
বাবা।
আমার কী হবে তাহলে?
এটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ,
তা নাহলে আমি অবশ্যই যেতাম না।
আমি... আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।
আর আমি প্রায়সময়ই দেশে ফিরে তোমাকে দেখতে আসবো।
উইকেন্ডগুলোতে।
কিন্তু আমি তোমাকে এখানে একা রেখে যেতে পারবো না। সম্ভব না সেটা।
একারণেই, যদি...
যদি তুমি নার্স রাখতে মানা করো, আমাকে সেক্ষেত্রে...
সেক্ষেত্রে কী?
সেক্ষেত্রে কী?
তোমাকে বুঝতে হবে, বাবা।
অ্যান?
সেক্ষেত্রে তোকে কী করতে হবে?
অ্যান?
অ্যান?
বাড়িতে কি আর কেউ আছে?
সব ঠিক আছে তো?
কে তুমি?
- কী? - কে তুমি?
এখানে কী করছ?
আমার ফ্ল্যাটে কী করছ?
অ্যান্থনি, আমি পল।
কে?
এখানে কী করছ তুমি?
আমি এখানেই থাকি।
- তুমি? - হ্যাঁ।
- তুমি এখানে থাকো? - হ্যাঁ।
তুমি এখানে, আমার ফ্ল্যাটে থাকো?
এদের কথা শুনে আমার হাসি পায়।
ফাইজলামি করো?
আমি অ্যানকে ফোন করতে যাচ্ছি।
মানে আপনার মেয়েকে।
হ্যাঁ, ধন্যবাদ। আমি জানি অ্যান কে।
অ্যানকে চেনো তুমি? তুমি কি ওর ফ্রেন্ড?
তোমার সাথে কথা বলছি !
অ্যানকে চেনো তুমি?
আমি তার স্বামী।
- তার স্বামী। - হ্যাঁ।
কবে থেকে?
দশ বছর হতে চলল।
আহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ।
একদম, ঠিক বলেছ।
তাইতো।
তাই বলে দশ বছর?? আমি তো ভেবেছিলাম...
তোমাদের না...
- ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে? - কাদের?
- আমার আর অ্যানের? - হ্যাঁ, হয়নি ছাড়াছাড়ি?
না।
শিওর তুমি?
হ্যাঁ, অ্যান্থনি।
কিন্তু ফ্রান্সের ব্যাপারটা,
ওর না প্যারিসে যাওয়ার কথা ছিল?
- ওর না...? - হ্যালো, জান। হ্যাঁ, আমি।
না, আসলে তোমার বাবা একটু অসুস্থবোধ করছে।
তুমি চলে আসলে ভালো হয়।
আচ্ছা। বেশি দেরি কোরো না।
সে একটু বাজার করছে।
চলে আসবে...
- এক মিনিটের মধ্যে। - ওহ, ভালো।
সে আমাকে বলল...
সেদিন সে আমাকে বলল, সে নাকি প্যারিসে থাকতে যাচ্ছে।
- সে নিজে বলেছে আমাকে। - প্যারিসে?
- হ্যাঁ। - প্যারিসে গিয়ে সে কী করবে?
এক ফরাসীর সাথে তার রিলেশন হয়েছে।
আপনার বোধ হয় ভুল হচ্ছে, অ্যান্থনি।
হ্যাঁ, হয়েছে। সে নিজেই আমাকে বলেছে সেদিন। আমি বলদ না।
আমাকে বলেছে, সে সেখানে তার সাথে থাকতে যাবে। আর...
আমার তো এও মনে আছে, তাকে বলেছিলাম যে, সেখানে যাওয়াটা বোকামি...
কেননা সেখানকার মানুষ ইংলিশও বোঝে না।
- তুমি জানো না এই ব্যাপারে? - না।
কী?
- অস্বস্তিতে ফেলে দিলাম নাকি? - ব্যাপার না।
সে আমাকে এ ব্যাপারে বলেনি এখনও ; হয়ত বলার সুযোগ খুঁজছে।
- তুমি তাহলে সেই ফরাসীর ব্যাপারে জানো? - না।
খাইছেরে।
বাদ দাও। মন খারাপ কোরো না !
এসব সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না।
অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
অপেক্ষা করার ফাঁকে একটু গলা ভিজিয়ে নিলে কেমন হয়?
No comments yet. Be the first to leave one.